মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৫৬ এম
পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তার সংলগ্ন অঞ্চলে অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বর্তমানে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এটি একই এলাকায় অবস্থান করছে এবং আগামীকাল বুধবার ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। এই কারণে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়ার ১০ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি সোমবার দিবাগত রাত ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামীকাল ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
এদিকে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত উপকূলের নিকটবর্তী থেকে সাবধানে চলাচল করার জন্য বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী আন্তনগর ট্রেন মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ সম্প্রসারণ করে কক্সবাজার পর্যন্ত চালু করা হয়েছে। নতুন রুটে ট্রেনটির নিয়মিত চলাচল সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত থেকে শুরু হয়েছে। ফলে বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সোমবার রাতে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেসের বর্ধিত রুটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
বর্ধিত রুটে মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরববাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কুমিল্লা স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৭২১/৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। পথে রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছে ২০ মিনিট বিরতি শেষে রাত ৩টায় কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করবে।
ফিরতি পথে ট্রেনটি সকাল ৯টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। সেখানে ২০ মিনিট বিরতির পর দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীতে পৌঁছাবে।
ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ রোববার। এর বেইস স্টেশন নির্ধারণ করা হয়েছে কক্সবাজার। নতুন রুটে ট্রেনটিতে আধুনিক কোরিয়ান কোচও যুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস নামে দুটি নন-স্টপ আন্তনগর ট্রেন চলাচল করছে। এই ট্রেন দুটি ঢাকা বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম ছাড়া মাঝপথের অন্যান্য স্টেশনে থামে না।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী প্রবাল এক্সপ্রেস ও সৈকত এক্সপ্রেস বিভিন্ন মধ্যবর্তী স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। এ অবস্থায় মহানগর এক্সপ্রেসের রুট সম্প্রসারণের ফলে নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী অঞ্চলের যাত্রীদের কক্সবাজার যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর থেকে রুট সম্প্রসারণের আদেশ কার্যকর হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ-জাপানের এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার সুযোগ এসেছে।’
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাইয়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করেই আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। শান্তিপ্রিয় দেশ জাপান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর আমাদের স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম দিকের দেশগুলোর অন্যতম। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি ও আমি দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি। এ আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), রেল ও অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়িয়ে আমাদের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে আমরা অভিন্ন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছি।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘এই সফরে আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছি এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় করেছি। আমাদের আলোচনার ফলাফল ও অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো একটি যৌথ বিবৃতিতে তুলে ধরা হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আজ আমাদের সামনে এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। আমি জাপানের বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগের সুযোগগুলো অনুসন্ধান করার এবং আমাদের উন্নয়নের পরবর্তী পর্যায়ের অংশীদার হওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিক লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আমরা জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আসুন, আমরা একসঙ্গে আমাদের দুই মহান দেশের জন্য আরও সহনশীল, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।’
এর আগে সোমবার স্থানীয় সময় সকালে টোকিওতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁদের অভ্যর্থনা জানান জাপান সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সফরের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের প্রতিনিধিদল। লীগের সভাপতি ও জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
এ দিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার প্রেসিডেন্টের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) সভাপতি ও মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যানও। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উন্নত খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এড়িয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরব ও ইরান এবার সরাসরি সংলাপে বসেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) তেহরানে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুবরাজ খালিদ বিন সালমান এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মুখোমুখি হন। এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধি ও ইরানি শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন। তারা একে অপরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক এই আলোচনার পর মক্কা চুক্তিভুক্ত দেশসমূহ এবং ইরানি কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে আরও আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন।
বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তিতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান। তিনি মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, 'আঞ্চলিক শান্তি ও ঐক্য জোরদারে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোর প্রতিনিধিদের এই উপস্থিতি অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।'
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজায়িও আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই বৈঠককে খুবই সফল হিসেবে বর্ণনা করেন। রেজায়ে বলেন, 'আমার মনে হচ্ছে অঞ্চলে এক নতুন আবহ তৈরি হচ্ছে। আলোচনার সময় দায়িত্বশীল নেতাদের মধ্যে আমি অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করেছি।'
সৌদি আরবের জনকূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা প্রশমন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুবরাজ খালিদের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করেছে। কাতার ও পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতা উদ্যোগকে সমর্থন জানানো এবং সংঘাত এড়িয়ে সংলাপের পথ উন্মুক্ত করাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'অঞ্চলে নতুন করে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি এড়াতে আলোচনার পথ খোলা রাখা জরুরি। সৌদি আরব মনে করে, মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মক্কা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্য এবং বৃহত্তর অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানে ‘মক্কা এলায়েন্স’-এর সদস্য—সউদী আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সোমবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। বৈঠকে ইরান ও তিন মুসলিম পরাশক্তির প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান।
ফার্স নিউজ এজেন্সির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মক্কা এলায়েন্সের সদস্য দেশগুলোর সাথে ইরানের এই বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলো পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। ইরানের প্রভাবশালী সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপ-সচিব আলী বাঘেরি কানির বক্তব্য উদ্ধৃত করে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা 'প্রেস টিভি' জানায়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সুসংহত করার লক্ষ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যকে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতার হাত থেকে রক্ষা করতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই সফর অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে সম্ভাব্য হামলার ছক কষছেন আমেরিকান ও ইসরায়েলি নীতি নির্ধারকরা। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সউদী আরব এবং ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত মারাত্মক রূপ নিয়েছে। দুই পক্ষই রাজ্যটির বিভিন্ন বিমানবন্দর ও তেলক্ষেত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
চলতি বছরই সউদী আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মিলে 'মক্কা প্যাক্ট' নামে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। সউদী-হুথি সংঘাত নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার পর ইরানের সাথে তিন দেশের এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের যৌথ বৈঠক। সউদী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে সউদী আরবের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই বৈঠকে অংশ নিতে তেহরানে উপস্থিত হয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন।
সোমবার বিকেলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, প্রতিনিধি দলটি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মহসেন রেজাইয়ের সাথে বৈঠকে বসেছেন। এর ঠিক একদিন আগে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করে সম্ভাব্য আঞ্চলিক যুদ্ধ ঠেকানোর প্রচেষ্টায় কাতারের প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করে বলে জানান ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। এছাড়া, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত সপ্তাহেও পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফর করেছিলেন।
চলতি আলোচনা সম্পর্কে অবহিত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সোমবারের এই আলোচনা মূলত কাতার ও পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতাকেই সমর্থন যোগাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি কূটনৈতিক সমাধানের উদ্দেশ্যে ইরান যেন প্রয়োজনীয় নমনীয়তা দেখায়, সে ব্যাপারেও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বৈঠক সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া দুই কূটনৈতিক সূত্র জানান, কাতার এমন একটি সমঝোতার ওপর কাজ করছে যেখানে ৫ দিনের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরকে কিছু সুনির্দিষ্ট ছাড় দেবে।
প্রস্তাবিত এই সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী 'স্ট্রেট অফ হরমুজ' উন্মুক্ত করে দেবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নেবে, যা দেশটির অর্থনীতিকে কোণঠাসা করে রেখেছে। তবে এই চুক্তির মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কোনো পক্ষ আগে ছাড় দেবে তা নির্ধারণ করা। মধ্যস্থতাকারীরা চাচ্ছেন চুক্তি শুরুর প্রাথমিক ধাপেই যেন ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি বড় ধরনের ছাড় দেয়।
তবে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত কমানোর বিষয়টি শুরুতেই নাকচ করে দিয়েছে। গত সপ্তাহে মহসেন রেজাই কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেন, "সমৃদ্ধ পারমাণবিক পদার্থের একটি একক কণাও ইরানের বাইরে যাবে না।" ইরানি কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই সমঝোতা পৌঁছানোর বিষয়ে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি পুনরায় হামলার শিকার হয়, তবে তাদের সশস্ত্র বাহিনী জবাব হিসেবে আঞ্চলিক ডেটা সেন্টার এবং পানির নিচে থাকা সাবমেরিন ইন্টারনেট ক্যাবলগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানাবে।
ইয়েমেনের হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় সউদী আরব যখন বিপর্যস্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে শীর্ষ সউদী কর্মকর্তাদের তেহরান সফর দু'দেশের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মাঝেও এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সউদী যুবরাজের ঘনিষ্ঠ ভাই ও আস্থাভাজন প্রতিনিধি প্রিন্স খালিদকে তেহরানে পাঠানোর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট যে, সউদী নেতৃত্ব মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার আরেকটি বিধ্বংসী যুদ্ধ এড়াতে মরিয়া। কারণ, তেমন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে একদিকে হুথি হামলা, অন্যদিকে ইরানের সম্ভাব্য রকেট ও ড্রোন হামলার মুখে পড়তে পারে সউদী আরব।
অন্যদিকে, কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে রাখার অংশ হিসেবে ইরান এই সফরকে তাদের বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে না পেরে গত আগস্টে 'মক্কা প্যাক্ট' স্বাক্ষর করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। বিশেষ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো যখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মুখে পড়ে, তখন থেকেই নিজস্ব প্রতিরক্ষা বলয় তৈরির তাগিদ অনুভব করছিল তারা।
সোমবারে তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, "আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, আঞ্চলিক দেশগুলো তাদের নিজস্ব স্বার্থ ও বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার যে উদ্যোগ বা আলোচনা শুরু করেছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক এবং প্রশংসনীয় একটি পদক্ষেপ।" সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ