০৬:০৪ পি.এম
দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রীর বাগেরহাট সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন স্থানে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন উন্নয়নের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী এই সফর করবেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গন, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে মোংলা বন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম, হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত এবং কাটাখালী মোড়ে পথসভা নিয়ে মানুষের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
বাগেরহাট শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে সাজসজ্জা চলছে। দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে বরণ করে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সফরের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতির বিষয়ে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জামিরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।"
আরও পড়ুন: তাহসিফ হত্যা মামলায় বন্ধু দীপের ৩ দিনের রিমান্ড
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকালে হেলিকপ্টারযোগে মোংলা বন্দরে পৌঁছাবেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সেখানে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন। এছাড়া মংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পরে তিনি হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে খুলনায় যাওয়ার পথে ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত পথসভায় যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। এই পথসভার আয়োজন করা হয়েছে বাগেরহাট জেলা বিএনপির উদ্যোগে।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এটিএম আকরাম হোসেন তালিম জানান, "দীর্ঘদিন পর আমাদের দলীয় প্রধান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাট সফরে আসছেন। এ কারণে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাঁকে স্বাগত জানাতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে।"
এদিকে, স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীর সফরকে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রত্যাশা পূরণের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের আশা, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের কৃষি খাতের বিদ্যমান সমস্যা সমাধান, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, গ্রামীণ সড়ক ও মহাসড়কের উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেললাইন নির্মাণ ও সম্প্রসারণের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, বাগেরহাট একটি কৃষিনির্ভর জেলা। এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়নে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা, কৃষিপণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ এবং রেল যোগাযোগের অভাব স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। বিশেষ করে মংলা বন্দরকে ঘিরে শিল্প-বাণিজ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা ও সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন সময়ের দাবি।
আরও পড়ুন: ৪ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার পদায়ন, দুজন বদলি
তাঁদের প্রত্যাশা, মোংলা বন্দরের উন্নয়নের পাশাপাশি বাগেরহাটের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অনেক। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে বন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি আশপাশের জেলা ও উপজেলাগুলোর সড়ক-রেল ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে বাগেরহাটবাসীর প্রত্যাশা তাই শুধু তাঁকে স্বাগত জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধান এবং কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি। স্থানীয়দের আশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
এমএইচ
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় শতাধিক কারখানা বন্ধ রয়েছে: এসপি মোমিনুল ইসলাম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন