প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতিসংঘের কার্যক্রমে বিশ্বের জরুরি সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন লানা নুসাইবেহ। তিনি সংস্থাটির মহাসচিব পদপ্রার্থী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনীতিক। নুসাইবেহ মনে করেন, জাতিসংঘের কার্যক্রমে গতি আনতে নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সম্পদ বণ্টনকে সমস্যার কাছাকাছি নিয়ে যেতে হবে।
লানা নুসাইবেহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী। তিনি ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঐ পদে তিনিই প্রথম নারী ছিলেন। এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান তাঁকে মহাসচিব পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। নির্বাচিত হলে তিনি জাতিসংঘের প্রথম নারী মহাসচিব হবেন।
গত সপ্তাহে তাঁর মনোনয়ন ঘোষণার পর সমর্থন ও সমালোচনা, দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নুসাইবেহ বলেছেন, "নারী হওয়ার কারণে আমি এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি না। বরং জাতিসংঘের কার্যকারিতা বাড়ানোর বিষয়ে আমি ‘একগুঁয়েভাবে আশাবাদী’।"
তিনি জাতিসংঘের কর্মীদের মনোবল ফিরিয়ে আনা এবং সংস্থাটির কাজের বাস্তব ফল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, যেসব ক্ষেত্রে জাতিসংঘ সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন আনতে পারে, সেসব জায়গায় মনোযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সম্পদ ব্যবহারের প্রক্রিয়াকে মাঠপর্যায়ের সমস্যার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ করতে হবে, যাতে সংস্থাটির সচিবালয় দ্রুত ও কার্যকরভাবে সাড়া দিতে পারে।
নুসাইবেহর প্রচারাভিযানে সংস্কারের তিনটি মূল ক্ষেত্র তুলে ধরা হয়েছে: মানবাধিকার, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন। তাঁর মতে, জাতিসংঘের সনদ প্রয়োগের ক্ষেত্রে দ্বৈত মানদণ্ড এড়িয়ে চলার ওপরই সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে। তবে প্রচারাভিযানের নথিতে নির্দিষ্ট কোনো বাজেট কাটছাঁট কিংবা সনদ প্রয়োগে দ্বৈত মানদণ্ডের উদাহরণ উল্লেখ করা হয়নি।
মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রথমে জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে অন্তত নয়টি ভোট পেতে হবে। পাশাপাশি পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কোনো দেশের ভেটো দেওয়া চলবে না। এরপর সাধারণ পরিষদে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আলবুদাইউই জানিয়েছেন, পরিষদের সদস্য সউদী আরব, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান ও কাতার নুসাইবেহর প্রার্থিতার পক্ষে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যও তাঁর প্রার্থিতাকে সমর্থন করার দিকে ঝুঁকছে। এর পেছনে যুক্তরাজ্য সরকার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক সহজ করার বিষয়টি কাজ করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সমর্থনের ঘোষণা নিশ্চিত নয়।
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের আব্রাহাম চুক্তিতে নুসাইবেহর সমর্থন তাঁর পক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। ট্রাম্প জাতিসংঘের আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর সমালোচনা করে আসছেন এবং সংস্থাটির বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন। পলিটিকো চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিল, ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নন এমন প্রার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে এখনো কোনো প্রার্থীর প্রতি ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করা হয়নি।
অন্যদিকে, সুদানের গৃহযুদ্ধে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথিত সমর্থনের কারণে মানবাধিকারকর্মীদের একাংশ নুসাইবেহর প্রার্থিতার বিরোধিতা করছেন। নুসাইবেহ তাঁর সরকারের অর্থায়নের অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে ‘ভিত্তিহীন, প্রমাণহীন এবং বিশ্বাসযোগ্য তথ্যবিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনে আরএসএফকে আমিরাতের সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগকে বিশ্বাসযোগ্য বলা হয়েছে। সুদানের জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি আম্মার মোহাম্মদ মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নুসাইবেহর মনোনয়নের সমালোচনা করেছেন এবং একই অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন