আব্দুল আউয়াল মিছবাহ সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
০২:০৭ পি.এম
সুনামগঞ্জ - ৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুলের বিরুদ্ধে করা কথিত মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদে আগামীকাল শনিবার দুপুর ১১ টায় বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছেন সুনামগঞ্জ সদর ও পৌর বিএনপি।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা বি এন পির আহবায়ক
মো: ফারুক আহমেদ লিলু, পৌর বি এন পির আহবায়ক
সাইফুল্লাহ হাসান জুনেদ
ও জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু বলেন
আওয়ামী লীগপন্থী ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম তার লুটপাটের অপকর্ম ঢাকতেই মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন । তারা বলেন,মিথ্যা অভিযোগ করে এডভোকেট নূরুল ইসলাম নুরুলের ব্যাপক জনপ্রিয়তা নষ্ট করা যাবে না। তারা বলেন রাজনৈতিকভাবে হয়রানি, ও এমপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এসব মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ আগামীকাল শনিবার দুপুর ১১ ঘটিকার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সকল নেতা কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিত তাকার জন্য আহবান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দুই দশক পার করে ২১ বছরে প্রবেশ করেছে। এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র একবার।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে ১১ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী বেরিয়ে গেছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৩৯৯ জন সমাবর্তন পেয়েছেন, কিন্তু প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী এখনও সমাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই শিক্ষার্থীদের অনেকেই বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, গণমাধ্যম, শিক্ষা, গবেষণা, ব্যবসা ও দেশের বাইরে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত রয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাবেক শিক্ষার্থীদের ছাত্রজীবনের সোনালি স্মৃতিকে ফিরে দেখার জন্য কোনো আবেগঘন মুহূর্তের আয়োজন করতে পারেনি। ফলে হাজারো শিক্ষার্থী এখনও তাদের কাঙ্ক্ষিত সমাবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছেন।
প্রথম সমাবর্তন ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত পাঁচটি ব্যাচের ১ হাজার ৩৯৯ জন গ্র্যাজুয়েট অংশগ্রহণ করেন। সেই সময় ২৯ জন শিক্ষার্থীকে মোট ৩২টি স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।
২০১৭ সালের সমাবর্তন ছিল নজরুল চেতনায় উদ্ভাসিত এক গৌরবময় অনুষ্ঠান। কিন্তু এরপর নতুন কোনো সমাবর্তন না হওয়ায়, একের পর এক অ্যাকাডেমিক ব্যাচ পাস করলেও শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এই দীর্ঘ বিরতিতে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, ডিগ্রির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না পাওয়ার কারণে কর্মক্ষেত্রে এক ধরনের অসম্পূর্ণতা রয়ে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এইচ. আই. হাবিব বলেন, "সমাবর্তন হয়েছে মাত্র পাঁচটি ব্যাচ নিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এখন ২০তম ব্যাচ চলে এসেছে। সমাবর্তন না হওয়ার কারণে একটি প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে উঠতে যা প্রয়োজন, সেসবের কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না। বরং সাবেক শিক্ষার্থীরা আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, কোনো অ্যালামনাই গঠন করা পর্যন্ত সম্ভব হচ্ছে না এই বিচ্ছিন্নতার কারণে। সমাবর্তনের মাধ্যমে চূড়ান্ত সনদ প্রদান করা হয়, কিন্তু সমাবর্তন না হওয়ায় শিক্ষাজীবনের সেরা অর্জন সেই সনদও পেতে পারছি না আমরা।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাজমুল হাসান বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ ব্যাচের একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু শিক্ষাজীবনের স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত থাকায় এই প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি ও সুনামের সঙ্গে আমার আবেগ ও দায়িত্ববোধ গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, সমাবর্তন উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন, যা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। দুঃখজনক হলেও সত্য এই যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে; ফলে অনেক সাবেক শিক্ষার্থী এখনো তাদের কাঙ্ক্ষিত সমাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাই সমাবর্তন আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করে সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে পারে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নিহার সরকার অংকুর বলেন, "একটি সমাবর্তন করতে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে সরকারের সঙ্গে এক ধরনের যোগাযোগ থাকতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। যদিও-বা এটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না, কিন্তু স্বাভাবিক একটা যোগাযোগ থাকতে হয় যে একটা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তনটা করবে, নিয়মিতভাবে করবে, একটা চাহিদা থাকতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের। আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যদি মিশন-ভিশন ঠিক না থাকে, তাহলে এগুলো তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে না; যে কারণে তারা সমাবর্তনগুলো করার ক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে তারা এতটা মনোনিবেশ রাখে না। তারা ব্যস্ত থাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়ে, শিক্ষক-কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকে ডেভেলপমেন্ট কাজ নিয়ে, তারা ব্যস্ত থাকে ইভিনিং কোর্স নিয়ে, তারা ব্যস্ত থাকে কীভাবে আরএফকিউ (RFQ) করবে। সুতরাং শিক্ষার্থীদের এই সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতার তাদের কাছে কোনো গুরুত্ব নেই, যে কারণে তারা এতে মনোনিবেশ করে না।"
সমাবর্তন নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ২০ বছরের পথচলায় এখন পর্যন্ত মাত্র একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় সমাবর্তনের জন্য আমাদের হাজারো শিক্ষার্থী অপেক্ষা করছে। আসলে একটি সমাবর্তন আয়োজন ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ এবং এতে অনেকের অংশগ্রহণ প্রয়োজন হয়। বস্তুতপক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একটি দিকই আমরা এখনও পরিপূর্ণভাবে গড়ে তুলতে পারিনি। আমাদের যেমন লোকবলের অভাব রয়েছে, তেমনি রয়েছে অর্থসংকট। তারপরও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কাছে সমাবর্তন একটি আবেগের জায়গা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে চায়, বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুনভাবে দেখতে চায়। আমরাও তাদের এই চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে একমত। আমরা আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা চেষ্টা করব, দ্বিতীয় সমাবর্তনটি যেন খুব ধুমধাম ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপন করতে পারি। আমরা ধীরে ধীরে সমাবর্তন খাতে অর্থ জমা করার চেষ্টা করছি। উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অতি দ্রুতই দ্বিতীয় সমাবর্তনের আয়োজন করতে পারব।"
উল্লেখ্য, সমাবর্তন হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান, যেখানে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়। সাধারণত নির্দিষ্ট সময় পরপর এই আয়োজন করা হয় এবং এতে উপাচার্য, চ্যান্সেলরসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকেন। শিক্ষার্থীরা অ্যাকাডেমিক পোশাক (গাউন ও ক্যাপ) পরে অংশগ্রহণ করে এবং তাদের শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ কারাবন্দী ৯ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
আজ রোববার (০১ নভেম্বর) সকালে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের শুনানির জন্য নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে তাঁদের আদালতে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, নিরাপত্তাজনিত কারণে মামলার অন্যতম আসামি সাবেক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান কাসিমপুর কারাগার থেকে অনলাইনে ভার্চুয়ালি এই শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এদিন রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা অন্য ৮ আসামি হলেন—জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, পুলিশের সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রূপা। তবে গুরুতর অসুস্থতার কারণে সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হককে এদিন আদালতে হাজির করা হয়নি।
আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর এ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু আসামিপক্ষের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল শুনানি পিছিয়ে ১ নভেম্বর পুনর্নির্ধারণ করেন। এর আগে, গত ৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ পলাতক শেখ হাসিনাসহ ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন। নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ না করায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল তাঁদের পলাতক ঘোষণা করেন এবং তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স কাউন্সিল) নিয়োগের নির্দেশ দেন।
মামলায় পলাতক অন্যান্য হাইপ্রোফাইল আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুবউল আলম হানিফ, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সহ তৎকালীন একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা।
প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে অভিযানে ৩২ জনকে হত্যার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি, পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ডের দায়ের ওপর ভিত্তি করে ৪১ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রস্তুত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে দাখিলকৃত এই অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল আমলে নেন এবং কারাবন্দীদের আদালতে হাজিরার পাশাপাশি পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন-পুনঃখননের উদ্যোগের ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ১০১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বগুড়ায় করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নদীতীর প্রতিরক্ষা ও পুনঃখনন কাজের জন্য এসপি ঘাট পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানালেন, বগুড়ার করতোয়া, গজারিয়া ও ইছামতী নদী পুনঃখননের জন্য ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে। চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার আশা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৯৪ কিলোমিটার নদী এবং ৬ কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীগুলোর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ও নান্দনিকতা ফিরে আসবে। এতে বগুড়া শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি মানুষের জীবন-জীবিকা, বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। নদীর দুই পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে বগুড়ার মানুষ নতুন এক শহর দেখতে পাবে।
নদী থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের কোন নদী থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে আর কোনটি থেকে যাবে, তা নির্ধারণে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাদের তৈরি তালিকা জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, যেসব নদী থেকে বালু উত্তোলন করলে নদীভাঙন কিংবা সরকারি অবকাঠামোর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, সেসব নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে উদ্যোগ নেয়া হবে। অন্যদিকে ক্ষতির আশঙ্কা না থাকলে নিয়ম মেনে বালু উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মঞ্চে গাইছেন, নাচছেন, হাজারো ভক্তকে মাতিয়ে রাখছেন। হঠাৎ ঘটে গেল একটি বিপত্তি। পারফরম্যান্সের মাঝপথে প্যান্ট ছিঁড়ে গেল! এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএসের সদস্য জাংকুক অবশ্য বিচলিত হননি। বরং তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে বিষয়টি ভাগ করে নিয়ে হাসি-ঠাট্টায় মেতে উঠলেন। ব্রাজিলের সাও পাওলোতে বিটিএসের সাম্প্রতিক কনসার্টে এই ঘটনা ঘটেছে। সেই মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে হাস্যরসাত্মক আলোচনা।
কনসার্টে লাইভ পারফরম্যান্সের সময় জাংকুকের চামড়ার প্যান্ট মাঝখান থেকে ছিঁড়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে তার প্রতিক্রিয়া ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্যান্টের বিপত্তি টের পেয়ে মোটেও ঘাবড়ে যাননি এই গায়ক। বরং পাশে থাকা ব্যান্ডের নেতা আরএম ও সদস্য কিম তেহ্যুংয়ের (ভি) দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি দেখান। জাংকুকের এমন পরিস্থিতি দেখে অন্য সদস্যরাও হেসে ওঠেন।
তবে পোশাকের এই বিপত্তি তার পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলেনি। তিনি স্বাভাবিকভাবেই গান ও নাচ চালিয়ে যান। মঞ্চে নিজের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে ভক্তদের মাতিয়ে রাখেন পুরো সময়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিটিএসের ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিম ও হাস্যরসাত্মক মন্তব্যে ভরে উঠেছে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম। কেউ জাংকুকের নাচের শক্তি নিয়ে মজা করছেন, আবার কেউ তার এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক থাকার প্রশংসা করছেন। তবে কিছু ভক্ত তার পুরনো পিঠ ও পায়ের সমস্যার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, প্যান্ট ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনায় তার কি শারীরিক অস্বস্তি হয়েছে।
অবশ্য জাংকুকের জন্য মঞ্চে পোশাক বিভ্রাটের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০১৯ সালের অক্টোবরে সিউলে আয়োজিত ‘লাভ ইয়োরসেলফ : স্পিক ইয়োরসেলফ–দ্য ফাইনাল’ কনসার্টেও তিনি একই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন। ‘মাইক ড্রপ’ গানে পারফর্ম করার সময় ছিঁড়ে গিয়েছিল তার প্যান্ট। পরে ব্যাকস্টেজে অপেক্ষা করার সময় ঠান্ডা বাতাস অনুভব করে বিষয়টি বুঝতে পারেন। ঘটনাটি নিয়ে পরে ভক্তদের সামনে বেশ রসিকতা করেছিলেন এই গায়ক।
এর আগে পোশাক নিয়ে বিপত্তিতে পড়েছেন জাংকুক। ২০১৮ সালে বিটিএসের জনপ্রিয় গান ‘ফেক লাভ’-এর একটি পরিবেশনায় কোরিওগ্রাফির অংশ হিসেবে আরএম অসাবধানতাবশত জাংকুকের শার্টের বোতাম খুলে ফেলেন। গান চলতে থাকায় শার্ট ঠিক করার সুযোগ পাননি তিনি। ফলে সেভাবেই পুরো পরিবেশনা শেষ করতে হয় তাকে। পরে এক সরাসরি সম্প্রচারেও বিষয়টি নিয়ে জাংকুককে মজা করে খেপিয়েছিলেন ব্যান্ডের অন্য সদস্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ