বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৩:৫৫ পি.এম
স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে নেপাল। এই বন্যার ভয়াবহ প্রভাবের আশঙ্কায় এবার উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের বন্যার প্রভাবে ভারতের দুই রাজ্যে উচ্চ সতর্কতা জারির কারণ দুই দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নারায়ণী-গণ্ডক নদী। নারায়ণী নদীর উৎপত্তি তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে। এটি মুস্তাং অঞ্চল দিয়ে নেপালে প্রবেশ করে। ত্রিবেণী ধামে ভারত-নেপাল সীমান্ত অতিক্রম করে নদীটি গণ্ডক নামে বিহারের বাল্মীকিনগরে পৌঁছায়।
লিভিং ওয়াটার্স মিউজিয়ামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাল্মীকিনগর থেকে গণ্ডক উত্তর প্রদেশ ও বিহারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হাজিপুর ও সোনপুরে গঙ্গার সঙ্গে মিলিত হয়।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, হিমবাহ হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়ার কারণে তুষারধস সৃষ্টি হয়, যা পরে দেশটিতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
নেপালের রাসুয়া জেলার ভোতে কোশি নদী দিয়ে প্রবল বেগে পানি নেমে আসে। এতে গ্রাম ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিব্বতে উৎপত্তি হওয়া ভোতে কোশি নদী একটি উজানের উপনদী, যা ত্রিশুলি নদী ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে। এই নদী আবার নারায়ণী-গণ্ডক নদী অববাহিকায় প্রবাহিত হয়েছে।
নেপালের নারায়ণী নদীর পানির স্তর বাড়লে তার প্রভাব ভারতের দিকে প্রবাহিত গণ্ডক নদীতেও পড়বে। ফলে পূর্ব উত্তর প্রদেশ ও উত্তর বিহারে বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। নেপাল থেকে উত্তর প্রদেশে প্রবাহিত আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদী হলো ঘাগরা বা কর্ণালি, শারদা বা কালি এবং রাপ্তি।
এ অবস্থায় বিহারে পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সারণ, মুজাফফরপুর ও বৈশালীসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নেপাল সীমান্তবর্তী বিহারের উত্তরতম জেলা পশ্চিম চম্পারণের বাল্মীকিনগরে অবস্থিত গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেটের সবকটিই বুধবার খুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিন দুপুরের দিকে বাল্মীকিনগরের গণ্ডক ব্যারাজ থেকে প্রায় ৮৬ হাজার কিউসেক পানি ছেড়ে দেওয়া হয়। নেপাল সীমান্তবর্তী উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ এবং এর সংলগ্ন কুশিনগর জেলাতেও জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা।
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সামাজিক যোগাযোগ্মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, গণ্ডক ও নারায়ণী নদীর পানির স্তর বাড়ছে এবং এর প্রভাবে উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশিনগর জেলায় বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসনকে পুরোপুরি সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে হাউসবোট থেকে গোসল করতে পানিতে লাফ দিয়ে আব্দুল মাজেদ পিকলু (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর স্থানীয়দের তল্লাশিতে পানির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার লামাগাঁও বাজার ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল মাজেদ পিকলু রাজশাহী জেলার শাহমখদুম উপজেলার মধ্যনওদাপাড়া গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে।
নিহতের সঙ্গী ও হাউসবোটের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী জেলার শাহমখদুম উপজেলা থেকে ১০ বন্ধু টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের উদ্দেশ্যে একটি হাউসবোটে করে রওনা দেন। পথে প্রয়োজনীয় খাবার ও মালামাল কেনার জন্য হাউসবোটটি তাহিরপুর উপজেলার লামাগাঁও বাজার ঘাটে নোঙর করে। এ সময় দলের কয়েকজন সদস্য বাজারে কেনাকাটা করতে যান।
এরই মধ্যে আব্দুল মাজেদ পিকলু হাউসবোট থেকে গোসলের জন্য পানিতে লাফ দেন। তবে পানিতে নামার পর তিনি আর পানির ওপরে ভেসে ওঠেননি। বিষয়টি বুঝতে পেরে হাউসবোটে থাকা তার সঙ্গীরা এবং ঘাটের স্থানীয় লোকজন পানিতে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানোর পর স্থানীয়রা পানির নিচ থেকে আব্দুল মাজেদ পিকলুর মরদেহ উদ্ধার করেন।খবর পেয়ে তাহিরপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। নিহতের স্বজনরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারা আসার পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন, হকারদের নির্দিষ্ট স্থানে নিতে দুই সপ্তাহ লাগবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, হকার ব্যবস্থাপনার জন্য একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা গঠন করা হচ্ছে।
নির্ধারিত স্থানে বসার সুযোগ থাকবে, তবে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে, রিকশা ও ভাসমান মানুষের সমস্যার সমাধানের জন্য ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, সড়কবাতি, রাজস্ব আদায় এবং ফুটপাত দখলমুক্তকরণে সমন্বিত অভিযান শেষে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, নাগরিকদের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক দখল করে পরিচালিত অবৈধ ব্যবসা এবং স্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
এ প্রসঙ্গে, আজ বৃহস্পতিবার সকালে সেগুনবাগিচা এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, সড়কবাতি, রাজস্ব আদায় এবং ফুটপাত দখলমুক্তকরণে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় সেগুনবাগিচা ও আশপাশের এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
তিনি ফুটপাতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ফুটপাত জনগণের চলাচলের জন্য। ফুটপাত দখল করে কোনো অবৈধ দোকান পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
একইভাবে, সড়ক দখল করে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। জনসাধারণের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
প্রশাসক আরও জানান, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করা হচ্ছে। ছয় মাস ধরে তাদের সতর্ক করে আসা হচ্ছে। গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়াও হয়েছে।
তিনি সতর্ক করেন, যারা এই নির্দেশনা মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হকার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, তালিকা অনুযায়ী হকারদের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসার ব্যবস্থা করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপর নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও হকারি করার সুযোগ থাকবে না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা, যানজট কমানো, ফুটপাতের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সমন্বিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতেরা ঘরে ঢুকে টাকা ও সোনা লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ওই পরিবারের এক সদস্য অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে হাত-পা বেঁধে রড দিয়ে পেটানোর অভিযোগও উঠেছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাত একটার দিকে পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা গ্রামে ইউপি সদস্য প্রবীর ভট্টাচার্যের বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় প্রবীরের চাচা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল ভট্টাচার্যকে (৭৮) রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ডাকাতেরা। আহত বাবুল পুলিশের সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই)।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল রাতে প্রবীর ভট্টাচার্যের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। তার মেয়ে প্রসূতি। এ কারণে সবাই চট্টগ্রাম নগরের একটি ক্লিনিকে অবস্থান করছিলেন। তার ঘরের পাশেই বাবুল ভট্টাচার্যের ঘর। গতকাল রাতে সাত থেকে আট সদস্যর মুখোশধারী লোক প্রবীর ভট্টাচার্যের বাড়ির তালা ভেঙে ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে। বিষয়টি বাবুল ভট্টাচার্য দেখে ফেলেন। এরপর তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রবীর ভট্টাচার্যের ঘরে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে রশি দিয়ে বেঁধে রড দিয়ে পেটানো হয়।
এ বিষয়ে প্রবীর ভট্টাচার্য বলেন, তার মেয়ের প্রসবের কারণে পরিবারের সবাই চট্টগ্রামের একটি ক্লিনিকে ছিলেন। এ সুযোগে রাত একটার দিকে একদল লোক তার পাকা ঘরের দরজার তালা কেটে ভেতরে ঢোকে। তারা ঘরের আলমারি ভেঙে ছয় ভরি সোনা এবং নগদ প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা নিয়ে যায়। এর মধ্যে জমি কেনার জন্য দুই দিন আগে ব্যাংক থেকে তোলা চার লাখ টাকা ছিল। বাকি টাকা ঘরে রাখা ছিল।
প্রবীর ভট্টাচার্য বলেন, তার ঘরের পাশে থাকেন চাচা বাবুল ভট্টাচার্য। গতকাল রাতে তাকে বেঁধে রেখে রড দিয়ে পেটানো হয়েছে।
বাবুল ভট্টাচার্য বলেন, ‘রাতের বেলা উঠানে বের হয়ে সাত থেকে আটজন অস্ত্রধারীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা আমাকে জিম্মি করে মারধর শুরু করেন। তারা মুখোশ পরা ছিলেন। মারধরের কারণে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলে গেছে। ডাকাতির পর অস্ত্রধারীরা আমাকে ছেড়ে দেয়।’
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সামা বিনতে সফিউল বলেন, ‘আজ ভোরে মারধরে আহত বাবুল নামের একজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ছাড়া শরীরে আর কোনো স্থানে গুরুতর জখম দেখা যায়নি। তাই তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি চুরি বলে মনে হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা খাতে সংযোগ উভয় দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, কর্মসংস্থান এবং পেশাগত সম্ভাবনার ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।
আজ বৃহস্পতিবার চীনের গুয়াংডংয়ে অনুষ্ঠিত ‘কারিগরি শিক্ষা সেতুবন্ধন ও চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক-বাণিজ্য মেধা উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সিম্পোজিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করা সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। ক্লাসরুমের তাত্ত্বিক শিক্ষাকে কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সরকারের পরিকল্পনা হলো সবার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা।” তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশি তরুণদের এগিয়ে রাখতে মান্দারিন (চীনা ভাষা) চর্চাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে টেকসই করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট ও ফিনান্সিয়াল টেকনোলজি-এর মতো উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে বিশ্বমানের দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা জরুরি।
তিনি চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় আধুনিক কারিগরি পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, যৌথ সার্টিফিকেশন এবং এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন ও মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চীনের বিভিন্ন খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশিষ্ট শিক্ষক-গবেষক, শিক্ষার্থী ও চীনের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ অনুষ্ঠান চীনের ১১টি শীর্ষ কারিগরি ও প্রযুক্তিগত কলেজের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। কলেজগুলো হলো- এনপিং ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন সেন্টার, গুয়াংডং লিটারেচার অ্যান্ড আর্ট ভোকেশনাল কলেজ, গুয়াংডং নানহুয়া ভোকেশনাল কলেজ অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড কমার্স, গুয়াংডং পলিটেকনিক অব সায়েন্স অ্যান্ড ট্রেড, গুয়াংডং টিচার্স কলেজ অব ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজেস অ্যান্ড আর্টস, গুয়াংডং ইঞ্জিনিয়ারিং পলিটেকনিক, গুয়াংডং কান্ট্রি গার্ডেন ভোকেশনাল কলেজ, গুয়াংডং জিয়াংমেন প্রিস্কুল এডুকেশন কলেজ, কিংইয়ুয়ান পলিটেকনিক, গুয়াংডং লিংনান ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজ এবং গুয়াংঝু প্রিস্কুল এডুকেশন কলেজ।
এ সময় বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ও উপদেষ্টা ‘বেইডৌ+’ ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন ল্যাবরেটরি ঘুরে দেখেন এবং রোবোটিক্স, রোবট ডগের প্রোগ্রামিং এবং চীনা চা সংস্কৃতির প্রদর্শনী পর্যবেক্ষণ করেন।
বিশ্বব্যাপী কারিগরি শিক্ষার প্রসারে গুয়াংডং ‘চায়নিজ + ভোকেশনাল স্কিলস’ ইন্ডাস্ট্রি-এডুকেশন ইন্টিগ্রেশন অ্যালায়েন্স চালু করা এ আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল। এটি কারিগরি শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প-শিক্ষার সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতার এক নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।
উভয় পক্ষই এই আলোচনাকে বাস্তবসম্মত ও টেকসই অংশীদারিত্বে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ করেন, যা কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্পের সাথে সংযুক্ত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ