ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বসা নিয়ে সাংবাদিককে মারধর, এরপর অভিযোগ দায়ের


বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বসা নিয়ে সাংবাদিককে মারধর, এরপর অভিযোগ দায়ের

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উত্তরণ-২ বাসে ‘জুনিয়র’ হওয়ায় আসন ছেড়ে দিতে চাপ দেওয়ার প্রতিবাদ করায় সাংবাদিক সুজনের ওপর মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী শিহাব ও জুবায়েরের বিরুদ্ধে। সুজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী এবং স্বাধীন ২৪ নিউজের সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত আছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ফটকের কাছে এই ঘটনা ঘটে। এতে তিনি আহত হন এবং এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সুজন মিরপুর-১ থেকে উত্তরণ-২ বাসে উঠে আসন খালি থাকায় বসেন। পরবর্তীতে বাংলা কলেজ মোড় থেকে বাসে ওঠেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শিহাব এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের। তারা সুজনকে আসন ছেড়ে দিতে বলেন। এ সময় সুজন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসকের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে জানান, আগে বাসে উঠলে আগে আসনে বসার সুযোগ রয়েছে। বাসে থাকা অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও তার আসনে বসে থাকার পক্ষে মত দেন।

আরও পড়ুন: জাবিতে মুক্তিযোদ্ধা মানিকের স্মরণে শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বালন

একপর্যায়ে বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ফটকের কাছে পৌঁছালে আসন ছেড়ে না দেওয়ার কারণে সুজনের সঙ্গে শিহাব ও জুবায়েরের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তারা সুজনকে মারধর করেন। এর ফলে সুজন আহত ও রক্তাক্ত হন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে গিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করেন।

আহত সাংবাদিক সুজন বলেন, ‘আমি নিয়মিত উত্তরণ-২ বাসে যাতায়াত করি। মিরপুর-১ থেকে বাসে উঠে আসন খালি থাকায় বসেছিলাম। পরে শিহাব ও জুবায়ের ভাই আমাকে আসন ছেড়ে দিতে বলেন। আমি তাদের জানাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক স্যার বলেছেন, আগে যে আসবে, সে আগে বসবে। তাহলে আমি কেন আসন ছেড়ে দেব? এরপর তারা আমাকে হুমকি দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর তৃতীয় ফটকের কাছে তারা আমার ওপর হামলা চালায়। এতে আমি গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হই। পরে প্রক্টর স্যারের কাছে অভিযোগ দিয়েছি।’

এদিকে, ঘটনার বিষয়ে জানতে গেলে উত্তরণ-২ বাসের সভাপতি হৃদয়ের সঙ্গেও অভিযুক্তদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। হৃদয় বলেন, ‘ঘটনার কথা শুনে শিহাব ও জুবায়েরের সঙ্গে কথা বলতে যাই। তখন তারা আমার ওপরও চড়াও হন। তারা বলেন, “ওকে মেরেছি, আপনি কী করবেন, পারলে করেন।” আমি তাদের সিনিয়র হওয়া সত্ত্বেও তারা আমার সঙ্গে এমন আচরণ করেন, এমনকি মারতে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেন।’

অভিযোগের বিষয়ে শিহাব বলেন, ‘আমি তাকে আসন থেকে উঠতে বলেছিলাম, কিন্তু সে ওঠেনি। পরে বাস থামার পর আমরা তাকে আটকাই। সে নাশতা করতে যাবে বললে আমি রেগে গিয়ে তার গায়ে হাত তুলি।’

আরও পড়ুন: চুয়েটে ৩৬ দিন পর বুধবার থেকে ক্লাস শুরু, বিভাগের প্রধানরা নিশ্চিত নন

অন্য অভিযুক্ত জুবায়ের বলেন, ‘বাস থামার পর আমরা তাকে আটকাই এবং কথা আছে বলে জানাই। সে নাশতা করতে যাবে বললে শিহাব তেড়ে এসে তাকে মারধর করে।’

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির মধ্যস্থতায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মারধরের মতো অভিযোগে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করাই যথেষ্ট কিনা, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে মারধর, হেনস্তা কিংবা র‍্যাগিংয়ের মতো অভিযোগ উঠলে শুধু আপসের মাধ্যমে বিষয়টি শেষ করে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকে যায়। তাদের মতে, কোনো ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে দিলে তা অন্যদের জন্যও ভুল বার্তা দিতে পারে।

শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, বিভিন্ন ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ কতটা হচ্ছে? তাদের মতে, শুধু নোটিশ বা সতর্কবার্তা দিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।

আরও পড়ুন: ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে গলাকাটা ফি নির্ধারণের বিরুদ্ধে মুসাদ্দিকের প্রতিবাদ

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়। আমি এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে। প্রক্টর স্যার যে ব্যবস্থা নেবেন, আমরা তার পক্ষেই থাকব। আমি চাই, এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, ‘আপাতত আমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিয়েছি। আবারও অভিযোগ এলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে আসনে বসাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, এ বিষয়ে একটি নোটিশ দিয়ে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের প্রথম যাত্রীদের বরণ করল রেল কর্তৃপক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২০ পি.এম


‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের প্রথম যাত্রীদের বরণ করল রেল কর্তৃপক্ষ

কক্সবাজার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬: ৯৫০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে, রাজধানী ঢাকা থেকে প্রথমবারের মতো কক্সবাজারে পৌঁছেছে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেন।

আজ সকালে সাড়ে সাতটায় কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশনে এসে পৌঁছায় ‘মহানগর এক্সপ্রেস’। এসময় স্টেশন কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বরণ করে নেয়। প্রথম যাত্রায় ট্রেনে মোট ৯৬৫ জন যাত্রী ছিলেন। ট্রেনটি সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ৮২৪ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে আবার রওনা দেয়।

গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে মহানগর এক্সপ্রেসের ঢাকা-কক্সবাজার বর্ধিত রুটের উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি ও পাথর ছোড়ার মতো অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধের আহ্বান জানান।

কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশন মাস্টার জয়নাল আবেদিন বাসসকে জানান, মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি গত রাতে ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বের হয়ে মধ্যবর্তী বিভিন্ন স্টেশনে বিরতি দিয়ে আজ সকালে সাড়ে সাতটায় কক্সবাজারে পৌঁছায়। কক্সবাজারে অতিরিক্ত যাত্রী চাপ কমানোর জন্য ঢাকা-কক্সবাজার রুটে এই মহানগর এক্সপ্রেস চালু করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজারে পৌঁছাবে।

ফিরতি পথে, প্রতিদিন সকাল ৯টায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে মহানগর এক্সপ্রেস। ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ রোববার।

নতুন এই সেবার মাধ্যমে নরসিংদী, ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ মধ্যবর্তী এলাকার যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণায় অংশীদারিত্ব জোরদারের আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণায় অংশীদারিত্ব জোরদারের আলোচনা

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : চীনের কুনমিংয়ে অবস্থিত ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিদর্শন করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক।

এই পরিদর্শনের সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি এর অধিভুক্ত একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও পরিদর্শন করেন এবং চীনের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার পরিচালন কাঠামো সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিদর্শনকালে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি অধ্যাপক মা ওয়েনহুই সিনিয়র সচিব আবদুল খালেককে স্বাগত জানান।

অধ্যাপক মা ওয়েনহুই এ সময় দুই দেশের শিক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। বাংলাদেশে চীনা ভাষা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং চীনা ভাষা ও কারিগরি দক্ষতার সমন্বিত পাঠ্যক্রম চালুর ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তুত রয়েছে।

এছাড়া, শিক্ষা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, পর্যটন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং নৃবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেন তিনি।

পাশাপাশি, যৌথ গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা এবং সমন্বিত গবেষণা প্রকল্প গ্রহণকে ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ একাডেমিক সম্পর্কের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মানসম্মত কারিগরি ও চীনা ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি অধ্যাপক মা ওয়েনহুইকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাগত জানান।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিময়, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি এবং যৌথ প্রশিক্ষণ উদ্যোগকে আরও জোরদার করতে আগ্রহী। প্রস্তাবিত সহযোগিতা কাঠামো থেকে বিশেষত যৌথ গবেষণা ও সক্ষমতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাস্তব ও ফলপ্রসূ অগ্রগতি প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ, যা উভয় দেশের তরুণ শিক্ষার্থী ও গবেষকদের উপকৃত করবে।

সচিব আবদুল খালেক আরও বলেন, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে তিনি চীনের বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষাদান পদ্ধতি সম্পর্কে মূল্যবান ধারণা লাভ করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ থেকে প্রাপ্ত উপযোগী অভিজ্ঞতাগুলো বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজে লাগানো যেতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেজামে ইসলাম পার্টির উদ্বেগ, আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্য আইনশৃঙ্খলার পরিপন্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


নেজামে ইসলাম পার্টির উদ্বেগ, আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্য আইনশৃঙ্খলার পরিপন্থী

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’—এ ধরনের বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ব্যক্তির মুখে ‘ক্রসফায়ার’-এর মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিবাহী শব্দের ব্যবহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের বক্তব্য দেশের আইনের শাসন ও মানবাধিকার সম্পর্কে ভুল ও বিপজ্জনক বার্তা দিতে পারে।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব বলেন, ‘অপরাধী যত দুর্ধর্ষই হোক, তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করাই সভ্য রাষ্ট্রের পথ। কোনো সরকারের অনুমোদন বিচারিক প্রক্রিয়ার বিকল্প হতে পারে না। অপরাধ দমনের নামে বিচারবহির্ভূত পন্থা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অতীতে ‘ক্রসফায়ার’ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের নামে ক্ষমতার অপব্যবহারের তিক্ত অভিজ্ঞতা প্রত্যক্ষ করেছে। ফলে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রধানের মুখে আবার ‘ক্রসফায়ার’ শব্দ উচ্চারিত হওয়া স্বাভাবিকভাবেই জনমনে উদ্বেগ ও পুরোনো আশঙ্কা ফিরিয়ে আনে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করা—বিচার ছাড়াই তার জীবন কেড়ে নেওয়া নয়।

মাওলানা মুসা বিন ইযহার আইজিপির বক্তব্য নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের পরবর্তীতে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, সেটি তারা বিবেচনায় নিয়েছে। বলা হয়েছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বোঝাতে নয়, বরং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এমন একটি স্পর্শকাতর শব্দ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে উচ্চারিত হওয়া অনভিপ্রেত। কারণ আইজিপির বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে বিবেচিত হয় না; তা পুরো বাহিনীর জন্য একটি বার্তা হিসেবেও প্রতিভাত হতে পারে।

তিনি বলেন, দেশে সন্ত্রাস, খুন, চাঁদাবাজি, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। জনগণ অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় ও কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থা চায়। কিন্তু সেই কঠোরতা অবশ্যই সংবিধান, আইন ও মানবাধিকারের সীমার মধ্যে থাকতে হবে। অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আইনকেই পাশ কাটানো যায় না। আমরা অপরাধীর কঠোর বিচার চাই, বিচারবহির্ভূত হত্যা নয়। ‘ক্রসফায়ার’ কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নীতি বা বিকল্প হতে পারে না।’

তিনি আইজিপিকে ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের বিতর্কিত অংশ প্রত্যাহার করে নিজের অবস্থান দ্ব্যর্থহীনভাবে পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান ঘোষণা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে জবাবদিহি, পেশাদারত্ব ও মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবার সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে। এই ঘটনায় জাবেদসহ ১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে সংস্থাটি।

মামলাটি মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুদক চট্টগ্রাম-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দায়ের করা হয়।

দুদক জানিয়েছে, চট্টগ্রামের ইসলামী ব্যাংক জুবলী রোড শাখা থেকে আরামিটের এজিএম জাহাঙ্গীর আলমকে সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ী হিসেবে দেখিয়ে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক টিমের পক্ষ থেকে উপসহকারি পরিচালক (ডিএডি) রুবেল হোসেন বাদী হয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

জাবেদের পাশাপাশি মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন- আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, আরামিট সিমেন্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ও ইউসিবির সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম, আরামিট সিমেন্টের এজিএম একেএম মারুফ, ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের মালিক ও আরামিট পিএলসির এজিএম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ইসলামী ব্যাংক জুবিলী রোড শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মহিউদ্দিন, প্রিন্সিপাল অফিসার (বিনিয়োগ) মোহাম্মদ আখতার হোসেন, প্রিন্সিপাল অফিসার ও জেনারেল ব্যাংকিং ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল হক, ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ মো. আবদুল কাদের, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জুবিলী রোড শাখার ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আবদুল করিম, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শহিদুল্লাহ, এফএভিপি মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন, এসভিপি আবুল কালাম আজাদ, এসভিপি মোহাম্মদ মহসীন আলী এবং এসপিও রিদওয়ানুল হক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%