ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সড়ক দুর্ঘটনায় সাড়ে ৬ বছরে নিহত ৭৯৬৩ শিশু


সড়ক দুর্ঘটনায় সাড়ে ৬ বছরে নিহত ৭৯৬৩ শিশু

২০২০ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭,৯৬৩ শিশু নিহত হয়েছে। সড়ক পরিবহন খাতে অব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অসচেতনতার কারণে শিশুদের সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হওয়ার হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আজ বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এই তথ্য উপস্থাপন করেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং তাদের নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।

আরও পড়ুন: বিআরটি প্রকল্প বাতিলের প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান ধর্মঘট

সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবে নিহত হয়েছে ২,১৯৩ শিশু (২৭.৫৩%)। পথচারী হিসেবে রাস্তা পারাপার ও রাস্তায় হাঁটার সময় যানবাহনের ধাক্কায় নিহত হয়েছে ২,৮১২ শিশু (৩৫.৩১%)। মোটরবাইকের চালক ও আরোহী হিসেবে নিহত হয়েছে ২,৯৫৮ শিশু (৩৭.১৪ শতাংশ)।

পথচারী হিসেবে নিহত হওয়ার যানবাহনভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ইত্যাদি ভারী যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১,১২৬ শিশু (৪০.০৪ শতাংশ)। প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৩১৭ শিশু (১১.২৭ শতাংশ)। থ্রি-হুইলারের (সিএনজি, অটোরিকশা, নসিমন, ভটভটি ইত্যাদি) ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১,২৭১ শিশু (৪৫.১৯ শতাংশ)। বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৯৮ শিশু (৩.৪৮ শতাংশ)।

শিশু নিহত হওয়া সড়কের ধরন

দুর্ঘটনায় শিশু নিহত হওয়ার সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহাসড়কে নিহত হয়েছে ১,৯৭৪ শিশু (২৪.৭৮%), আঞ্চলিক সড়কে ২,০৮২ শিশু (২৬.১৪%), গ্রামীণ সড়কে ২,৭১৩ শিশু (৩৪.০৭%) এবং শহরের সড়কে নিহত হয়েছে ১,১৯৪ শিশু (১৫%)।

আরও পড়ুন: ‘ভালো লোকের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই’ স্পিকারের সমর্থনে ডা. তাসনিম জারা

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণ

শিশু নিহত হওয়ার সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোরে ২০৪ (২.৫৬%), সকালে ২,১৬৮ (২৭.২২%), দুপুরে ১,৮১৩ (২২.৭৬%), বিকালে ২,৬৩৪ (৩৩.০৭%), সন্ধ্যায় ৫৪৬ (৬.৮৫%) এবং রাতে ৫৯৮ (৭.৫০%) দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ০ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে ১,৫৩২ জন (১৯.২৩%), ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে ২,৮৮৪ জন (৩৬.২১%) এবং ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে ৩,৫৪৭ জন (৪৪.৫৪%)।

সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধির কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে, দেশের সড়ক ও সড়ক পরিবহন শিশু-বান্ধব না হওয়া; নিরাপদে সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে শিশুদের মধ্যে সচেতনতার অভাব; পরিবার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদে সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে শিশুদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ না দেওয়া; অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক কর্তৃক যানবাহন চালানো; দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকট; এবং আহত শিশুদের চিকিৎসায় পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা।

আরও পড়ুন: বগুড়ার অবকাঠামো খাতে মেগা উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার

সুপারিশসমূহ:

সড়ক ও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা শিশুদের জন্য নিরাপদ করা; নিরাপদে সড়ক ব্যবহার বিষয়ে পরিবারে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের সচেতন করা; অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক কর্তৃক যানবাহন চালানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা; জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার সুযোগ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা; সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন করা; এবং ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ বাস্তবায়ন করা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার সময় নিহত হয়েছে ২,৫১৩ শিশু (৩১.৫৫ শতাংশ) এবং বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলার সময় নিহত হয়েছে ৯৬২ শিশু (১২.০৮ শতাংশ)।

শিশুরা গ্রামীণ সড়কে বেশি হতাহত হচ্ছে। কারণ গ্রামীণ সড়কগুলো বসতবাড়ি ঘেঁষা এবং এই সড়কের যানবাহনসমূহ কোনো প্রকার নিয়ম-নীতি মেনে চলে না। সড়ক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও থাকে না। আবার শিশুরাও সড়ক ব্যবহারের কোনো নিয়ম-নীতি জানে না।

আরও পড়ুন: প্রটোকল ভেঙে জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে যেমন কোনো উদ্বেগ নেই, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও কোনো প্রকার সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অথচ এই অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে নীরবে আমাদের শিশুরা নিহত হচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে। এটা জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। প্রতিটি শিশুই অমিত সম্ভাবনাময় এবং আজকের শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চকরিয়া স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজের দাবি ২০ লাখ মানুষের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৯ পি.এম


চকরিয়া স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজের দাবি ২০ লাখ মানুষের

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথের চকরিয়া স্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকার কারণে চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরীসহ আশপাশের প্রায় ২০ লাখ মানুষের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢাকা যাওয়ার জন্য তাঁদের কক্সবাজার রেলস্টেশনে পৌঁছাতে প্রায় ৬০ কিলোমিটার ঘুরতে হয়। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে, যা তাঁদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাতে চকরিয়া স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু করা হয়।

বর্তমানে চকরিয়া স্টেশনে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি রয়েছে, তবে ঢাকা–কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস থামে না। মাতামুহুরী, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী এবং লামা–আলীকদম পার্বত্য এলাকার মানুষ চিকিৎসা, শিক্ষা ও জরুরি প্রয়োজনে এই স্টেশন ব্যবহার করেন। স্থানীয়দের দাবি, ঢাকাগামী ট্রেনের স্টপেজ চালু হলে বৃহত্তর এলাকার মানুষের যাতায়াতে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে।

চকরিয়ার গণমাধ্যমকর্মী মো. সাঈদী আকবর ফয়সাল জানিয়েছেন, তিনি জনস্বার্থে ২০২৫ সালে রেলপথ উপদেষ্টা বরাবর আবেদন করেছিলেন। এরপর রেলপথ অধিদপ্তর বিষয়টি নিয়ে মতামত যাচাইয়ের জন্য একটি পরিপত্র প্রকাশ করে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে পুনরায় রেলপথমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছেন তিনি।

চকরিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক ইবনে আমিন মন্তব্য করেন, যাত্রাবিরতি চালু হলে বৃহত্তর এলাকার যাত্রীরা উপকৃত হবেন। কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর পিপি অ্যাডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন টিটুও চকরিয়া স্টেশনে পর্যটক এক্সপ্রেস ও মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি দাবি করেছেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) মোহাম্মদ সুবক্তগীন জানিয়েছেন, চকরিয়া স্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই। মহানগর এক্সপ্রেসের স্টপেজের বিষয়ে যাত্রী চাহিদা, স্টেশনের গুরুত্ব ও পরিচালনাগত বিষয় বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনসিপি ও জামায়াত অপরাধীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র : রাশেদ খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৯ পি.এম


এনসিপি ও জামায়াত অপরাধীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র : রাশেদ খান

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, বর্তমানে এনসিপি একটি ল্যাপটপ চোর, ছাগল চোর এবং নারি কেলেঙ্কারির দলের রূপ ধারণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই দলটি ৫ আগস্ট বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে বিপ্লবী সেজে বসে আছে। অন্যদিকে, জামায়াত আওয়ামী লীগের অপরাধীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয়েছে। জামায়াতের মোনাফেকি আচরণ ইতিমধ্যেই দেশের জনগণের সামনে উন্মোচিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে ঝিনাইদহ সার্কিট হাউজে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

রাশেদ খান অভিযোগ করেন, জামায়াতের আমির দেশে বসে যে ভাষায় কথা বলছেন, হাসিনাও দিল্লিতে বসে একই ভাষায় কথা বলছেন। তিনি বলেন, "পার্থক্য নাই তো।" এটি বোঝার জন্য গোয়েন্দা তথ্যের প্রয়োজন নেই, রাজনৈতিক সেন্স থাকলেই যথেষ্ট যে, জামায়াতের বক্তব্য ও হাসিনার ভাষার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করার পায়তারা করছে এবং জামায়াত সেই ষড়যন্ত্রের সুযোগ সৃষ্টি করছে। অর্থাৎ, জামায়াত ষড়যন্ত্রের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং আওয়ামী লীগ দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে এনসিপি ও বিরোধীদের নানা বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন অনন্য যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। তিনি বলেন, "বিরোধী দলের ৯০ জন সংসদ সদস্য মিলেও তার মেধা ও যোগ্যতার ধারেকাছে যেতে পারবেন না।" রাজনৈতিক ও সাংবিধানিকভাবে তাকে মোকাবিলা করতে না পেরে বিরোধীরা বিদ্যুৎ সংকট বা আন্তর্জাতিক কারণে সৃষ্ট লোডশেডিংয়ের মতো প্রতিটি ইস্যুতেই অন্যায়ভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে টেনে আনছেন। জামাতের এই মোনাফেকি আচরণ তাদেরকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করবে।

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলের কথা উল্লেখ করে রাশেদ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগের আমলে নিজে গুমের শিকার হয়েছিলেন এবং তৎকালীন সরকারের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাহসের সাথে সোচ্চার ছিলেন। তিনি বলেন, "জামাতের কোনো নেতাকে সেই স্বৈরাচারী জামানায় এভাবে রাজপথে বা বক্তব্যে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়নি।"

এনসিপি নেতাদের তীব্র সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ছাত্রজীবনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ চুরি এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ছাগল চুরির ঘটনায় যুক্ত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, এনসিপির বহু নেতা নারী কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত, ডিসি নিয়োগে তদবির, থানায় চাঁদাবাজি ছাড়ানো এবং সাবেক এমপির বাসায় সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির মতো অপরাধে জড়িত।

এনসিপি ইতিমধ্যে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দলটির নীতি ও আচরণ এখন জামায়াতের পকেটে চলে গেছে। তিনি মন্তব্য করেন, আগামীতে এনসিপির অস্তিত্ব জামায়াতে বিলীন হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ব্যর্থ করতে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের মতো ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের যারা 'রাজাকারের বাচ্চা' বলে গালি দিয়েছিল, তারা এখন জামায়াতের সাথে হাত মিলিয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত এখন 'ক্ষমা প্রার্থনার' অজুহাতে আওয়ামী লীগের সাবেক অপরাধী ও সুযোগ সন্ধানীদের আশ্রয় দিচ্ছে এবং একটি পুনর্বাসন সেন্টারে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট বিপ্লব সফল হওয়ার পর একমাত্র জামাতের পক্ষ থেকেই আওয়ামী লীগকে ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছিল। তাদের কারণেই আওয়ামী লীগের বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি ঝিনাইদহের উন্নয়নের ব্যাপারে সজাগ ও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে বলেন, ইতিমধ্যে ঝিনাইদহ পৌরসভাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট, স্কুল ও কলেজের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে ডিও লেটার জমা দিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে উদ্বোধনকৃত প্রতিষ্ঠানগুলো চালুর ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে জানান।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহে অন্তত ৭টি সরকারী প্রতিষ্ঠান যেগুলো প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উদ্বোধন করেছিলেন, সেগুলো অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।

ঝিনাইদহ সার্কিট হাউসে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলায় কর্মরত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১০ পি.এম


রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি শুরু

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট, নিরাপত্তাহীনতা এবং বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে বুধবার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। এই আকস্মিক কর্মবিরতির কারণে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী ও তাঁদের স্বজনরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

মঙ্গলবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির পক্ষ থেকে এই কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল।

আন্দোলনকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালের ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া, ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনদের অবাধ প্রবেশ এবং দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে চিকিৎসকদের প্রতিনিয়ত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি একাধিকবার সংঘবদ্ধ হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁদের।

এছাড়া, হাসপাতালের অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালিটি বিভাগ চালু না থাকায় মূল ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সীমিত জনবল ও অপ্রতুল চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে রোগীদের মানসম্মত সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, এসব দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বারবার সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটায় বাধ্য হয়েই তাঁরা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি ডা. এস এম তপু জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানাতে বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৩ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১১ পি.এম


১৩ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫

দেশে গত ১৩ বছরে ৭২ হাজার ৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনার ফলে অন্তত ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে অন্তত ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন আহত হয়েছেন।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বুধবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ করেছে, বিগত সরকারের ভুলনীতির কারণে সড়কে বেপরোয়া কাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের যাতায়াত সড়কে কেন্দ্রীভূত হয়েছে, যা দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, "স্বাধীনতার পূর্বে এ দেশের প্রধান যাতায়াত মাধ্যম ছিল নৌপথ, দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল রেলপথ। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী এই দুই পথে ৮০ শতাংশ মানুষের যাতায়াত হতো। সড়কে মাত্র ২০ শতাংশ মানুষের যাতায়াত ছিল। তখন সড়ক দুর্ঘটনাও ২০ শতাংশে সীমিত ছিল।"

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাধীনতার পর বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ঋণের জালে আবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার বেহিসাবি লুটপাট, পরিবহনে বেপরোয়া চাঁদাবাজি এবং বহুমাত্রিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ার পরিবর্তে নতুন নতুন সড়ক নির্মাণের ফলে ৮০ শতাংশ মানুষের যাতায়াত সড়কে নিয়ে আসা হয়েছে। সরকারের দুর্নীতি ও ভুলনীতির কারণে সড়ক দুর্ঘটনাও ৮০ শতাংশ বেড়েছে। অতএব, সড়কে এই গণহত্যার দায় অতীতের সব সরকারকেই নিতে হবে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সড়ক সেক্টরে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও কিছু দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তার চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যের কারণে সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন অবাধে চলাচল করছে, লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকরা রাস্তায় আছেন। ২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ৭২,৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১,২৫,৪০৫ জন নিহত এবং ১,৭৬,২৪৯ জন আহত হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এই তথ্য গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পেলেও, দেশের হাসপাতালগুলোর চিত্র হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে জানাচ্ছে। একই সময়ে ইউক্রেন-রাশিয়া, ইসরায়েল-ফিলিস্তিনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যার চেয়ে কম।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির অভিযোগ, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে উন্নতি করলেও পরিবহন সেক্টরে দীর্ঘদিন ধরে দূরদর্শী নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। নিরাপদ নৌপথ ও রেলপথের ব্যবহার বাড়ানোর পরিবর্তে সড়ক সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ফলে সড়কের ওপর চাপ বেড়েছে। সড়কে ম্যাস ট্রানজিট বাড়েনি; ডেডিকেটেড বাস নেটওয়ার্কও গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। উন্নত গণপরিবহনের অভাবে মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের ভোগান্তি বাড়ছে। এই সংকটকে পুঁজি করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রাইডশেয়ারিং মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং নসিমন-করিমন ব্যবহার বাড়ানোর ফলে সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা বেড়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনার পর্যবেক্ষণে উল্লেখযোগ্য কারণসমূহ:

১. দেশে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া বৃদ্ধি ও অবাধ চলাচল।

২. সড়কে মিডিয়ান বা রোড ডিভাইডার না থাকা এবং সড়কের গাছপালায় অন্ধবাঁকের সৃষ্টি।

৩. মহাসড়কের নির্মাণত্রুটি, যানবাহনের ত্রুটি ও ট্রাফিক আইন অমান্য করা।

৪. উল্টোপথে যানবাহন চালানো, সড়কে চাঁদাবাজি ও পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন।

৫. অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন।

৬. বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং বিরামহীন ও বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতির সুপারিশসমূহ:

১. সড়কে হাজারো মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএ আমলাদের পরিবর্তে দেশি-বিদেশি পরিবহন বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করা জরুরি।

২. সারা দেশে উন্নত বিশ্বের আদলে প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।

৩. প্রযুক্তিভিত্তিক সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

৪. চালকদের উন্নত প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে লাইসেন্স প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

৫. গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে ফুটপাতসহ সার্ভিস লেনের ব্যবস্থা করা।

৬. কাঠামোগত সংস্কার করে সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা।

৭. মহাসড়কে ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা রাখা এবং রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন করা।

৮. মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত সুনিশ্চিত করা এবং নিয়মিত রোড সেফটি অডিট করা।

৯. ফিটনেস প্রদান পদ্ধতি আধুনিকায়ন করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন স্ক্র্যাপ করা।

১০. নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর সক্ষমতা বাড়ানো এবং ট্রাফিক ট্রেনিং একাডেমি গড়ে তোলা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%