বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৩:৫১ পি.এম
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাম উপসর্গে আরও পাঁচজনের মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ের মধ্যে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ১০৩১ জন।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯৫৬ জন। এছাড়া, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত মোট হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লক্ষ ৫৩ হাজার ৬৯২ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৭৫ জন। এবং একই সময়ের মধ্যে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৭২৬ জন।
এই সময়ের মধ্যে হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৭ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ২৯ হাজার ৪৮৯ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৮৫৬ জন শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু ঘটেনি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাল নোটের প্রচলন রোধে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে দুই ঘণ্টার এই কর্মশালাটি বাংলাদেশ ব্যাংক, রাজশাহী শাখার উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।
এই কর্মশালায় সহযোগিতার দায়িত্ব পালন করে সোনালী ব্যাংক পিএলসি, উপজেলা কমপ্লেক্স শাখা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংক, রাজশাহী কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক মো. শাহেদ উর রহমান।
সোনালী ব্যাংক পিএলসি, কুষ্টিয়া প্রিন্সিপাল শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহা. নাজমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কুমারখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ সিদ্দিকী, কুমারখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি কে এম আর শাহিন, কুমারখালী এনসিপির আহবায়ক হেলাল উদ্দিন, এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতারা।
বক্তারা জাল নোট প্রতিরোধে আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তাদের মতে, বর্তমান আইনে শাস্তির মাত্রা যথেষ্ট কঠোর নয়। এই কারণে অপরাধীরা বারবার একই অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। বক্তারা হাট-বাজার ও প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সোনালী ব্যাংক পিএলসি, কুমারখালী শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিমের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহী শাখার সহকারী পরিচালক মো. শহিনুর রহমান জাল নোট সম্পর্কে সচেতনতামূলক ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহী কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক মো. শাহেদ উর রহমান বলেন, ‘জাল টাকা শুধু ব্যক্তির ক্ষতি করে না, পুরো অর্থনীতিকেই দুর্বল করে দেয়। এটা একটি সামাজিক ব্যাধি। তাই টাকা লেনদেনের সময় সবাইকে বাড়তি সতর্ক হতে হবে।’
তিনি আরও জানান, আসল নোট চেনার জন্য জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা, উঁচু ছাপা ও মাইক্রো লেখা দেখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, জাল নোট শনাক্তে ব্যাংকগুলোতে আধুনিক মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে।
কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, জাল টাকা তৈরি, বহন ও ব্যবহার—এই তিনটি অপরাধই দণ্ডনীয়। এ ধরনের অপরাধের তথ্য পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং এসব বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিকের নেতৃত্বে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাটিতে মাদক, কিশোর অপরাধ, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনারগাঁ থানার নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন ওসি আব্দুল বারিক এবং স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা।
মতবিনিময় সভায় আলোচনা হয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার ও সেবন বন্ধে পুলিশের অভিযানকে আরও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি কিশোর অপরাধ, চুরি-ছিনতাই, সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
ওসি আব্দুল বারিক বলেন, "আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন।" তিনি আরও বলেন, "কোনো অপরাধের তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তিনি উল্লেখ করেন, সোনারগাঁয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় সংবাদকর্মীরা সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকার মাদক ও অপরাধসংক্রান্ত নানা সমস্যা তুলে ধরেন। তারা পুলিশের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ এবং চুরি-ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ে যে বিপর্যয়ের সূচনা হয়েছিল, তার স্রোত থামেনি নেপালের সীমান্তবর্তী কিছু জনপদে। বরং বরফ, পাথর ও পলির সঙ্গে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ পানি এক নদী থেকে অন্য নদীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের বিহার পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ তৈরি করেছে। নেপাল তিব্বত সীমান্তের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার এই প্রবাহ দেখিয়েছে, পাহাড়ি অঞ্চলের একটি ঘটনা কীভাবে পুরো নদী ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
আল জাজিরার বিশ্লেষণ ও রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে নেপাল তিব্বত সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও কাদাধস শুরু হয়। তীব্র স্রোতের সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ করে দেয়।
বিপর্যয়ের কেন্দ্র ছিল সীমান্তের উঁচু হিমালয় এলাকা। স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ৫২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের নিচের অংশের বড় একটি অংশ ভেঙে প্রায় ১২০০ মিটার নিচে উপত্যকার তলায় পড়ে। নিচে নামার সময় বরফের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পাথর ও পলি যুক্ত হয়।
এরপর সেই বরফ ও পাথরের ধস তিব্বতের লেন্দে নদীতে গিয়ে পড়ে। নেপাল চীন সীমান্তের প্রবেশপথ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে নদীর ওপর জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ সাময়িকভাবে নদীর প্রবাহ আটকে দেয়। এতে তৈরি হয় একটি প্রাকৃতিক বাঁধ।
কিছু সময় পর সেই বাঁধ ভেঙে গেলে আটকে থাকা পানি ও ধ্বংসাবশেষ একসঙ্গে ভাটির দিকে ছুটে যায়। সেখান থেকেই বিপর্যয়ের স্রোত আরও বিস্তৃত হতে থাকে।
লেন্দে নদীর এই প্রবাহ পরে লেন্দে খোলা হয়ে ভোতে কোশি নদীতে গিয়ে পড়ে। এরপর পানি প্রবেশ করে ত্রিশূলী নদীতে। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে ত্রিশূলী নদীর পানির উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায় বলে জানা গেছে।
নদীর এই প্রবাহ নেপালের রসুয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আরও দক্ষিণে নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র স্রোতের সঙ্গে আসা পানি, কাদা ও পাথর বাড়িঘর, সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত করে।
রসুয়া জেলার তিমুরে ও স্যাপ্রু বেসি ছিল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে। পরে ত্রিশূলীর পানি নিচের দিকে নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বিস্তৃত এলাকায় বিপর্যয়ের প্রভাব দেখা যায়।
এই নদীপথের শেষ প্রান্তও গুরুত্বপূর্ণ। ত্রিশূলী নদী পরে নারায়ণী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়। নারায়ণী এরপর ভারতের বিহারে প্রবেশ করে গণ্ডক নামে পরিচিত হয়। অর্থাৎ হিমালয়ের উঁচু এলাকায় শুরু হওয়া পানির এই প্রবাহ নেপালের ভেতর দিয়ে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ভারতের নদী ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে যায়।
এদিকে বিপর্যয়ের ব্যাপকতায় নেপালে অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিব্বতে মারা গেছেন আরও তিনজন। দুই পাশে নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ১৫০০।
নেপালে ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জন বিদেশি পর্যটক। তিব্বতের গিয়িরং কাউন্টিতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে।
উদ্ধারকাজে নেপালের সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাঁচ হাজারের বেশি সদস্য কাজ করছেন। হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে নিখোঁজদের সন্ধান চলছে। তবে উঁচু নদীর পানি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং কাদায় ঢেকে যাওয়া এলাকা উদ্ধার তৎপরতায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বিপর্যয়ের আরেকটি দিক হলো, নদীর প্রবাহের সঙ্গে ধ্বংসাবশেষের বিস্তার। পাহাড় থেকে নেমে আসা বরফ, পাথর ও পলি শুধু বন্যার পানির পরিমাণ বাড়ায়নি, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহেও সাময়িক পরিবর্তন তৈরি করেছে। ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শুরু হওয়া একটি ঘটনা দ্রুত নিচের দিকের নদী ও জনপদে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাথমিকভাবে এই ঘটনাকে ভূমিকম্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস তাদের মূল্যায়ন সংশোধন করে জানায়, যে ভূকম্পন সংকেত পাওয়া গিয়েছিল সেটি আসলে ভূমিধস থেকেই তৈরি হয়েছিল। ভূমিধসটি পরে ৫ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূকম্পন হিসেবে রেকর্ড হয়।
দুর্যোগের পর এখন নেপাল ও তিব্বতের দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ চলছে। তবে পাহাড়ি নদীর এই প্রবাহের বিস্তার আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, হিমালয়ের নদীগুলো পরস্পরের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত এবং উজানে ঘটে যাওয়া একটি বড় ঘটনা কীভাবে ভাটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে নেপাল। এই বন্যার ভয়াবহ প্রভাবের আশঙ্কায় এবার উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের বন্যার প্রভাবে ভারতের দুই রাজ্যে উচ্চ সতর্কতা জারির কারণ দুই দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নারায়ণী-গণ্ডক নদী। নারায়ণী নদীর উৎপত্তি তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে। এটি মুস্তাং অঞ্চল দিয়ে নেপালে প্রবেশ করে। ত্রিবেণী ধামে ভারত-নেপাল সীমান্ত অতিক্রম করে নদীটি গণ্ডক নামে বিহারের বাল্মীকিনগরে পৌঁছায়।
লিভিং ওয়াটার্স মিউজিয়ামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাল্মীকিনগর থেকে গণ্ডক উত্তর প্রদেশ ও বিহারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হাজিপুর ও সোনপুরে গঙ্গার সঙ্গে মিলিত হয়।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, হিমবাহ হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়ার কারণে তুষারধস সৃষ্টি হয়, যা পরে দেশটিতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
নেপালের রাসুয়া জেলার ভোতে কোশি নদী দিয়ে প্রবল বেগে পানি নেমে আসে। এতে গ্রাম ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিব্বতে উৎপত্তি হওয়া ভোতে কোশি নদী একটি উজানের উপনদী, যা ত্রিশুলি নদী ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে। এই নদী আবার নারায়ণী-গণ্ডক নদী অববাহিকায় প্রবাহিত হয়েছে।
নেপালের নারায়ণী নদীর পানির স্তর বাড়লে তার প্রভাব ভারতের দিকে প্রবাহিত গণ্ডক নদীতেও পড়বে। ফলে পূর্ব উত্তর প্রদেশ ও উত্তর বিহারে বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। নেপাল থেকে উত্তর প্রদেশে প্রবাহিত আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদী হলো ঘাগরা বা কর্ণালি, শারদা বা কালি এবং রাপ্তি।
এ অবস্থায় বিহারে পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সারণ, মুজাফফরপুর ও বৈশালীসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নেপাল সীমান্তবর্তী বিহারের উত্তরতম জেলা পশ্চিম চম্পারণের বাল্মীকিনগরে অবস্থিত গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেটের সবকটিই বুধবার খুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিন দুপুরের দিকে বাল্মীকিনগরের গণ্ডক ব্যারাজ থেকে প্রায় ৮৬ হাজার কিউসেক পানি ছেড়ে দেওয়া হয়। নেপাল সীমান্তবর্তী উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ এবং এর সংলগ্ন কুশিনগর জেলাতেও জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা।
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সামাজিক যোগাযোগ্মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, গণ্ডক ও নারায়ণী নদীর পানির স্তর বাড়ছে এবং এর প্রভাবে উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশিনগর জেলায় বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসনকে পুরোপুরি সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ