ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই ক্যামেরার ব্যবস্থা


ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই ক্যামেরার ব্যবস্থা

মুন্সীগঞ্জ, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, যা রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সেখানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, এই উদ্যোগের ফলে ব্যস্ততম সড়কটিতে আইন অমান্যকারী যানবাহন চালকরা এআই নির্ভর স্বয়ংক্রিয় মামলার আওতায় আসবেন।

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ৫৫ কিলোমিটার রাস্তায় মুন্সীগঞ্জ জেলায় ৩৫ কিলোমিটার রয়েছে। এই সড়কে ঘটে যাওয়া অধিকাংশ দুর্ঘটনার মূল কারণ হচ্ছে বেপরোয়া গতি এবং ওভারটেকিং।

আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর থেকে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৫৮৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৯৫০ জন আহত হয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বাসসকে জানিয়েছেন, অধিকাংশ দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করা।

সম্প্রতি, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মুন্সীগঞ্জে উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে বলেন, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এআই ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে আনার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

বর্তমানে জাতীয় মহাসড়কগুলো এআই ক্যামেরার পর্যবেক্ষণের আওতায় এসেছে। ধাপে ধাপে জেলা ও আঞ্চলিক হাইওয়ে সড়কগুলোও এআই ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে এনে সার্বক্ষণিক নজরদারী করা হবে এবং সড়ক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন

গাজীপুর রিজিয়নের হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বাসসকে জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অধিকাংশ দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে বেপরোয়া গতি। এক্সপ্রেসওয়ের সম্পূর্ণ এলাকা এআই ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে এনে দ্রুতগতি, ওভারটেকিং এবং সড়ক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এআই নির্ভর স্বয়ংক্রিয় মামলার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এআই ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে আসলে ওভারস্পিডে গাড়ি চালানো এবং ওভারটেকিং বন্ধ হবে। ফলে যানবাহন চালকরা সচেতন হয়ে সড়ক আইন মেনে গাড়ি চালাবেন। এতে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম বাসসকে জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের গতিসীমা এবং সাইন মার্কিং করা আছে, এছাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরাও রয়েছে।

তবে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, আকস্মিক ইউটার্ণ, চালকের অসতর্কতা, সড়ক আইন না মানা এবং ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে।

আরও পড়ুন: সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোলাম মোস্তফা: ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের সূচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


গোলাম মোস্তফা: ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের সূচনা

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরকে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী শক্তির ষড়যন্ত্রের সূচনা হিসাবে উল্লেখ করে ন্যাপের মহাসচিব এবং ‘ভয়েস অব কনসাস সিটিজেন’ (ভিসিসি)’র চেয়ারম্যান এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেছেন, ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার নৃশংস হত্যাকান্ডের মাধ্যমে দেশবিরোধী ও গণতন্ত্র বিরোধী অপশক্তি দেশের জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘সেই হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে সংগঠিত ১/১১ ছিল সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত খেলা। আর গত ১৭ বছরের সরকার ছিল সেই ষড়যন্ত্রেরই ফল।’

আজ সকালে রাজধানীর পল্টনে ন্যাপের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘২৮ অক্টোবর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও লগি-বৈঠা’ স্মরণে ভয়েস অব কনসাস সিটিজেন আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে রাজনীতিশূন্য করতে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করতেই ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বর্বরোচিত হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিল। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ২৮ অক্টোবরের হত্যাকান্ডের বিচার না হলে মানবতা ও মানবাধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ২৮ অক্টোবর বর্বরোচিত হত্যাকান্ড ঘটিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে গলা টিপে যারা হত্যা করেছিল ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না, ভবিষ্যতেও করবে না। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের কাঁধে এক অশুভ শক্তি ভর করেছিল, যাকে উৎখাত করতে জাতিকে দীর্ঘ আন্দোলন ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, এই দিনটি ইতিহাসের জঘন্যতম অধ্যায় রচিত হয়েছিল। সেদিন যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছিল তারা মানবতার শত্রু, সভ্যতার শত্রু।

গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সকলকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তাদের জায়গা এদেশের মাটিতে আর হবে না। ৫ আগস্টের চেতনাকে কোনোভাবে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।

এ আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন- এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, বাংলাদেশ ন্যাপ যুগ্ম মহাসচিব মিতা রহমান, ভিসিসি ভাইস চেয়ারম্যান আকবর মোহাম্মদ, আলী আজম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা আবুল হোসেন, খাদেমুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এএফইডির আহ্বান: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের নিশ্চয়তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


এএফইডির আহ্বান: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের নিশ্চয়তা

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : ফেয়ার ইলেকশনস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি অ্যালায়েন্স (এএফইডি) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

সংস্থাটির প্রাক-নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে ২৭টি নির্বাচনী প্রচার অনুষ্ঠানে সহিংসতার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ বুধবার প্রকাশিত এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এএফইডি জানায়, আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে প্রার্থী, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ভোটারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।

এএফইডি ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী এলাকার তিনটি উপজেলায় তিনজন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। তারা নির্বাচনী পরিবেশের পাশাপাশি তিনজন প্রার্থীর প্রচার অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করেন এবং ১৯ জন নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী ও নির্বাচনী প্রচার দলের সদস্যের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পর্যবেক্ষকদের দেখা নির্বাচনী প্রচার অনুষ্ঠানগুলো সাধারণত বাধাহীনভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৭টি অনুষ্ঠানের কোনোটিতেই সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কোনো অভিযোগও পর্যবেক্ষকদের কাছে আসেনি। সরকারি কর্মকর্তাদের নির্বাচনী প্রচার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ কিংবা কোনো প্রার্থীর পক্ষে সমর্থনমূলক মন্তব্য করার ঘটনা তাদের নজরে আসেনি।

নির্বাচন প্রশাসনের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাক্ষাৎকার দেওয়া সব প্রার্থী বা তাদের প্রচার প্রতিনিধিরা নির্বাচন প্রশাসনের কাছ থেকে সমান আচরণ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তারা নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও তারা করেননি।

নির্বাচনী প্রচারে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়েও পর্যবেক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেখা গেছে, পর্যবেক্ষণ করা দুই-তৃতীয়াংশ প্রচার অনুষ্ঠানে নারীদের দৃশ্যমান উপস্থিতি ছিল। তবে তাদের বক্তা হিসেবে খুব কম ক্ষেত্রেই দেখা গেছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জনপরিসরের আলোচনায় নারীদের নেতৃত্ব, বক্তব্য প্রদান এবং অর্থবহ অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এএফইডি।

এএফইডি বলেছে, ভোটদানের পদ্ধতি, পোস্টাল ভোটিং, ভোটকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা ও ভোটারদের অধিকার সম্পর্কে সহজবোধ্য এবং সবার জন্য প্রবেশগম্য তথ্য প্রচার করা জরুরি। বিশেষ করে নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক নাগরিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

নির্বাচনের দিন বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ৫২ জন ভ্রাম্যমাণ পর্যবেক্ষক মোতায়েন করবে এএফইডি। তারা নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে ভোটগ্রহণ শুরুর প্রক্রিয়া, ভোটদান, ভোট গণনা এবং ডাকযোগে প্রদত্ত ভোট গণনা পর্যবেক্ষণ করবেন।

তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, ভ্রাম্যমাণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থান ও সময়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা সম্ভব হলেও প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়।

ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত পুরো সময় শান্তি বজায় রাখা এবং নাগরিকদের স্বাধীন ও নিরাপদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছে এএফইডি।

সংস্থাটির নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং ইউরোপীয় পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) সহায়তা প্রদান করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভৈরবে কাপড় ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে পরকীয়ার নাটক সাজানোর মামলায় প্রধান অভিযুক্ত কারাগারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম, ভৈরব প্রতিনিধি

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


ভৈরবে কাপড় ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে পরকীয়ার নাটক সাজানোর মামলায় প্রধান অভিযুক্ত কারাগারে

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুই বছর আগে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর এক কাপড় ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও পরকীয়ার নাটক সাজিয়ে ফাঁসানোর মামলায় প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুনকে (৪৪) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (আমল গ্রহণকারী সিআর ২নং আদালত) বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. বিল্লাল হোসেন শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অভিযোগকারী ভৈরব পৌর শহরের নিউমার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী ফ্যাশন রুম নামক প্রতিষ্ঠান মালিক সুমন সাহা। তিনি ভৈরব বাজার টিনপট্টি এলাকার চন্দন সাহার ছেলে। অভিযুক্তরা হলেন— নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের আলগী বাজার মাজেরচর এলাকার মৃত রবিউল্লাহ মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার স্ত্রী নার্গিস আক্তার অনু (৩৭)। এ মামলার ১০/১৫ জন অজ্ঞাত আসামী রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভৈরব বাজার নিউমার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী সুমন সাহার সঙ্গে ব্যবসায়িক সূত্রে নরসিংদীর নার্গিস বেগমের পরিচয় হয়। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত নগদ ও বাকিতে কাপড় কেনাকাটা করতেন। একপর্যায়ে নার্গিস আক্তার অনুর কাছে ব্যবসায়ী সুমন সাহার ৫৬ হাজার ৪০০ টাকা পাওনা হয়। সেই পাওনা টাকা পরিশোধে গড়িমসি করতে থাকেন নার্গিস। দুই বছর আগে বাংলা বর্ষের প্রথম দিন (১৪ এপ্রিল) পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে অভিযুক্ত নার্গিস আক্তার তার স্বামীর সহায়তায় ব্যবসায়ী সুমনকে কৌশলে নরসিংদী ডেকে নিয়ে আটকে রাখেন এবং অপহরণ করেন। একপর্যায়ে তার কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
এ সময় ব্যবসায়ীর পকেটে থাকা নগদ ৫ হাজার ৭০০ টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে প্রথমে ৩০ হাজার ও পরে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ব্যবসায়ীর স্বজনদের কাছে আরও ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অসহায় ব্যবসায়ীর পরিবার নগদ ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে আহত অবস্থায় সুমন সাহাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এদিকে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক একটি পূবালী ব্যাংকের চেক নিয়ে সেই চেকের সূত্র ধরে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের মিথ্যা অভিযোগ এনে নরসিংদী আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
মামলার বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টের পিপি মিজানুর রহমান জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং তার স্ত্রী নার্গিস আক্তারের জামিন মঞ্জুর করেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সুমন সাহা বলেন, আমাকে নিয়ে মিথ্যা পরকীয়ার ঘটনা সাজানো হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। ওই দিন আমাকে মারধর করে গুরুতর আহত করেছিল। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দুই বছর আগে আদালতে মামলা করি। পিবিআই মামলাটি তদন্ত করে আমার নির্দোষ হওয়ার সত্যতা পেয়েছে এবং আমাকে ফাঁসানো ও অপহরণের ঘটনার সঙ্গে আল মামুন ও তার পরিবারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে। আদালত অভিযুক্ত আল মামুনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন, তবে তার স্ত্রীকে জামিন দেওয়া হয়েছে। আমি এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে পুনরায় ন্যায়বিচার চাইব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াতের নিন্দা, আইইডিসিআরের পরিচালকের ওপর হামলার তদন্তের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


জামায়াতের নিন্দা, আইইডিসিআরের পরিচালকের ওপর হামলার তদন্তের দাবি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকির ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। মঙ্গলবার, দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতির মাধ্যমে এ নিন্দা প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, "আইইডিসিআরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করে তাকে মারধরের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়।" তিনি আরও বলেন, "কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ বা মতপার্থক্য থাকলে তা আইনানুগ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে।"

অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিরের অভিযোগের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা মব সৃষ্টি করে এ হামলা ঘটিয়েছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলো মব সৃষ্টি করে দেশে অরাজকতা ও অশান্তি তৈরি করছে।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, "আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, দলীয় প্রভাব খাটানো কিংবা সংঘবদ্ধভাবে কাউকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।" তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, "কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধানের ওপর তার কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও পেশাগত স্বাধীনতার জন্যও উদ্বেগের কারণ।"

বিবৃতিতে এ ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও দায় নির্ধারণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইইডিসিআরসহ দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের এ নেতা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%