শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:১২ পি.এম
পাকিস্তানের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘কাভিশ’ সম্প্রতি একটি কনসার্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে ‘কাভিশ লাইভ ইন ঢাকা’ শিরোনামে এই কনসার্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তবে শেষ মুহূর্তে সেটি স্থগিত করা হয়েছে। এই কনসার্টে পাকিস্তানি ব্যান্ডটির সঙ্গে বাংলাদেশের দুই জনপ্রিয় ব্যান্ড শিরোনামহীন ও মেঘদলেরও পারফর্ম করার কথা ছিল।
নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান প্রাইমওয়েভ কমিউনিকেশনস জানায়, প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ার কারণে আপাতত কনসার্টটি স্থগিত করা হয়েছে। ১০ মাস আগে একই কারণে কাভিশের ঢাকা কনসার্টও স্থগিত হয়েছিল।
এদিকে, আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় আরও একটি আন্তর্জাতিক কনসার্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটিও স্থগিত করা হয়েছে। এই আয়োজনে পাকিস্তানের আলী আজমত, মুস্তাফা জাহিদ ও ব্যান্ড জালের পাশাপাশি বাংলাদেশের জেমস, নেমেসিস ও লেভেল ফাইভের পারফর্ম করার কথা ছিল।
নিরাপত্তাজনিত কারণে পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় এই কনসার্টটি স্থগিত করেছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স রিপাব্লিক। ফলে সাম্প্রতিক বছরে দেশে একাধিক আন্তর্জাতিক কনসার্ট স্থগিত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বিষয়টি সামনে এনে প্রশ্ন তুলেছেন মাইলসের অন্যতম সদস্য ও সংগীতশিল্পী হামিন আহমেদ।
নিজের ফেসবুকে কনসার্ট স্থগিতের একটি সংবাদের ফটোকার্ড শেয়ার করে হামিন লিখেছেন, ‘কোনো একপেশে বিষয় কখনো টেকে না। এটি পারস্পরিক হতে হবে, নয়তো একেবারেই না! আমাকে বলুন, আজ পর্যন্ত বা এমনকি গত ৫ বছরে কতজন বাংলাদেশি শিল্পী বা ব্যান্ড পাকিস্তানে গিয়ে পারফর্ম করেছে? এটি বললেই আপনারা বুঝতে পারবেন আমি ঠিক কী বোঝাতে চাচ্ছি।
এমনকি ভারতের ক্ষেত্রেও পারস্পরিক আদান-প্রদান খুবই কম! এভাবে চলতে পারে না। শিল্প ও সংস্কৃতি কখনোই একপেশেভাবে বিকশিত হতে পারে না। বিপরীত দিকের দরজা যখন বন্ধ, তখন বাংলাদেশেরও নিজের দরজা খুলে দেওয়ার কোনো কারণ নেই।’
পোস্টের শেষাংশে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। তিনি লিখেছেন, ‘পূর্ণাঙ্গ অনুমতি হাতে পাওয়ার আগেই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোকে কীভাবে টিকিট বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়? বারবার কীভাবে এমনটা ঘটে? এর পেছনে আরও অনেক কারণ রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাউরো ইকার্দির জন্য পরিস্থিতি ভালো যাচ্ছে না। তিনি ইতিমধ্যেই তার সোনালী সময় পেছনে ফেলে এসেছেন। বর্তমানে তিনি কোনো ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত নন। এমন অবস্থায় তিনি একটি বিশাল শাস্তির সম্মুখীন হয়েছেন। আর্জেন্টিনার মন্ত্রণালয় তাকে ৭৩ বছরের শাস্তি প্রদান করেছে।
এই শাস্তির কারণ হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিও। সম্প্রতি তিনি তার সঙ্গী মডেল ইউজেনিয়া সুয়ারেজের সঙ্গে গাড়িতে বের হন। ভিডিওতে দেখা যায়, চলন্ত গাড়ি থেকে সিটবেল্ট ছাড়াই ইউজেনিয়ার শরীরের বেশিরভাগ অংশ বাইরে বের করে রেখেছেন। এই বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
আর্জেন্টিনার পরিবহন মন্ত্রণালয় এই ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তারা সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে জানায়, ইকার্দিকে ২০৯৯ সাল পর্যন্ত গাড়ি চালানোর জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, ইকার্দি একটি মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
এক্স-এ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে বলা হয়, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন ইকার্দি।’ পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘ইউজেনিয়া সিটবেল্ট খুলে ফেলেন এবং শরীরের বেশিরভাগ অংশ জানালা দিয়ে বাইরে বের করে রাখেন, তখনও গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন ইকার্দি।’ পোস্টে বলা হয়, ‘ভিডিও প্রকাশের পর আমরা নিশ্চিত হই যে ইকার্দির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল।’
তারা আরও লেখে, ‘সুতরাং আমরা তার প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি। নতুন লাইসেন্স পাওয়ার আগে তাকে যাচাই করা হবে, তিনি গাড়ি চালানোর উপযুক্ত কি না। সড়ক নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নেই।’
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইকার্দি প্রায় ১০৫ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত গাড়ি চালাতে পারবেন না। তবে তিনি নতুন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন, যদি তিনি একটি মূল্যায়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
ইকার্দি এক্স-এ পাল্টা জবাব দেন। তিনি জানান, তার একটি বৈধ ইতালিয়ান লাইসেন্স রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, মন্ত্রণালয় শুধুমাত্র আলোচনায় আসার জন্য তার নাম ব্যবহার করছে।
ইকার্দি লেখেন, ‘আমি জানতে চাই, আমার ইতালিয়ান লাইসেন্স যেটা ২০২৯ সাল পর্যন্ত বৈধ, সেটা তোমরা কীভাবে বাতিল করলে। পরিবহন মন্ত্রণালয়ও শুধু একটু আলোচনায় থাকার জন্য আমার পেছনে লেগে আছে, এটা অদ্ভুত লাগছে আমার কাছে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘টুইট করে সময় নষ্ট না করে দেশের রাস্তাঘাট ঠিক করার দিকে মন দাও, যাতে যানজট কমে। মানুষকে মিথ্যা বলা বন্ধ করো, কাজে ফিরে যাও। ইউরোপিয়ান লাইসেন্সে রূপান্তরের সময় আর্জেন্টাইন লাইসেন্স জমা দিতে হয়। তোমরা কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা বানানোর চেষ্টা করছ। শুধু একটু গুঞ্জন তোলার জন্যই এসব।’
ইকার্দি সম্প্রতি বেশ কিছু আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছেন। তার সাবেক স্ত্রী ও এজেন্ট ওয়ান্ডা নারার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ এবং সন্তানদের অভিভাবকত্ব নিয়ে বিরোধ চলছে। এছাড়া ইস্তাম্বুলে একটি সম্পত্তি নিয়েও তার আইনি লড়াই চলছে।
গালাতাসারাইয়ের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর গত গ্রীষ্মে তিনি ক্লাব ছাড়েন। বর্তমানে তিনি ফ্রি এজেন্ট। শেষ মৌসুমে তিনি ৪৭ ম্যাচে ১৬ গোল করেন এবং তুরস্কের এই ক্লাবকে টানা চতুর্থবার লিগ জিততে সাহায্য করেন।
মাঠের বাইরের নানা বিতর্কের কারণে গণমাধ্যম তাকে ‘এক মানুষের চলমান নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। গালাতাসারাই ছাড়ার পর তিনি এখনো নতুন কোনো ক্লাব খুঁজে পাননি।
অলিম্পিয়াকোসের সঙ্গে তার যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছিল। কিন্তু বেতনের দাবি বেশি হওয়ায় গ্রিক ক্লাবটি শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ায়।
কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, টটেনহ্যাম তাকে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে দলে নিতে পারে। তবে ফুটবল ইনসাইডারের তথ্য অনুযায়ী, এই সম্ভাবনাও পরে বাতিল হয়ে যায়।
ইতালিতে ফেরার সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি। জানা গেছে, লাজিও ক্লাবের সঙ্গে তার আলোচনা এগিয়ে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেছেন যে, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, হাসনাত এবং সার্জিস একসময় ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, "অনেকে শিবির করত। আমাদের সন্দেহ হয়। আপনারা যেহেতু সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। ১১ দলীয় জোটে আছেন। আপনাদের সাথে ইন্ডিয়াতে স্বৈরাচার হাসিনার তো একটা লাইন আছেই।"
এই মন্তব্যগুলো তিনি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে করেন।
প্রতিমন্ত্রী এনসিপির নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনাদের প্রতি তরুণ প্রজন্মের একটা আশা আকাঙ্ক্ষা ছিল। যে তরুণ নেতৃত্ব দেশে একটা ভালো কিছু করবে। এজন্য আপনাদেরকে দুয়েক জায়গা থেকে নির্বাচিতও করেছে। কিন্তু আপনারা যে ভাষায় কথা বলেন, এটা রাজনৈতিক ভাষা নয়।"
জামায়াতের বিষয়ে তিনি বলেন, "আর জামায়াত তো ৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আন্দোলন করেইছে। পুরানা ঘর করা লোক। এদের সাথে কিন্তু পুরাতন একটা সম্পর্ক আছে। সেই সম্পর্ক ভবিষ্যতেও জোড়া লাগতে পারে।"
মীর শাহে আলম বিএনপি সম্পর্কে বলেন, "বিএনপি কারো হুমকিতে পরোয়া করে না। আজকে আপনারা যেটা করছেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশকে নতুন করে আমন্ত্রণ জানানোর চেষ্টা করছেন।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা, গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সেনাদের প্রাণ উৎসর্গের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে কোরআনের আয়াত এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ত্যাগ ও আল্লাহর পথে সংগ্রাম-সংক্রান্ত হাদিসের উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা ও সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে। হুথিরা সৌদি আরবে ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার জবাবে সৌদি আরবও বিমান হামলা করেছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর সঙ্গে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
গ্র্যান্ড মুফতির দেওয়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের সুরক্ষা এবং এর ভূখণ্ডের এক ইঞ্চি জায়গার ওপরও কেউ হাত বাড়ালে তাকে শাস্তি দেওয়া একটি বড় দায়িত্ব এবং ইবাদতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কাজ। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এ দায়িত্ব পালনে জীবন ও আত্মা উৎসর্গ করা যেতে পারে।
সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের কর্তৃত্ব পুরো দেশে প্রতিষ্ঠা করাকেও ‘অত্যন্ত জরুরি দায়িত্ব’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে সৌদি গ্র্যান্ড মুফতি হুথিদের ‘সম্পূর্ণ পরাজয়’ এবং তাদের সহযোগী ও সমর্থকদের পরাজয়ের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
এদিকে, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি কর্তৃপক্ষের ধর্মীয় ভাষ্যও জোরালো হচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলের একটি মসজিদে হুথিদের কথিত হামলার ফুটেজ প্রচার করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ হুথিদের মক্কায় হামলার অভিযোগও করেছে।
সীমান্তে থাকা সেনাদের উদ্দেশে গ্র্যান্ড মুফতি বলেন, তাদের সবসময় দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, শাসক ও সামরিক কমান্ডারদের নির্দেশ মেনে চলতে হবে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে আদেশ বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলো রক্ষার দায়িত্ব পালন করে সেনারা মহানবী (সা.)-এর সাহাবিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাবা তার প্রেমিকাকে সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার আশঙ্কায় ছেলে পরিকল্পনা করে বাবাকে হত্যা করেছে। ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরের ঔষধ ব্যবসায়ী বিনীত মনোজার হত্যা রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ৫ সেপ্টেম্বর রাতে কানপুরের কল্যাণপুর এলাকার বিলাসবহুল ‘রতন অরবিট’ অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাটে ৬০ বছর বয়সী বিনীত মনোজাকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় বিনীত বাড়িতে একাই ছিলেন, কারণ তার ছেলে সুব্রত তার স্ত্রী শালুকে নিয়ে একটি পার্টিতে গিয়েছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তের সময় পুলিশ জানিয়েছিল যে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন বিনীতের পুত্রবধূ শালু। ঘটনার পরদিন পুলিশ শালু এবং বিনীতের ফার্মেসির সাবেক কর্মচারী বিশাল গৌতম ও তার সহযোগী রাজকিশোরকে গ্রেফতার করে। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে যে, কথিত হত্যাকারী একটি নতুন কেনা সিম কার্ড থেকে বিনীতের ছেলে সুব্রতকে ছয়টি কল করেছিল। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর সুব্রতকেও গ্রেফতার করা হয়।
আরো পড়ুন
অ্যাভেঞ্জার্সের নতুন চমক, সঙ্গে জেসন স্ট্যাথামের ‘মিউটিনি’
প্রথমে অস্বীকার করলেও জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সুব্রত পুলিশকে জানায় যে, সে এই খুনের পরিকল্পনা করেছিল কারণ তার বাবার একাধিক মহিলার সাথে সম্পর্ক ছিল। তার ভয় ছিল, বাবা হয়তো অন্য কোনো মহিলার সাথে থাকা শুরু করবেন এবং তার সমস্ত সম্পত্তি সেই মহিলার নামে লিখে দেবেন। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল এই মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বা স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখানো, কিন্তু পরবর্তীতে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, সুব্রতের বাবা তাকে খরচের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার রুপি দিতেন। যেখানে ঋণের কিস্তি বাবদ সুব্রতকে প্রতি মাসে প্রায় ৫৫ হাজার রুপি পরিশোধ করতে হতো। সম্পত্তি হারানোর ভয় এবং ঋণের চাপে সুব্রত তার বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সুব্রত তাদের ফার্মেসির সাবেক কর্মচারী বিশালকে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে তার বাবাকে হত্যার চুক্তি করে।
কানপুরের পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল জানিয়েছেন, কল ডিটেইলস রেকর্ড বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল ও বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ, উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্র এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক প্রমাণের মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্রের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি জানান, বিশাল তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেছে যে, সুব্রতই তাকে তার বাবাকে খুন করতে বলেছিল এবং এর বিনিময়ে তাকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বিশাল আরও দাবি করেছে যে ধরা পড়লে সুব্রত তাকে শালুর নাম নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। পুলিশ শালুকে এখনও সম্পূর্ণ ক্লিন চিট দেয়নি। কোনোভাবে এই ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরো পড়ুন
শ্রীমাই খাল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
পুলিশ তদন্তে দেখতে পায় যে, ১ মে থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুব্রত এবং সাবেক কর্মচারী বিশালের মধ্যে ২৫৮ বার ফোনে কথা হয়েছে। এছাড়া সুব্রতের ফোন থেকে বেশ কিছু মুছে ফেলা চ্যাট উদ্ধার করা হয়, যা খুনের পরিকল্পনার দিকে ইঙ্গিত করে। খুনি বিশাল হত্যাকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে একটি নতুন সিম কার্ড কেনে। পুলিশ তদন্তে দেখে, সেই নম্বর থেকে প্রথম এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কল করা হয়েছিল সুব্রতকে, যা সুব্রতের ফেঁসে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রিমান্ড চলাকালীন পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লালের উপস্থিতিতে সুব্রত, শালু এবং বিশালকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয়। এই সময় খুনি বিশাল ভেঙে পড়ে এবং স্বীকার করে যে সুব্রত তাকে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে এই খুন করতে বলেছিল এবং ধরা পড়লে স্ত্রী শালুর নাম নেওয়ার জন্য অগ্রিম নির্দেশ দিয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ