মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:১৭ পি.এম
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য গবেষণা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের টোকিওতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত স্বাস্থ্যবিষয়ক সেমিনারে তিনি এই আহ্বান জানান।
ডা. জুবাইদা রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষাকে প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সবার জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং পিছিয়ে পড়া জনগণের জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং পরিবারভিত্তিক সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড চালুসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।
স্বাস্থ্যকে নিজের পেশাগত ও ব্যক্তিগত আগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে। দুই দেশের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতের উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সুযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, শিশুদের সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও জাপান উভয় দেশই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্য অর্জনে টেকসই সামাজিক ব্যবস্থা, শক্তিশালী অর্থনীতি, মানসম্মত শিক্ষা এবং সহিংসতা, দারিদ্র্য ও অন্যান্য ঝুঁকি থেকে মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাপী আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করার অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্য কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বাংলাদেশে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ এবং জনকল্যাণমূলক ফাউন্ডেশনগুলোর অবদানের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
চিকিৎসক হিসেবে বাংলাদেশে নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, উপযুক্ত স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্য গবেষণার অগ্রগতি এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করে ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশে ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। উদীয়মান স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও বেশি সম্পদ ও সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসার জন্যও ফাউন্ডেশনটির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, স্বাস্থ্যোন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত উদ্যোগগুলোতে বাংলাদেশ সরকার পূর্ণ সহযোগিতা ও সমর্থন দিতে প্রস্তুত।
সেমিনারে নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়াসহ বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : জ্বালানি সংকটের মোকাবিলায় সরকার দেশের প্রতিটি ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে চায়, এমনটি জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
আজ বিকেলে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিনাফুলিয়ায় জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় নির্মিত একটি বায়োগ্যাস প্লান্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বরিশালে ইতোমধ্যে ৮১টি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। উদ্যোক্তারা কেউ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে, আবার কেউ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসব প্লান্ট গড়ে তুলেছেন। বায়োগ্যাস ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব, পাশাপাশি এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করছে।
গরুর গোবরের তুলনায় হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা থেকে বেশি গ্যাস উৎপন্ন হয়, এই বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, বায়োগ্যাসের মাধ্যমে রান্নার জ্বালানি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়েও সরকার কাজ করছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৪০ বছর পর্যন্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়া সম্ভব।
উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে আমিনুল হক বলেন, বায়োগ্যাস নিজে ব্যবহারের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত গ্যাস অন্যদের কাছে বিক্রি করেও বাড়তি আয় করা সম্ভব। যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করতে সরকার প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করছে। দক্ষ ফ্রিল্যান্সার তৈরির পাশাপাশি বর্তমানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় ৮৩টি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন যুবক বা যুবতী নিজের ও পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা আনতে সক্ষম হবেন। বায়োগ্যাস প্রকল্পের মাধ্যমে যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বরিশালের উপ-পরিচালক মো. মোস্তাক উদ্দিন, সহকারী পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিন এবং মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মঞ্জু। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম।
আলোচনা সভা শেষে আটজন উদ্যোক্তার মধ্যে মোট ৯ লাখ টাকার ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। চেকপ্রাপ্ত উদ্যোক্তারা হলেন- সানজিদা রহমান, মনীষা আক্তার, তানজিলা আক্তার রূপা, শিরিন জাহান ঝুমা, ঝুমুর আক্তার, হ্যাপি আক্তার, জহিরুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান।
বায়োগ্যাস প্রকল্পের স্বত্বাধিকারী শাহে আলম জানান, চার মাস আগে তিনি এই প্রকল্পটি চালু করেন। নিজের বাসার জ্বালানির চাহিদা মেটানোর পর তিনি আশপাশের আরও চারটি বাসায় গ্যাস সরবরাহ করছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছে।
এদিকে, বিকেলে বরিশালে কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামে ‘বিসিসি প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর বিজয়ী দলের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করার কথা রয়েছে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরে দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি ও সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপনকে অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন, বিবস্ত্র করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার তিনি গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতির মাধ্যমে এ নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উল্লেখ করেন, "একজন সাংবাদিককে অপহরণ, শারীরিকভাবে নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়।" তিনি আরও বলেন, সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে এ ধরনের নির্যাতন ও হুমকির শিকার হতে হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকি। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপনের অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "তাকে অপহরণ করে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে এবং মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে।" তিনি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান, অবিলম্বে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, "তাঁর ধারণ করা কোনো আপত্তিকর ভিডিও বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনকারী উপাদান যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।"
জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, "সাংবাদিকরা সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।" তিনি সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কিংবা নির্যাতন করে সত্য প্রকাশের পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন এলাকার অবৈধ স্থাপনা ও মাদক আস্তানা পুলিশ গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ বেলা সাড়ে ১১টা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয় এবং দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটে অভিযান সম্পন্ন হয়। সিটি করপোরেশনের হুইল লোডার ব্যবহার করে ছোট ছোট খুপড়ি ঘড়গুলো ধ্বংস করা হয়েছে।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বাসসকে এই তথ্য প্রদান করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, গেন্ডারিয়ার ঘুন্টিঘর এলাকায় রাস্তা-ঘাট পরিষ্কার করে গাড়ি চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে এবং রেললাইনের আশপাশের মাদক স্পট ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ‘সিটি করপোরেশন সাবেক কাউন্সিলর, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছেদ অভিযানে অংশগ্রহণ করেছেন।
গত ১৯ অক্টোবর ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও এসআরবি-১০। ওই অভিযানে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উত্তরণ-২ বাসে ‘জুনিয়র’ হওয়ায় আসন ছেড়ে দিতে চাপ দেওয়ার প্রতিবাদ করায় সাংবাদিক সুজনের ওপর মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী শিহাব ও জুবায়েরের বিরুদ্ধে। সুজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী এবং স্বাধীন ২৪ নিউজের সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত আছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ফটকের কাছে এই ঘটনা ঘটে। এতে তিনি আহত হন এবং এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সুজন মিরপুর-১ থেকে উত্তরণ-২ বাসে উঠে আসন খালি থাকায় বসেন। পরবর্তীতে বাংলা কলেজ মোড় থেকে বাসে ওঠেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শিহাব এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের। তারা সুজনকে আসন ছেড়ে দিতে বলেন। এ সময় সুজন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসকের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে জানান, আগে বাসে উঠলে আগে আসনে বসার সুযোগ রয়েছে। বাসে থাকা অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও তার আসনে বসে থাকার পক্ষে মত দেন।
একপর্যায়ে বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ফটকের কাছে পৌঁছালে আসন ছেড়ে না দেওয়ার কারণে সুজনের সঙ্গে শিহাব ও জুবায়েরের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তারা সুজনকে মারধর করেন। এর ফলে সুজন আহত ও রক্তাক্ত হন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে গিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করেন।
আহত সাংবাদিক সুজন বলেন, ‘আমি নিয়মিত উত্তরণ-২ বাসে যাতায়াত করি। মিরপুর-১ থেকে বাসে উঠে আসন খালি থাকায় বসেছিলাম। পরে শিহাব ও জুবায়ের ভাই আমাকে আসন ছেড়ে দিতে বলেন। আমি তাদের জানাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক স্যার বলেছেন, আগে যে আসবে, সে আগে বসবে। তাহলে আমি কেন আসন ছেড়ে দেব? এরপর তারা আমাকে হুমকি দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর তৃতীয় ফটকের কাছে তারা আমার ওপর হামলা চালায়। এতে আমি গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হই। পরে প্রক্টর স্যারের কাছে অভিযোগ দিয়েছি।’
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে জানতে গেলে উত্তরণ-২ বাসের সভাপতি হৃদয়ের সঙ্গেও অভিযুক্তদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। হৃদয় বলেন, ‘ঘটনার কথা শুনে শিহাব ও জুবায়েরের সঙ্গে কথা বলতে যাই। তখন তারা আমার ওপরও চড়াও হন। তারা বলেন, “ওকে মেরেছি, আপনি কী করবেন, পারলে করেন।” আমি তাদের সিনিয়র হওয়া সত্ত্বেও তারা আমার সঙ্গে এমন আচরণ করেন, এমনকি মারতে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেন।’
অভিযোগের বিষয়ে শিহাব বলেন, ‘আমি তাকে আসন থেকে উঠতে বলেছিলাম, কিন্তু সে ওঠেনি। পরে বাস থামার পর আমরা তাকে আটকাই। সে নাশতা করতে যাবে বললে আমি রেগে গিয়ে তার গায়ে হাত তুলি।’
অন্য অভিযুক্ত জুবায়ের বলেন, ‘বাস থামার পর আমরা তাকে আটকাই এবং কথা আছে বলে জানাই। সে নাশতা করতে যাবে বললে শিহাব তেড়ে এসে তাকে মারধর করে।’
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির মধ্যস্থতায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মারধরের মতো অভিযোগে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করাই যথেষ্ট কিনা, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে মারধর, হেনস্তা কিংবা র্যাগিংয়ের মতো অভিযোগ উঠলে শুধু আপসের মাধ্যমে বিষয়টি শেষ করে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকে যায়। তাদের মতে, কোনো ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে দিলে তা অন্যদের জন্যও ভুল বার্তা দিতে পারে।
শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, বিভিন্ন ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ কতটা হচ্ছে? তাদের মতে, শুধু নোটিশ বা সতর্কবার্তা দিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়। আমি এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে। প্রক্টর স্যার যে ব্যবস্থা নেবেন, আমরা তার পক্ষেই থাকব। আমি চাই, এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, ‘আপাতত আমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিয়েছি। আবারও অভিযোগ এলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে আসনে বসাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, এ বিষয়ে একটি নোটিশ দিয়ে দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ