ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

পোশাকশ্রমিকদের দাবির প্রতি সরকারের সহানুভূতি: ডা. জাহেদ


পোশাকশ্রমিকদের দাবির প্রতি সরকারের সহানুভূতি: ডা. জাহেদ

বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে পোশাকশ্রমিকদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে। এ কারণে পোশাকশ্রমিকদের দাবির প্রতি সরকার সহানুভূতিশীল হয়ে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে, এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি উল্লেখ করেন, এর ফলে সমস্যার সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চলমান আন্দোলনে কিছু ব্যক্তির মধ্যে যে ধরনের সহিংস আচরণ দেখা গেছে, সেটি পোশাকশ্রমিকদের আচরণ হিসেবে গণ্য করা যায় না।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ কিছু করতে পারবে বলে মনে হয় না। তবে তাদের কাছে প্রচুর লুটের টাকা রয়েছে, যা কোথাও কোথাও নাশকতার জন্য ব্যবহার হতে পারে। ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরার পথ তৈরি হবে, এমনটি মনে হয় না।

তিনি যোগ করেন, ডিসেম্বরের পরেও কোনো না কোনো সময় অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে। ১৯৯১ সালে হেরে যাওয়ার পর শেখ হাসিনা বলেছিলেন, সরকারকে একদিনও শান্তিতে থাকতে দেবেন না। এখনও তিনি শান্তিতে থাকতে না দেওয়ার চেষ্টা করবেন। যতদিন তিনি বেঁচে থাকবেন, ততদিন এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং সেটাকে প্রতিহত করা হবে।

স্বৈরাচারী সরকার ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, যেকোনো আন্দোলনে বিরোধীপক্ষকে দায়ী করার যে প্রবণতা, তা বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সরকার যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ নিয়ে বিরোধীপক্ষকে দায়ী করছে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে আন্দোলন মোকাবেলা করতো, তার তুলনায় বর্তমানে অনেক ভালোভাবে মোকাবেলা করা হচ্ছে। তবে কিছু স্থানে ভুলভ্রান্তি হতে পারে। কোথায় গুলি করলে সবচেয়ে কম ক্যাজুয়ালটিতে নিবৃত্ত করা যাবে, সে বিষয়গুলো সরকারের অধীনে পুলিশ করবে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর বাগেরহাট সফরে উন্নয়নের প্রত্যাশা, আশাবাদী স্থানীয়রা

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আইনে উল্লেখ আছে, পুলিশ কোন পরিস্থিতিতে হত্যার জন্য গুলি করতে পারবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পুলিশ লিথ্যাল উইপন ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু সেটি আইনি প্রক্রিয়ায়, আইনি নিয়মে অবধারিত ছিল কিনা, সে প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিয়াকৈরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ: ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির দাবিতে জীবন্ত নরকযন্ত্রণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


কালিয়াকৈরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ: ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির দাবিতে জীবন্ত নরকযন্ত্রণা

একদিকে পেটের ভেতর বুভুক্ষু জঠরানল, অন্যদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের তপ্ত পিচে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁজোয়া যান ও উদ্যত বন্দুকের নল। মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন সেই মানুষগুলো, যাদের মাথার ঘামে তৈরি পোশাকে সমৃদ্ধ হয় দেশের অর্থনীতির ঝুলি, আর দিনশেষে যাদের নিজেদের হাঁড়িতে জোটে না একবেলা ভাত।

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ একগুচ্ছ ন্যায্য দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভ ও কর্মবিরতিকে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে প্রশাসনিক কড়া নজরদারি ও বিজিবি-ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা বাড়ানোর খবর সংবাদপত্রের পাতায় শিরোনাম হলেও, ঢাকা পড়ে যাচ্ছে হাজার হাজার শ্রমিকের প্রাত্যহিক জীবনের করুণ ও হৃদয়বিদারক বাস্তবতা।

মৌচাক এলাকার চার বাই চার ফুটের এক স্যাঁতসেঁতে ঘরে থাকেন সালমা বেগম (৩২)। পাশে শুয়ে আছে তাঁর চার বছরের তীব্র পুষ্টিহীনতায় ভোগা সন্তান। সালমা ক্ষোভ ও চোখে জল নিয়ে বলেন, "সকাল থ্যাইকা রাত পর্যন্ত কাম করি। যে ট্যাহা পাই, তা দিয়া মাসের ১৫ তারিখের পর আর চলা যায় না। বাড়িওয়ালা ভাড়ার জন্য গেটে তালা দেয়, দোকান দার আর বাকিতে চাল-ডাল দেয় না। বাচ্চাদের দুধ কিনে দেওয়া তো দূরের কথা, দু'বেলা ডাল-ভাত খাওয়ানো টাই এখন স্বপ্ন। আমরা তো কোনো রাজপ্রাসাদ চাই নাই, আমরা চাই একটু খাইয়া-পইড়া বাঁচনের অধিকার। সেই কথা বলতে গেলেই আমাদের মাথায় জোটে লাঠি আর গ্যাস।"

সবজি বাজার থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম, বাড়িভাড়া এবং চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে শ্রমিক পরিবারগুলো দেনার দায়ে জর্জরিত। অনেক পরিবারে এখন দিনে একবেলা রান্না হয়। পুষ্টিকর খাবারের অভাব, নোংরা পরিবেশ এবং অপুষ্টিতে ভুগছে অসংখ্য নিষ্পাপ শিশু। শ্রমিকের দাবি, বর্তমান বাজারে যে বেতন পাওয়া যায় তা দিয়ে মাসের অর্ধেক দিনও চলা অসম্ভব। বাঁচতে চাওয়ার আকুতি নিয়েই বাধ্য হয়ে তারা রাজপথে নামেন। রাজ পথে শ্রমিকদের কান্না আর ক্ষোভের বিপরীতে প্রশাসন গড়ে তুলেছে এক অভেদ্য নিরাপত্তা প্রাচীর। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর, মৌচাক, সাইনবোর্ড ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অবস্থান নেন।

গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) আরিফ হোসাঈন জানান, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে জেলায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। আগে জেলায় ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন ছিল, নতুন করে আরও এক প্লাটুন যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে মোট ১১ প্লাটুন বিজিবি মাঠে রয়েছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা ২১ জন থেকে বাড়িয়ে ২৫ জন করা হয়েছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় কিছু শ্রমিক মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে যৌথ বাহিনী ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় তাদের দ্রুত সরিয়ে দেওয়া হয়। আন্দোলনের আড়ালে যাতে কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি বা কোনো ধরনের নাশকতার সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও মোড়ে মোড়ে সশস্ত্র প্রহরীরা অবস্থান করছে।

একদিকে মহাসড়কে যৌথ বাহিনীর কঠোর অবস্থান ও নাশকতার আশঙ্কা, অন্যদিকে কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে চাকরি হারানোর ভয়—এই দুইয়ের চাপে পড়ে সকালে অনেক শ্রমিককে দলবদ্ধ হয়ে কারখানায় ঢুকতে দেখা যায়। চোখে মুখে স্পষ্ট ছিল আতঙ্ক আর অনিচ্ছার ছাপ।

কাজে যোগ দিতে যাওয়া এক প্রবীণ শ্রমিক ক্ষোভের সাথে বলেন, "আমরাও শান্তি চাই, ভাঙচুর বা নাশকতা আমরা করি না। বাইরের কিছু লোক সুযোগ নেয়, আর দোষ হয় আমাদের। কারখানা বন্ধ হলে আমরাই না খাইয়া মরমু। কিন্তু কারখানা চালু রেখে মালিকরা যদি আমাদের পেটের খিদের কথা না বোঝেন, তাইলে এই ব্লেজার আর কড়া পুলিশ পাহারা দিয়া আমাদের কতদিন দাবায়ে রাখা যাবে?"

শিল্পাঞ্চলের মোড়ে মোড়ে টহল দিচ্ছে বিজিবির গাড়ি। সাজোয়া যানবাহনের গর্জন আর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিতিতে মহাসড়কে সাময়িক শান্ত পরিবেশ বজায় থাকলেও শ্রমিক বস্তিগুলোতে জমে উঠেছে অসন্তোষের বারুদ। জীবনের নূন্যতম চাহিদা না মিটলে এই নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে কতদিন শিল্পাঞ্চলের ক্ষোভ চেপে রাখা সম্ভব, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বড়াইগ্রামে কলেজ শিক্ষকের আত্মহত্যা, দুই যুগেও এমপিও মেলেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


বড়াইগ্রামে কলেজ শিক্ষকের আত্মহত্যা, দুই যুগেও এমপিও মেলেনি

নাটোরের বড়াইগ্রামে শিক্ষকতা করে দুই যুগ পার করেও এমপিওভুক্ত না হওয়া এবং ঋণের চাপের কারণে আত্মহত্যা করেছেন কলেজ শিক্ষক শ্রী শৈলেন্দ্র কুমার চৌধুরী মানিক (৫৬)। সোমবার রাতে তিনি ইঁদুর মারার বিষাক্ত ট্যাবলেট গ্রহণ করে আত্মহত্যা করেন। নিহত মানিক কালিকাপুর-বনপাড়া কৃষি ও কারিগরি কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌরসভার দিয়ারপাড়া মহল্লার মৃত শ্যামা প্রসাদ চৌধুরীর পুত্র।

সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালের ২৩ মার্চ তিনি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের সাধারণ শাখায় পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক পদে যোগদান করেন এবং সেই থেকে বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছিলেন। কলেজের কারিগরি শাখা এমপিওভুক্ত হলেও সাধারণ শাখা দীর্ঘ সময় ধরে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তিনি সরকারি আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। সংসার চালানো এবং দৈনন্দিন জীবিকার খরচ মেটাতে গিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ঋণের বোঝা মেটাতে তিনি বাড়ি-ভিটা বিক্রি করে স্ত্রী ও একমাত্র ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে উপার্জনহীন থাকার কারণে এবং দেনাদারদের চাপের ফলে তিনি চরম মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন।

সোমবার সন্ধ্যায় ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও সন্তানের অনুপস্থিতির সুযোগে তিনি ইঁদুর মারার বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন করেন। পরে প্রতিবেশীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁকে দ্রুত নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি মারা যান।

এ ঘটনার পর নিহতের সহকর্মী (নন-এমপিও) প্রভাষক সোহেল রানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তিনি হয়তো মরে গিয়ে রক্ষা পেলেন, আমরা তো সেটাও পারছি না। দুই দশক ধরে বিনা বেতনে সেবা দেওয়ার পরও রাষ্ট্র একজন শিক্ষকের ন্যূনতম জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে পারেনি, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দাউদকান্দিতে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ পি.এম


দাউদকান্দিতে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মডেল থানা পুলিশ প্রায় ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির মেঘনা গোমতী সেতুর টোলপ্লাজার পশ্চিম পাশে তাকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তির নাম মো. পারভেজ (২৬), তিনি কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি থানার সূর্যনগর গ্রামের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাদল মিয়ার ছেলে।

মডেল থানা পুলিশের সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোলপ্লাজার কাছে একটি লোকাল মিনিবাসে পুলিশ টহল দিচ্ছিল। এ সময় এক যাত্রীর বাজারের ব্যাগে কালো পলিথিনে মোড়ানো কিছু প্যাকেট দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ বাজারের ব্যাগটি পরীক্ষা করে কালো পলিথিনে মোড়ানো চারটি প্যাকেটে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এরপর পুলিশ পারভেজকে থানায় নিয়ে যায়।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘লোকাল মিনিবাসে করে মাদক ব্যবসায়ী পারভেজ বাজারের সদাইয়ের ব্যাগে করে ২০ হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে যাচ্ছিল, সে সময় তাকে আটক করা হয়। এ ইয়াবার বাজার মূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা। এ বিষয়ে মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘সাংবাদিকরা এখানে কেন’, দীপের রিমান্ড শুনানির আগে বিচারকের প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ পি.এম


‘সাংবাদিকরা এখানে কেন’, দীপের রিমান্ড শুনানির আগে বিচারকের প্রশ্ন

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে আদালত ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রিমান্ড শুনানির সময় বিচারক প্রশ্ন তোলেন, ‘সাংবাদিকরা এখানে কেন’। এরপর তিনি সাংবাদিকদের বের হয়ে যেতে বলেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে এই ঘটনা ঘটে।

শুনানির শুরুতে এজলাসে সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে বিচারক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সংবাদ সংগ্রহের জন্য উপস্থিত জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আদালতের মধ্যে সাংবাদিকরা কেন? আপনারা কি ভেতরে ঢুকতে পারেন? শুনানির পর পিপি-এপিপিরা আপনাদের বিস্তারিত জানাবে। আপনারা বেরিয়ে যান। আপনারা থাকতে পারবেন না।’

বিচারক পুলিশকে নির্দেশ দেন, ‘সব ক্লিয়ার করেন, কেউ থাকবে না ভেতরে।’ পরে সাংবাদিকরা এজলাসের পেছনে একপাশে গিয়ে দাঁড়ান এবং শুনানি শুরু হয়।

বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব ও সাবেক জেলা জজ শাহজাহান সাজু এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এটা যেহেতু ক্যামেরা ট্রায়াল নয়, ওপেন ট্রায়াল। তাই শুধু সাংবাদিকরা নয়, পাবলিকও থাকতে পারবে। সাংবাদিকরা জাতির দর্পণ এবং ন্যায়বিচারে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেন। ওপেন ট্রায়ালে তাদের উপস্থিতি জাতিকে জানাতে সহায়তা করবে। সুতরাং সাংবাদিকদের এজলাস থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া ঠিক হয়নি।

এ দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন দীপকে দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম দফার রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আসামি অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির। তাই তিনি জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে যান এবং নীরবতা পালন করেন। নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আবার রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে আদালতকে জানান, মামলার সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে আসামিকে ফের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আসামির সঙ্গে মামলার ভুক্তভোগীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। আসামি সুকৌশলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এড়িয়ে যাচ্ছেন। সিসিটিভি ফুটেজ এবং কথোপকথন বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এছাড়া, এই মামলার সঙ্গে অন্য কোনো রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত কি না, তা জানার জন্য তাকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এ দিন আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। উল্লেখ্য, এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত শনিবার দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক তরুণী বর্তমানে চার দিনের রিমান্ডে আছেন। গত রবিবার তার রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%