ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জোড়া সেতু নির্মিত হলেও সংযোগ সড়ক নেই, ২০ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি


জোড়া সেতু নির্মিত হলেও সংযোগ সড়ক নেই, ২০ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামে দুটি সেতু নির্মাণ করা হলেও এলাকাবাসীর ভোগান্তি কাটাতে পারছে না। সেতু থাকলেও সংযোগ সড়ক নেই, ফলে চলাচলের জন্য কার্যকর পথ না থাকায় স্থানীয় জনগণের জন্য এটি ব্যবহারে অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, তিন বছর পার হলেও সেতু দুটি এখনো কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৩ সালে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার একডালা গ্রামের মানুষের যাতায়াত সুবিধার জন্য কুড়ালিয়া খালের ওপর ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি জোড়া সেতু নির্মাণ করা হয়। কুড়ালিয়া দিয়ার থেকে একডালা পর্যন্ত সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৭৭৬ মিটার। তবে সেতুর পশ্চিম পাশে প্রায় ৭০০ মিটার অংশ তিন বছর আগে খালে ভেঙে গেলে এখনো তা মেরামত করা হয়নি।

এতে দেখা যায় যে, সেতু নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহন, স্কুল-কলেজে যাতায়াত, পাশাপাশি দৈনন্দিন নানা কাজে স্থানীয় মানুষজন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক আব্দুল আলিম মন্তব্য করেন, খালের ওপর সেতু দুটি নির্মাণ করা হওয়ার ফলে এলাকাবাসী খুশি হয়েছিল। তারা দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু এত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। এর ফলে সেতু দুটি পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ

স্কুল শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে রোগী পরিবহন, সব ক্ষেত্রে ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজাউর রহমান বলেন, সেতু দুটির সংযোগ সড়কের জায়গায় সরকারি জমি না থাকার কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে আশপাশের অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।

আরও পড়ুন: বেগম খালেদা জিয়ার নামে সিলেটের পুরানো কারাগারে জায়গায় পার্ক নির্মাণ হচ্ছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা ১০ ম্যাচ গোলহীন রোনালদোকে নিয়ে কী বললেন পর্তুগিজ কোচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৪ এম


টানা ১০ ম্যাচ গোলহীন রোনালদোকে নিয়ে কী বললেন পর্তুগিজ কোচ

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো হতাশায় বিশ্বকাপ শুরু করেছেন। তার দল পর্তুগাল ডিআর কঙ্গোর কাছে আটকে গিয়ে গেছে। হোয়াও নেভেসের গোলে লিড পেলেও, প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সেলেকাওদের সেই লিড হাতছাড়া হয়ে যায়। ইতিহাসের প্রথমবারের মতো আফ্রিকান দেশটি পয়েন্ট পেতে সক্ষম হলো।

পিচে নামার আগেই রেকর্ড ঘোষণা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড প্লেয়ার হিসেবে স্টার্টিং ইলেভেনে রোনালদো সর্বপ্রথম। এটি আরেকটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি মেসির পরে মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলছেন।

টেক্সাসে ঘুরেফিরে ক্যামেরার লেন্স বার বার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দিকে। তবে প্রথম লিডটি সিআর সেভেন নেননি, সেটি হোয়াও নেভেসের দারুণ হেডের মাধ্যমে এসেছে। আসিস্ট দিয়েছেন ইন ফর্ম পেদ্রো নেতো।

কঙ্গোর ফাইভ ম্যান লাইনের ডিফেন্সের সামনে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করা সম্ভব নয়, এটি আগেই বোঝা গেছে। সেলেকাওরা তাই অ্যারিয়াল অ্যাটাককে বেছে নিয়েছে। ফুলব্যাকদের কাজে লাগিয়ে একের পর এক ক্রস গেলেও, সাফল্য মেলেনি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে।

এদিন প্রয়াত দিয়াগো জোতা না থাকলেও, তার বাবা-মা স্ট্যান্ডে উপস্থিত ছিলেন। ম্যাচের পূর্বে তার প্রতি ট্রিবিউট প্রদান করা হয়েছে। ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে না পারায় একাদশে ছিলেন না রুবেন দিয়াস। অভিজ্ঞ সেন্টার ব্যাকের অনুপস্থিতিতে পর্তুগালকে সমস্যা পোহাতে হয়েছে। নেভেসের লিড হারিয়ে যায় প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে।

আর্থার মাসুয়াকুর করা ক্রসে গোল করেন ইওয়ান উইসার। কঙ্গোর জন্য এটি প্রথম বিশ্বকাপ গোল। ফলে গোটা সেলেকাও শিবির স্তব্ধ হয়ে যায়।

পুরো ম্যাচে পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কোনো শট নিতে পারেননি। তার উপস্থিতি যেন মাঠে ছিল না।

ম্যাচে মোট ২৫ বার বলের টাচ পেয়েছেন, তবে ২১টি সহায়ক পাস দিয়েছেন রোনালদো। এর মধ্যে ১৬টি ছিল ব্যাক পাস। দুইবার ফুট শট নিয়েছেন, কিন্তু সেগুলো গোলবারের বাইরে যায়। ফলে রোনালদোর পারফরম্যান্সে হতাশ হয়ে পড়েন পর্তুগাল ভক্তরা।

তবে, বড় টুর্নামেন্টে টানা ১০ ম্যাচ গোলহীন পর্তুগালের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানোর এমন বিবর্ণ পারফরম্যান্সের পরও ৪১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ।

কোচ তার দলের অধিনায়ককে সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করে বলেছেন, 'যখন আপনার গোলের প্রয়োজন, তখন বিশ্ব ফুটবলের সেরা গোলদাতাকে মাঠ থেকে তুলে নেয়ার কোনো মানেই হয় না। আমাদের জন্য এই ধরনের মুহূর্তে ডি-বক্সে ক্রিশ্চিয়ানোর অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে যেভাবে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের নিজের দিকে টেনে নিয়ে আসে এবং এর ফলস্বরূপ সৃষ্টি হওয়া ফাঁকা জায়গাগুলো আমরা কীভাবে ব্যবহার করতে পারি, তা দলের জন্য খুব দরকারি।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে কলম্বিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৫ এম


১-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে কলম্বিয়া

বিশ্বকাপের অভিষেকটা ভালো হয়নি উজবেকিস্তানের। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধের বিরতিতে গেছে মধ্য এশিয়ার দেশটি। ম্যাচের ৪০ মিনিটে লুইস দিয়াজের বক্সের ভেতরে পাঠানো বলে দারুণভাবে জালে পাঠিয়ে কলম্বিয়াকে লিড এনে দিয়েছেন দানিয়েল মুনিওজ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামে উজবেকিস্তান। বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি ছিল দেশটির প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ।

প্রথমার্ধে গোল মাত্র একটি হলেও পুরোটা সময় দাপট দেখিয়েছে কলম্বিয়া। ৭২ শতাংশ বল একাই নিজেদের দখলে রেখেছে দলটি। আর ২৮ শতাংশ বল ছিল প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে আসা উজবেকিস্তানের। কলম্বিয়া ৬টি শট নিয়ে ৩টি লক্ষ্যে রাখলেও কোনো শটই নিতে পারেনি উজবেকিস্তান।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ৪৭ ও ৪৮তম দল হিসেবে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছে উজবেকিস্তান–কলম্বিয়া। অভিষেক ম্যাচে শক্তিশালী কলম্বিয়ার মুখোমুখি হয় উজবেকিস্তান। লাতিন আমেরিকার দলটি ২০১৪ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে টানা নকআউট পর্বে খেলেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নড়াইলে সাত বছরেও বেড়িবাঁধের কাজ শেষ হয়নি, ঝুঁকিতে ৬ হাজার একর জমি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৬ এম


নড়াইলে সাত বছরেও বেড়িবাঁধের কাজ শেষ হয়নি, ঝুঁকিতে ৬ হাজার একর জমি

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ছয় হাজার একর জমির ফসল ও বসতবাড়ি মধুমতী নদীর পানিতে বছরের পর বছর প্লাবিত হয়ে আসছে। প্রতি বছরের বর্ষা মৌসুমে নদীর জল বৃদ্ধির ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সেই সঙ্গে হাজারো পরিবারও ঘরবাড়ির ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প শুরুর পরেও সাত বছর পেরিয়ে গেছে, প্রকল্পটি শেষ হয়নি। এই অবস্থায় তাঁরা দ্রুত বেড়িবাঁধ তৈরির দাবি জানিয়েছেন। তবে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কিছু দশকের ভাঙন ও ক্ষতির ফলে মধুমতী নদীর পাড়ে পাকা সড়ক পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। বারবার নদীর পানি ঢুকা অব্যাহত থাকায় অন্তত ছয় হাজার একর জমির ফসল রোপণ করা বিফলে গেছে। শুধু ফসলি জমি নয়, বরং ঘরবাড়িতেও এ জল ঢুকে অনেক পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবেলায় ২০১৯ সালে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল থেকে ঘাঘা চেয়ারম্যানের বাড়ি পর্যন্ত (ধলইতলা) ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়েছিল। প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৩৪২ কোটি টাকা।

স্থানীয় জনগণের আপত্তি ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০২৩ সালে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন প্রকল্পের কাজ শুরু করে। যদিও প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা, সেই সময়ের মধ্যে কাজের অগ্রগতি খুবই সন্তোষজনক নয়। দু'দফা সময় বৃদ্ধির পরেও কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। কিছু স্থানে খনন কাজ হয়েছে, কিন্তু অন্য কোথাও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এছাড়া, প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণে থাকা ১৬১ জনের মধ্যে ২৪ জন মাত্র ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ঠিকাদारी প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের ফসলি জমি ও বাড়িঘর রক্ষার জন্য স্থানীয়রা দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানাচ্ছে, জমির ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত তারা প্রকল্পের কাজ চলতে দেবেন না।

এস এ ইউবি জে বি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো. মিলন আলী সময় সংবাদকে জানান, বেড়িবাঁধের কাজ নিয়ে তাঁরা কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি বলছেন, এখনো পানি উন্নয়ন বোর্ড পুরো জমি তাঁদের বুঝিয়ে দেয়নি। কাজ করতে গেলে স্থানীয়দের কিছু বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। তারা বলছেন, ক্ষতিপূরণ না পেলে কাজ করতে দেবেন না। এ অবস্থায় কিছু অংশে কাজ চলছে, কিন্তু পুরো জমি বুঝে পেলে কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি ২০১৯ সালে অনুমোদিত হয়, কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২২ সাল পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে ২০২৩ সাল থেকে কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বাধা ও জমি জটিলতার কারণে ঠিকাদার নিয়মিতভাবে কাজ করতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, লাল পতাকা দিয়ে জমি চিহ্নিত করলেও পরবর্তীতে তা তুলে ফেলা হচ্ছে। সমস্যা সমাধান হলে দ্রুত কাজ শেষ করার আশা ব্যক্ত করেছেন।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হোসনে আরা তান্নি জানিয়েছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার জমি চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৪ জন ক্ষতিগ্রস্তকে যাচাই-বাছাই করে ক্ষতিপূরণের চেক দেয়া হয়েছে। বাকিদের আবেদন এবং কাগজপত্র যাচাই করে পর্যায়ক্রমে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কর্ড লাইনে দুই ঘণ্টা সাশ্রয়, ৩ ঘণ্টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম যাত্রা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ এম


কর্ড লাইনে দুই ঘণ্টা সাশ্রয়, ৩ ঘণ্টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম যাত্রা!

অবশেষে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে রেল চলাচলের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমানোর ব্যাপারে অন্তত ৮০ কিলোমিটার দূরত্ব সংকোচনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। মূলত কুমিল্লায় কর্ড লাইন স্থাপনের মাধ্যমে আখাউড়া-ভৈরব ও টঙ্গী রুট এড়িয়ে কুমিল্লা-লাকসাম-নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া হয়ে চলাচল করবে সব ধরনের যাত্রীবাহী ট্রেন। এভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রার সময় কমে দাঁড়াবে প্রায় ৩ ঘণ্টায়।

বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের অভিজাত ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭০ কিলোমিটার গতিতে চললেও ৩২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে অন্তত সাড়ে ৫ ঘণ্টা। চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলো আখাউড়া-ভৈরব ও টঙ্গী হয়ে ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছে।

চট্টগ্রামমুখী ট্রেনগুলোর ক্ষেত্রেও একই রুট ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু এই রুটে প্রায় ৮০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে গিয়ে যাত্রীদের বাড়তি প্রায় দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, "দূরত্ব কমে গেলে জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং পরিচালন ব্যয়ও কমে আসবে।"

তিনি আরও বলেন, "একজন যাত্রীকে বিমানযোগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে বাসা থেকে বিমানবন্দর, চেক-ইন, ফ্লাইট ও গন্তব্যে পৌঁছানোর পুরো সময় বিবেচনা করলে কর্ড লাইন চালু হলে ব্রডগেজ ট্রেনে তারও আগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছানো সম্ভব হবে।"

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের যাত্রীরা কুমিল্লা-লাকসাম হয়ে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া রুট ব্যবহার করবেন। বর্তমানে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত ডুয়েল গেজ রেললাইন বিদ্যমান। প্রকল্পের আওতায় এই লাইন কুমিল্লা ও লাকসামের মধ্যবর্তী অংশ পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। কর্ড লাইন চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে রেলওয়ের জ্বালানি ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম বলেন, "ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত কর্ড লাইন নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হচ্ছে এবং সেটি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।" সমীক্ষা শেষ হলে ডিপিপি প্রণয়ন করা হবে। এরপর অর্থায়ন নিশ্চিত হলে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

এর আগে কর্ড লাইন স্থাপনের দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন হলেও বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়ায় সংশ্লিষ্টরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এম আর মনজু বলেন, "চাকরিতে যোগদানের আগেও আমি কর্ড লাইনের কথা শুনেছি, কিন্তু কেউ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার দ্রুত এই কর্ড লাইন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়ায় ধন্যবাদ জানাই।"

কর্ড লাইন প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপে গত ১৫ মার্চ ড্রাফট ফিজিবিলিটি রিপোর্ট অনুমোদন করা হয়েছে। বর্তমানে চূড়ান্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। একই সঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণ শুরু করতে পৃথক ডিপিপি প্রস্তুতের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত অ্যালাইনমেন্ট অনুযায়ী সাব-সয়েল ইনভেস্টিগেশন, টপোগ্রাফিক সার্ভে, পরিবেশগত সমীক্ষা, পুনর্বাসন পরিকল্পনা (রিসেটেলমেন্ট প্ল্যান) এবং হাইড্রোমরফোলজিক্যাল স্টাডির কাজও সম্পন্ন হয়েছে। প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম বলেন, "বর্তমানে যে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ রয়েছে, সেটিকে ভবিষ্যতে ডেডিকেটেড সাইড করিডর হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।"

সব প্রক্রিয়া শেষ করে ২০২৭ সালে রেললাইন নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ২০৩০ সালের মধ্যে কুমিল্লার কর্ড লাইন পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে। যাত্রাপথে যানজট এড়াতে রেলপথে একাধিক পৃথক ওভারপাসও নির্মাণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্ড লাইন চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে রেলযাত্রার সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমে আসবে। এতে সড়কপথে যাত্রী পরিবহনের চাপ যেমন কমবে, তেমনি আকাশপথের যাত্রী পরিবহনেও এর প্রভাব পড়বে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে দ্রুত ও স্বল্পসময়ের যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%