০৩:১৩ এম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে একত্রিত করে পুলিশের উপস্থিতিতে ১২টি দোকান ও গোডাউন ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে উঠেছে।
এই ঘটনায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ভুক্তভোগীদের বাড়িঘর অবরুদ্ধ করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সোমবার বিকাল ৪টায় উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের হাটখোলাপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সোনা মহলদার মরিচা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
আরও পড়ুন: ৬৭ পুলিশ পরিদর্শক এসএসপি পদে পদোন্নতি পেলেন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাটখোলাপাড়া এলাকার মৃত খলিল দফাদারের ৬ ছেলে দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসী ছিলেন। সম্প্রতি তাদের মধ্যে সুনারুল দফাদার ও শওকত দফাদার দেশে ফিরে আসেন। এরপর স্থানীয় সোনা মহলদার, সিদ্দিক মহলদার ও নুরু মহলদারসহ কয়েকজন ব্যক্তি হাটখোলাপাড়া কবরস্থানের সভাপতি লিটন মালিথাকে সঙ্গে নিয়ে তাদের পৈতৃক সম্পত্তিতে নির্মিত দোকানঘর ও গোডাউন মার্কেটের জমি কবরস্থানের বলে দাবি করেন। এ নিয়ে জমি ও মার্কেট দখলের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় ৫০-৬০ বছর আগে তাদের দাদা হাটখোলাপাড়া কবরস্থানের জন্য ১৯৬২ সালের এসএ রেকর্ডভুক্ত জমি বিক্রি করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৪ সালে আরএস রেকর্ড হওয়ার সময় মূল দাগটি তিনটি দাগে বিভক্ত হয়। তবে কবরস্থানের জমি এবং তাদের মার্কেটের জমির দাগ সম্পূর্ণ আলাদা। কবরস্থানের জমির সঙ্গে মার্কেটের কোনো সম্পর্ক নেই। রাস্তাসংলগ্ন ও মূল্যবান হওয়ায় তাদের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিরোধ সৃষ্টি হলেও প্রতিপক্ষ জমির কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমবার বিকালে হাটখোলা জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কবরস্থানের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনকে একত্র করা হয়। পরে তাদের দোকান ও গোডাউন ভাঙচুর করা হয় এবং মালামাল লুট করা হয়।
ভুক্তভোগী সুনারুল দফাদার বলেন, "আমাদের দাদা কবরস্থানের জন্য জমি বিক্রি করেছিলেন; কিন্তু বর্তমানে যে জমিতে মার্কেট ও দোকানপাট রয়েছে, তার সঙ্গে কবরস্থানের জমির কোনো সম্পর্ক নেই।"
আরও পড়ুন: বিশ্বজয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে দক্ষ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোনা মহলদার বলেন, "ওই সম্পত্তি কবরস্থানের। তারা দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।"
দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, "ভাঙচুরের বিষয়টিও জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকায় তাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: মাদক নিয়ন্ত্রণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন