মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৫৫ পি.এম
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : জার্মানি বাংলাদেশকে শ্রম আইন বাস্তবায়ন ও শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিতকরণের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছে।
আজ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে জার্মান ফেডারেল ইকোনমিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রির ভাইস মিনিস্টার ড. বার্বেল কফলার এই আশ্বাস দেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সাক্ষাৎকালে শ্রমমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শ্রমিকদের জন্য শোভন কাজ, কল্যাণ এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রম অধিকার, সামাজিক সংলাপ এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলেও তিনি জানান।
মন্ত্রী আরও জানান, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বাংলাদেশ শ্রম আইনের সংশোধনী পাস করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সম্প্রতি আইএলও কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ ও ১৯০ অনুসরণ করেছে। শ্রম বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে সংশোধিত আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের উদ্যোগও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম (ইআইএস) প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ২০২২ সালের জুন থেকে তৈরি পোশাক খাতে পরীক্ষামূলকভাবে এ স্কিম চালু রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত পঙ্গুত্ব বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে মাসিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে স্কিমটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং চামড়া ও জুতা খাতে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
স্কিমটিকে জাতীয় পর্যায়ে চালু করার জন্য উপযুক্ত অর্থায়ন পদ্ধতি নির্ধারণের কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে জার্মান সরকারের সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ড. বার্বেল কফলার শ্রম আইন বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, "শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে আইনটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।"
তিনি আরও বলেন, "শোভন কাজ ছাড়া কোনো ব্যবসায়িক মডেল টেকসই হতে পারে না।" বর্তমানে জার্মানির ভোক্তারা পোশাক তৈরির সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও কর্মপরিবেশ সম্পর্কে সচেতন।
বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজধানীর কদমতলী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিএসটিআই অনুমোদনহীন ভেজাল আইসক্রিম তৈরির তিনটি প্রতিষ্ঠান এবং বোতলজাত পানি প্রস্তুতকারী একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ও সিলগালা করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এসআরবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আজ এই অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার এসআরবি সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু হাসান এবং এসআরবি-১০, সিপিসি-১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদারের যৌথ নেতৃত্বে ডিএমপির কদমতলী থানা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে বিএসটিআই অনুমোদনহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং নকল পণ্য প্রস্তুতকারী তিনটি ভেজাল আইসক্রিম কারখানা সিলগালা করা হয়। একইসাথে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না থাকার কারণে বোতলজাত পানি উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং কারখানাটি সিলগালা করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এসআরবি ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখবে।
জনস্বার্থে ভেজাল ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এসআরবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাটিতে একটি ছোট্ট উজ্জ্বল হলুদ বিন্দু দেখে খনন শুরু করেন এক শৌখিন অনুসন্ধানকারী। কয়েক দিনের অনুসন্ধানের পর, অস্ট্রেলিয়ার ওই নাগরিকের হাতে আসে প্রায় ১২০০ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণের খণ্ড, যার বাজার মূল্য অন্তত দেড় লাখ মার্কিন ডলার।
বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, শুধুমাত্র ওজনের ভিত্তিতে এর মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। যদি এটি ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের কাছে বিক্রি করা হয়, তাহলে দাম ২ লাখ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।
বাংলাদেশি মুদ্রায় দেড় লাখ ডলার সমান প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আর ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার সমান প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। সেই সঙ্গে ২ লাখ ডলার সমান প্রায় ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের বরাতে এনডিটিভি জানায়, নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে টিবুবুরার কাছে মাউন্ট স্টুয়ার্ট স্টেশনে স্বর্ণের সন্ধান করছিলেন ওই ব্যক্তি। কয়েক দিন ধরে খনন করার সময় তিনি পুরোনো পেরেক, ঘোড়ার খুরের লোহার অংশ ও ব্যবহৃত সিসার গুলির মতো মূল্যহীন জিনিস পেয়ে ছিলেন।
এর মধ্যেই মাটিতে একটি ক্ষীণ হলুদ আভা দেখতে পান তিনি। আশপাশের মাটি সরানোর পর বেরিয়ে আসে কোয়ার্টজ পাথর মেশানো আলুর আকারের স্বর্ণের খণ্ডটি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি জানান, ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্রে প্রথমে খুব জোরালো সংকেত পাওয়া যায়নি। তবে প্রায় ১০০ মিলিমিটার গভীরে যাওয়ার পর যন্ত্রটি তীব্র সংকেত দিতে শুরু করে। গর্তের প্রথম বা দ্বিতীয়বার মাটি সরানোর সময়েই তিনি হলুদ বিন্দুটি দেখতে পান।
‘টিবুবুরা স্পাড’ নামে পরিচিত স্বর্ণের খণ্ডটির মোট ওজন প্রায় ১ দশমিক ২ কেজি। এতে রয়েছে প্রায় ৯৪০ গ্রাম বিশুদ্ধ স্বর্ণ।
খনন করে স্বর্ণের খণ্ডটি তুলে আনার দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছে। মূল্যবান এই আবিষ্কারটি অনুসন্ধানকারীর উচ্ছ্বাসও ভিডিওতে ধরা পড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিশেষায়িত ফোর্স সোয়াডসের সদস্যরা সমুদ্রে প্রথমবারের মতো ফ্রি-ফল জাম্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। নৌবাহিনীর মেরিটাইম প্যাট্রোল এয়ারক্রাফট থেকে প্রায় ৮ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে জাম্প করে নির্ধারিত ড্রোপ জোনে সমুদ্রে সফলভাবে অবতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) নৌবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে বাহিনীর পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষায়িত এই অনুশীলন সোয়াডস সদস্যদের প্যারাশুটিং দক্ষতা বৃদ্ধিতে এবং সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় বিশেষায়িত অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই অনুশীলনটি সোয়াডস কমান্ড ও নেভাল এভিয়েশনের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ ‘সৈকত’, ডাইভিং বোট ‘মাছরাঙা’ এবং দ্রুতগামী বোটসমূহ অংশগ্রহণ করে।
এতে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের অনুশীলনের মাধ্যমে নৌবাহিনীর বিশেষায়িত অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রমে দক্ষতা অর্জিত হবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী আধুনিক প্রশিক্ষণ, পেশাগত উৎকর্ষ ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতির সমন্বয়ে দেশের সমুদ্রসীমা ও সামুদ্রিক স্বার্থ সংরক্ষণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার ও স্টেট সেক্রেটারি ড. বারবেল কোফলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আবুল খায়ের স্টীল মেল্টিং লিমিটেড (একেএসএমএল) কারখানা পরিদর্শন করেছে।
সোমবার (২) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত কারখানাটির পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদলকে একেএসএমএল-এর আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অর্জন এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান একেএসএমএল-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান মোমিন।
জার্মান প্রতিনিধিদলে ড. বারবেল কোফলার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জিআইজেড বাংলাদেশ, জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক কেএফডব্লিউ এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) জেষ্ঠ্য কর্মকর্তাগণ।
একেএসএমএল আধুনিক ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস প্রযুক্তি, উন্নত প্রকৌশল এবং উচ্চগতির রিবার রোলিং প্রযুক্তির সমন্বয়ে স্টীল উৎপাদন করে। উচ্চ উৎপাদন সক্ষমতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের স্টীলশিল্পে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ, সম্প্রতি উৎপাদন সক্ষমতা-সংক্রান্ত একটি রেকর্ডের জন্য একেএসএমএল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অর্জন করেছে। প্রাকৃতিক সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহার ও পরিবেশগত দায়িত্বশীলতার অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, ফিউম ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে বায়ুদূষণ রোধ এবং ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে বৃষ্টির পানি পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে একেএসএমএল। কারখানাটির এসব পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ পরিদর্শন করে ভূয়সী প্রশংসা করেন জার্মান প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় স্টীলশিল্পে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নে একেএসএমএলের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন জার্মান প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশের শিল্প খাতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং তাঁদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি, বাংলাদেশের স্টীলশিল্পের অগ্রগতি ও আধুনিকায়ন সম্পর্কেও ইতিবাচক ধারণা লাভ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ