বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৫৭ পি.এম
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ২৪০ জন গোলপাতা চাষির মধ্যে আধুনিক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে, যা গোলপাতার গুড় উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয়। এ উপলক্ষে চাষিদের জন্য একটি সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনও করা হয়।
বুধবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম চাষিদের মধ্যে এসব উপকরণ বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আমানুল ইসলাম এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
কৃষি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, উপকূলীয় অঞ্চলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গোলপাতার গুড় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২৪০ জন চাষিকে অন্তত ১২ ধরনের উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। এসব উপকরণের মধ্যে গোলের রস জ্বাল দেওয়ার ডোংগা, কলস ও লোহার কাঁচিসহ বিভিন্ন সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চাষিদের গোলপাতা চাষ ও গুড় উৎপাদনের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে অর্থকরী ফসল হিসেবে গোলপাতার চাষ সম্প্রসারণ এবং গুড় উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এসব উপকরণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অতিরিক্ত কর্মকর্তারা আরও উল্লেখ করেন, গোলপাতার গুড় তুলনামূলকভাবে প্রাকৃতিক মিষ্টি হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভূটানের গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি অথরিটি (GMCA)-এর একটি প্রতিনিধি দল কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) প্রতিনিধি দলটি সোনাহাট স্থলবন্দর পরিদর্শনের জন্য সেখানে উপস্থিত হয়।
পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধি দলটি সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেবনাথ এবং সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ বদিউজ্জামানের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, কুড়িগ্রামে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং ভূটানের সঙ্গে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় প্রতিনিধি দলটি বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে।
বিশেষ করে তারা জানতে চেয়েছে, কুড়িগ্রাম থেকে সোনাহাট হয়ে ভূটানের দূরত্ব কত, সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে বর্তমানে কী কী পণ্য আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে, ভবিষ্যতে নতুন কী কী পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা যাবে এবং বন্দরের ইমিগ্রেশন কার্যক্রমসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর, কয়লা, তাজা ফল, ভুট্টা, গম, চাল, ডাল, রসুন, আদা ও পেঁয়াজসহ ২২টি পণ্য আমদানির সুযোগ রয়েছে এবং ভুটান থেকেও আমদানির অনুমতি রয়েছে। এর মধ্যে ভারত থেকে পাথর ও কয়লা আমদানি হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রপ্তানি পণ্যের মধ্যে গার্মেন্টস ঝুট, প্লাস্টিক পণ্য, জুস, টয়লেট টিস্যু, মশারি, বই এবং তৈরি পোশাক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিনিধি দলটি পরিদর্শনের আগে একটি চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছে, ভূটানের গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি অথরিটি (GMCA)-এর প্রতিনিধি দল ৩১ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করছে।
সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (BEZA)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক এবং কুড়িগ্রাম পরিদর্শন করা।
কুড়িগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দলের ভূটানি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, সোনাহাট স্থলবন্দর এবং চিলমারী নদীবন্দর পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিনিধি দলে GMCA-এর ডেপুটি ডিরেক্টর কালডেন দর্জি এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্সের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর নিম লাম অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সফরটি সমন্বয় করেন ঢাকায় রয়্যাল ভূটানিজ এম্বাসির মিনিস্টার-কাউন্সেলর (ট্রেড) দাওয়া শেরিং।
তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন BEZA-GMCA Joint Working Group Meeting-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দলের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে কুড়িগ্রামে ভূটানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ ভূটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত হয়ে সড়কপথে ভূটানে গিয়েছেন।
ওই দিন রাজা কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মাধবরাম এলাকায় ভূটানের জন্য প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান পরিদর্শন করেন। সেখানে বিজিবির পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার ও বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সফরের সময় বাংলাদেশ ও ভূটানের মধ্যে কুড়িগ্রামে ভূটানি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। ভূটানের সরকারি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কুড়িগ্রামের প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি ভূটানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর গেলেফু থেকে ১৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কুড়িগ্রামের এই অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সোনাহাট স্থলবন্দরের সম্ভাবনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় GMCA প্রতিনিধি দলের সোনাহাট স্থলবন্দর, কুড়িগ্রামের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও চিলমারী নদীবন্দর পরিদর্শনকে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ সময় প্রোটোকল ও সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ, সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ বদিউজ্জামান, ওসি আজিম উদ্দিন, স্থানীয় ব্যবসায়ী, উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম আকন্দ এবং কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের কয়েকজন প্রতিনিধি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন সার মজুদ রয়েছে।
এ কথা তিনি বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয় মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি ৭১) এর নোটিশের জবাবে জানিয়েছেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
মন্ত্রী বলেন, "আমি সরকারের বুলি আওড়াচ্ছি না, সত্যিটাই বলছি।" বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন সার মজুদ রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। এছাড়া, প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টন সার পাইপলাইনে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত বছর এই সময়ে সারের মজুদ ছিল ১২ লাখ টন। বর্তমানে গোডাউনে মজুদ রয়েছে প্রায় ১৩ লাখ টন। বন্দরে বা জাহাজে পাইপলাইনে রয়েছে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টন। দেশের মোট সারের চাহিদা বছরে ৪০ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন। তাই সারের কোনো সংকট নেই।
মন্ত্রী বলেন, "একটি সংঘবদ্ধ দল বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।" তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, গত কয়েকদিনে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হয়েছেন। কৃষকবান্ধব সার বিতরণে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রণয়নের জন্য একটি নতুন নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এতে প্রতি ইউনিয়নে ৩ জন করে মাস্টার ডিলার নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে একজন বিএডিসির, একজন বিসিআইসির এবং নতুন করে আরও একজনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
আমিন উর রশিদ জানান, ডিলারদের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চালের গুদাম বা ধানের মিলে সার পাওয়ার মতো ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার, জরিমানা ও ডিলারশিপ বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য উপজেলা, জেলা ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলাদা মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পদ নেই সরকারি গেজেটে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অনুমোদনও নেই—এরপরও ওই পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ। তার ওপর নিয়োগের সময় প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকায় নতুন নিয়োগে বিধিনিষেধ থাকার কথাও উঠে এসেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরের ডাসার সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়ে ‘ইন্সট্রাক্টর, প্রকৌশল অঙ্কন ও প্র্যাকটিস’ পদে হুমায়ুন কবির নামে এক ব্যক্তির নিয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর হুমায়ুন কবিরকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ সংশ্লিষ্ট সময়ে কলেজটি জাতীয়করণের প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল এবং ‘প্রকৌশল অঙ্কন ও প্র্যাকটিস’ বিষয়েরও অনুমোদন ছিল না বলে দাবি করেছেন কলেজের একাধিক শিক্ষক।
শুধু নিয়োগই নয়, ওই ব্যক্তিকে বর্তমানে কলেজের বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি কলেজের তহবিল থেকে পারিশ্রমিক দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। ফলে নিয়োগের বৈধতা, পদটির অনুমোদন, জনবল কাঠামো এবং কলেজের অর্থ ব্যয়ের নিয়মনীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, তৎকালীন শেখ হাসিনা একাডেমি অ্যান্ড উইমেন্স কলেজ জাতীয়করণের লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। জাতীয়করণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ওই পরিপত্রে প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগ, পদোন্নতি এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।এসব বিধিনিষেধ কার্যকর থাকার সময়ই ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর হুমায়ুন কবিরকে ‘ইন্সট্রাক্টর, প্রকৌশল অঙ্কন ও প্র্যাকটিস’ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
কলেজের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে ‘প্রকৌশল অঙ্কন ও প্র্যাকটিস’ বিষয়ের অনুমোদনই ছিল না। ফলে অনুমোদনহীন একটি বিষয়ের জন্য ইন্সট্রাক্টর পদে নিয়োগ কীভাবে হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।তবে নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অনুমোদন, পদটি জনবল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল কি না—এসব বিষয় যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।
হুমায়ুন কবিরের পদটি নিয়েও রয়েছে বড় প্রশ্ন। স্থানীয়দের দাবি, ‘ইন্সট্রাক্টর, প্রকৌশল অঙ্কন ও প্র্যাকটিস’ পদটি সরকারি গেজেটভুক্ত অনুমোদিত জনবল কাঠামোর মধ্যে নেই। এরপরও তাঁকে কলেজ থেকে অর্থ দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইন্সট্রাক্টর হিসেবে নিয়মিত পাঠদান না করলেও তাঁকে কলেজের ডাইনিংয়ের কাজ দেখা, পরীক্ষার খাতা দেখা, পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজু মিয়া বলেন, “যদি পদটি অনুমোদিত জনবল কাঠামোর বাইরে হয়, তাহলে কোন বিধি বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে তাঁকে কলেজের তহবিল থেকে অর্থ দেওয়া হচ্ছে—তা পরিষ্কার করা দরকার। জাতীয়করণের পর তাঁর চাকরির অবস্থান কী এবং দেওয়া অর্থ কোন খাতে দেখানো হচ্ছে, সেটিও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, হুমায়ুন কবির কলেজের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। পাশাপাশি তিনি সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আলহাজ্ব সৈয়দ আবুল হোসেনের গ্রামের বাড়ির সম্পত্তি দেখাশোনার কাজও করেন বলে দাবি তাঁদের।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, তিনি দুটি কলেজ থেকে বেতন নেন এবং বাইরে সম্পত্তি দেখাশোনার জন্যও সৈয়দ আবুল হোসেনের স্ত্রীর কাছ থেকে পারিশ্রমিক পান।অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।এসব নথি পর্যালোচনা করা হলে হুমায়ুন কবিরের নিয়োগ কোন প্রক্রিয়ায় এবং কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে হয়েছিল, তা স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।
তবে নিয়োগের বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজনও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিজের নিয়োগের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, “আমাকে প্রিন্সিপাল স্যার রেখেছেন। তিনি আমার কাজের জন্য টাকা দেন। আমার সাবজেক্ট নেই। আমাকে কেন নিয়োগ দেওয়া হলো—এ কারণে আমি হাইকোর্টে আপিল করেছি। এখন হাইকোর্টের রায়ের অপেক্ষায় আছি।”
অভিযোগের বিষয়ে ডাসার সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাকিয়া সুলতানা বলেন, “তার তো কোনো ক্লাস নেওয়া নেই। সে আমাদের কলেজের কনস্ট্রাকশন সাইটগুলো দেখে। এজন্য তাকে কিছু পারিশ্রমিক দিই।”
অধ্যক্ষের এই বক্তব্যের পরও প্রশ্ন উঠেছে—যদি তাঁর কোনো ক্লাস না থাকে এবং তিনি মূলত নির্মাণকাজের সাইট দেখাশোনা করেন, তাহলে ‘ইন্সট্রাক্টর, প্রকৌশল অঙ্কন ও প্র্যাকটিস’ পদে তাঁর নিয়োগের ভিত্তি কী এবং কলেজের তহবিল থেকে তাঁকে কোন খাতে পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে?
হুমায়ুন কবিরের নিয়োগের ক্ষেত্রে তৎকালীন অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির প্রভাব ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দা।
মাদারীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসাইন বলেন, “ওই কলেজে কোনো বিষয়ে যদি সাবজেক্ট না থেকে থাকে, তাহলে নতুন করে ওই সাবজেক্টের পদ সৃষ্টি করে, তারপরে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। আর যদি তা না হয়, তাহলে তার থাকার কোনো সুযোগ নেই। এরকম কেউ হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
তাই হুমায়ুন কবিরের নিয়োগ, বর্তমান অবস্থান ও কলেজের অর্থ থেকে তাঁকে দেওয়া পারিশ্রমিকের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানে একের পর এক ঐতিহাসিক মন্দিরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে, যা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দেশের বিভিন্ন মন্দির ও তীর্থস্থানে ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ডের ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। চলতি সপ্তাহে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ৫৭০ বছরের পুরনো একটি শিন্তো মন্দিরে, যা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। গত ৩১ আগস্ট, জাপানের গুরুত্বপূর্ণ শিন্তো তীর্থস্থান ‘ইসে জিঙ্গু’র নিকটবর্তী একটি প্রধান শপিং আর্কেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মন্দিরটি থেকে স্থানটি ছিল ৭০০ মিটার দূরে। পরদিন সকালে সানিও-ওনোদা শহরের সেইয়ানজি মন্দিরে আগুন লেগে যায়।
এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে ঐতিহ্যবাহী মন্দিরটি সম্পূর্ণরূপে পড়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শরণার্থীদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়। তবে জাপান প্রশাসন জানিয়েছে, এসব ঘটনার সঙ্গে শরণার্থীদের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশটির মন্দির ও উপাসনালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কমেছে।
তবে প্রশাসনের বক্তব্য সত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শরণার্থীদের দায়ী করে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জাপানে শিন্তো ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ঐতিহ্য। বিপুলসংখ্যক মানুষ শিন্তো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। তাই ঐতিহ্যবাহী মন্দির ও তীর্থস্থানে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগের মাত্রা আরো বেড়ে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে জাপানের অন্তত ৯টি গুরুত্বপূর্ণ মন্দির ও তীর্থস্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনাকে পরিকল্পিত নাশকতা বা সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করার মতো কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ