মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:০৫ পি.এম
মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের সামনে যে তথ্য এসেছে, তাতে রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। আমি নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পরিণতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভোগ করতে হবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘একজন মানুষ মারা গেলে তাঁর অধিকার রয়েছে মর্যাদার সঙ্গে দাফন হওয়ার। তাঁর বিচার পরবর্তীতে সৃষ্টিকর্তার কাছে হবে। যারা এ ধরনের কাজ করেন, তাঁরা শেষ পর্যন্ত সমাজের সমর্থন পান না। সমাজে তাঁরা নিন্দিত হন।’
মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, ‘আগেও এ ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। যখন কিছু মানুষের বিচার হয়েছে, তখন তাঁদের লাশ কিংবা কবরের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছিল। যারা ওই বিচারগুলোর পক্ষেও ছিলেন, তাঁরাও লাশের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ পছন্দ করেননি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের কার্যক্রমে বিশ্বের জরুরি সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন লানা নুসাইবেহ। তিনি সংস্থাটির মহাসচিব পদপ্রার্থী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনীতিক। নুসাইবেহ মনে করেন, জাতিসংঘের কার্যক্রমে গতি আনতে নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সম্পদ বণ্টনকে সমস্যার কাছাকাছি নিয়ে যেতে হবে।
লানা নুসাইবেহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী। তিনি ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঐ পদে তিনিই প্রথম নারী ছিলেন। এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান তাঁকে মহাসচিব পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। নির্বাচিত হলে তিনি জাতিসংঘের প্রথম নারী মহাসচিব হবেন।
গত সপ্তাহে তাঁর মনোনয়ন ঘোষণার পর সমর্থন ও সমালোচনা, দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নুসাইবেহ বলেছেন, "নারী হওয়ার কারণে আমি এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি না। বরং জাতিসংঘের কার্যকারিতা বাড়ানোর বিষয়ে আমি ‘একগুঁয়েভাবে আশাবাদী’।"
তিনি জাতিসংঘের কর্মীদের মনোবল ফিরিয়ে আনা এবং সংস্থাটির কাজের বাস্তব ফল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, যেসব ক্ষেত্রে জাতিসংঘ সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন আনতে পারে, সেসব জায়গায় মনোযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সম্পদ ব্যবহারের প্রক্রিয়াকে মাঠপর্যায়ের সমস্যার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ করতে হবে, যাতে সংস্থাটির সচিবালয় দ্রুত ও কার্যকরভাবে সাড়া দিতে পারে।
নুসাইবেহর প্রচারাভিযানে সংস্কারের তিনটি মূল ক্ষেত্র তুলে ধরা হয়েছে: মানবাধিকার, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন। তাঁর মতে, জাতিসংঘের সনদ প্রয়োগের ক্ষেত্রে দ্বৈত মানদণ্ড এড়িয়ে চলার ওপরই সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে। তবে প্রচারাভিযানের নথিতে নির্দিষ্ট কোনো বাজেট কাটছাঁট কিংবা সনদ প্রয়োগে দ্বৈত মানদণ্ডের উদাহরণ উল্লেখ করা হয়নি।
মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রথমে জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে অন্তত নয়টি ভোট পেতে হবে। পাশাপাশি পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কোনো দেশের ভেটো দেওয়া চলবে না। এরপর সাধারণ পরিষদে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আলবুদাইউই জানিয়েছেন, পরিষদের সদস্য সউদী আরব, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান ও কাতার নুসাইবেহর প্রার্থিতার পক্ষে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যও তাঁর প্রার্থিতাকে সমর্থন করার দিকে ঝুঁকছে। এর পেছনে যুক্তরাজ্য সরকার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক সহজ করার বিষয়টি কাজ করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সমর্থনের ঘোষণা নিশ্চিত নয়।
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের আব্রাহাম চুক্তিতে নুসাইবেহর সমর্থন তাঁর পক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। ট্রাম্প জাতিসংঘের আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর সমালোচনা করে আসছেন এবং সংস্থাটির বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন। পলিটিকো চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিল, ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নন এমন প্রার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে এখনো কোনো প্রার্থীর প্রতি ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করা হয়নি।
অন্যদিকে, সুদানের গৃহযুদ্ধে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথিত সমর্থনের কারণে মানবাধিকারকর্মীদের একাংশ নুসাইবেহর প্রার্থিতার বিরোধিতা করছেন। নুসাইবেহ তাঁর সরকারের অর্থায়নের অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে ‘ভিত্তিহীন, প্রমাণহীন এবং বিশ্বাসযোগ্য তথ্যবিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনে আরএসএফকে আমিরাতের সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগকে বিশ্বাসযোগ্য বলা হয়েছে। সুদানের জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি আম্মার মোহাম্মদ মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নুসাইবেহর মনোনয়নের সমালোচনা করেছেন এবং একই অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বাটজা) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রধান কার্যালয় বলাকায় সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর কাছে সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করার জন্য জবাব এবং হস্তক্ষেপের দাবি করেছে।
৬ অক্টোবর থেকে বলাকায় সাংবাদিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের জন্য গেলে প্রধান ফটক থেকেই তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তাকর্মীরা জানাচ্ছেন, ভেতরে প্রবেশের জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমতি প্রয়োজন।
এভিয়েশন বিটের সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছেন, বিমানের দুর্নীতি, অনিয়ম এবং যাত্রী দুর্ভোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ, অভিযোগ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া ব্যাহত হচ্ছে।
বাংলাদেশ মিডিয়া মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬ অক্টোবর বলাকার প্রধান ফটকে সাংবাদিকদের আটকে দেওয়ার ঘটনা প্রকাশ পায়। সেসময় বিমানের জনসংযোগ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সরাসরি নির্দেশে এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
২৫ অক্টোবরও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন সাংবাদিকরা। সৌদিগামী ফ্লাইটে বিঘ্ন ও যাত্রীদের দুর্ভোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিতে বলাকায় যান বৈশাখী টেলিভিশনের প্রতিবেদক পার্থ রহমান এবং একাত্তর টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রাশেদ আনিস। তবে প্রধান ফটকে তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের জানান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমতি ছাড়া ভেতরে যাওয়া যাবে না।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, সৌদিগামী ফ্লাইটের সংকট ও যাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে প্রায় ২০ দিন ধরে বিমানের কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার চেষ্টা করেও তাঁরা সফল হননি। জনসংযোগ বিভাগের বক্তব্য পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় বাটজার সাধারণ সম্পাদক ইমন চৌধুরী বলেন, "বিমান একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। সাংবাদিকরা সেখানে জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ করতে যাবেন— এটাই স্বাভাবিক। তাদের বাধা দেওয়া কিংবা প্রধান ফটক থেকে ফিরিয়ে দেওয়া নিন্দনীয়। আমরা বাটজার পক্ষ থেকে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এ বিষয়ে বিমানমন্ত্রীর জবাব ও হস্তক্ষেপ চাই।"
তিনি আরও বলেন, "গত ২১ দিন ধরে সাংবাদিকরা তথ্য নিতে বিমানের প্রধান কার্যালয়ে গেলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের গেট থেকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এভাবে বাধা দেওয়া হলে সাংবাদিকরা তথ্য যাচাই করবেন কীভাবে, আর যাত্রীদের দুর্ভোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যই বা নেবেন কীভাবে?"
বাটজার পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে সাংবাদিকদের অভিযোগের বিষয়ে বিমানের এমডি কাইজার সোহেল আহমেদকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা, শিক্ষকদের কম বেতন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। শিক্ষক, শ্রমিক সংগঠন ও সরকারি কর্মচারীরাও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। গত শনিবার দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন, যার মধ্যে প্যারিসে ছিলেন ১ লাখ ১০ হাজার। এই আন্দোলন সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিতে। তবে জাতীয় ঋণ, বাজেট ঘাটতি এবং শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়ার কারণে সরকার দাবি পূরণে বাধার সম্মুখীন হয়েছে। সম্পদের অসম বণ্টন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতিও সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে নতুন বিক্ষোভ শুরু হয় গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। স্কুলে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিকল্প নিয়োগ না করা এবং জরাজীর্ণ ভবন নিয়ে ক্ষোভ থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। অনেক শ্রেণিকক্ষে ৩২ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু স্কুলে অনুপস্থিত শিক্ষকদের ছয় মাসের বেশি সময়েও বিকল্প শিক্ষক দেওয়া হয়নি।
বিক্ষোভকারীদের প্ল্যাকার্ডে লেখা, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ গড়তে হবে, শুধু কষ্ট সহ্য করে যেতে নয়।’ তাদের অভিযোগ, শিক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার ফলে শিক্ষার পরিবেশ খারাপ হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কম বেতনের প্রতিবাদে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন শিক্ষকেরাও। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) ‘এডুকেশন অ্যাট আ গ্ল্যান্স ২০২৬’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের শিক্ষকেরা জার্মানির মতো কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের শিক্ষকদের তুলনায় কম বেতন পান। ফ্রান্সে একজন স্কুলশিক্ষকের বার্ষিক মোট বেতন ৪১ হাজার ৯৬৮ ইউরো, যেখানে জার্মানিতে তা ৬৯ হাজার ৪৫৩ ইউরো। সামাজিক কর, পেনশনে বেশি চাঁদা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে ফ্রান্সের শিক্ষকদের হাতে মাস শেষে আরো কম অর্থ থাকে।
শিক্ষা খাতের সমস্যা ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। এর পেছনে রয়েছে ২০২৭ সালের বাজেটের জন্য সরকারের প্রস্তাবিত ৫৪ বিলিয়ন ইউরো বা ৬০ বিলিয়ন ডলারের ব্যয় সংকোচন ও করসংক্রান্ত পদক্ষেপ। এর মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বেতন স্থগিত রাখার প্রস্তাবও রয়েছে। দারিদ্র্য বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাওয়া তরুণদের আশঙ্কা, সরকারি ব্যয় কমানোর বোঝা শেষ পর্যন্ত তাদের ওপরই পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতিও ব্যয় বৃদ্ধির চাপ বাড়িয়েছে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে মিডিয়া টিভির সাংবাদিক ও দেশটির জাতীয় পরিষদের সাবেক সংসদীয় সহকারী আমিন স্নৌসি আলজাজিরাকে বলেন, সরকারি অর্থ অন্য খাতে ব্যয় হওয়ায় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, ‘শিক্ষার্থীরা ঠান্ডা ও নোংরা ভবনে পড়াশোনা করছে। কিছু কিছু ভবনে ইঁদুরের উপদ্রব রয়েছে। কিছু স্কুলে অনুপস্থিত শিক্ষকদের ছয় মাসের বেশি সময়েও বিকল্প শিক্ষক দেওয়া হয়নি। অথচ হাজার হাজার শিক্ষক পদ বিলুপ্ত করা হচ্ছে এবং সরকারি অর্থ বেসরকারি স্কুলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিই আন্দোলনের আগুন জ্বালিয়েছে।’
বিক্ষোভ মোকাবিলায় সরকার দেশজুড়ে পুলিশ মোতায়েন করেছে এবং কিছু এলাকায় কারফিউ জারি করেছে। প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ অভিযোগ করেছেন, উগ্র বামপন্থিরা ‘প্রজাতন্ত্রকে উৎখাতের’ চেষ্টা করছে। সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। আন্দোলন শুরুর পর গত শুক্রবার প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মাক্রোঁ। তবে এতে উত্তেজনা কমেনি। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সরকার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
সোমবার মার্সেই সফরের সময় মাক্রোঁ বলেন, বিক্ষোভের মূলে থাকা যৌক্তিক দাবিগুলো মোকাবিলা করতে তিনি সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। ফরাসি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জাতীয় অনলাইন ব্যবস্থা ‘পারকুরসুপ’-এও পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে সরকার।
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমেছে, বেড়েছে ঋণ
বিশ্লেষকদের মতে, তীব্র আর্থিক সংকট ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের পরিকল্পনার কারণে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে সমস্যায় পড়েছে সরকার। ফরাসি অর্থনীতিবিদ ও ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ল্যাবের সহপরিচালক লুকাস শানসেলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করে শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যার অনুপাতে হিসাব করলে ২০১৭ সালের পর থেকে উচ্চশিক্ষা, শিক্ষার্থীদের জীবনযাপন ও গবেষণায় সরকারি বাজেট ২০ শতাংশ কমেছে।
গত ৭ অক্টোবর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁন লেকর্নু স্বীকার করেন, তরুণদের ক্ষোভের পেছনে বাস্তব কারণ রয়েছে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ সংকট মোকাবিলায় একটি পরিকল্পনা উপস্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে মন্ত্রীদের ব্যয় পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।
ফ্রান্সের জাতীয় ঋণ বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি ইউরো বা ৪ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এটি দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১১৯ শতাংশের সমান। ঋণের পাশাপাশি বাজেট ঘাটতিও বড় উদ্বেগের কারণ। ২০২৬ সালে দেশটির বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় ঘাটতি ৩ শতাংশের কিছু বেশি। সরকারের আয় ও ব্যয়ের পার্থক্যকে বাজেট ঘাটতি বলা হয়।
তবে অর্থনীতিবিদ টমা পিকেটির মতে, সরকারি ঋণ বাড়লেও ফ্রান্সের ব্যক্তিগত সম্পদও বেড়েছে। তার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির ব্যক্তিগত সম্পদ জিডিপির ৩০০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬০০ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বিপুল সম্পদ অল্প কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। পিকেটির ভাষায়, ‘ফ্রান্স আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সম্পদশালী। সমাধান করতে হবে সম্পদের বণ্টনের সমস্যা।’
সম্পদের বৈষম্যও বড় প্রশ্ন
ফ্রান্সে আয়বৈষম্য তুলনামূলক কম থেকে মাঝারি পর্যায়ে থাকলেও সম্পদের বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে সরব। ফরাসি অর্থনৈতিক নীতিবিষয়ক গবেষণা সংস্থা ওএফসিইর ২০২৬ সালের জানুয়ারির এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, দেশটির জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি। অথচ দেশের আর্থিক ও অনার্থিক সম্পদের ৬০ শতাংশের মালিক এই বয়সি মানুষেরা।
সরকারি ব্যয়ের বড় অংশ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে যায়। রয়টার্সের দেখা সরকারের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের বাজেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের পেনশন দিতে ব্যয় হয়। ফলে শিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমে যায়।
আমিন স্নৌসির মতে, সম্পদের বণ্টনের প্রশ্ন ফ্রান্সের রাজনীতির অন্যতম প্রধান বিষয়। তিনি বলেন, ‘মাক্রোঁকে ধনীদের প্রেসিডেন্ট বলা হয় একটি কারণেই। তিনি সব সময় ধনীদের সমর্থন করেন এবং বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।’
সম্পদ কর কমানোর কারণে মাক্রোঁকে ‘ধনীদের প্রেসিডেন্ট’ আখ্যা দিয়েছেন সমালোচকেরা। অর্থনীতির আধুনিকায়ন ও কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে নেওয়া তার নীতিগুলোও সমালোচনার মুখে পড়েছে। ২০১৮ সালে জ্বালানি তেলের ওপর কর আরোপের সিদ্ধান্তের পর শুরু হয়েছিল ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন। বৈষম্য কমাতে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করে তৃণমূল পর্যায়ের ওই আন্দোলন প্রায় দুই বছর ধরে চলে।
সমালোচকদের অভিযোগ, মাক্রোঁর অর্থনৈতিক নীতির ফলে সম্পদ আরো বেশি ধনীদের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে এবং শ্রমজীবী মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে মাক্রোঁ নিজের নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তার বক্তব্য, ধনীদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করলে দরিদ্রদের কোনো লাভ হবে না।
২০১৭ সালে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ফরাসিদের সেই ঈর্ষাপরায়ণ মানসিকতায় বিশ্বাস করি না, যেখানে বলা হয়, ধনী মানুষ আছে; চলো তাদের ওপর কর বসাই, তাহলে আমরা সবাই ভালো বোধ করব।’
ফ্রান্সের ফঁতেনব্লো শহরের ইনসিয়াডের অর্থনীতির অধ্যাপক আন্তোনিও ফাতাস আলজাজিরাকে বলেন, ফ্রান্সের কর ও সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি পুনর্বণ্টনমূলক, অথবা অন্তত একই ধরনের। এই ব্যবস্থায় উচ্চ আয়ের মানুষের কাছ থেকে কর নিয়ে কম আয়ের মানুষের সহায়তায় ব্যয় করা হয়।
তবে ফাতাসের মতে, সমস্যার গভীরতা আরো বেশি। বহু বছর ধরে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সীমিত। প্রবৃদ্ধি কম থাকলে জনসংখ্যার একাংশের মধ্যে নিজেদের জীবনমানের উন্নতি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। তখন তারা সরকারি সহায়তা বাড়ানো বা সম্পদ পুনর্বণ্টনের দাবি তোলে।
ফ্রান্সের সরকারি ব্যয় জিডিপির প্রায় ৫৭ শতাংশ। এর মধ্যে কর্মীদের পেনশনের পেছনেই ব্যয় হয় জিডিপির প্রায় ১৪ শতাংশ। উন্নত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে ফ্রান্সে সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করেছেন ফাতাস। তার মতে, শুধু সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে সংকটের সমাধান করা কঠিন। ধনীদের ওপর আরো কর আরোপের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ থাকলেও এ ধরনের পদক্ষেপের সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের পরামর্শ
ফরাসি সংবাদপত্র লে মোঁদে প্রকাশিত এক মতামতধর্মী লেখায় অর্থনীতিবিদ টমা পিকেটি বলেছেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পুনরায় বিনিয়োগ করাকে সরকারের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তার মতে, এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো শুধু অঞ্চল ও সামাজিক শ্রেণির মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠার বিষয় নয়; কম সম্পদ ব্যবহার করে অর্থনীতিতে বেশি উৎপাদন নিশ্চিত করতেও তা সহায়তা করবে।
আমিন স্নৌসিও মনে করেন, সরকারের সামনে দুটি পথ—বিনিয়োগ করা, নয়তো সরে দাঁড়ানো। তবে মাক্রো সত্যিই সংকট থেকে বের হওয়ার পথ চান কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার আশঙ্কা, সরকার হয়তো আন্দোলন আরো তীব্র হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে পরে পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে কঠোর দমন চালানো যায়।
অন্যদিকে, অধ্যাপক ফাতাস মনে করেন, সরকারের কাছে মানুষের অনেক প্রত্যাশা থাকলেও কোন খাতে অর্থায়ন সবচেয়ে জরুরি, তা নির্ধারণ করতে হবে। তার ভাষায়, ফ্রান্সে সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ এত বেশি যে শুধু আরও অর্থ ব্যয় করে সংকট কাটানোর সুযোগ সীমিত। সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থাই দেশটিকে অন্য অনেক দেশের তুলনায় কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ, কারণ সেখানে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।
দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বুধবারের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
মঙ্গলবারের এক পূর্বাভাসে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) জানায়, ‘অর্ণব’ নামের ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানার সময় ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ রূপ নিতে পারে। এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার (৮৭ মাইল) হতে পারে।
মুম্বাই থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে এ ধরনের ঝড়কে হারিকেন এবং প্রশান্ত মহাসাগরে টাইফুন বলা হয়। বঙ্গোপসাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় নিয়মিতভাবে হুমকি হয়ে দেখা দেয়।
তবে এল নিনো আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে নজিরবিহীন উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বছর ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
এদিকে প্রবল বৃষ্টিপাতের সতর্কতার মধ্যে প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কায় স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
দেশটির আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করেছে, ঝড়ের কারণে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস হতে পারে।
কলম্বোর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হতে পারে।
এছাড়া স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দিতে পারে, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগের খুঁটি উপড়ে যেতে পারে এবং জমিতে থাকা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু ঘূর্ণিঝড়ের গতিপ্রকৃতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
সোমবার তার কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অন্ধ্র প্রদেশের কর্তৃপক্ষ নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি জেলায় মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ‘সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী ৪ হাজার ৭০০-এর বেশি অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ