মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:১৯ এম
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এড়িয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরব ও ইরান এবার সরাসরি সংলাপে বসেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) তেহরানে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুবরাজ খালিদ বিন সালমান এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মুখোমুখি হন। এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধি ও ইরানি শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন। তারা একে অপরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক এই আলোচনার পর মক্কা চুক্তিভুক্ত দেশসমূহ এবং ইরানি কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে আরও আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন।
বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তিতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান। তিনি মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, 'আঞ্চলিক শান্তি ও ঐক্য জোরদারে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোর প্রতিনিধিদের এই উপস্থিতি অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।'
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজায়িও আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই বৈঠককে খুবই সফল হিসেবে বর্ণনা করেন। রেজায়ে বলেন, 'আমার মনে হচ্ছে অঞ্চলে এক নতুন আবহ তৈরি হচ্ছে। আলোচনার সময় দায়িত্বশীল নেতাদের মধ্যে আমি অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করেছি।'
সৌদি আরবের জনকূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা প্রশমন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুবরাজ খালিদের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করেছে। কাতার ও পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতা উদ্যোগকে সমর্থন জানানো এবং সংঘাত এড়িয়ে সংলাপের পথ উন্মুক্ত করাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'অঞ্চলে নতুন করে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি এড়াতে আলোচনার পথ খোলা রাখা জরুরি। সৌদি আরব মনে করে, মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মক্কা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্য এবং বৃহত্তর অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানে ‘মক্কা এলায়েন্স’-এর সদস্য—সউদী আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সোমবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। বৈঠকে ইরান ও তিন মুসলিম পরাশক্তির প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান।
ফার্স নিউজ এজেন্সির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মক্কা এলায়েন্সের সদস্য দেশগুলোর সাথে ইরানের এই বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলো পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। ইরানের প্রভাবশালী সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপ-সচিব আলী বাঘেরি কানির বক্তব্য উদ্ধৃত করে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা 'প্রেস টিভি' জানায়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সুসংহত করার লক্ষ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যকে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতার হাত থেকে রক্ষা করতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই সফর অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে সম্ভাব্য হামলার ছক কষছেন আমেরিকান ও ইসরায়েলি নীতি নির্ধারকরা। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সউদী আরব এবং ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত মারাত্মক রূপ নিয়েছে। দুই পক্ষই রাজ্যটির বিভিন্ন বিমানবন্দর ও তেলক্ষেত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
চলতি বছরই সউদী আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মিলে 'মক্কা প্যাক্ট' নামে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। সউদী-হুথি সংঘাত নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার পর ইরানের সাথে তিন দেশের এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের যৌথ বৈঠক। সউদী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে সউদী আরবের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই বৈঠকে অংশ নিতে তেহরানে উপস্থিত হয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন।
সোমবার বিকেলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, প্রতিনিধি দলটি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মহসেন রেজাইয়ের সাথে বৈঠকে বসেছেন। এর ঠিক একদিন আগে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করে সম্ভাব্য আঞ্চলিক যুদ্ধ ঠেকানোর প্রচেষ্টায় কাতারের প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করে বলে জানান ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। এছাড়া, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত সপ্তাহেও পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফর করেছিলেন।
চলতি আলোচনা সম্পর্কে অবহিত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সোমবারের এই আলোচনা মূলত কাতার ও পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতাকেই সমর্থন যোগাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি কূটনৈতিক সমাধানের উদ্দেশ্যে ইরান যেন প্রয়োজনীয় নমনীয়তা দেখায়, সে ব্যাপারেও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বৈঠক সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া দুই কূটনৈতিক সূত্র জানান, কাতার এমন একটি সমঝোতার ওপর কাজ করছে যেখানে ৫ দিনের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরকে কিছু সুনির্দিষ্ট ছাড় দেবে।
প্রস্তাবিত এই সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী 'স্ট্রেট অফ হরমুজ' উন্মুক্ত করে দেবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নেবে, যা দেশটির অর্থনীতিকে কোণঠাসা করে রেখেছে। তবে এই চুক্তির মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কোনো পক্ষ আগে ছাড় দেবে তা নির্ধারণ করা। মধ্যস্থতাকারীরা চাচ্ছেন চুক্তি শুরুর প্রাথমিক ধাপেই যেন ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি বড় ধরনের ছাড় দেয়।
তবে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত কমানোর বিষয়টি শুরুতেই নাকচ করে দিয়েছে। গত সপ্তাহে মহসেন রেজাই কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেন, "সমৃদ্ধ পারমাণবিক পদার্থের একটি একক কণাও ইরানের বাইরে যাবে না।" ইরানি কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই সমঝোতা পৌঁছানোর বিষয়ে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি পুনরায় হামলার শিকার হয়, তবে তাদের সশস্ত্র বাহিনী জবাব হিসেবে আঞ্চলিক ডেটা সেন্টার এবং পানির নিচে থাকা সাবমেরিন ইন্টারনেট ক্যাবলগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানাবে।
ইয়েমেনের হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় সউদী আরব যখন বিপর্যস্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে শীর্ষ সউদী কর্মকর্তাদের তেহরান সফর দু'দেশের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মাঝেও এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সউদী যুবরাজের ঘনিষ্ঠ ভাই ও আস্থাভাজন প্রতিনিধি প্রিন্স খালিদকে তেহরানে পাঠানোর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট যে, সউদী নেতৃত্ব মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার আরেকটি বিধ্বংসী যুদ্ধ এড়াতে মরিয়া। কারণ, তেমন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে একদিকে হুথি হামলা, অন্যদিকে ইরানের সম্ভাব্য রকেট ও ড্রোন হামলার মুখে পড়তে পারে সউদী আরব।
অন্যদিকে, কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে রাখার অংশ হিসেবে ইরান এই সফরকে তাদের বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে না পেরে গত আগস্টে 'মক্কা প্যাক্ট' স্বাক্ষর করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। বিশেষ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো যখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মুখে পড়ে, তখন থেকেই নিজস্ব প্রতিরক্ষা বলয় তৈরির তাগিদ অনুভব করছিল তারা।
সোমবারে তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, "আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, আঞ্চলিক দেশগুলো তাদের নিজস্ব স্বার্থ ও বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার যে উদ্যোগ বা আলোচনা শুরু করেছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক এবং প্রশংসনীয় একটি পদক্ষেপ।" সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টোকিও, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা প্রদান করেছেন।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
দুই দেশের সম্পর্ককে জোরদার করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা গভীর করার উদ্দেশ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পূর্বে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার প্রদান করে জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল। এই সময় জাপান ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গার্ড পরিদর্শন করেন।
গার্ড অব অনার প্রদানের সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর সফরসঙ্গীদের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। একইভাবে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন।
পরিচয় পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভবনের মূল কক্ষে প্রবেশের পথে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে উভয় প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠকে মিলিত হন।
আলোচনার ফলাফল নিয়ে দুই নেতা দুপুরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দুপুরে কানতেইতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছেন। মধ্যাহ্নভোজের শুরুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত স্বাগত বক্তব্য দেবেন এবং শুভেচ্ছা পানপাত্র উত্থাপন করবেন। জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন এবং পাল্টা শুভেচ্ছা পানপাত্র উত্থাপন করবেন।
শীর্ষ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানের সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় প্রাধান্য পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জাপানের টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর ভবন অভিমুখের লম্বা সড়কের দুই পাশে টানানো হয় বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় পতাকা।
চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার সকালে টোকিও পৌঁছান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।
সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
তারো আসোর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ২০০৬ সালে জাপানে তাঁদের সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন।
তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে আসোর অবদানের স্বীকৃতি জানান এবং তাঁকে আবারও বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান।
মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ইপিএ বাস্তবায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদনশিল্প খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং দেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা, চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন।
এ ছাড়া একটি প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে আসে।
কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশলশিল্প এবং জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলোও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন- ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী ও আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান।
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এছাড়া, গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিউজিল্যান্ডে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের জন্য আগাম ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সোমবার, ২৬ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে ভোটাররা আগাম ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। মূল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৭ নভেম্বর। জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং জনসেবা নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
ক্ষমতায় থাকার জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাকসনের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল পার্টি। অপরদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্রিস হিপকিন্সের নেতৃত্বে লেবার পার্টি আবার সরকার গঠনের চেষ্টা করছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্ব পাচ্ছে।
নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোতে দুই প্রধান দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ২০ অক্টোবর প্রকাশিত একটি জরিপে ন্যাশনাল পার্টি ৩২ শতাংশ এবং লেবার পার্টি ২৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে। এর আগের দিন প্রকাশিত আরেক জরিপে লেবার পার্টি ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ন্যাশনাল পার্টি ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ সমর্থন পায়। ফলে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ন্যাশনাল ও লেবার পার্টির পাশাপাশি অ্যাক্ট, নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট, গ্রিন পার্টি, তে পাতি মাওরি এবং অপরচুনিটি পার্টিও নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে অপরচুনিটি পার্টি সংসদে আসন পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশ দলীয় ভোটের কাছাকাছি সমর্থন পাওয়ায় নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
নিউজিল্যান্ডে মিশ্র-সদস্য আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা এমএমপি পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটাররা দুটি ভোট দেন। একটি নিজ নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীর জন্য, অন্যটি পছন্দের রাজনৈতিক দলের জন্য। সাধারণত কোনো দলকে সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে আসন পেতে দলীয় ভোটের অন্তত ৫ শতাংশ পেতে হয়, অথবা একটি নির্বাচনী আসনে জয়ী হতে হয়। কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনের জন্য অন্য দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হয়।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আগাম ভোটের প্রথম দিনে দেশজুড়ে ২০৭টি ভোটকেন্দ্র খোলা হয়েছে। নির্বাচনের দিন ৭ নভেম্বর ২ হাজার ৩০০টির বেশি ভোটকেন্দ্র চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার পর প্রাথমিক ফল প্রকাশ শুরু হবে। চূড়ান্ত সরকারি ফল ঘোষণা করা হবে ২৭ নভেম্বর। তথ্যসূত্র: বিবিসি, রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান ও বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, নতুন সুযোগ এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে পরিণত করার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান এবং পারস্পরিক লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও বৃদ্ধি করতে চায়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-এ অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে উভয় দেশের জন্য একটি আরও সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। এমন একটি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে, যা বর্তমান প্রজন্মের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী ভিত্তি তৈরি করবে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, "বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্য দুই দেশের বন্ধুত্বের ভিত্তি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান প্রথম দিকেই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), রেলপথ, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ অঙ্গীকার করেছে। সম্পর্ক আরও গভীর করতে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে চুক্তি ও সমঝোতা বিনিময়ও হয়েছে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে জাপানের বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী পর্যায়ে জাপানি অংশীদারদের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ