মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৫৬ পি.এম
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিশেষায়িত ফোর্স সোয়াডসের সদস্যরা সমুদ্রে প্রথমবারের মতো ফ্রি-ফল জাম্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। নৌবাহিনীর মেরিটাইম প্যাট্রোল এয়ারক্রাফট থেকে প্রায় ৮ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে জাম্প করে নির্ধারিত ড্রোপ জোনে সমুদ্রে সফলভাবে অবতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) নৌবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে বাহিনীর পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষায়িত এই অনুশীলন সোয়াডস সদস্যদের প্যারাশুটিং দক্ষতা বৃদ্ধিতে এবং সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় বিশেষায়িত অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই অনুশীলনটি সোয়াডস কমান্ড ও নেভাল এভিয়েশনের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ ‘সৈকত’, ডাইভিং বোট ‘মাছরাঙা’ এবং দ্রুতগামী বোটসমূহ অংশগ্রহণ করে।
এতে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের অনুশীলনের মাধ্যমে নৌবাহিনীর বিশেষায়িত অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রমে দক্ষতা অর্জিত হবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী আধুনিক প্রশিক্ষণ, পেশাগত উৎকর্ষ ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতির সমন্বয়ে দেশের সমুদ্রসীমা ও সামুদ্রিক স্বার্থ সংরক্ষণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার ও স্টেট সেক্রেটারি ড. বারবেল কোফলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আবুল খায়ের স্টীল মেল্টিং লিমিটেড (একেএসএমএল) কারখানা পরিদর্শন করেছে।
সোমবার (২) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত কারখানাটির পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদলকে একেএসএমএল-এর আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অর্জন এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান একেএসএমএল-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান মোমিন।
জার্মান প্রতিনিধিদলে ড. বারবেল কোফলার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জিআইজেড বাংলাদেশ, জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক কেএফডব্লিউ এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) জেষ্ঠ্য কর্মকর্তাগণ।
একেএসএমএল আধুনিক ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস প্রযুক্তি, উন্নত প্রকৌশল এবং উচ্চগতির রিবার রোলিং প্রযুক্তির সমন্বয়ে স্টীল উৎপাদন করে। উচ্চ উৎপাদন সক্ষমতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের স্টীলশিল্পে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ, সম্প্রতি উৎপাদন সক্ষমতা-সংক্রান্ত একটি রেকর্ডের জন্য একেএসএমএল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অর্জন করেছে। প্রাকৃতিক সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহার ও পরিবেশগত দায়িত্বশীলতার অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, ফিউম ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে বায়ুদূষণ রোধ এবং ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে বৃষ্টির পানি পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে একেএসএমএল। কারখানাটির এসব পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ পরিদর্শন করে ভূয়সী প্রশংসা করেন জার্মান প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় স্টীলশিল্পে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নে একেএসএমএলের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন জার্মান প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশের শিল্প খাতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং তাঁদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি, বাংলাদেশের স্টীলশিল্পের অগ্রগতি ও আধুনিকায়ন সম্পর্কেও ইতিবাচক ধারণা লাভ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের লালপুরে অনুষ্ঠিত গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার ভুল স্বীকার করেছেন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী। তারা দলটির বাইরে থেকে পুনরায় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বের কাছে অতীতের ভুলত্রুটি বিবেচনায় নিয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) লালপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা নিজেদের অতীত রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতাকর্মীরা জানান, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের বিপক্ষে গিয়ে ভিন্ন প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছিলেন তারা। তারা স্বীকার করেন যে, এর মাধ্যমে দলের আদর্শ ও সাংগঠনিক অবস্থানের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের ওই অবস্থানের কারণে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি ও দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে থাকলে তারা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
লিখিত বক্তব্যে তারা আরও বলেন, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে তারা দলের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক ঐক্যের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিএনপির আদর্শ ও নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পুনরায় দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে চান তারা।
এ জন্য নেতাকর্মীরা দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতি অতীতের ভুলত্রুটি বিবেচনায় নিয়ে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানান। তারা বলেন, তাদের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করা নয়; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও ঐক্যের ভিত্তিতে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের হাতকে শক্তিশালী করা এবং দলকে আরো গতিশীল করতে ভূমিকা রাখা।
নেতাকর্মীরা আরো জানান, দলীয় নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা মেনে নিয়ে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে আগ্রহী তারা। ভবিষ্যতে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলা, সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করাকে নিজেদের অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের অতীতের ভুল-বোঝাবুঝি পেছনে ফেলে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের ভিত্তিতে দলকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতিতে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ ও সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
লালপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইসহাক আলী সংবাদ সম্মেলনে দলের বাইরে থাকা নেতাকর্মীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন। এ সময় লালপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আব্দুল আজিজ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান, সিজদার আলীসহ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক পাঁচজনের ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের প্রমাণ পাওয়ার পর আদালত তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কালীগঞ্জ থানার এসআই রানা প্রতাপ ঘোষ ও এসআই মো. মারুফ হাসান তাদের সঙ্গীয় ফোর্সসহ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে পাঁচজনকে আটক করেন। পরে তাদের ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের প্রমাণ পাওয়া গেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
আদালত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন— কালীগঞ্জ উপজেলার ষাটবাড়ীয়া গ্রামের জুয়েল মন্ডল (৩৫), যাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের সম্রাট মির্জা (১৯) এবং ঈশ্বরবা গ্রামের সম্রাট বিশ্বাসকে (২০) ১০ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
এছাড়া, বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মাহিন ইসলাম (২০) ও ইমন মির্জা (২৮) সাত মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। আদালত জরিমানা অনাদায়ে জুয়েল মন্ডলকে অতিরিক্ত ১৫ দিন, সম্রাট মির্জা ও সম্রাট বিশ্বাসকে ১৪ দিন করে এবং মাহিন ইসলাম ও ইমন মির্জাকে সাত দিন করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ওসি জুলফিকার আলী বলেন, "মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় এ দণ্ড প্রদান করা হয়।" বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আশা প্রকাশ করেছে যে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ভোক্তাপর্যায়ে সিলিন্ডার বিক্রির জন্য নির্ধারিত মূল্যে এলপিজির মূল্য ও সংশ্লিষ্ট চার্জ বৃদ্ধি না করার সিদ্ধান্ত নেবে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির মূল্যহার পরিবর্তনসংক্রান্ত গণশুনানির পূর্বে কমিশনের কাছে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ক্যাব একটি লিখিত মতামতে বিইআরসির কাছে এই আহ্বান জানায়। সংগঠনটির মতে, বর্তমানে নির্ধারিত মূল্য কার্যকরভাবে বাজারে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। নতুন করে মূল্য ও চার্জ বৃদ্ধি করা হলে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে।
ক্যাবের লিখিত মতামতে উল্লেখ করা হয়, গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অনেক ভোক্তাকে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার ক্রয় করতে হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার খরচ যুক্ত হলেও সিলিন্ডারের দাম ও পরিবহন খরচের পৃথক হিসাব স্পষ্ট করা হচ্ছে না।
সংগঠনটি বলছে, এই পরিস্থিতি নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নে দুর্বলতা এবং সরবরাহব্যবস্থায় জবাবদিহির ঘাটতির ইঙ্গিত করে। তাই মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনার পূর্বে বাজারে বিদ্যমান মূল্য কার্যকর করা এবং অতিরিক্ত দাম আদায় বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
ক্যাবের মতে, পাইপলাইনের গ্যাস সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর জন্য এলপিজি রান্নার অপরিহার্য জ্বালানি। খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের ব্যয় মেটানোর পর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে জ্বালানির অতিরিক্ত খরচ বহন করা কঠিন। ফলে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধি হলে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে।
লিখিত মতামতে ক্যাব উল্লেখ করেছে যে, সরবরাহের ঘাটতির অজুহাতে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখা, মজুত থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ না করা এবং বাজারে পণ্য সরবরাহ সীমিত করে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এই ক্ষেত্রে খুচরা বিক্রেতা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট অপারেটর ও পরিবেশকদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।
আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে জাহাজভাড়া, ডলারের বিনিময় হার ও অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি তুলে ধরার বিষয়টিও ক্যাব উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির দাবি, এসব ব্যয় প্রকৃত লেনদেনের দলিল, নিরীক্ষিত হিসাব ও নিরপেক্ষ কারিগরি মূল্যায়নের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। একই ব্যয় একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত করা, অযৌক্তিক ব্যয় ভোক্তার ওপর চাপানো কিংবা অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ রাখা যাবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানি ব্যয় কমলে তার সুফলও যথাসময়ে ভোক্তাদের দিতে হবে।
এ ছাড়া মজুতকরণ, বোতলজাতকরণ, ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলার চার্জ নির্ধারণে প্রকৃত পরিচালন ব্যয়, পরিবহন, সংরক্ষণ এবং বিক্রয়ের পরিমাণ বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে ক্যাব। সরকারি এলপিজির উৎপাদন বা ক্রয়ব্যয় ও বিতরণ ব্যয় পৃথকভাবে মূল্যায়ন এবং স্বচ্ছ বরাদ্দ ও সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করার সুপারিশও করেছে সংগঠনটি।
ক্যাবের সাত দফা সুপারিশের মধ্যে রয়েছে—এলপিজির মূল্য ও সংশ্লিষ্ট চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন না করা, নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করা, কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, চার্জ ও কমিশন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা যাচাই, আমদানি ও বিতরণ ব্যয়ের পৃথক হিসাব প্রকাশ, প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রে মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং রসিদ প্রদান নিশ্চিত করা।
অতিরিক্ত মূল্য আদায়, সিলিন্ডার না পাওয়া, কম ওজন ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণের সহজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গণশুনানিতে আবেদনকারীদের প্রস্তাবের পাশাপাশি ভোক্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ক্যাব। চূড়ান্ত মূল্যহার নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন ব্যয় গ্রহণ বা বর্জন করা হয়েছে এবং উত্থাপিত আপত্তিগুলো কীভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে, সে বিষয়ে কমিশনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে সংগঠনটি।
ক্যাবের প্রত্যাশা, সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ ও ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বিইআরসি এলপিজির মূল্য ও সংশ্লিষ্ট চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন না করে নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ