শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:০৬ এম
আজ মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন চলছে। কেপটাউন টেস্টের খেলা অব্যাহত রয়েছে।
ক্রিকেট
মিরপুর টেস্ট: ৩য় দিন
বাংলাদেশ–ওয়েস্ট ইন্ডিজ
সকাল ৯–৩০ মি., টি স্পোর্টস
হংকং সিক্সেস
বাংলাদেশ–স্কটল্যান্ড
সকাল ৭–৪০ মি., সনি স্পোর্টস ২
বাংলাদেশ–শ্রীলঙ্কা
বেলা ১১–২০ মি., সনি স্পোর্টস ২
৪র্থ টি–টোয়েন্টি
নিউজিল্যান্ড–ভারত
বেলা ১টা, সনি স্পোর্টস ১
কেপটাউন টেস্ট: ৪র্থ দিন
দক্ষিণ আফ্রিকা–অস্ট্রেলিয়া
বেলা ২–৩০ মি., ট্যাপম্যাড
হকি
এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি
বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া
বেলা ৩টা, স্টার স্পোর্টস ২
দক্ষিণ কোরিয়া–চীন
বিকেল ৫–১৫ মি., স্টার স্পোর্টস ২
ভারত–জাপান
সন্ধ্যা ৭–৩০ মি., স্টার স্পোর্টস ২
ফুটবল
ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ান
লে আভর–পিএসজি
রাত ১২টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২
লা লিগা
ভিয়ারিয়াল–এসপানিওল
রাত ২টা, টি স্পোর্টস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুর কারণে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ মৃত্যু ও সংক্রমণ দেখা গেছে দেশে। এডিস মশাবাহিত এই রোগে চলতি মাসে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি, যা চলতি বছরের মোট মৃত্যু ও সংক্রমণের প্রায় অর্ধেক। বিশেষজ্ঞরা নভেম্বরেও পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না। তারা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও হটস্পট ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন।
ডেঙ্গু জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি মৌসুমের ১০ মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসেবে গত দুই যুগের মধ্যে ২০২৬ সাল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। তিন বছর আগে ডেঙ্গুর কারণে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল।
অক্টোবরের প্রথম দিকে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। সেই প্রবণতা মাসের শেষ ভাগ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। এক দিনে সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৯ দিনে মোট ৪১৫ জন মারা গেছেন। আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। চলতি মৌসুমে মোট মৃত্যু ও সংক্রমণের প্রায় অর্ধেকই অক্টোবরে হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।
কীটতত্ত্ববিদদের আশঙ্কা, নভেম্বরেও পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দেশে এডিস মশার ঘনত্বের ইনডেক্স ২০-এর বেশি, যা ডেঙ্গু বিস্তারের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, হটস্পট ব্যবস্থাপনা এবং এসব কার্যক্রমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা গেলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার মন্তব্য করেন, নভেম্বরেও ডেঙ্গুর পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যেসব এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর হটস্পট বা ক্লাস্টার রয়েছে, সেগুলোকে কেন্দ্র করে সমন্বিত ভেক্টর ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হয়ে উঠার কারণ জানতে চাইলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, পূর্বাভাস অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আগের তুলনায় ডেঙ্গুর চিকিৎসাসেবার উন্নতি হয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশার লার্ভা ধ্বংসের কাজ চলছে। এ কার্যক্রমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি, ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য দুই মাস আগে বিস্তারিত পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের দুই হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর ফলে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় আগের তুলনায় আরও ভালোভাবে ডেঙ্গুর চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। এ ছাড়া মশা নিধনে নতুন কিছু প্রযুক্তি এসেছে। জাপানের একটি প্রতিষ্ঠান এ নিয়ে কাজ করছে। দেশীয় কয়েকজন প্রযুক্তিবিদও তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এসব প্রযুক্তি কাজে লাগানো গেলে মশার সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি মাসের প্রথম ২৮ দিনে দেশে এসেছে ২৬৫ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এই হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ৯ কোটি ৪৮ ডলার রেমিট্যান্স।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২৮ দিনে দেশে এসেছে ২৬৫ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে যা এসেছিল ২৩৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমান ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ১২৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা এসেছিল ৯৯২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। বছরে যা বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছে ২৭৬ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া, গত আগস্ট ও জুলাই মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৯৬ কোটি ৭৫ লাখ ৩০ হাজার ও ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় এক নারীর প্রতি কুপ্রস্তাব, জোরপূর্বক শারীরিক হেনস্তা এবং ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পুটিজানা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত আলী মন্ডলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী জাহানারা খাতুন (৪৫) ফুলবাড়ীয়া থানায় অভিযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের বৈলাজান গ্রামের কর্মকার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। জাহানারা খাতুনের স্বামী দুলাল মিয়া বিদেশি মুদ্রা লেনদেনের একটি মামলায় কারাগারে ছিলেন। তিনি প্রায় দেড় মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান। অভিযোগ অনুযায়ী, দুলাল মিয়াকে দ্রুত জামিনে মুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে জাহানারা খাতুনের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন হযরত আলী মন্ডল।
জাহানারা খাতুন অভিযোগ করেছেন যে, তিনি শারীরিকভাবে হেনস্তার চেষ্টা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শের শিকার হন। এ সময় তিনি বাধা দেন এবং নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই নেতা তাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করে আসছেন। উল্লেখ্য, তিনি অতীতে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
ভুক্তভোগীর পুত্রবধূ বলেন, যুবদল নেতা হযরত আলী তার শাশুড়ির সঙ্গে অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করেছেন। মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। গত দুই দিন ধরে তার শাশুড়ি বাড়িতে নেই এবং তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর বিচার দাবি করেন তিনি।
জাহানারা খাতুনের মা খাদিজা বলেন, তার মেয়ের সঙ্গে হযরত আলী জোরপূর্বক অনৈতিক কাজের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।
এদিকে পুটিজানা ইউনিয়নের শিবগঞ্জ এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা হযরত আলীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, একজন নারী ভালো বা মন্দ, সেটি আলাদা বিষয়। তার কাছে গিয়ে কেন জোরপূর্বক এমন আচরণের চেষ্টা করা হবে? তারা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে দেখার এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, হযরত আলীর কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই নানা আলোচনা রয়েছে।
হযরত আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরুজ্জামান মীর আজাদ বলেন, এ বিষয়ে জেলা নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামীকাল তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি রাশিদুল হাসান বলেন, রাতে থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) অভিযানের সময় ১৮ বছর বয়সী তরুণ মারুফ ওরফে দুখু মিয়ার গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নিহতের পরিবারের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।
এইচআরএসএস বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করে। সংগঠনটির দাবি, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং তাদের নিজস্ব অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে গুরুতর অসংগতি পাওয়া গেছে। একদিকে অভিযানের সময় আত্মরক্ষার্থে ফাঁকা গুলি ছোড়ার দাবি করা হয়েছে, অন্যদিকে এসআরবির একটি ক্যাম্প থেকে ওই এলাকায় কোনো দল পাঠানোর কথা অস্বীকার করা হয়েছে। এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও মারুফ কার গুলিতে নিহত হয়েছেন, তা নিশ্চিত করতে পারেননি।
এইচআরএসএসের অনুসন্ধানে জানা যায়, নিহতের স্বজনদের দাবি, হট্টগোলের শব্দ শুনে মারুফ পাশের রাস্তায় গেলে কিছুক্ষণ পর তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, নিজেদের র্যাব/এসআরবি সদস্য পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি তিনজনকে হাতকড়া পরানোর সময় ইটের টুকরা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুজন সদস্য গুলি চালান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
সংগঠনটি বলছে, স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যের মধ্যে থাকা এসব অসংগতি নিরসন এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন এর আগের দিন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) সরকার অনুমতি দিলে ‘ক্রসফায়ার’ করার প্রস্তুতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এইচআরএসএসের মতে, র্যাবের নাম পরিবর্তন করে এসআরবি করা হলেও বাহিনীর কার্যকর কাঠামোগত সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। মানবাধিকার সংগঠনটি মনে করিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির (আইসিসিপিআর) ৬ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক মানুষের জীবনের অধিকার সুরক্ষিত করা হয়েছে। জাতিসংঘের নীতিমালা অনুযায়ী, আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার অবশ্যই কঠোরভাবে প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হতে হবে।
এইচআরএসএস বলছে, আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর অভিযানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে কার্যকর, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
এইচআরএসএসের সাত দফা দাবি
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সাত দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। দাবিগুলো হলো—
১. সংশ্লিষ্ট বাহিনীর বাইরে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
২. ব্যালিস্টিক পরীক্ষার ফল, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড এবং অভিযানসংক্রান্ত সব নথি সংরক্ষণ করে তদন্তে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
৩. তদন্তের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করতে হবে।
৪. নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং নিহতের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও কার্যকর প্রতিকার দিতে হবে।
৬. বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিতবাহী বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে অভিযান পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পরিচয় প্রদর্শন এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
৭. এসআরবির কাঠামোগত সংস্কার, স্বাধীন তদারকি এবং কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে এইচআরএসএস আরও বলেছে, জীবনের অধিকার রক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা ছাড়া এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব নয়। তাই মারুফের মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংস্কারেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ