ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফ্রান্স শিক্ষার্থীদের দাবির সমাধান করতে পারছে না কেন?


ফ্রান্স শিক্ষার্থীদের দাবির সমাধান করতে পারছে না কেন?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা, শিক্ষকদের কম বেতন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। শিক্ষক, শ্রমিক সংগঠন ও সরকারি কর্মচারীরাও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। গত শনিবার দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন, যার মধ্যে প্যারিসে ছিলেন ১ লাখ ১০ হাজার। এই আন্দোলন সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিতে। তবে জাতীয় ঋণ, বাজেট ঘাটতি এবং শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়ার কারণে সরকার দাবি পূরণে বাধার সম্মুখীন হয়েছে। সম্পদের অসম বণ্টন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতিও সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে নতুন বিক্ষোভ শুরু হয় গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। স্কুলে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিকল্প নিয়োগ না করা এবং জরাজীর্ণ ভবন নিয়ে ক্ষোভ থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। অনেক শ্রেণিকক্ষে ৩২ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু স্কুলে অনুপস্থিত শিক্ষকদের ছয় মাসের বেশি সময়েও বিকল্প শিক্ষক দেওয়া হয়নি।

বিক্ষোভকারীদের প্ল্যাকার্ডে লেখা, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ গড়তে হবে, শুধু কষ্ট সহ্য করে যেতে নয়।’ তাদের অভিযোগ, শিক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার ফলে শিক্ষার পরিবেশ খারাপ হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কম বেতনের প্রতিবাদে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন শিক্ষকেরাও। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) ‘এডুকেশন অ্যাট আ গ্ল্যান্স ২০২৬’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের শিক্ষকেরা জার্মানির মতো কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের শিক্ষকদের তুলনায় কম বেতন পান। ফ্রান্সে একজন স্কুলশিক্ষকের বার্ষিক মোট বেতন ৪১ হাজার ৯৬৮ ইউরো, যেখানে জার্মানিতে তা ৬৯ হাজার ৪৫৩ ইউরো। সামাজিক কর, পেনশনে বেশি চাঁদা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে ফ্রান্সের শিক্ষকদের হাতে মাস শেষে আরো কম অর্থ থাকে।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে ২৪ ঘণ্টায় দুই ‘এনকাউন্টার’, বিজেপি সরকারের বার্তা কী?

শিক্ষা খাতের সমস্যা ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। এর পেছনে রয়েছে ২০২৭ সালের বাজেটের জন্য সরকারের প্রস্তাবিত ৫৪ বিলিয়ন ইউরো বা ৬০ বিলিয়ন ডলারের ব্যয় সংকোচন ও করসংক্রান্ত পদক্ষেপ। এর মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বেতন স্থগিত রাখার প্রস্তাবও রয়েছে। দারিদ্র্য বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাওয়া তরুণদের আশঙ্কা, সরকারি ব্যয় কমানোর বোঝা শেষ পর্যন্ত তাদের ওপরই পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতিও ব্যয় বৃদ্ধির চাপ বাড়িয়েছে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে মিডিয়া টিভির সাংবাদিক ও দেশটির জাতীয় পরিষদের সাবেক সংসদীয় সহকারী আমিন স্নৌসি আলজাজিরাকে বলেন, সরকারি অর্থ অন্য খাতে ব্যয় হওয়ায় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, ‘শিক্ষার্থীরা ঠান্ডা ও নোংরা ভবনে পড়াশোনা করছে। কিছু কিছু ভবনে ইঁদুরের উপদ্রব রয়েছে। কিছু স্কুলে অনুপস্থিত শিক্ষকদের ছয় মাসের বেশি সময়েও বিকল্প শিক্ষক দেওয়া হয়নি। অথচ হাজার হাজার শিক্ষক পদ বিলুপ্ত করা হচ্ছে এবং সরকারি অর্থ বেসরকারি স্কুলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিই আন্দোলনের আগুন জ্বালিয়েছে।’

বিক্ষোভ মোকাবিলায় সরকার দেশজুড়ে পুলিশ মোতায়েন করেছে এবং কিছু এলাকায় কারফিউ জারি করেছে। প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ অভিযোগ করেছেন, উগ্র বামপন্থিরা ‘প্রজাতন্ত্রকে উৎখাতের’ চেষ্টা করছে। সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। আন্দোলন শুরুর পর গত শুক্রবার প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মাক্রোঁ। তবে এতে উত্তেজনা কমেনি। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সরকার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

সোমবার মার্সেই সফরের সময় মাক্রোঁ বলেন, বিক্ষোভের মূলে থাকা যৌক্তিক দাবিগুলো মোকাবিলা করতে তিনি সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। ফরাসি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জাতীয় অনলাইন ব্যবস্থা ‘পারকুরসুপ’-এও পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে সরকার।

আরও পড়ুন: কোরিয়ায় বাংলাদেশিসহ বিদেশি কর্মীদের ওপর জরিমানা বন্ধে নজরদারির তাগিদ

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমেছে, বেড়েছে ঋণ

বিশ্লেষকদের মতে, তীব্র আর্থিক সংকট ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের পরিকল্পনার কারণে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে সমস্যায় পড়েছে সরকার। ফরাসি অর্থনীতিবিদ ও ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ল্যাবের সহপরিচালক লুকাস শানসেলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করে শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যার অনুপাতে হিসাব করলে ২০১৭ সালের পর থেকে উচ্চশিক্ষা, শিক্ষার্থীদের জীবনযাপন ও গবেষণায় সরকারি বাজেট ২০ শতাংশ কমেছে।

গত ৭ অক্টোবর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁন লেকর্নু স্বীকার করেন, তরুণদের ক্ষোভের পেছনে বাস্তব কারণ রয়েছে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ সংকট মোকাবিলায় একটি পরিকল্পনা উপস্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে মন্ত্রীদের ব্যয় পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।

ফ্রান্সের জাতীয় ঋণ বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি ইউরো বা ৪ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এটি দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১১৯ শতাংশের সমান। ঋণের পাশাপাশি বাজেট ঘাটতিও বড় উদ্বেগের কারণ। ২০২৬ সালে দেশটির বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় ঘাটতি ৩ শতাংশের কিছু বেশি। সরকারের আয় ও ব্যয়ের পার্থক্যকে বাজেট ঘাটতি বলা হয়।

আরও পড়ুন: মাওকে নিয়ে রসিকতায় চীনের বড় দুটি কোম্পানির চুক্তি হারাল এমবাপ্পে

তবে অর্থনীতিবিদ টমা পিকেটির মতে, সরকারি ঋণ বাড়লেও ফ্রান্সের ব্যক্তিগত সম্পদও বেড়েছে। তার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির ব্যক্তিগত সম্পদ জিডিপির ৩০০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬০০ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বিপুল সম্পদ অল্প কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। পিকেটির ভাষায়, ‘ফ্রান্স আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সম্পদশালী। সমাধান করতে হবে সম্পদের বণ্টনের সমস্যা।’

সম্পদের বৈষম্যও বড় প্রশ্ন

ফ্রান্সে আয়বৈষম্য তুলনামূলক কম থেকে মাঝারি পর্যায়ে থাকলেও সম্পদের বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে সরব। ফরাসি অর্থনৈতিক নীতিবিষয়ক গবেষণা সংস্থা ওএফসিইর ২০২৬ সালের জানুয়ারির এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, দেশটির জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি। অথচ দেশের আর্থিক ও অনার্থিক সম্পদের ৬০ শতাংশের মালিক এই বয়সি মানুষেরা।

সরকারি ব্যয়ের বড় অংশ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে যায়। রয়টার্সের দেখা সরকারের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের বাজেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের পেনশন দিতে ব্যয় হয়। ফলে শিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমে যায়।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা

আমিন স্নৌসির মতে, সম্পদের বণ্টনের প্রশ্ন ফ্রান্সের রাজনীতির অন্যতম প্রধান বিষয়। তিনি বলেন, ‘মাক্রোঁকে ধনীদের প্রেসিডেন্ট বলা হয় একটি কারণেই। তিনি সব সময় ধনীদের সমর্থন করেন এবং বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।’

সম্পদ কর কমানোর কারণে মাক্রোঁকে ‘ধনীদের প্রেসিডেন্ট’ আখ্যা দিয়েছেন সমালোচকেরা। অর্থনীতির আধুনিকায়ন ও কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে নেওয়া তার নীতিগুলোও সমালোচনার মুখে পড়েছে। ২০১৮ সালে জ্বালানি তেলের ওপর কর আরোপের সিদ্ধান্তের পর শুরু হয়েছিল ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন। বৈষম্য কমাতে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করে তৃণমূল পর্যায়ের ওই আন্দোলন প্রায় দুই বছর ধরে চলে।

সমালোচকদের অভিযোগ, মাক্রোঁর অর্থনৈতিক নীতির ফলে সম্পদ আরো বেশি ধনীদের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে এবং শ্রমজীবী মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে মাক্রোঁ নিজের নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তার বক্তব্য, ধনীদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করলে দরিদ্রদের কোনো লাভ হবে না।

২০১৭ সালে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ফরাসিদের সেই ঈর্ষাপরায়ণ মানসিকতায় বিশ্বাস করি না, যেখানে বলা হয়, ধনী মানুষ আছে; চলো তাদের ওপর কর বসাই, তাহলে আমরা সবাই ভালো বোধ করব।’

আরও পড়ুন: সৌদির দুই শহরে নিরাপত্তা হুমকিতে জরুরি সতর্কতা

ফ্রান্সের ফঁতেনব্লো শহরের ইনসিয়াডের অর্থনীতির অধ্যাপক আন্তোনিও ফাতাস আলজাজিরাকে বলেন, ফ্রান্সের কর ও সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি পুনর্বণ্টনমূলক, অথবা অন্তত একই ধরনের। এই ব্যবস্থায় উচ্চ আয়ের মানুষের কাছ থেকে কর নিয়ে কম আয়ের মানুষের সহায়তায় ব্যয় করা হয়।

তবে ফাতাসের মতে, সমস্যার গভীরতা আরো বেশি। বহু বছর ধরে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সীমিত। প্রবৃদ্ধি কম থাকলে জনসংখ্যার একাংশের মধ্যে নিজেদের জীবনমানের উন্নতি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। তখন তারা সরকারি সহায়তা বাড়ানো বা সম্পদ পুনর্বণ্টনের দাবি তোলে।

ফ্রান্সের সরকারি ব্যয় জিডিপির প্রায় ৫৭ শতাংশ। এর মধ্যে কর্মীদের পেনশনের পেছনেই ব্যয় হয় জিডিপির প্রায় ১৪ শতাংশ। উন্নত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে ফ্রান্সে সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করেছেন ফাতাস। তার মতে, শুধু সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে সংকটের সমাধান করা কঠিন। ধনীদের ওপর আরো কর আরোপের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ থাকলেও এ ধরনের পদক্ষেপের সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের পরামর্শ

আরও পড়ুন: ‘রাজন অন দ্য গো’-এর রাজন বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন?

ফরাসি সংবাদপত্র লে মোঁদে প্রকাশিত এক মতামতধর্মী লেখায় অর্থনীতিবিদ টমা পিকেটি বলেছেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পুনরায় বিনিয়োগ করাকে সরকারের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তার মতে, এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো শুধু অঞ্চল ও সামাজিক শ্রেণির মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠার বিষয় নয়; কম সম্পদ ব্যবহার করে অর্থনীতিতে বেশি উৎপাদন নিশ্চিত করতেও তা সহায়তা করবে।

আমিন স্নৌসিও মনে করেন, সরকারের সামনে দুটি পথ—বিনিয়োগ করা, নয়তো সরে দাঁড়ানো। তবে মাক্রো সত্যিই সংকট থেকে বের হওয়ার পথ চান কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার আশঙ্কা, সরকার হয়তো আন্দোলন আরো তীব্র হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে পরে পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে কঠোর দমন চালানো যায়।

অন্যদিকে, অধ্যাপক ফাতাস মনে করেন, সরকারের কাছে মানুষের অনেক প্রত্যাশা থাকলেও কোন খাতে অর্থায়ন সবচেয়ে জরুরি, তা নির্ধারণ করতে হবে। তার ভাষায়, ফ্রান্সে সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ এত বেশি যে শুধু আরও অর্থ ব্যয় করে সংকট কাটানোর সুযোগ সীমিত। সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থাই দেশটিকে অন্য অনেক দেশের তুলনায় কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ মোকাবিলায় ভারতে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ মোকাবিলায় ভারতে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ, কারণ সেখানে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।

দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বুধবারের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

মঙ্গলবারের এক পূর্বাভাসে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) জানায়, ‘অর্ণব’ নামের ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানার সময় ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ রূপ নিতে পারে। এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার (৮৭ মাইল) হতে পারে।

মুম্বাই থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে এ ধরনের ঝড়কে হারিকেন এবং প্রশান্ত মহাসাগরে টাইফুন বলা হয়। বঙ্গোপসাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় নিয়মিতভাবে হুমকি হয়ে দেখা দেয়।

তবে এল নিনো আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে নজিরবিহীন উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বছর ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

এদিকে প্রবল বৃষ্টিপাতের সতর্কতার মধ্যে প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কায় স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

দেশটির আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করেছে, ঝড়ের কারণে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস হতে পারে।

কলম্বোর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হতে পারে।

এছাড়া স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দিতে পারে, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগের খুঁটি উপড়ে যেতে পারে এবং জমিতে থাকা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু ঘূর্ণিঝড়ের গতিপ্রকৃতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার তার কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অন্ধ্র প্রদেশের কর্তৃপক্ষ নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি জেলায় মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ‘সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী ৪ হাজার ৭০০-এর বেশি অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যায় এমপি আজিজের ছেলে মিন্টু পুলিশ হেফাজতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যায় এমপি আজিজের ছেলে মিন্টু পুলিশ হেফাজতে

ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যার তদন্তের অংশ হিসেবে নাটোর-৪ আসনের বিএনপি দলের এমপি আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

নাটোর ডিবির ওসি নজরুল ইসলাম জানান, সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে গুরুদাসপুরের নিজ বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে, তাকে গ্রেফতার হিসেবে দেখানো হয়নি।

শাকিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীরা গুরুদাসপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এবং ঘটনার জন্য মিন্টুকে দায়ী করেন।

নিহত শাকিল ইসলাম নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব ছিলেন। ১৪ অক্টোবর রাতে, উপজেলার চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হেলমেটধারী সন্ত্রাসীরা শাকিলকে প্রথমে গুলি করে এবং পরে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় শাকিলকে প্রথমে উপজেলা হাসপাতালে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল থেকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে শাকিল মারা যান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের প্রচারণা শেষ, ভোট বৃহস্পতিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৯ পি.এম


ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের প্রচারণা শেষ, ভোট বৃহস্পতিবার

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রচারণার সময় শেষ হয়ে গেছে। আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এই আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আইন অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী প্রচার বন্ধ রাখতে হয়। আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে। সেই অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় প্রচারের সময় সমাপ্ত হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদি কেউ প্রচার চালাতে থাকে, তবে বিধি লঙ্ঘনের কারণে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচনী এলাকায় ২১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর থেকে নির্বাচনী এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। এই আসনের তিনটি উপজেলা, ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন-মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্নীতির মামলায় প্রশাসন ও পররাষ্ট্র ক্যাডারের ২ প্রার্থীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১০ পি.এম


দুর্নীতির মামলায় প্রশাসন ও পররাষ্ট্র ক্যাডারের ২ প্রার্থীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

দুর্নীতির মামলার কারণে ৩৮তম বিসিএসে প্রশাসন ও পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত দুই প্রার্থী সঞ্জয় দাস এবং আবু সালেহ মো. মুসার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন আদালতে আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। আদালত দুদকের পৃথক আবেদনের ভিত্তিতে তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্যে সঞ্জয় দাস ও আবু সালেহ মো. মুসা অসৎ উপায়ে আর্থিক সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তারা প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে জাল সনদ তৈরি করে সেগুলোকে প্রকৃত ও বৈধ দলিল হিসেবে ব্যবহার করেন। এর ফলে নিজেদের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) বিভ্রান্ত করেন এবং ভুল সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, সঞ্জয় দাস ৩৮তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে এবং আবু সালেহ মো. মুসা পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। পরে তারা চাকরিতে যোগ দিয়ে বেতন-ভাতা সহ সরকারি অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রতীয়মান হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

দুদকের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। এই অবস্থায় বিশ্বস্ত সূত্র থেকে আসামিদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। তাই তদন্তের স্বার্থে তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%