১০:৫৮ পি.এম
ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দৃশ্য টেলিভিশনে দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী। ১৯৯২ সালের ওই ঘটনার ফলে তার মনে হয়েছে, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র রক্ষায় একটি দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অতীতের সেই স্মৃতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
নিজের আত্মজীবনী প্রকাশের আগে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সোনিয়া গান্ধী উল্লেখ করেন, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু এবং তাদের সহযোদ্ধারা যে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেটিকে ধরে রাখতে দীর্ঘ সংগ্রামের প্রয়োজন হবে। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময় তার মধ্যে এই উপলব্ধি জন্মেছিল।
সাক্ষাৎকারে কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও আত্মসমালোচনা করেন সোনিয়া। তার মতে, বিজেপির উত্থানের পেছনে কংগ্রেসের নিজেদের ব্যর্থতারও একটি ভূমিকা ছিল। তিনি মন্তব্য করেন, দলটি অনেক ক্ষেত্রেই আত্মতুষ্টিতে ভুগেছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথেষ্ট সক্রিয় ছিল না।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনে চিহ্নিত বড় বড় ব্যর্থতা
সোনিয়ার এই বক্তব্য ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা ও সংসদ সদস্য সুধাংশু ত্রিবেদী।
ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, সোনিয়ার বক্তব্যে প্রমাণিত হয় যে, বাবর সম্পর্কে কংগ্রেসের যে সহানুভূতি আগে ছিল, তা এখনও রয়েছে। তিনি বলেন, “তখন কংগ্রেসের হৃদয়ে বাবর ছিলেন, এখনো আছেন।” ত্রিবেদী দাবি করেন, কংগ্রেস মহাত্মা গান্ধীর ‘রামরাজ্য’-এর ধারণা থেকে সরে গিয়ে ‘বাবর রাজ’-এর দিকে ঝুঁকেছে।
এছাড়া, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দৃশ্য সোনিয়া কখন এবং কোন টেলিভিশন চ্যানেলে দেখেছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপির এই নেতা। ত্রিবেদী বলেন, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রচার হয়েছিল। তবে সেদিন কোন ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে সোনিয়া ধ্বংসের দৃশ্য দেখেছিলেন, তা জানতে চান তিনি।
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় করসেবকদের একটি বিশাল দল বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলে। ঘটনাটি ভারতের রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িক সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। মসজিদটি ঘিরে দীর্ঘদিনের বিরোধের পর ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দেন এবং মসজিদ নির্মাণের জন্য বিকল্প পাঁচ একর জমি বরাদ্দের নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: মিসরে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৬৪ জন আহত
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন