ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফুলবাড়ীতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অ্যাডভোকেসি সভা


ফুলবাড়ীতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অ্যাডভোকেসি সভা
 
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে জাতীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় ফুলবাড়ী উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থা (ইউএসএস)-এর আয়োজনে এবং একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় সভাটির আয়োজন করা হয়।
 
সভায় কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি মাওলানা দিনার মিনহাজ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং অ্যাক্টিভিস্টা কুড়িগ্রামের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
 
সভায় স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত দাবি তুলে ধরেন অ্যাক্টিভিস্টা প্রতিনিধি মারুফ শেখ, সীমা খাতুন ও শিমু শেখ। কৃষক কার্ড প্রাপ্তিসহ কৃষকদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন নারী সংগঠনের প্রতিনিধি হালালী খাতুন, কল্যাণী রানী ও কামরুন্নাহার।
 
এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ডা. ফেরদৌসী খাতুন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হাফিজুল ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তাহমিনা শিরিন, সহকারী প্রোগ্রামার রফিকুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজ উদ দৌলা এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা।
 
উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থার প্রকল্প কর্মকর্তা ঝরনা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় ‘তারুণ্যের স্বপ্ন ও সামাজিক নিরীক্ষা’ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. রবিউল ইসলাম।
 
উপস্থাপিত জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে ফুলবাড়ী উপজেলার উন্নয়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কাছে তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নদীভাঙন কবলিত এলাকায় ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং ধরলা নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ সচল রাখা; অংশগ্রহণমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্য বাজেট প্রণয়ন; নারীবান্ধব আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিতে যুবকদের অন্তর্ভুক্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
 
এ ছাড়া ভাঙা রাস্তাঘাট মেরামত ও কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, যুবকদের জন্য সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, সব শিশুর জন্য শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করা এবং বেকার যুবকদের ডিজিটাল মার্কেটিং, ফ্রিল্যান্সিং ও গ্রাফিক ডিজাইনে প্রশিক্ষণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
 
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ও সম্প্রসারণের বিষয়েও সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।
 
সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৫১ পি.এম


২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাম উপসর্গে আরও পাঁচজনের মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ের মধ্যে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ১০৩১ জন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯৫৬ জন। এছাড়া, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত মোট হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লক্ষ ৫৩ হাজার ৬৯২ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৭৫ জন। এবং একই সময়ের মধ্যে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৭২৬ জন।

এই সময়ের মধ্যে হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৭ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ২৯ হাজার ৪৮৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৮৫৬ জন শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু ঘটেনি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমারখালীতে জাল নোট প্রতিরোধে কর্মশালা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৫২ পি.এম


কুমারখালীতে জাল নোট প্রতিরোধে কর্মশালা

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাল নোটের প্রচলন রোধে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে দুই ঘণ্টার এই কর্মশালাটি বাংলাদেশ ব্যাংক, রাজশাহী শাখার উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।

এই কর্মশালায় সহযোগিতার দায়িত্ব পালন করে সোনালী ব্যাংক পিএলসি, উপজেলা কমপ্লেক্স শাখা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংক, রাজশাহী কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক মো. শাহেদ উর রহমান।

সোনালী ব্যাংক পিএলসি, কুষ্টিয়া প্রিন্সিপাল শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহা. নাজমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কুমারখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ সিদ্দিকী, কুমারখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি কে এম আর শাহিন, কুমারখালী এনসিপির আহবায়ক হেলাল উদ্দিন, এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতারা।

বক্তারা জাল নোট প্রতিরোধে আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তাদের মতে, বর্তমান আইনে শাস্তির মাত্রা যথেষ্ট কঠোর নয়। এই কারণে অপরাধীরা বারবার একই অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। বক্তারা হাট-বাজার ও প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

সোনালী ব্যাংক পিএলসি, কুমারখালী শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিমের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহী শাখার সহকারী পরিচালক মো. শহিনুর রহমান জাল নোট সম্পর্কে সচেতনতামূলক ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহী কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক মো. শাহেদ উর রহমান বলেন, ‘জাল টাকা শুধু ব্যক্তির ক্ষতি করে না, পুরো অর্থনীতিকেই দুর্বল করে দেয়। এটা একটি সামাজিক ব্যাধি। তাই টাকা লেনদেনের সময় সবাইকে বাড়তি সতর্ক হতে হবে।’

তিনি আরও জানান, আসল নোট চেনার জন্য জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা, উঁচু ছাপা ও মাইক্রো লেখা দেখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, জাল নোট শনাক্তে ব্যাংকগুলোতে আধুনিক মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, জাল টাকা তৈরি, বহন ও ব্যবহার—এই তিনটি অপরাধই দণ্ডনীয়। এ ধরনের অপরাধের তথ্য পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং এসব বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সোনারগাঁ পুলিশের কঠোর অবস্থান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৫৩ পি.এম


মাদক ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সোনারগাঁ পুলিশের কঠোর অবস্থান

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিকের নেতৃত্বে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাটিতে মাদক, কিশোর অপরাধ, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনারগাঁ থানার নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন ওসি আব্দুল বারিক এবং স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা।

মতবিনিময় সভায় আলোচনা হয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার ও সেবন বন্ধে পুলিশের অভিযানকে আরও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি কিশোর অপরাধ, চুরি-ছিনতাই, সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

ওসি আব্দুল বারিক বলেন, "আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন।" তিনি আরও বলেন, "কোনো অপরাধের তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তিনি উল্লেখ করেন, সোনারগাঁয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সভায় সংবাদকর্মীরা সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকার মাদক ও অপরাধসংক্রান্ত নানা সমস্যা তুলে ধরেন। তারা পুলিশের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ এবং চুরি-ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাহাড়ে শুরু, নেপাল পেরিয়ে ভারতের দিকে ছুটল ধ্বংসের স্রোত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


পাহাড়ে শুরু, নেপাল পেরিয়ে ভারতের দিকে ছুটল ধ্বংসের স্রোত

হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ে যে বিপর্যয়ের সূচনা হয়েছিল, তার স্রোত থামেনি নেপালের সীমান্তবর্তী কিছু জনপদে। বরং বরফ, পাথর ও পলির সঙ্গে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ পানি এক নদী থেকে অন্য নদীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের বিহার পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ তৈরি করেছে। নেপাল তিব্বত সীমান্তের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার এই প্রবাহ দেখিয়েছে, পাহাড়ি অঞ্চলের একটি ঘটনা কীভাবে পুরো নদী ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আল জাজিরার বিশ্লেষণ ও রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে নেপাল তিব্বত সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও কাদাধস শুরু হয়। তীব্র স্রোতের সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ করে দেয়।

বিপর্যয়ের কেন্দ্র ছিল সীমান্তের উঁচু হিমালয় এলাকা। স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ৫২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের নিচের অংশের বড় একটি অংশ ভেঙে প্রায় ১২০০ মিটার নিচে উপত্যকার তলায় পড়ে। নিচে নামার সময় বরফের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পাথর ও পলি যুক্ত হয়।

এরপর সেই বরফ ও পাথরের ধস তিব্বতের লেন্দে নদীতে গিয়ে পড়ে। নেপাল চীন সীমান্তের প্রবেশপথ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে নদীর ওপর জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ সাময়িকভাবে নদীর প্রবাহ আটকে দেয়। এতে তৈরি হয় একটি প্রাকৃতিক বাঁধ।

কিছু সময় পর সেই বাঁধ ভেঙে গেলে আটকে থাকা পানি ও ধ্বংসাবশেষ একসঙ্গে ভাটির দিকে ছুটে যায়। সেখান থেকেই বিপর্যয়ের স্রোত আরও বিস্তৃত হতে থাকে।

লেন্দে নদীর এই প্রবাহ পরে লেন্দে খোলা হয়ে ভোতে কোশি নদীতে গিয়ে পড়ে। এরপর পানি প্রবেশ করে ত্রিশূলী নদীতে। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে ত্রিশূলী নদীর পানির উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায় বলে জানা গেছে।

নদীর এই প্রবাহ নেপালের রসুয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আরও দক্ষিণে নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র স্রোতের সঙ্গে আসা পানি, কাদা ও পাথর বাড়িঘর, সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত করে।

রসুয়া জেলার তিমুরে ও স্যাপ্রু বেসি ছিল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে। পরে ত্রিশূলীর পানি নিচের দিকে নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বিস্তৃত এলাকায় বিপর্যয়ের প্রভাব দেখা যায়।

এই নদীপথের শেষ প্রান্তও গুরুত্বপূর্ণ। ত্রিশূলী নদী পরে নারায়ণী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়। নারায়ণী এরপর ভারতের বিহারে প্রবেশ করে গণ্ডক নামে পরিচিত হয়। অর্থাৎ হিমালয়ের উঁচু এলাকায় শুরু হওয়া পানির এই প্রবাহ নেপালের ভেতর দিয়ে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ভারতের নদী ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে যায়।

এদিকে বিপর্যয়ের ব্যাপকতায় নেপালে অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিব্বতে মারা গেছেন আরও তিনজন। দুই পাশে নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ১৫০০।

নেপালে ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জন বিদেশি পর্যটক। তিব্বতের গিয়িরং কাউন্টিতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে।

উদ্ধারকাজে নেপালের সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাঁচ হাজারের বেশি সদস্য কাজ করছেন। হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে নিখোঁজদের সন্ধান চলছে। তবে উঁচু নদীর পানি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং কাদায় ঢেকে যাওয়া এলাকা উদ্ধার তৎপরতায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বিপর্যয়ের আরেকটি দিক হলো, নদীর প্রবাহের সঙ্গে ধ্বংসাবশেষের বিস্তার। পাহাড় থেকে নেমে আসা বরফ, পাথর ও পলি শুধু বন্যার পানির পরিমাণ বাড়ায়নি, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহেও সাময়িক পরিবর্তন তৈরি করেছে। ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শুরু হওয়া একটি ঘটনা দ্রুত নিচের দিকের নদী ও জনপদে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রাথমিকভাবে এই ঘটনাকে ভূমিকম্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস তাদের মূল্যায়ন সংশোধন করে জানায়, যে ভূকম্পন সংকেত পাওয়া গিয়েছিল সেটি আসলে ভূমিধস থেকেই তৈরি হয়েছিল। ভূমিধসটি পরে ৫ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূকম্পন হিসেবে রেকর্ড হয়।

দুর্যোগের পর এখন নেপাল ও তিব্বতের দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ চলছে। তবে পাহাড়ি নদীর এই প্রবাহের বিস্তার আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, হিমালয়ের নদীগুলো পরস্পরের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত এবং উজানে ঘটে যাওয়া একটি বড় ঘটনা কীভাবে ভাটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%