১২:১৫ পি.এম
ঢাকা, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিভাজন ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ— এই দুটি ইস্যুতে প্রতিবেশীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
মিশিগানের অবসরপ্রাপ্ত গাড়ি কারখানার দুই কর্মী, মাইক ও রিচ, একে অপরের বাড়ির দূরত্ব কয়েক সেকেন্ডের হলেও, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য।
আরও পড়ুন: নিউজিল্যান্ডের ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে আগাম ভোটগ্রহণ শুরু
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নির্ধারিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে।
মিশিগানে সিনেট আসনের জন্য লড়াই করছেন বামপন্থী ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক আবদুল এল-সাইয়েদ এবং ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া রিপাবলিকান দলের সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স। জনমত জরিপে দুই প্রার্থী প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছেন।
৬৭ বছর বয়সী মাইক, ক্রাইসলার গাড়ি কোম্পানির অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ এবং এ যুদ্ধের পেছনে করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি তাকে উদ্বিগ্ন করছে।
মাইক বলেন, ‘রিপাবলিকানরা যদি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়, তাহলে এই লোক (ট্রাম্প) আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবেন। তিনি নিজেকে গ্যাংস্টার মনে করেন।’
আরও পড়ুন: জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
অন্যদিকে, মাইকের প্রতিবেশী রিচ ডিমিশেলের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। ইরান ইস্যুতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সাইয়েদের অবস্থানকে দুর্বল মনে করে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন করছেন।
ইতালির পতাকাসংবলিত টুপি পরা রিচ বলেন, ‘আমি প্রার্থনা করছি, আবদুল যেন নির্বাচিত না হন। এমন একজনকে আমি কোনোভাবেই ভোট দেব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে তিনি একজন মুসলিম, আর তিনি আমেরিকাকে ঘৃণা করেন। তাকে ওই পদে বসানো মানুষের সবচেয়ে বোকামির কাজ হবে।’
এল-সাইয়েদ, যিনি ইসরাইলের কঠোর সমালোচক, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন রিচ। তার আশা, এ অবস্থানের কারণে নির্বাচনে এল-সাইয়েদকে মূল্য দিতে হবে।
আরও পড়ুন: ইরানে কূটনৈতিক তৎপরতার জোয়ার: যুদ্ধ এড়াতে একজোট মুসলিম পরাশক্তিগুলো
তবে ইরানের যুদ্ধ মাইকের পরিবারের জন্যও উদ্বেগের কারণ। মাইকের ছেলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত। ওই অঞ্চলে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছেন এবং সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায়ে ২০ জনের বেশি মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন।
মাইক বলেন, ‘আমার করের টাকা কোনো অসহায় পরিবারের চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হোক, সেটাই আমি চাই। কোনো বখাটের পকেটে যাক, তা চাই না। অথচ এখন আমার টাকা সেখানেই যাচ্ছে। এর খরচ কে বহন করছে? আমি করছি। প্রতিবার মুদি দোকানে গেলে আমাকে এর মূল্য দিতে হয়, প্রতিবার গ্যাস কিনতে গেলেও দিতে হয়।’
নির্বাচন ঘিরে মানুষের মধ্যে কতটা তীব্র আবেগ তৈরি হয়েছে, তা বোঝা যায় মাইকের আচরণেও। বহু বছর ধরে ফোন ধরেন না বলে দাবি করা এই অবসরপ্রাপ্ত কর্মী নিজের পদবি প্রকাশ করতেও রাজি হননি।
‘আমি ট্রাম্পের সমর্থক নই’
আরও পড়ুন: তেহরানে সৌদি-ইরানের বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার আলোচনা
৭৮ বছর বয়সী রিচও ক্রাইসলারের সাবেক কর্মী। তার অভিযোগ, ডেমোক্র্যাটরা তার মতো বয়স্ক ভোটারদের অবহেলা করছে এবং তরুণ ও অভিবাসী পরিবারের ভোটারদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
রিচ বলেন, ‘তারা চায় অবৈধ অভিবাসীরা এসে ভোট দিক।’
মিশিগানের এই নির্বাচনী লড়াইয়ে দুই দলই বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। অঙ্গরাজ্যজুড়ে স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে আরও কঠোর প্রচারবিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে।
২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সমর্থন করলেও ২০২৪ সালে মিশিগানের ভোটাররা অল্প ব্যবধানে ট্রাম্পকে জয়ী করেছিলেন। ফলে আসন্ন নির্বাচনেও অঙ্গরাজ্যটির ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: অর্ণব ঘূর্ণিঝড় এখন অতি প্রবল, সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত জারি
ওয়ারেন শহরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন ৩২ বছর বয়সী মরিস স্টার। তিনি ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স (ইউএডব্লিউ) শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য এবং পেশায় বীমা খাতের কর্মী।
ইউনিয়নের সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালানোর সময় তিনি ধৈর্য ধরে ভোটারদের অভিযোগ শুনছেন। এ সময় আশপাশে অ্যামাজনের ডেলিভারি ড্রোন উড়ছিল, আর বাড়ির মালিকরা নিজেদের উঠোনের পরিচর্যা করছিলেন।
স্টার বলেন, ‘আমরা এই বাড়িতে এবং এর আগের বাড়িতেও যা শুনেছি, তাতে মনে হয়েছে, মানুষ মনে করছে দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ প্রশ্ন করছে, তাহলে আমি ভোট দেব কেন? এ কারণেই আমরা মাঠে নেমেছি।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে ২৭ অক্টোবর থেকে বাড়ল পেট্রল ও ডিজেলের দাম
আমরা আশা করছি, এসব নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটাতে পারব।’
স্টারের হাতে ছিল মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নির্বাচনী আসনে ইউনিয়ন-সমর্থিত প্রার্থীদের পরিচিতি-সংবলিত প্রচারপত্র। এর মধ্যে সিনেট নির্বাচনও রয়েছে।
তার সঙ্গে প্রচারে অংশ নেওয়া ৪৫ বছর বয়সী রব ব্যাংকস, জেনারেল মোটরসের একটি বডি শপের টিম লিডার। তিনি ইউনিয়নের সক্রিয় ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের তালিকা ধরে ফোন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যাতে তাদের ইউনিয়ন-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে যুক্ত করা যায়। এসব প্রার্থীই ডেমোক্র্যাট দলের।
জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ :
ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিও ভোটারদের আলোচনায় বারবার উঠে আসছে।
৮৫ বছর বয়সী সু অ্যাডামস্কি বলেন, ‘প্রতি মাসে যে সামান্য টাকা পাই, তার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে, গ্যাসের দামও বাড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘না, পরিস্থিতি কঠিন। এভাবে বলতে পারেন, আমি ট্রাম্পের সমর্থক নই। ১৫ বছর আগেও তাঁকে পছন্দ করতাম না, এখনো করি না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন