প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর মগবাজারে নির্মাণকাজের সময় ক্রেনের নিচে চাপা পড়ে প্রকৌশলী এ বি এম আহসান উল্লাহ আরিফের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা নগরীর চলমান নির্মাণ প্রকল্পগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের আহ্বানও জানিয়েছেন।
রবিবার (৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় মওলানা আকরম খাঁ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত প্রকৌশলীর পরিবারের সদস্য ডা. এ বি এম ইয়াছিন উল্লাহ (শরিফ) এসব দাবি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৮ অক্টোবর রাজধানীর মগবাজার প্রধান সড়কে নির্মাণকাজ চলাকালে শানডং হাইস্পিড–সিনোহাইড্রো যৌথ উদ্যোগের কাজে ব্যবহৃত একটি ভারী ক্রেনের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন প্রকৌশলী আরিফ। পাঁচ দিন সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৩ অক্টোবর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু ঘটে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আরিফের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, এটি নগরীর নির্মাণকাজে নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং জনসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দায়ী না করে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় নির্ধারণ করতে হবে।
তদন্তের আওতায় নির্মাণস্থলে নিরাপত্তাবেষ্টনী, সতর্কসংকেত, প্রশিক্ষিত ট্রাফিক মার্শাল, ভারী যন্ত্রপাতি চলাচলের নিরাপদ ব্যবস্থা এবং পথচারী ও যানবাহনের বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ব্যবহৃত ক্রেনের ফিটনেস, রক্ষণাবেক্ষণ, চালকের যোগ্যতা, কাজের অনুমতিপত্র, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, দুর্ঘটনার পর আরিফ রক্তাক্ত অবস্থায় আধা ঘণ্টারও বেশি সময় সড়কে পড়ে ছিলেন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ যথাসময়ে নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন। এ ছাড়া দুর্ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে তদন্তের অগ্রগতি ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, অবহেলা বা নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহতের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া নগরীর চলমান নির্মাণ প্রকল্পগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা নিরীক্ষা, ক্রেনসহ ভারী যন্ত্রপাতির ফিটনেস যাচাই, অপারেটরদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং ব্যস্ত সড়কে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর দাবি জানানো হয়। নির্মাণস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন বক্তারা।
তারা বলেন, বড় নির্মাণ প্রকল্পে দুর্ঘটনা ঘটলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা জানাতে হবে। নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নিরাপত্তার ঘাটতি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে পরিদর্শনের ফলাফল ও ঘাটতি সংশোধনে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা বলেন, প্রকৌশলী আরিফের মৃত্যুকে বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং পরিবারের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নগরীর নির্মাণকাজে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি থেকে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন