বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৩:৫৪ পি.এম
হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ে যে বিপর্যয়ের সূচনা হয়েছিল, তার স্রোত থামেনি নেপালের সীমান্তবর্তী কিছু জনপদে। বরং বরফ, পাথর ও পলির সঙ্গে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ পানি এক নদী থেকে অন্য নদীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের বিহার পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ তৈরি করেছে। নেপাল তিব্বত সীমান্তের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার এই প্রবাহ দেখিয়েছে, পাহাড়ি অঞ্চলের একটি ঘটনা কীভাবে পুরো নদী ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
আল জাজিরার বিশ্লেষণ ও রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে নেপাল তিব্বত সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও কাদাধস শুরু হয়। তীব্র স্রোতের সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ করে দেয়।
বিপর্যয়ের কেন্দ্র ছিল সীমান্তের উঁচু হিমালয় এলাকা। স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ৫২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের নিচের অংশের বড় একটি অংশ ভেঙে প্রায় ১২০০ মিটার নিচে উপত্যকার তলায় পড়ে। নিচে নামার সময় বরফের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পাথর ও পলি যুক্ত হয়।
এরপর সেই বরফ ও পাথরের ধস তিব্বতের লেন্দে নদীতে গিয়ে পড়ে। নেপাল চীন সীমান্তের প্রবেশপথ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে নদীর ওপর জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ সাময়িকভাবে নদীর প্রবাহ আটকে দেয়। এতে তৈরি হয় একটি প্রাকৃতিক বাঁধ।
কিছু সময় পর সেই বাঁধ ভেঙে গেলে আটকে থাকা পানি ও ধ্বংসাবশেষ একসঙ্গে ভাটির দিকে ছুটে যায়। সেখান থেকেই বিপর্যয়ের স্রোত আরও বিস্তৃত হতে থাকে।
লেন্দে নদীর এই প্রবাহ পরে লেন্দে খোলা হয়ে ভোতে কোশি নদীতে গিয়ে পড়ে। এরপর পানি প্রবেশ করে ত্রিশূলী নদীতে। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে ত্রিশূলী নদীর পানির উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায় বলে জানা গেছে।
নদীর এই প্রবাহ নেপালের রসুয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আরও দক্ষিণে নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র স্রোতের সঙ্গে আসা পানি, কাদা ও পাথর বাড়িঘর, সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত করে।
রসুয়া জেলার তিমুরে ও স্যাপ্রু বেসি ছিল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে। পরে ত্রিশূলীর পানি নিচের দিকে নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বিস্তৃত এলাকায় বিপর্যয়ের প্রভাব দেখা যায়।
এই নদীপথের শেষ প্রান্তও গুরুত্বপূর্ণ। ত্রিশূলী নদী পরে নারায়ণী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়। নারায়ণী এরপর ভারতের বিহারে প্রবেশ করে গণ্ডক নামে পরিচিত হয়। অর্থাৎ হিমালয়ের উঁচু এলাকায় শুরু হওয়া পানির এই প্রবাহ নেপালের ভেতর দিয়ে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ভারতের নদী ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে যায়।
এদিকে বিপর্যয়ের ব্যাপকতায় নেপালে অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিব্বতে মারা গেছেন আরও তিনজন। দুই পাশে নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ১৫০০।
নেপালে ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জন বিদেশি পর্যটক। তিব্বতের গিয়িরং কাউন্টিতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে।
উদ্ধারকাজে নেপালের সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাঁচ হাজারের বেশি সদস্য কাজ করছেন। হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে নিখোঁজদের সন্ধান চলছে। তবে উঁচু নদীর পানি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং কাদায় ঢেকে যাওয়া এলাকা উদ্ধার তৎপরতায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বিপর্যয়ের আরেকটি দিক হলো, নদীর প্রবাহের সঙ্গে ধ্বংসাবশেষের বিস্তার। পাহাড় থেকে নেমে আসা বরফ, পাথর ও পলি শুধু বন্যার পানির পরিমাণ বাড়ায়নি, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহেও সাময়িক পরিবর্তন তৈরি করেছে। ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শুরু হওয়া একটি ঘটনা দ্রুত নিচের দিকের নদী ও জনপদে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাথমিকভাবে এই ঘটনাকে ভূমিকম্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস তাদের মূল্যায়ন সংশোধন করে জানায়, যে ভূকম্পন সংকেত পাওয়া গিয়েছিল সেটি আসলে ভূমিধস থেকেই তৈরি হয়েছিল। ভূমিধসটি পরে ৫ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূকম্পন হিসেবে রেকর্ড হয়।
দুর্যোগের পর এখন নেপাল ও তিব্বতের দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ চলছে। তবে পাহাড়ি নদীর এই প্রবাহের বিস্তার আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, হিমালয়ের নদীগুলো পরস্পরের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত এবং উজানে ঘটে যাওয়া একটি বড় ঘটনা কীভাবে ভাটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে নেপাল। এই বন্যার ভয়াবহ প্রভাবের আশঙ্কায় এবার উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের বন্যার প্রভাবে ভারতের দুই রাজ্যে উচ্চ সতর্কতা জারির কারণ দুই দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নারায়ণী-গণ্ডক নদী। নারায়ণী নদীর উৎপত্তি তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে। এটি মুস্তাং অঞ্চল দিয়ে নেপালে প্রবেশ করে। ত্রিবেণী ধামে ভারত-নেপাল সীমান্ত অতিক্রম করে নদীটি গণ্ডক নামে বিহারের বাল্মীকিনগরে পৌঁছায়।
লিভিং ওয়াটার্স মিউজিয়ামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাল্মীকিনগর থেকে গণ্ডক উত্তর প্রদেশ ও বিহারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হাজিপুর ও সোনপুরে গঙ্গার সঙ্গে মিলিত হয়।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, হিমবাহ হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়ার কারণে তুষারধস সৃষ্টি হয়, যা পরে দেশটিতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
নেপালের রাসুয়া জেলার ভোতে কোশি নদী দিয়ে প্রবল বেগে পানি নেমে আসে। এতে গ্রাম ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিব্বতে উৎপত্তি হওয়া ভোতে কোশি নদী একটি উজানের উপনদী, যা ত্রিশুলি নদী ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে। এই নদী আবার নারায়ণী-গণ্ডক নদী অববাহিকায় প্রবাহিত হয়েছে।
নেপালের নারায়ণী নদীর পানির স্তর বাড়লে তার প্রভাব ভারতের দিকে প্রবাহিত গণ্ডক নদীতেও পড়বে। ফলে পূর্ব উত্তর প্রদেশ ও উত্তর বিহারে বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। নেপাল থেকে উত্তর প্রদেশে প্রবাহিত আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদী হলো ঘাগরা বা কর্ণালি, শারদা বা কালি এবং রাপ্তি।
এ অবস্থায় বিহারে পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সারণ, মুজাফফরপুর ও বৈশালীসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নেপাল সীমান্তবর্তী বিহারের উত্তরতম জেলা পশ্চিম চম্পারণের বাল্মীকিনগরে অবস্থিত গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেটের সবকটিই বুধবার খুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিন দুপুরের দিকে বাল্মীকিনগরের গণ্ডক ব্যারাজ থেকে প্রায় ৮৬ হাজার কিউসেক পানি ছেড়ে দেওয়া হয়। নেপাল সীমান্তবর্তী উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ এবং এর সংলগ্ন কুশিনগর জেলাতেও জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা।
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সামাজিক যোগাযোগ্মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, গণ্ডক ও নারায়ণী নদীর পানির স্তর বাড়ছে এবং এর প্রভাবে উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশিনগর জেলায় বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসনকে পুরোপুরি সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে হাউসবোট থেকে গোসল করতে পানিতে লাফ দিয়ে আব্দুল মাজেদ পিকলু (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর স্থানীয়দের তল্লাশিতে পানির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার লামাগাঁও বাজার ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল মাজেদ পিকলু রাজশাহী জেলার শাহমখদুম উপজেলার মধ্যনওদাপাড়া গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে।
নিহতের সঙ্গী ও হাউসবোটের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী জেলার শাহমখদুম উপজেলা থেকে ১০ বন্ধু টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের উদ্দেশ্যে একটি হাউসবোটে করে রওনা দেন। পথে প্রয়োজনীয় খাবার ও মালামাল কেনার জন্য হাউসবোটটি তাহিরপুর উপজেলার লামাগাঁও বাজার ঘাটে নোঙর করে। এ সময় দলের কয়েকজন সদস্য বাজারে কেনাকাটা করতে যান।
এরই মধ্যে আব্দুল মাজেদ পিকলু হাউসবোট থেকে গোসলের জন্য পানিতে লাফ দেন। তবে পানিতে নামার পর তিনি আর পানির ওপরে ভেসে ওঠেননি। বিষয়টি বুঝতে পেরে হাউসবোটে থাকা তার সঙ্গীরা এবং ঘাটের স্থানীয় লোকজন পানিতে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানোর পর স্থানীয়রা পানির নিচ থেকে আব্দুল মাজেদ পিকলুর মরদেহ উদ্ধার করেন।খবর পেয়ে তাহিরপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। নিহতের স্বজনরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারা আসার পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন, হকারদের নির্দিষ্ট স্থানে নিতে দুই সপ্তাহ লাগবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, হকার ব্যবস্থাপনার জন্য একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা গঠন করা হচ্ছে।
নির্ধারিত স্থানে বসার সুযোগ থাকবে, তবে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে, রিকশা ও ভাসমান মানুষের সমস্যার সমাধানের জন্য ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, সড়কবাতি, রাজস্ব আদায় এবং ফুটপাত দখলমুক্তকরণে সমন্বিত অভিযান শেষে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, নাগরিকদের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক দখল করে পরিচালিত অবৈধ ব্যবসা এবং স্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
এ প্রসঙ্গে, আজ বৃহস্পতিবার সকালে সেগুনবাগিচা এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, সড়কবাতি, রাজস্ব আদায় এবং ফুটপাত দখলমুক্তকরণে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় সেগুনবাগিচা ও আশপাশের এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
তিনি ফুটপাতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ফুটপাত জনগণের চলাচলের জন্য। ফুটপাত দখল করে কোনো অবৈধ দোকান পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
একইভাবে, সড়ক দখল করে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। জনসাধারণের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
প্রশাসক আরও জানান, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করা হচ্ছে। ছয় মাস ধরে তাদের সতর্ক করে আসা হচ্ছে। গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়াও হয়েছে।
তিনি সতর্ক করেন, যারা এই নির্দেশনা মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হকার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, তালিকা অনুযায়ী হকারদের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসার ব্যবস্থা করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপর নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও হকারি করার সুযোগ থাকবে না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা, যানজট কমানো, ফুটপাতের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সমন্বিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতেরা ঘরে ঢুকে টাকা ও সোনা লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ওই পরিবারের এক সদস্য অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে হাত-পা বেঁধে রড দিয়ে পেটানোর অভিযোগও উঠেছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাত একটার দিকে পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা গ্রামে ইউপি সদস্য প্রবীর ভট্টাচার্যের বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় প্রবীরের চাচা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল ভট্টাচার্যকে (৭৮) রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ডাকাতেরা। আহত বাবুল পুলিশের সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই)।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল রাতে প্রবীর ভট্টাচার্যের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। তার মেয়ে প্রসূতি। এ কারণে সবাই চট্টগ্রাম নগরের একটি ক্লিনিকে অবস্থান করছিলেন। তার ঘরের পাশেই বাবুল ভট্টাচার্যের ঘর। গতকাল রাতে সাত থেকে আট সদস্যর মুখোশধারী লোক প্রবীর ভট্টাচার্যের বাড়ির তালা ভেঙে ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে। বিষয়টি বাবুল ভট্টাচার্য দেখে ফেলেন। এরপর তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রবীর ভট্টাচার্যের ঘরে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে রশি দিয়ে বেঁধে রড দিয়ে পেটানো হয়।
এ বিষয়ে প্রবীর ভট্টাচার্য বলেন, তার মেয়ের প্রসবের কারণে পরিবারের সবাই চট্টগ্রামের একটি ক্লিনিকে ছিলেন। এ সুযোগে রাত একটার দিকে একদল লোক তার পাকা ঘরের দরজার তালা কেটে ভেতরে ঢোকে। তারা ঘরের আলমারি ভেঙে ছয় ভরি সোনা এবং নগদ প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা নিয়ে যায়। এর মধ্যে জমি কেনার জন্য দুই দিন আগে ব্যাংক থেকে তোলা চার লাখ টাকা ছিল। বাকি টাকা ঘরে রাখা ছিল।
প্রবীর ভট্টাচার্য বলেন, তার ঘরের পাশে থাকেন চাচা বাবুল ভট্টাচার্য। গতকাল রাতে তাকে বেঁধে রেখে রড দিয়ে পেটানো হয়েছে।
বাবুল ভট্টাচার্য বলেন, ‘রাতের বেলা উঠানে বের হয়ে সাত থেকে আটজন অস্ত্রধারীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা আমাকে জিম্মি করে মারধর শুরু করেন। তারা মুখোশ পরা ছিলেন। মারধরের কারণে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলে গেছে। ডাকাতির পর অস্ত্রধারীরা আমাকে ছেড়ে দেয়।’
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সামা বিনতে সফিউল বলেন, ‘আজ ভোরে মারধরে আহত বাবুল নামের একজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ছাড়া শরীরে আর কোনো স্থানে গুরুতর জখম দেখা যায়নি। তাই তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি চুরি বলে মনে হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ