১০:৪১ পি.এম
টানা ও বিরতি দিয়ে প্রায় ২১ বছর ধরে ইসরাইলের রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা কট্টর ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনামল কেবল সামরিক আগ্রাসন এবং কূটনৈতিক চমকই সৃষ্টি করেনি, বরং দেশকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে চরম নৈতিক এবং কৌশলগত সংকটের সম্মুখীন করেছে। ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী এই প্রধানমন্ত্রীর শাসনামল মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা কিছু বড় ব্যর্থতা বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছেন:
• ৭ই অক্টোবরের চরম সামরিক ও গোয়েন্দা ব্যর্থতা:
নেতানিয়াহুর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় আঘাত ছিল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আক্রমণ। ইসরাইলের অত্যাধুনিক সীমান্ত নজরদারি, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং সামরিক প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই মাত্রার হামলা সম্ভব হলো, তা নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের ‘নিরাপত্তা রক্ষক’ ভাবমূর্তিকে ধূলিসাৎ করে দেয়।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প: নির্বাচনের ফল ‘ইতিহাসে এক বিশাল পদক্ষেপ পিছিয়ে যাওয়া’
• গাজা যুদ্ধ ও বিশ্বমঞ্চে ইসরাইলের ভাবমূর্তি ধ্বংস:
হামাসকে নির্মূল এবং জিম্মিদের উদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে গাজায় নির্বিচার দীর্ঘ সামরিক অভিযান চালানোর পরেও কার্যকর কৌশলগত বিজয় অর্জনে তিনি ব্যর্থ হন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) হিসাব অনুযায়ী গাজায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইল চরমভাবে নিন্দিত হয়। এর ফলস্বরূপ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) খোদ নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, যা দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন নৈতিক পরাজয়।
• বিচার বিভাগ খর্বের চেষ্টা ও নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ বিভাজন:
২০২৩ সালে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা কমানো এবং বিচারক নিয়োগে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিতর্কিত বিল এনে নেতানিয়াহু দেশকে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করান। এর ফলে ইসরাইলের ইতিহাসে বৃহত্তম বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং সামরিক বাহিনীর রিজার্ভ সদস্যদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়ে জাতীয় ঐক্য ভেঙে পড়ে।
আরও পড়ুন: বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দৃশ্য দেখে কেঁদেছিলেন সোনিয়া, বিজেপির কটাক্ষ ‘দিল মে বাবর’
• দুর্নীতির দায়ে প্রথম বিচারমুখী প্রধানমন্ত্রী:
ব্যক্তিগত জীবনে ঘুষ গ্রহণ, জালিয়াতি এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে বিচারাধীন হয়ে তিনি ইসরাইলের ইতিহাসে পদে থাকা অবস্থায় কাঠগড়ায় দাঁড়ানো প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে এবং নিজের বিচার প্রক্রিয়া থেকে রেহাই পেতে তিনি চরম ডানপন্থি ও উগ্র ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে আপস করে শাসনকাজ পরিচালনা করেছেন।
• ইরান সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি-অর্থনৈতিক সংকট:
ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক আগ্রাসন এবং সংঘাতকে উসকে দেওয়ার ফলে হরমুজ প্রণালি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় শুধুমাত্র জ্বালানি তেল বা গ্যাস নয়, সার এবং খাদ্যপণ্যের বিশ্ববাজারে তীব্র অচলবস্থার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যার ভূরাজনৈতিক দায় নেতানিয়াহুর নীতির ওপরও বর্তায়।
আরও পড়ুন: মিসরে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৬৪ জন আহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন