০২:৪৪ পি.এম
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : গত বছর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই দিন পর, ভেনেজুয়েলার নাগরিক মিলকো গার্সিয়ার জন্য মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়ের আবেদন করার নির্ধারিত সাক্ষাতের সময় হঠাৎ করে বাতিল করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত জীবনের স্বপ্ন তার ভেঙে যায়।
এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুসারে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে আটকে পড়া অনেক অভিবাসীর মতো ২৯ বছর বয়সী গার্সিয়াও শেষ পর্যন্ত মেক্সিকোতে বসতি গড়েছেন। তিনি দেশটির সীমান্তবর্তী শহর তিজুয়ানায় স্থায়ী হয়েছেন। এই শহরটিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।
গার্সিয়া, যিনি আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, এএফপিকে বলেন, ‘আমি এখানে বেশ কিছু ভালো সুযোগ পেয়েছি। মেক্সিকোতে নিজেকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।’ তিনি আরও জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আমি আবার শূন্য থেকে শুরু করতে চাই না।’
আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০
তিজুয়ানা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে আলাদা করেছে একটি ধাতব সীমান্ত বেড়া। এই বেড়ার উচ্চতা প্রায় সাড়ে পাঁচ থেকে ৯ মিটার এবং এখানে কড়া নজরদারি রয়েছে।
অভিবাসনবিরোধী অবস্থান নিয়ে আবারও ক্ষমতায় ফেরেন ট্রাম্প। তিনি আগামী সপ্তাহের মার্কিন মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে অভিবাসন ইস্যুকে প্রচারের কেন্দ্রে রাখতে চান।
ট্রাম্প দাবি করেন, মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এখন সীমান্ত দিয়ে ‘কোনো অবৈধ অভিবাসী’ প্রবেশ করছে না। ক্ষমতায় ফিরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন সংস্থার (সিবিপি) মোবাইল অ্যাপ ‘সিবিপি ওয়ান’ বন্ধের নির্দেশ দেন। এই অ্যাপটির মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থী ও অন্যান্য আবেদনকারীরা সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করতে পারতেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সিবিপি ওয়ান অ্যাপে ২ লাখ ৭০ হাজার আবেদন প্রক্রিয়াধীন ছিল। এর মধ্যে ৩০ হাজার আবেদনকারী মেক্সিকো থেকে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। গার্সিয়া ও তার ভাইও এই আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন। তবে সব অপেক্ষমাণ সাক্ষাতের সময় বাতিল করে দেওয়ায় তিজুয়ানায় জড়ো হওয়া অভিবাসীরা হতবাক হয়ে পড়েন।
আরও পড়ুন: কাতারের নতুন প্রস্তাব ইরানকে, যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা
গার্সিয়া স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, এখন সম্ভব হচ্ছে না, তবে হয়তো কয়েক মাস পর সুযোগ পাওয়া যাবে।’ কিন্তু অনেকের জন্য মেক্সিকোই শেষ পর্যন্ত স্থায়ী আবাসে পরিণত হয়েছে।
২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি হেরে গেলেও গার্সিয়ার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই। মানব পাচারকারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা ১০ হাজার ডলার চাইছে।’ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের নিয়ে যেতে বিপুল অর্থ নেওয়া এসব পাচারকারীকে সাধারণত ‘কোয়োটে’ বলা হয়। গার্সিয়া বলেন, ‘আমি বরং ওই অর্থ তিজুয়ানায় কোনো কাজে বিনিয়োগ করব।’
তিজুয়ানা দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসীদের যাতায়াতের পথ ও আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শহরটিতে প্রায় ২৫ হাজার বিদেশি অভিবাসী এসেছেন। ভেনেজুয়েলা ছাড়ার পর ১২ বছর ধরে চলা গার্সিয়ার দীর্ঘ যাত্রার সর্বশেষ গন্তব্য তিজুয়ানা। ২০১৪ সালে তাঁর পরিবার সংকট থেকে বাঁচতে পেরুতে পাড়ি জমিয়েছিল।
পরে যুক্তরাষ্ট্রে ভালো সুযোগের আশায় উত্তর দিকে যাত্রা শুরু করেন গার্সিয়া। পায়ে হেঁটে তিনি কলম্বিয়া ও পানামার মধ্যবর্তী বিপজ্জনক দারিয়েন গ্যাপ অতিক্রম করেন। ঘন বন, জলাভূমি ও দুর্গম পথ পেরিয়ে একপর্যায়ে মেক্সিকোয় পৌঁছান তিনি। গার্সিয়া বলেন, ‘আমার বোন যুক্তরাষ্ট্রে থাকতেন। সেখানে আরও ভালো সুযোগ পাওয়া যাবে বলে মনে হয়েছিল।’
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ
আরেক ভেনেজুেলীয় নাগরিক ২৭ বছর বয়সী হেইরি মায়া ২০২২ সালে মেক্সিকোয় আসেন। তবে সিবিপি ওয়ান কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি তিনি। পরে তিনি পর্যটন খাতে কাজ শুরু করেন এবং বাড়তি আয়ের জন্য ভেনেজুয়েলার খাবার বিক্রি করতেন। এক মাস আগে তিনি একটি ছোট খাবারের দোকানও চালু করেছেন।
মায়া বলেন, ‘আমি এখানে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে আছি। তিজুয়ানা আমাকে আপন করে নিয়েছে।’ জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থার ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা যায়, তিজুয়ানা এলাকায় সাক্ষাৎকার দেওয়া অভিবাসীদের ৪৫ শতাংশ মেক্সিকোকেই নিজেদের আবাস হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো ভেনেজুয়েলীয় বন্ধুদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে মায়া বলেন, তাদের মতো উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হচ্ছে না বলে তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘তাদের বাড়ির ভেতরে থাকতে হচ্ছে। তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে ফিরে আসছেন। তারা বলছেন, ‘আমাকে বহিষ্কার করার আগেই আমি নিজের ইচ্ছায় চলে যেতে চাই।’ একসময় অভিবাসীতে উপচে পড়া তিজুয়ানার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর অনেকগুলো এখন বন্ধ হয়ে গেছে, বাকিগুলোও কোনোমতে চালু রয়েছে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন