ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

জলাশয় ঘিরে বরগুনার স্বাবলম্বিতার হাতছানি, উজ্জ্বল সম্ভাবনা


জলাশয় ঘিরে বরগুনার স্বাবলম্বিতার হাতছানি, উজ্জ্বল সম্ভাবনা

বরগুনা জেলা, যা প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ, উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত। এই জেলার নদী, খাল, পুকুর, দিঘি, বিল এবং অসংখ্য জলাশয় মাছ চাষের জন্য অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। তবে, এসব জলাশয়ের একটি বড় অংশ এখনো পরিকল্পিত মাছ চাষের আওতায় আসেনি। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ, আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ঋণ নিশ্চিত করা গেলে, এই জলাশয়গুলো প্রান্তিক জনগণের স্বাবলম্বী হওয়ার অন্যতম অবলম্বন হতে পারে।

বিশেষ করে দরিদ্র জেলে পরিবার, ভূমিহীন মানুষ, বেকার যুবক ও নারীদের সমবায়ভিত্তিক মাছ চাষের উদ্যোগে যুক্ত করা গেলে, উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। মাছ চাষের সঙ্গে হাঁস পালন, পুকুরপাড়ে সবজি ও ফলদ বৃক্ষের চাষ এবং উপযোগী জলাশয়ে চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষের মাধ্যমে একই জলাশয় থেকে বহুমুখী আয় করা সম্ভব।

মৎস্য অধিদপ্তরের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে মোট মাছ উৎপাদনের ৫৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ অভ্যন্তরীণ বদ্ধ জলাশয়ে চাষ থেকে আসে। ওই অর্থবছরে দেশে মোট মাছ উৎপাদন ছিল ৫০ দশমিক ১৮ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বদ্ধ জলাশয়ে উৎপাদিত মাছের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৭৮ লাখ মেট্রিক টন। এই পরিসংখ্যান জলাশয়ভিত্তিক মাছ চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্বকে তুলে ধরে।

আরও পড়ুন: সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী হলেন নতুন পররাষ্ট্র সচিব

বরগুনা সদর, আমতলী, তালতলী, পাথরঘাটা, বেতাগী ও বামনা- এই ছয়টি উপজেলায় মাছ চাষের উপযোগী বিভিন্ন জলাশয় বিদ্যমান। পানির লবণাক্ততা, গভীরতা ও পরিবেশের ভিত্তিতে কোথাও কার্প, তেলাপিয়া ও পাঙাশ, আবার কোথাও চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া উপযোগী জলাশয়ে খাঁচায় মাছ চাষ এবং মাছের সঙ্গে মুক্তা চাষের মতো বিকল্প উদ্যোগও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিয়াউদ্দিন মন্তব্য করেন, "জেলার জলাশয়গুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে মাছের উৎপাদন ও গ্রামীণ মানুষের আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।" তিনি বলেন, জলাশয়ের ধরন অনুযায়ী মাছের প্রজাতি নির্বাচন, মানসম্মত পোনা, সুষম খাদ্য এবং নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মৎস্য বিভাগের কারিগরি পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে চাষিরা উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হবেন।

বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা জানান, তাঁর গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলায়। সেখানে প্রান্তিক জনগণ বিভিন্ন জলাশয়ে সমন্বিতভাবে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বরগুনায়ও অসংখ্য জলাশয় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, এসব জলাশয় মাছ চাষের আওতায় আনা গেলে প্রান্তিক জনগণের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ জন্য স্থানীয় সচেতন মহলের উচিত জলাশয়গুলোকে মাছ চাষের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া।

জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, "জলাশয়কে ঘিরে পরিকল্পিত মৎস্য অর্থনীতি গড়ে তোলা গেলে প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে।" তিনি উল্লেখ করেন, এ ক্ষেত্রে সরকারি জলাশয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অগ্রাধিকার, প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ঋণ নিশ্চিত করা জরুরি।

আরও পড়ুন: সাভারে শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি ও অর্থায়নের অভিযোগে যুবলীগ নেতা সোহেল গ্রেপ্তার

বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও মৎস্য চাষি জাকির হোসেন মিরাজ মনে করেন, জলাশয়ের তালিকা তৈরি, মালিকানা ও ব্যবহারযোগ্যতা যাচাই এবং উপজেলাভিত্তিক মৎস্য চাষ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, উৎপাদিত মাছের ন্যায্যমূল্য, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে।

জেলে সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি বরগুনা সদর উপজেলার কালিরতব গ্রামের মো. আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, নদী ও সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, বৈরী আবহাওয়া কিংবা মাছের স্বল্পতার সময় জেলে পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়ে। স্থানীয় জলাশয়ে দলগতভাবে মাছ চাষের সুযোগ পেলে তাঁদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা হবে। এ জন্য প্রশিক্ষণ, পোনা, মাছের খাদ্য ও স্বল্পসুদে ঋণ প্রয়োজন।

তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া গ্রামের আব্বাসউদ্দিন হাওলাদার জানান, পুঁজি, উপযুক্ত জলাশয় ও কারিগরি জ্ঞানের অভাবে অনেক দরিদ্র মানুষ মাছ চাষে আগ্রহী হয়েও উদ্যোগ নিতে পারেন না। সরকারি ব্যবস্থাপনায় জলাশয় ব্যবহারের সুযোগ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলে তাঁরা উৎপাদনমুখী কাজে যুক্ত হতে পারবেন।

পাথরঘাটার মৎস্য চাষি মো. খলিলুর রহমান পহলান বলেন, মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি বিক্রির নিশ্চয়তাও প্রয়োজন। বরিশাল, পটুয়াখালী ও ঢাকাসহ বড় বাজারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং সমবায়ভিত্তিক বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন।

আরও পড়ুন: ৩ বছর ধরে পৌরসভা চত্বরে কোটি টাকার সরকারি মালামাল বিনষ্ট, নাগরিক সেবা নেই

তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবায়নে পুঁজির সংকট, মাছের খাদ্যের উচ্চমূল্য, মানসম্মত পোনার অভাব, রোগবালাই, পানির লবণাক্ততা ও বাজারজাতকরণের দুর্বলতা বড় প্রতিবন্ধকতা। উপকূলীয় এলাকার ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অতিবৃষ্টির ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হবে। পাশাপাশি মাছ চাষের নামে জলাশয় দখল, প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ বন্ধ কিংবা পরিবেশের ক্ষতি রোধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রথমে ছয়টি উপজেলায় সম্ভাবনাময় জলাশয়ের তালিকা ও জরিপ করে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার। প্রকৃত জেলে ও দরিদ্র পরিবারকে সমবায়ের মাধ্যমে জলাশয় ব্যবহারের সুযোগ, প্রশিক্ষণ, মানসম্মত পোনা, স্বল্পসুদে ঋণ এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদিত মাছের সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে হবে।

বরগুনার জলাশয়গুলো শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি হতে পারে। সুষ্ঠু পরিকল্পনা, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা এবং প্রান্তিক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে, এসব জলাশয় ঘিরেই সৃষ্টি হতে পারে কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বিতার নতুন দিগন্ত। এখন প্রয়োজন সম্ভাবনাকে বাস্তব উদ্যোগে রূপ দেওয়া।

আরও পড়ুন: বরিশালে দুই অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিলো পরিবেশ অধিদফতর, বাধা দেয়ায় আটক ১

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জানুয়ারির মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হচ্ছে ভাষা ও আইসিটি কোর্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


জানুয়ারির মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হচ্ছে ভাষা ও আইসিটি কোর্স

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের আধুনিক বিশ্বের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আগামী জানুয়ারির মধ্যে ভাষা শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জানিয়েছেন, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে দেশের আটটি বিভাগে আটটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করে এসব কোর্স পরিচালনা করা হবে।

রোববার (৮ নভেম্বর) রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে ‘দক্ষতাভিত্তিক মাদ্রাসা শিক্ষা ও কর্মসংস্থান: আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. মামুন মন্তব্য করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করতে হবে। বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য ভাষা শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। এর মাধ্যমে তাঁরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন। এই উদ্দেশ্যে আগামী জানুয়ারির মধ্যে এসব প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে সময়োপযোগী ও কর্মমুখী করতে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, যোগাযোগের সক্ষমতা এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে তাঁরা চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেদের গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরে ইউজিসি সদস্য জানান, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে দেশের আটটি বিভাগে আটটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করে কোর্সগুলো পরিচালনা করা হবে। এতে বিভিন্ন অঞ্চলের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগের প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে ভাষা শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ আরও সহজলভ্য ও বিস্তৃত হবে।

অধ্যাপক ড. মামুন আরও উল্লেখ করেন, আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সব ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমানভাবে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা গেলে শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, দক্ষ জনশক্তি ও উদ্যোক্তা হিসেবেও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা। এই লক্ষ্য অর্জনে অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, রোবটিকস, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এবং উপাত্তবিজ্ঞানের মতো আধুনিক বিষয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশীয় সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান বের করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শাহীনুল ইসলাম এবং কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে দক্ষতাভিত্তিক মাদ্রাসা শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আধুনিক বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী ভাষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মগবাজারে ক্রেনচাপায় প্রকৌশলী আরিফের মৃত্যু, পরিবারের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


মগবাজারে ক্রেনচাপায় প্রকৌশলী আরিফের মৃত্যু, পরিবারের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি

রাজধানীর মগবাজারে নির্মাণকাজের সময় ক্রেনের নিচে চাপা পড়ে প্রকৌশলী এ বি এম আহসান উল্লাহ আরিফের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা নগরীর চলমান নির্মাণ প্রকল্পগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের আহ্বানও জানিয়েছেন।

রবিবার (৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় মওলানা আকরম খাঁ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত প্রকৌশলীর পরিবারের সদস্য ডা. এ বি এম ইয়াছিন উল্লাহ (শরিফ) এসব দাবি তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৮ অক্টোবর রাজধানীর মগবাজার প্রধান সড়কে নির্মাণকাজ চলাকালে শানডং হাইস্পিড–সিনোহাইড্রো যৌথ উদ্যোগের কাজে ব্যবহৃত একটি ভারী ক্রেনের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন প্রকৌশলী আরিফ। পাঁচ দিন সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৩ অক্টোবর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু ঘটে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আরিফের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, এটি নগরীর নির্মাণকাজে নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং জনসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দায়ী না করে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় নির্ধারণ করতে হবে।

তদন্তের আওতায় নির্মাণস্থলে নিরাপত্তাবেষ্টনী, সতর্কসংকেত, প্রশিক্ষিত ট্রাফিক মার্শাল, ভারী যন্ত্রপাতি চলাচলের নিরাপদ ব্যবস্থা এবং পথচারী ও যানবাহনের বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ব্যবহৃত ক্রেনের ফিটনেস, রক্ষণাবেক্ষণ, চালকের যোগ্যতা, কাজের অনুমতিপত্র, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, দুর্ঘটনার পর আরিফ রক্তাক্ত অবস্থায় আধা ঘণ্টারও বেশি সময় সড়কে পড়ে ছিলেন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ যথাসময়ে নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন। এ ছাড়া দুর্ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে তদন্তের অগ্রগতি ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, অবহেলা বা নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহতের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া নগরীর চলমান নির্মাণ প্রকল্পগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা নিরীক্ষা, ক্রেনসহ ভারী যন্ত্রপাতির ফিটনেস যাচাই, অপারেটরদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং ব্যস্ত সড়কে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর দাবি জানানো হয়। নির্মাণস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন বক্তারা।

তারা বলেন, বড় নির্মাণ প্রকল্পে দুর্ঘটনা ঘটলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা জানাতে হবে। নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নিরাপত্তার ঘাটতি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে পরিদর্শনের ফলাফল ও ঘাটতি সংশোধনে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা বলেন, প্রকৌশলী আরিফের মৃত্যুকে বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং পরিবারের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নগরীর নির্মাণকাজে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি থেকে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিকিৎসকদের রাজনৈতিক কারণে বৈষম্যের শিকার হতে দেওয়া যাবে না: চসিক প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১২ পি.এম


চিকিৎসকদের রাজনৈতিক কারণে বৈষম্যের শিকার হতে দেওয়া যাবে না: চসিক প্রশাসক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে কোনো মেধাবী ও যোগ্য চিকিৎসক যেন বঞ্চনা বা বৈষম্যের শিকার না হন। তিনি উল্লেখ করেন, একজন চিকিৎসকের যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধাই তার মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত। ভিন্ন মতাদর্শের পরও যোগ্য ব্যক্তিকে যথাযথ সম্মান ও সুযোগ প্রদান করা প্রয়োজন।

রবিবার (৮ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর প্রদান ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন, চমেক হাসপাতাল শাখা।

ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, পরমতসহিষ্ণুতা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন যেন থেমে না যায়। কোনো সরকারের সময় নেওয়া ভালো উদ্যোগ পরবর্তী সরকার এসে বন্ধ করে দেবে—এমন মানসিকতা পরিহার করা উচিত। চিকিৎসাসেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে রাখতে হবে।

মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলোতে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চসিক প্রশাসক বলেন, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের জীবন রক্ষায় অক্সিজেন কনসেনট্রেটরের মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের এ উদ্যোগকে মহৎ ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু একটি বিভাগে সীমাবদ্ধ না রেখে হাসপাতালের অন্যান্য বিভাগেও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. তসলিম উদ্দিন, ড্যাব চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ, ড্যাব চমেক শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়েজুর রহমান, ড্যাব চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী এবং ড্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ডা. ইফতেখারুল ইসলাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাফল্যের দৌড়ে চীনে কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১৩ পি.এম


সাফল্যের দৌড়ে চীনে কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

চীনের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার বৃদ্ধি ঘটছে সাফল্যের তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে। আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চাপ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিলেও, বর্তমানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সময় থেকেই এই চাপ শুরু হয়েছে।

পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ, পরিবারের কাছ থেকে পর্যাপ্ত মানসিক সমর্থন না পাওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তরুণদের মানসিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় চীনের চংকিং শহরের ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী চেনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে পড়ার সময় তাঁর বুক ধড়ফড় করত, বুকে চাপ অনুভূত হতো এবং বইয়ের লেখা বুঝতে কষ্ট হতো। প্রথমে হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে বলা হয়। পরীক্ষার পর তাঁর বিষণ্নতা ও উদ্বেগজনিত সমস্যা ধরা পড়ে। বিষয়টি জানার পর তাঁর মা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

চীনের বিভিন্ন গবেষণায় তরুণদের মানসিক সংকটের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ২০২১ সালে বেইজিং অ্যান্ডিং হাসপাতালের নেতৃত্বে পরিচালিত এক জাতীয় জরিপে দেখা যায়, ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত। এর মধ্যে উদ্বেগ ও বিষণ্নতা অন্যতম।

২০২২ সালে চীনা বিজ্ঞান একাডেমির এক প্রতিবেদনে জরিপে অংশ নেওয়া কিশোরদের ১৪ দশমিক ৮ শতাংশের মধ্যে বিভিন্ন মাত্রার বিষণ্নতার ঝুঁকি পাওয়া যায়। আগের এক গবেষণায় দেখা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রায় ১০ শতাংশের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ রয়েছে। নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে এ হার বেড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে একক কোনো কারণ নেই। হংকং পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শিমিন ঝু বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে তীব্র প্রতিযোগিতা, ডিজিটাল মাধ্যমের বিস্তার, পারিবারিক কাঠামোর পরিবর্তন এবং দ্রুত সামাজিক রূপান্তরের কারণে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সবকিছু মিলিয়ে কিশোরদের মানসিক চাপ বাড়ছে।

চেন জানান, তার পড়াশোনার সময়সূচি সকাল ৭টা ২০ মিনিট থেকে রাত ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ছিল। সপ্তাহান্তেও কোচিং ক্লাস করতে হতো।

চীনে বাধ্যতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা নবম শ্রেণি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। এরপর উচ্চ মাধ্যমিকের সাধারণ শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার মধ্যে শিক্ষার্থীদের বেছে নিতে হয়। অঞ্চলভেদে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মাত্র ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ সাধারণ উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির সুযোগ পায়। সামাজিকভাবে সাধারণ শিক্ষাকে বেশি মর্যাদা দেওয়ায় অনেক পরিবার কারিগরি শিক্ষাকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখে।

পরিবারের সমর্থনের অভাবও পরিস্থিতিকে জটিল করছে। চেনের ভাষ্য, তাঁর মা-বাবা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তাঁর মানসিক যন্ত্রণা বুঝতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি নিজের হাতে স্ট্যাপল দিয়ে আঁচড় কেটে আত্মক্ষতির পথ বেছে নেন।

ডিজিটাল মাধ্যমও নতুন সংকট তৈরি করছে। ভিডিও গেম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বিনোদনে অতিরিক্ত সময় কাটানোর ফলে কিশোরদের শারীরিক ব্যায়াম ও সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ কমছে। এতে বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্নতা আরও বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে চীনা সরকার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চাপ কমানোর পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কাউন্সেলর নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশটির স্টেট কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ৯২ শতাংশ প্রাথমিক এবং ৯৫ শতাংশ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কাউন্সেলর রয়েছেন। তবে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক নেতিবাচক ধারণা, চিকিৎসকের স্বল্পতা এবং ব্যয়বহুল কাউন্সেলিং বড় বাধা হয়ে আছে।

২০১৯ সালে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, চীনে শিশু ও কিশোরদের জন্য যোগ্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন মাত্র প্রায় ৫০০ জন।

বিশেষজ্ঞ শিমিন ঝুর মতে, শুধু পড়াশোনার চাপ কমানোই যথেষ্ট নয়; প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার মানসিক সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে। তাঁর ভাষায়, একটি পরীক্ষায় খারাপ ফল করলেই যেন শিশুদের মনে না হয়, সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%