০৫:৪৮ পি.এম
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রজনন ক্ষেত্রগুলো রক্ষার জন্য বর্তমান সরকার একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। হাওড়, বাওড়, নদীনালা এবং সমুদ্রের অভয়াশ্রম তৈরির কাজ চলছে।
আজ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আয়োজিত ‘বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতি পর্যালোচনা (২০২৫-২৬) ও পরিকল্পনা প্রণয়ন (২০২৬-২৭)’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, অতীতে সফল গবেষণার ফলস্বরূপ আজ আমরা মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ। চাষের মাছের উৎপাদন, গুণগত মান এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানুষের সচেতনতার অভাবে প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন ক্ষেত্রগুলো আজ বিপন্ন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশে এই সংকট মোকাবেলায় চলতি বছর থেকেই বড় বাজেট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ
মন্ত্রী গবেষক এবং বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্যে কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশনা ও আহ্বান জানান। গবেষণার ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশি মাছের প্রজনন, জাত উন্নয়ন এবং হারিয়ে যাওয়া প্রজাতির পুনরুদ্ধারে গবেষণা জোরদার করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা, রোগ প্রতিরোধ এবং মানসম্মত পোনা উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। ক্ষতিকর জালের ব্যবহার রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য থেকে বিরত থেকে নিরাপদ মৎস্য উৎপাদনে জোর দিতে হবে।
রপ্তানির প্রসঙ্গে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, সরকার আগামী দিনে পর্যাপ্ত মাছ বিদেশে রপ্তানি করতে চায়। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে গুণগত মানের কোনো আপস করা হবে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি এর গুণগত মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা জরুরি। মাছের স্বাদ ও গুণগত মান অনেকাংশে পানির গুণগত মানের ওপর নির্ভরশীল। তাই মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জলাশয়ের দূষণ রোধ এবং মাছের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নদী ও খাল খননের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা হ্রাস পেলে মাছের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ ও এগিয়ে নিতে সকলকে কাজ করতে হবে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির
বিএফআরআই’র মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মীর হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বিএআরসি'র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম। এ সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএফআরআই’র বিজ্ঞানীবৃন্দ, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জেলে প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএফআরআই’র পরিচালক ড. মো. আমিরুল ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন