০৮:৩৮ এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার না হওয়ায় মাগুরা-শ্রীপুর জেলা মহাসড়ক বর্তমানে চলাচলের জন্য প্রায় অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য খানাখন্দ, বড় বড় গর্ত এবং ক্রোকোডাইল ক্র্যাকের উপস্থিতির কারণে প্রতিদিন যাত্রীরা এবং যানবাহন চালকরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। এর ফলে একদিকে যেমন যান চলাচলের গতি কমে গেছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বাস, ট্রাক সহ ভারী যানবাহনগুলো ধীরে এবং হেলেদুলে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। ছোট যানবাহনের চালকরা গর্তগুলো এড়িয়ে চলার জন্য আঁকাবাঁকা পথে চলতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং যানবাহনের যন্ত্রাংশও দ্রুত নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুদিন ধরে সড়কটির বড় ধরনের কোনো সংস্কার কার্যক্রম করা হয়নি। এর ফলস্বরূপ অন্তত অর্ধশতাধিক স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পুরো সড়কজুড়ে ক্রোকোডাইল ক্র্যাক ছড়িয়ে পড়েছে, যা সড়কের পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলেছে।
সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালক রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে গাড়ির স্প্রিং, শক অ্যাবজরভার সহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যাত্রীদেরও অনেক কষ্ট হচ্ছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন।
মাহেন্দ্র চালক শহিদুল শেখ জানান, গর্তের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। অনেক জায়গায় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে আমরা নিজেদের খরচে কিছু গর্তে ইট এবং খোয়া ফেলে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করেছি।
শ্রীপুরের বাসিন্দা আব্দুল করিম মোল্যা বলেন, এটি জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে চলাচল করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। দ্রুত সংস্কার না করলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।
সড়ক ব্যবহারকারী সালমা খাতুন বলেন, সড়কের কারণে যাতায়াতে সময় বেশি লাগছে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী এবং শিক্ষার্থীদের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এ বিষয়ে মাগুরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ইলিয়াস ফারুক জানিয়েছেন, মাগুরা-শ্রীপুর জেলা মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে এসে নতুন এক ইতিহাস গড়লো ডিআর কঙ্গো। শক্তিশালী পর্তুগালকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত সূচনা করলো মধ্য আফ্রিকার দেশটি। পুরো ম্যাচের মধ্যে কোনো শট নিয়েই মাঠে ছিলেন না পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। যেন তিনি মাঠে ছিলেন না বলেই মনে হচ্ছিল।
বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা নাগাদ টেক্সাসের হিউস্টনে মুখোমুখি হয়ে পড়েছিল দুই দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই পর্তুগালের আধিপত্য দেখতে পাওয়া যায়। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে পেদ্রো নেতোর বাম দিক থেকে ভাসানো নিখুঁত ক্রসে জোয়াও নেভেস হেড করে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে ডিআর কঙ্গো। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। কর্নার থেকে ডান দিক দিয়ে আসা বল ফার পোস্টে পেয়ে শক্তিশালী হেডে জাল খুঁজে নেন উইসা। সেই গোলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় ডিআর কঙ্গো। দ্বিতীয়ার্ধে গোল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে দুর্দান্ত একটি গোল করছিলেন জোয়াও ক্যানসেলো। কিন্তু সেটা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপর থেকে আর কোনো দলই গোল করতে পারেনি। ফলে নির্ধারিত সময় শেষে ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে থাকা অবস্থায়ও জ্বলে উঠতে পারেননি পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদো।
ম্যাচে মোট ২৫ বার বলের টাচ করলেও ২১টি সহায়ক পাস দেন রোনালদো। এর মধ্যে ১৬টি ছিল ব্যাক পাস। দুইবার ফুট শট নেওয়ার চেষ্টা করলেও সেগুলো গোলবারের বাইরে চলে যায়। গোলমুখে কোনো শট নিয়েই মাঠে ছিলেন না তিনি। ফলে এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই রোনালদোর এ ধরনের পারফরম্যান্সে হতাশ হয়ে পড়েন পর্তুগাল ভক্তরা।
যদিও বাজে পারফরম্যান্সের পরেও এদিন লিওনেল মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলার কীর্তি গড়েছেন রোনালদো। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক করার পর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—ছয়টি বিশ্বকাপে মাঠে নামলেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সমুদ্র থেকে মাছ ধরা শুরু হবার পরেও মেহেরপুরে সামুদ্রিক মাছের দাম তেমন কোনো প্রভাব দেখাচ্ছে না। বরং বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে দেশি মাছের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর সাথে স-বাঁধার মধ্যে সাদা মাছের সরবরাহও পূর্বের তুলনার তুলনায় কমে গিয়েছে। এর ফলে বর্তমানে বাজারে মাছের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে।
মেহেরপুরের বড়বাজার সংলগ্ন মাছের আড়তে দৈনিক প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকার বেচাকেনা হচ্ছে। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায়, আর ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। এছাড়া বাগদা চিংড়ি প্রতি কেজিতে ১০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
দেখা যায়, দেশি মাছের মধ্যে কৈ, জিওল, টাকি, তারাবাইন প্রজাতির মাছ বাজারে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইসাথে ছোট চিংড়ি, চেলা ও ময়া জাতের মাছ ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে, স্থানীয়ভাবে পাওয়া সাদা মাছ যেমন রুই, কাতলা, মৃগেল, পাঙ্গাস ও সিলভার কার্প এই মাছগুলো কেজিভেদে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, এবং ছোট এসব মাছ ১৮০ থেকে ২৫০ টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত ১০ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি মাছের দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে দেশি মাছের ক্ষেত্রে দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি বেড়েছে। আমদানি কমে যাওয়ার কারণে বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, "মাছের বাজার স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগবে। বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বাড়লে মাছ ধরা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে আমদানি কমে গেছে এবং দাম বেড়ে যাচ্ছে।"
এদিকে সাধারণ ক্রেতারা বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামে দুটি সেতু নির্মাণ করা হলেও এলাকাবাসীর ভোগান্তি কাটাতে পারছে না। সেতু থাকলেও সংযোগ সড়ক নেই, ফলে চলাচলের জন্য কার্যকর পথ না থাকায় স্থানীয় জনগণের জন্য এটি ব্যবহারে অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, তিন বছর পার হলেও সেতু দুটি এখনো কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার একডালা গ্রামের মানুষের যাতায়াত সুবিধার জন্য কুড়ালিয়া খালের ওপর ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি জোড়া সেতু নির্মাণ করা হয়। কুড়ালিয়া দিয়ার থেকে একডালা পর্যন্ত সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৭৭৬ মিটার। তবে সেতুর পশ্চিম পাশে প্রায় ৭০০ মিটার অংশ তিন বছর আগে খালে ভেঙে গেলে এখনো তা মেরামত করা হয়নি।
এতে দেখা যায় যে, সেতু নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহন, স্কুল-কলেজে যাতায়াত, পাশাপাশি দৈনন্দিন নানা কাজে স্থানীয় মানুষজন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক আব্দুল আলিম মন্তব্য করেন, খালের ওপর সেতু দুটি নির্মাণ করা হওয়ার ফলে এলাকাবাসী খুশি হয়েছিল। তারা দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু এত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। এর ফলে সেতু দুটি পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
স্কুল শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে রোগী পরিবহন, সব ক্ষেত্রে ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজাউর রহমান বলেন, সেতু দুটির সংযোগ সড়কের জায়গায় সরকারি জমি না থাকার কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে আশপাশের অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ