০১:৫৪ এম
ফখর জামানের অসাধারণ সেঞ্চুরি এবং সাদ বেগ ও আরাফাত মিনহাসের অর্ধশতকের সুবাদে পাকিস্তান ঘরের মাঠে একটি দারুণ জয় অর্জন করেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে পরাজিত করে শিরোপা জিতে নেয় পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার দেয়া ৩২৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৯ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে। ইনিংসের প্রথম দুই ওভারে পরপর মাআজ সাদাকাত (৫) ও বাবর আজমকে (০) ফিরিয়ে দেন দিলশান মাদুশঙ্কা। মাত্র ১৪ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান চাপে পড়ে যায়।
তবে শুরুতে ধাক্কা সামলে দলকে লড়াইয়ে ফেরান ফখর জামান এবং তরুণ উইকেটকিপার ব্যাটার সাদ বেগ। তৃতীয় উইকেটে ১৪৯ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ার পথে এই দুই বাঁহাতি তুলে নেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক।
আরও পড়ুন: জমে উঠল ফাইনালের লড়াই, বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়
২৭তম ওভারে মাহিশ থিকশানা সাদ বেগকে আউট করে এই জুটি ভাঙেন। ৭৫ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ৭৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন ১৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৬৩।
এরপর চতুর্থ উইকেটে সালমান আলী আগার সঙ্গে ৫৭ রানের জুটি গড়েন ফখর। এই জুটিতেই নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাঁহাতি এই ওপেনার।
৩৪তম ওভারে মাদুশঙ্কার বলে বোল্ড হয়ে থামে ফখরের দুর্দান্ত ইনিংস। মাত্র ৯৯ বলে ১১টি চার ও ৬টি ছক্কায় ১২৭ রান করেন তিনি। পাকিস্তানের জয়ের পথে এটিই ছিল সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।
ফখরের বিদায়ের দুই ওভার পর সাজঘরে ফেরেন সালমান আলী আগাও। ২৫ বলে ১৭ রান করে আউট হন তিনি।
আরও পড়ুন: সন্দ্বীপের মাইটভাঙ্গায় যুব বিভাগের আন্তঃহাউস ফুটবল টুর্নামেন্ট ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত
৩৬.৫ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২৩০। এরপর দলের হাল ধরেন তরুণ ব্যাটার হাসান নওয়াজ ও আরাফাত মিনহাস। ষষ্ঠ উইকেটে ৯৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পাকিস্তানকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেন তারা।
এই জুটিতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন মিনহাস। মাত্র ৩১ বলে চারটি ছক্কা ও তিনটি চারের সাহায্যে ৬১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। ৪৮তম ওভারে আসিথা ফার্নান্দোর বলে আউট হন মিনহাস।
একই ওভারে নতুন ব্যাটার ফাহিম আশরাফকেও গোল্ডেন ডাকে ফিরিয়ে দেন ফার্নান্দো। ফলে ৪৭.৫ ওভারে ৩২৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে পাকিস্তান।
তবে শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি দারুণভাবে ম্যাচ শেষ করেন। ইনিংসের ৪৯তম ওভারের তৃতীয় বলে মাদুশঙ্কাকে স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
আরও পড়ুন: বার্সেলোনার কোচ হিসেবে শততম জয় পেলেন হ্যান্সি ফ্লিক
শ্রীলঙ্কার হয়ে দিলশান মাদুশঙ্কা ৯.৩ ওভারে ৬৩ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। আসিথা ফার্নান্দো দুটি এবং দুনিথ ওয়েলালাগে ও মাহিশ থিকশানা একটি করে উইকেট শিকার করেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩২৫ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে শ্রীলঙ্কা। শুরু থেকেই ভালো ব্যাটিং করে সফরকারীরা।
ওপেনার আভিষ্কা ফার্নান্দো ও কামিন্দু মেন্ডিস প্রথম উইকেটে ৮৭ রানের জুটি গড়েন। ৪৯ বলে ৩৮ রান করা আভিষ্কাকে এলবিডব্লিউ করে এই জুটি ভাঙেন সালমান আলী আগা।
এরপর অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস ক্রিজে এসে কামিন্দুর সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। তবে ১২ বলে ৮ রান করে সালমানের বলে আউট ফেরেন তিনি। তখন শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ২১.৩ ওভারে ২ উইকেটে ১০৯।
আরও পড়ুন: এল ক্লাসিকো চলাকালে মিলিতাওয়ের বাসায় ৫ কোটি টাকার চুরি
কুশলের বিদায়ের পর পাভান রথনায়েকে সঙ্গে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন কামিন্দু মেন্ডিস। দুজনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার স্কোর দ্রুত ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এই জুটিতেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন কামিন্দু।
তৃতীয় উইকেটে ১৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ার পর অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন কামিন্দু। ১২৮ বলে ১২টি চার ও দুটি ছক্কায় ১৩১ রান করেন তিনি।
এরপর দ্রুত রান তুলতে থাকেন পাভান রথনায়েকে ও দাসুন শানাকা। তবে ৯ বলে ১৭ রান করা শানাকাকে ফিরিয়ে দেন শাহিন। এরপর হারিস রউফের শিকার হন পাভান রথনায়েকে। ৬৫ বলে আটটি চারে ৭৭ রান করেন তিনি।
শেষ দিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলঙ্কা। নাসিম শাহ ফেরান জনিথ লিয়ানাগেকে (৯ বলে ৬)। অন্যদিকে হারিস রউফের বলে দুনিথ ওয়েলালাগে মাত্র ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
আরও পড়ুন: মিলানে অশ্রুসিক্ত কিংবদন্তি কাকা পেলেন বিরল সম্মাননা
এরপর নাসিম শাহর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন সাহান আরাচ্চিগে। ১২ বলে ১৫ রান করেন তিনি।
তবে শেষ দুই ওভারে আসিথা ফার্নান্দো ও মাহিশ থিকশানা গুরুত্বপূর্ণ কিছু রান যোগ করেন। ফার্নান্দো ৬ এবং থিকশানা ৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ফলে ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেটে ৩২৫ রানের লড়াকু পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা।
পাকিস্তানের হয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ, সালমান আলী আগা ও হারিস রউফ দুটি করে উইকেট নেন।
আরও পড়ুন: বার্সেলোনার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, আলাভেসকে ৬-১ গোলে পরাজিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন