প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহের ভালুকায় পুলিশের ওপর হামলা, পরোয়ানাভুক্ত আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ; আহত ২
ময়মনসিংহের ভালুকায় মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে আটক করার পর পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার এবং হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের সজনগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এএসআই রাহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল বাকিরুল। তাঁদের উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আব্দুল কুদ্দুসকে আটক করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায় ভালুকা মডেল থানার একটি পুলিশ দল। অভিযানকালে পুলিশ তাঁকে আটক করে।
এ সময় আব্দুল কুদ্দুস জামিনে রয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে তাঁর জামিনের কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে গড়িমসি করেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তাঁকে নিয়ে পুলিশের কার্যক্রম চলার সময় ঘটনাস্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুল কুদ্দুসকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁর স্বজনেরা। পুলিশ সদস্যরা এতে বাধা দিলে তাঁদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার একপর্যায়ে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আব্দুল কুদ্দুসকে তাঁদের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যান হামলাকারীরা। এতে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমস্যার মুখে পড়েন।
তবে হামলায় ঠিক কতজন অংশ নিয়েছেন এবং তাঁদের পরিচয় কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার পুরো বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
আসামিকে আটকের অভিযান চলাকালে হামলায় এএসআই রাহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল বাকিরুল আহত হন। ঘটনার খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে তাঁরা আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত দুই সদস্য চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তাঁদের আঘাতের ধরন ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে আটক করতে গিয়ে পুলিশের দুই সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। আহত দুজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে আটক করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা এবং পরে তাঁকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ধরনের ঘটনায় হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, পলাতক আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি।
তবে এ ঘটনায় নতুন করে কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না, অভিযুক্ত আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে কি না এবং হামলার অভিযোগে কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তী তদন্তে হামলার প্রকৃত ঘটনা, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা স্পষ্ট হওয়ার কথা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন