শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:১৪ পি.এম
বাবা তার প্রেমিকাকে সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার আশঙ্কায় ছেলে পরিকল্পনা করে বাবাকে হত্যা করেছে। ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরের ঔষধ ব্যবসায়ী বিনীত মনোজার হত্যা রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ৫ সেপ্টেম্বর রাতে কানপুরের কল্যাণপুর এলাকার বিলাসবহুল ‘রতন অরবিট’ অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাটে ৬০ বছর বয়সী বিনীত মনোজাকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় বিনীত বাড়িতে একাই ছিলেন, কারণ তার ছেলে সুব্রত তার স্ত্রী শালুকে নিয়ে একটি পার্টিতে গিয়েছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তের সময় পুলিশ জানিয়েছিল যে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন বিনীতের পুত্রবধূ শালু। ঘটনার পরদিন পুলিশ শালু এবং বিনীতের ফার্মেসির সাবেক কর্মচারী বিশাল গৌতম ও তার সহযোগী রাজকিশোরকে গ্রেফতার করে। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে যে, কথিত হত্যাকারী একটি নতুন কেনা সিম কার্ড থেকে বিনীতের ছেলে সুব্রতকে ছয়টি কল করেছিল। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর সুব্রতকেও গ্রেফতার করা হয়।
আরো পড়ুন
অ্যাভেঞ্জার্সের নতুন চমক, সঙ্গে জেসন স্ট্যাথামের ‘মিউটিনি’
প্রথমে অস্বীকার করলেও জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সুব্রত পুলিশকে জানায় যে, সে এই খুনের পরিকল্পনা করেছিল কারণ তার বাবার একাধিক মহিলার সাথে সম্পর্ক ছিল। তার ভয় ছিল, বাবা হয়তো অন্য কোনো মহিলার সাথে থাকা শুরু করবেন এবং তার সমস্ত সম্পত্তি সেই মহিলার নামে লিখে দেবেন। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল এই মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বা স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখানো, কিন্তু পরবর্তীতে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, সুব্রতের বাবা তাকে খরচের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার রুপি দিতেন। যেখানে ঋণের কিস্তি বাবদ সুব্রতকে প্রতি মাসে প্রায় ৫৫ হাজার রুপি পরিশোধ করতে হতো। সম্পত্তি হারানোর ভয় এবং ঋণের চাপে সুব্রত তার বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সুব্রত তাদের ফার্মেসির সাবেক কর্মচারী বিশালকে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে তার বাবাকে হত্যার চুক্তি করে।
কানপুরের পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল জানিয়েছেন, কল ডিটেইলস রেকর্ড বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল ও বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ, উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্র এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক প্রমাণের মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্রের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি জানান, বিশাল তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেছে যে, সুব্রতই তাকে তার বাবাকে খুন করতে বলেছিল এবং এর বিনিময়ে তাকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বিশাল আরও দাবি করেছে যে ধরা পড়লে সুব্রত তাকে শালুর নাম নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। পুলিশ শালুকে এখনও সম্পূর্ণ ক্লিন চিট দেয়নি। কোনোভাবে এই ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরো পড়ুন
শ্রীমাই খাল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
পুলিশ তদন্তে দেখতে পায় যে, ১ মে থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুব্রত এবং সাবেক কর্মচারী বিশালের মধ্যে ২৫৮ বার ফোনে কথা হয়েছে। এছাড়া সুব্রতের ফোন থেকে বেশ কিছু মুছে ফেলা চ্যাট উদ্ধার করা হয়, যা খুনের পরিকল্পনার দিকে ইঙ্গিত করে। খুনি বিশাল হত্যাকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে একটি নতুন সিম কার্ড কেনে। পুলিশ তদন্তে দেখে, সেই নম্বর থেকে প্রথম এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কল করা হয়েছিল সুব্রতকে, যা সুব্রতের ফেঁসে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রিমান্ড চলাকালীন পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লালের উপস্থিতিতে সুব্রত, শালু এবং বিশালকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয়। এই সময় খুনি বিশাল ভেঙে পড়ে এবং স্বীকার করে যে সুব্রত তাকে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে এই খুন করতে বলেছিল এবং ধরা পড়লে স্ত্রী শালুর নাম নেওয়ার জন্য অগ্রিম নির্দেশ দিয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হাইওয়ে পুলিশ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাতায়াতকারী সকলের জন্য জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকামুখী লেনে সেতু মেরামতের কাজ চলাকালীন দেড় ঘণ্টা সময় ধরে যানবাহনের গতি ধীর হতে পারে।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, দুপুর ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত আলিপুরা সেতুর ঢাকামুখী লেনে মেরামত কাজ চলবে। এই কারণে দাউদকান্দি সেতু পার হয়ে আলিপুরা এলাকা অতিক্রম করার সময় যানবাহন ধীরগতিতে চলতে পারে।
আরো পড়ুন
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা ৭ দিনের ছুটির সুবিধা পাবেন যারা।
এদিকে, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির তথ্য দ্রুত জানাতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় অতিরিক্ত আইজিপির স্টাফ অফিসার তারিক লতিফ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত উন্নতির ফলে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আলোচনা চলছে। বিশেষ করে চলচ্চিত্রে এআইয়ের ব্যবহার অভিনেতাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে অস্কারজয়ী ফরাসি অভিনেত্রী মারিওন কোটিলার্ড মনে করেন, আপাতত এআইয়ের অভিনয় নিয়ে খুব বেশি উদ্বেগের কারণ নেই। তার মতে, এআই এখনও ‘আলুর মতো’ অভিনয় করছে।
সম্প্রতি স্পেনের সান সেবাস্তিয়ান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের নতুন সিনেমা ‘৭এইচ৪০ সে জু-লা’-এর প্রচারের সময় এআই নিয়ে তার মতামত প্রকাশ করেন মারিওন। ৫০ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী বলেন, এমন একটি দিন আসলে তিনি সত্যিই ভয় পাবেন, যেদিন কোনো এআই অভিনেতার অভিনয় দেখে তার মনে সত্যিকারের আবেগ তৈরি হবে অথবা চোখে পানি চলে আসবে।
২০০৮ সালে ‘লা ভি এন রোজ’ সিনেমায় কিংবদন্তি ফরাসি সংগীতশিল্পী এডিথ পিয়াফের চরিত্রে অভিনয় করার জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জিতেছিলেন মারিওন। অভিনয়ের সেই অভিজ্ঞতা থেকেই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে তার এই চিন্তা। তিনি বিশ্বাস করেন, এআই হয়তো একদিন এমন অভিনয় করতে সক্ষম হবে, যা দর্শকের আবেগকে সত্যিকার অর্থে নাড়া দেবে।
এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, ভবিষ্যতে কোনো কৃত্রিম চরিত্রের অভিনয় দেখে তিনি নিজেই অবাক হয়ে যেতে পারেন। এই সম্ভাবনা তাকে ভাবিয়ে তুলছে।
এদিকে চলচ্চিত্রে এআই ব্যবহারের নৈতিকতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ‘টিলি নরউড’ নামের এআই অভিনেতাকে ঘিরে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হঠাৎ চীনা ভাষায় কথা বলার ঘটনায় এই কৃত্রিম চরিত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।
সান সেবাস্তিয়ান উৎসবে মারিওন অভিনীত নতুন সিনেমাটিতে তাকে ‘অ্যালিস’ নামের সাবেক এক বিপ্লবী কর্মীর চরিত্রে দেখা যাবে। দীর্ঘ ২০ বছর কারাভোগের পর ছেলের সঙ্গে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ধারাবাহিক নাটক ‘দেনা পাওনা’-তে ‘নাবিলা সিক্স’ চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি অর্জন করা অভিনেত্রী শিরতাজ জাহান জেবিনের বাগদানের খবর সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ে। তবে, অভিনেত্রী সরাসরি এই খবরটি অস্বীকার করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সম্প্রতি তার কোনো বাগদান হয়নি।
২৪ সেপ্টেম্বর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে জেবিন তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু গণমাধ্যম তার সঙ্গে যোগাযোগ না করেই এবং তথ্য যাচাই না করে বাগদানের খবর প্রকাশ করেছে। তিনি এই বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভুল বলে মন্তব্য করেন।
বর্তমানে, জেবিন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাবার চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে রয়েছেন। এই মুহূর্তে তার মনোযোগ বাবার চিকিৎসা এবং পরিবারের দিকে নিবদ্ধ।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন সংবেদনশীল সময়ে যাচাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি বিব্রত হয়েছেন বলেও জানান। তার মতে, কোনো শিল্পীর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রকাশিত খবর যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদেরও অনুরোধ করেছেন যে, কোনো সংবাদ দেখেই সেটিকে সত্য ধরে না নেন। জেবিনের মতে, ভুল তথ্য একজন শিল্পী এবং তার পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় জানানোর পর লিওনেল মেসিকে ‘বিদায়ী ম্যাচে’ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি নিজেই স্পষ্ট করেছেন, দেশের মাটিতে মেসির একটি শেষ ম্যাচ খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তিনি কতটা একক প্রচেষ্টা করেছেন। ভবিষ্যতে তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকবেন কিনা, সেই অনিশ্চয়তার কারণেই দ্রুত এই আয়োজন করতে চেয়েছিলেন তিনি।
গত জুলাইয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে পরাজয়ের এক মাস পর, আগস্টে মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান। তবে এই ঘোষণার কিছুদিন পরেই কোচ স্কালোনি বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের জন্য তাকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করেন। আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ হিসেবে চিহ্নিত হবে।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, “আমার মনে হয় মেসির মতো একজন খেলোয়াড় এই ধরনের বিদায় পাওয়ার যোগ্য। ব্যক্তিগতভাবে আমি আমার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি, কারণ তার বিদায়ী মুহূর্তে আমি নিজে উপস্থিত থাকতে চেয়েছিলাম।”
তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে আরও বলেন, “যেহেতু আমি জানি না পরবর্তীতে এখানে (দায়িত্বে) থাকব কি না, তাই আমরা খুব জোর দিয়েছিলাম যাতে সে এই ম্যাচে থাকতে পারে। মেসি কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, তা আমরা জানতাম। তবুও তিনি ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং কষ্ট করে আসছেন, যেন তাকে ভালোবাসা দেওয়া মানুষগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে বিদায় জানাতে পারেন।”
বিদায় সংবর্ধনা প্রসঙ্গে স্কালোনি স্পষ্টভাবে জানান, “কাউকে সম্মান জানাতে হলে সঠিক সময়েই তা করা উচিত। মেসির প্রতি মানুষের আবেগ ও সম্মান কখনো শেষ হবে না, তবে পরবর্তীতে হয়তো বিদায়ের সেই জাদু বা মহিমা আগের মতো নাও থাকতে পারে।”
২০২২ বিশ্বকাপ এবং দুটি কোপা আমেরিকা জেতানো ৪৮ বছর বয়সী এই সফল কোচের চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আপডেট আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে স্কালোনি জানান, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লাউডিও তাপিয়ার সঙ্গে শিগগিরই তিনি বৈঠকে বসবেন।
স্কালোনি বলেন, “আর্জেন্টিনা দলের কোচ হওয়া এক স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। তবে তার মানে এই নয় যে আমাকে এই চেয়ারে চিরকাল আঁকড়ে ধরে পড়ে থাকতে হবে। কিছু শর্তাবলী রয়েছে, যেগুলো নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। আমরা একমতে পৌঁছাতে পারি কি না, সেটাই দেখার বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ