ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

উদয়ন স্কুলে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষার্থীদের দিনব্যাপী বিক্ষোভ


উদয়ন স্কুলে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষার্থীদের দিনব্যাপী বিক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির কিছু ছাত্রীর ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিকৃত করার, অশ্লীল বার্তা পাঠানোর এবং ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। আন্দোলনকারীরা জানান, এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় ১০ শিক্ষার্থীকে ক্লাস ও পরীক্ষা থেকে বিরত রাখা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে।

অভিযোগ রয়েছে যে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাসনিম মুনিম, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের ছেলে, বিদ্যালয় প্রশাসন তার প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানাতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। বরং প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের আটকে রেখে লিখিত বক্তব্য নেওয়া, ক্লাস ও পরীক্ষা থেকে বিরত রাখা, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন যে ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যদেরও চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: মাদক নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে: জিল্লুর রহমান

মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জমায়েতের চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীরা, কিন্তু আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন যে তাদের বিক্ষোভ ঠেকাতে শ্রেণিকক্ষে আটকে রেখে দরজায় তালা দেওয়া হয়। পরে তালা ভেঙে বেরিয়ে এসে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় ‘হয়রানিমুক্ত স্কুল চাই’, ‘মেয়েদের নিরাপত্তা চাই’ এবং ‘ওর বাবা ডিন হলে আমাদের কি বাবা রিকশাওয়ালা?’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাসনিম মুনিমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী ও প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও হুমকি বন্ধ করা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে পুনর্বহাল করা এবং ডিনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা।

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী ছাত্রীরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে তাদের সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ আচরণ করে আসছেন। সম্প্রতি কয়েকজন ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং ধর্ষণের হুমকি দেওয়ায় তারা আতঙ্কিত। তারা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন যে এর আগে দুই দফায় অভিযোগ জমা দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বলেন, ‘আমাকে চার বছর ধরে মুনিম বিরক্ত করছে। একাধিকবার ব্যাড টাচ করেছে। বন্ধুদের কাছে আমার সংবেদনশীল অঙ্গ নিয়ে মন্তব্য করেছে। বহুবার শিক্ষকদের বলতে চেয়েছি, কিন্তু সাহস বা আশা পাইনি। আপত্তিকর ছবি তৈরি করে বাইরের স্কুলগুলোতেও শেয়ার করেছে। এ বিষয়ে আমাকে মেসেজ দিয়ে প্রতিদিন অনেকে বিব্রত করছে।’

আরও পড়ুন: রাবির ৬ শিক্ষক ও ৬৮ শিক্ষার্থী পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড

আরেক ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, ‘মুনিম আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নিয়ে কথা বলে, অশালীন মেসেজ দিয়ে বিব্রত করে। আমাদের অনেক বন্ধুকে ধর্ষণের হুমকিও দিয়েছে। পরপর এ ধরনের ঘটনা অনেকবার ঘটেছে। এগুলো চাইলেও স্যারদের বলা যায় না। আগেও স্যারদের এ ধরনের বিষয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মো. জামিল হোসেন বলেন, অক্টোবরের প্রথম দিকে একদিন ক্লাস শেষে ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তার মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিকৃত ছবি এবং সংশ্লিষ্ট বার্তা মুছে ফেলতে বলা হয়। তাকে সতর্ক করতে থাপ্পড়ও দেওয়া হয়।

জামিলের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন সহকারী প্রক্টর বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পরদিন ৮ অক্টোবর পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষকেরা ১০ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করে লাঞ্চরুমে আটকে রাখেন। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা-৩টা পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়। এ সময় ভুক্তভোগী ছাত্রীরা অভিযোগ জমা দিতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। বরং তাঁদের অভিভাবকদের ডেকে মানসিক চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আন্দোলনকারীরা জানান, ঘটনার পর প্রথমে ওই ১০ শিক্ষার্থীকে ক্লাস ও পরীক্ষা থেকে বিরত রাখা হয়। পরে অভিভাবকদের প্রতিবাদের মুখে তাঁদের আলাদা কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হলেও শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পূজার ছুটিসহ মোট ২৫ দিন তাঁরা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত ছিলেন। আন্দোলন অব্যাহত রাখলে তাঁদের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: এই সপ্তাহে টানা ৩ দিনের ছুটি পাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

এদিকে অভিযোগের পক্ষে ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষিত একটি মুঠোফোন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেড়ে নিয়েছে বলেও দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ, তদন্তের নামে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে অপহরণ ও গুরুতর মারধরের অভিযোগসংবলিত একটি কাগজে জোর করে তাঁদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এতে আপত্তি জানালে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া এক ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের বাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ভয়ভীতি দেখিয়েছেন এবং অন্য ভুক্তভোগীদের পরিবারকেও চাপ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

এ ঘটনায় বিদ্যালয় প্রশাসন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহকারী প্রক্টর ড. এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী ও ড. এনামুল হক সজীবকে নিয়ে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, কমিটির দুই সদস্যই বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে কাজ করেন এবং একজন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই ভবনে বসবাস করেন। ফলে এ কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে তাঁদের সংশয় রয়েছে। এ কারণে ডিনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, তদন্তের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের বাইরে রাখা হয়েছে। তাদের কোনো শিখন ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করে দেওয়া হবে।

তদন্ত কমিটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অনাস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি নিয়ে ওদের অনাস্থার বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। আমি আজকেই ভিসি স্যারের কাছে যাব। এ বিষয়ে পুনরায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’

আরও পড়ুন: জাবিতে পরিচালক নিয়োগে উত্তেজনা, ছাত্রদল উপাচার্যকে মুক্ত করল

তদন্ত কমিটি পরিবর্তনের বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, ‘তদন্ত রিপোর্ট আসার পর কোনো আপত্তি থাকলে শিক্ষার্থীরা জানাতে পারবে। কোনো ধরনের অবিচার হতে দেব না। এখানে কারও হস্তক্ষেপেরও সুযোগ নেই।’

ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তাদের পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। কোনো কোনো পরিবারকে এ রকম চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হবে। আশ্বস্ত করছি, কোনো হয়রানি করা হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু, ৩৬ অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৫ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু, ৩৬ অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা) প্রথম ভোটকেন্দ্র খুলেছে ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যে। নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া, কানেকটিকাট, ইন্ডিয়ানা, মেইন, নিউইয়র্ক ও কেন্টাকিতে সকাল ৬টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা) ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ৪৩৫টি আসনের মধ্যে ৩৫টি এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনে যদি ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়, তাহলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অপরদিকে, কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন সংখ্যা ৫৩টি। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট এবং তাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ স্বতন্ত্র সিনেটরদের আসন সংখ্যা ৪৭টি। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য ডেমোক্র্যাটদের আরও চারটি আসন বাড়াতে হবে।

এবারের নির্বাচনে প্রায় ২১ কোটি নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ ভোটার আগাম ভোট প্রদান করেছেন। তারা সরাসরি আগাম ভোট এবং ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ১০টা) বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হতে শুরু করবে। এরপর প্রথম ফলাফল আসার আশা করা হচ্ছে। তবে সব আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডি-৮ বাণিজ্যের বাধা কাটাতে এফটিএ-পিটিএ বাস্তবায়নের তাগিদ বাংলাদেশ সরকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৬ পি.এম


ডি-৮ বাণিজ্যের বাধা কাটাতে এফটিএ-পিটিএ বাস্তবায়নের তাগিদ বাংলাদেশ সরকারের

ঢাকা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির (পিটিএ) রূপরেখা দ্রুত চূড়ান্ত ও বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে, যা ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে রূপ দিতে সহায়ক হবে।

ঢাকা একই সঙ্গে পারস্পরিক শুল্ক সুবিধা সম্প্রসারণ, বাণিজ্য বাধা দূর করা এবং জোটের কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুনর্গঠন ও ফলাফলভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

২ নভেম্বর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে কমসেকের ৪২তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের সাইডলাইনে ডি-৮ মহাসচিব সোহাইল মাহমুদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই অবস্থান তুলে ধরেন।

বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিদ্যমান বাধা দূর করা এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। শুল্ক সুবিধা বাড়ানো এবং বাণিজ্য সহজ করার বিষয়েও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা দেশগুলোর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সহায়ক হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মন্তব্য করেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, "এ লক্ষ্যে এফটিএ ও পিটিএর রূপরেখা দ্রুত চূড়ান্ত এবং বাস্তবায়নে ডি-৮ সচিবালয়কে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।" সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারেরও অনুরোধ জানান তিনি।

চুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ডি-৮কে আরো অর্থবহ করে তুলতে এর পুনর্গঠন এবং ফলাফলভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

ডি-৮ মহাসচিব সোহাইল মাহমুদ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রস্তাব ও আগ্রহকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন, যা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আন্তঃবাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের এবং ডি-৮ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী তুরস্ক সফর করছেন কমসেকের ৪২তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিতে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে তিন তেলবাহী ট্যাংকার বিধ্বস্ত: আইআরজিসির দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৬ পি.এম


হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে তিন তেলবাহী ট্যাংকার বিধ্বস্ত: আইআরজিসির দাবি

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের অনুমতি ছাড়া চলাচলের সময় নৌমাইনের আঘাতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটেছে।

আইআরজিসির মতে, ট্যাংকারগুলো ইরানের অনুমতি ছাড়াই প্রণালিটি অতিক্রম করছিল। এ সময়, জাহাজগুলোর অবস্থান শনাক্ত করার প্রযুক্তি বা জিওলোকেশন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছিল। এক পর্যায়ে, যখন সেগুলো নৌমাইনের সংস্পর্শে আসে, তখন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

হরমুজ প্রণালি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ, এবং ইরান বারবার সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে যে, এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য তাদের অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। বিশেষ করে, অনুমোদন ছাড়া এই জলপথ ব্যবহার না করার বিষয়ে তেহরান বিভিন্ন সময়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এই জলপথ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ফলে, সেখানে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে যেকোনো নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে, আইআরজিসি তিনটি ট্যাংকারের নাম, কোন দেশের মালিকানাধীন এবং বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি।

সূত্র: আল জাজিরা

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অনুরাগ কাশ্যপের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায় নিয়ে মন্তব্যের জন্য জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৩ পি.এম


অনুরাগ কাশ্যপের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায় নিয়ে মন্তব্যের জন্য জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি

ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার কারণে আইনি জটিলতায় পড়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনন্ত মহাদেবনের সিনেমা ‘ফুলের সেন্সর ছাড়পত্র নিয়ে বিতর্কের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তিনি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে অশালীন মন্তব্য করেন। এই ঘটনায় পরিচালকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। তবে আদালতের একাধিক সমন পাওয়ার পরও হাজির না হওয়ায় ভারতের সুরাট আদালত এবার তার বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করেছে।

‘ফুলে’ সিনেমার ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। ট্রেলারে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে খাটো করে দেখানোর অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানায় ব্রাহ্মণ সমাজ। এর ফলে সিনেমাটির কিছু দৃশ্যে সেন্সর বোর্ডের আপত্তি ও কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত আসে। অনন্ত মহাদেবনের চলচ্চিত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হন অনুরাগ।

এক নেটিজেনের পাল্টা আক্রমণের জবাবে তিনি লেখেন, "ব্রাহ্মণদের উপরে আমি মূত্রত্যাগ করি… সমস্যা আছে?" পরিচালকের এই মন্তব্য ঘিরে মুহূর্তেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয় এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

অনুরাগের মন্তব্যের পর বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা কমলেশ রাভাল তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন। সুরাটের আদালতে ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ১৯৬ ধারা (বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ছড়ানো), ৩৫২ ধারা (শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান) এবং ৩৫৩(২) ধারায় (মিথ্যা তথ্য প্রচার) মামলা দায়ের করা হয়।

অভিযোগকারীর দাবি, একজন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতার এমন মন্তব্য বিভিন্ন সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণা ছড়িয়ে দিতে পারে, যা সুস্থ সমাজের জন্য ক্ষতিকর। মামলার পর আদালতে হাজিরার জন্য অনুরাগকে একাধিকবার সমন পাঠানো হয়। এমনকি সংবাদপত্রেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এরপরও আদালতে হাজির হননি পরিচালক।

এই পরিস্থিতিতে সুরাটের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জে ভি চৌহান অনুরাগ কাশ্যপের বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ২৪ ডিসেম্বর ধার্য করা হয়েছে।

এটি উল্লেখ্য যে, বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে এর আগে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়েছিলেন অনুরাগ কাশ্যপ। তবে সেই ক্ষমা প্রার্থনার পরও তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%