০৪:২১ এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের ক্যা.এবি তাজুল ইসলাম কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বছরে কলেজটির ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত থাকার পরও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন পাস করেছে। এর ফলে কলেজটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ২০ শতাংশ। আগের বছরের ফলাফলের চিত্রও প্রায় একই রকম ছিল।
এমন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলাফল প্রকাশের পর এলাকার বাসিন্দা ও প্রশাসনের নজরে আসে এই বিষয়টি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর কলেজটির ফলাফলের তথ্য জানা যায়। ২০১৬ সালে সাবেক এমপি ক্যা. এবি তাজুল ইসলাম কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে কলেজটিতে ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছর কলেজটি থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। গত বছর ২৭ জন পরীক্ষার্থী মধ্যে ৪ জন পাস করেছিল।
আরও পড়ুন: দাউদকান্দিতে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক
স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজটিতে পড়াশোনার পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবর্তে অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টিকটক ব্যবহারে বেশি সময় ব্যয় করছে। ফলে শিক্ষার পরিবেশ এবং ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইসমাইল জামাল বলেন, "এ বছর আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে মাত্র একজন পাস করেছে। তার নাম জান্নাতুল মীম, সে জিপিএ ৩ পেয়েছে। আগামী বছর ২০ জন পরীক্ষা দেবে।" তিনি আরও বলেন, "ভর্তি হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থী বিদেশ চলে যায়। আর যারা থাকে, তাদের অনেকেই নিয়মিত ক্লাসে আসত না।"
তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, "আমার কলেজটি রীতিমতো আই সি ইউ তে আছে। পাঠদানের অনুমতিপত্র (EIIN NO139351) বাঁচাতে ও এমপিওভুক্তির আশায় শিক্ষার্থী অনুরোধ করে এনে পরীক্ষা দেওয়ানো হচ্ছে। কাগজে কলমে ১৪ জন শিক্ষক থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তা নেই। বলতে গেলে আমি একা যুদ্ধ করছি কলেজটিকে বাঁচিয়ে রাখতে।" সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনার প্রতিমন্ত্রী বরাবর ‘কলেজ বাঁচানোর আবেদন’-এর একটি দরখাস্ত তিনি প্রতিবেদককে দেখান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য ভিপি নাজমুল হুদা বলেন, "কলেজের বেহাল দশা পরিকল্পনা মন্ত্রী জোনায়েদ সাকিকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি, সমাধান আসবে। ভবিষ্যতে রেজাল্ট ভালো হবে।"
আরও পড়ুন: ভৈরবে ডাকাতের হামলায় স্কুল শিক্ষকসহ ৩ জন আহত, মোবাইল ও টাকা লুট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন