বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:২৪ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এক শিশু শিক্ষার্থী (১১) মারধরের অভিযোগে পুলিশ মাদরাসাশিক্ষককে হেফাজতে নিয়েছে। এলাকাবাসী শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখলে পুলিশ গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে।
আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার কৃষ্ণনগর আশরাফুল উলুম ইসলামিয়া মাদরাসায় এই ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মাওলানা মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব। তবে আহত শিক্ষার্থীর পরিবার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তারা থানায় অভিযোগও করেনি বলে জানা গেছে।
দুপুর ২টার দিকে নবীনগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রাজীব নাথ কালের কণ্ঠকে জানান, এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখলে পুলিশ খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তিনি বলেন, ‘পরিবারের কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই শিশু চারদিন ধরে মাদরাসায় অনুপস্থিত ছিল। আজ সকালে শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব তাকে বাড়ি থেকে মাদরাসায় নিয়ে আসেন।
পরে তাকে মাদরাসায় না আসার জন্য মারধর করা হয়। বিষয়টি জানার পর স্থানীয়রা শিশুটিকে উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করে এবং ওই শিক্ষককে মাদরাসায় অবরুদ্ধ করে রাখে। দুপুরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে শিক্ষক ইব্রাহিম বিন মুজিবকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহিম বিন মুজিব। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসলেই ছাত্রের ওপর মাইরটা মারাত্মক বেশি হয়ে গেছে।
মারার সময় আমার রাগটা ধইরা রাখতে পারিনি। এজন্য আমি অনুতপ্ত, ক্ষমাপ্রার্থী।’
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক এবং মারধরের শিকার শিক্ষার্থী আত্মীয়। এ কারণে ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না। একই সঙ্গে তারা বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করছেন।
মাদরাসার অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন আশরাফী মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক। এমন ঘটনা এর আগে কখনো এই মাদরাসায় ঘটেনি। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন নওগাঁর সাপাহার থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদের দায়িত্ব হস্তান্তরের দীর্ঘসূত্রতার কারণে। নতুন ওসি থানায় উপস্থিত থাকলেও বিদায়ী ওসি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ার ফলে থানার প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রম সাময়িকভাবে থমকে গেছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ের এক আদেশে সাপাহার থানার ওসি মিজানুর রহমানকে জনস্বার্থে জয়পুরহাট জেলায় বদলি করা হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নতুন ওসি শাহীন রেজা সাপাহার থানায় যোগদান করেন। তবে নতুন ওসি থানায় উপস্থিত থাকলেও বিদায়ী ওসি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ার কারণে থানায় প্রশাসনিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
এ পরিস্থিতির কারণে সাধারণ ডায়েরি (জিডি), দাপ্তরিক কাজ এবং বিভিন্ন আইনি সেবা নিতে আসা সেবাপ্রার্থীরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা নিতে পারেননি। সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে গেলেও সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার গাঞ্জাকুড়ি গ্রামের ষাটোর্ধ্ব মোকসেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি সকাল ৯টায় থানায় গিয়ে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও ওসির অনুপস্থিতির কারণে কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। পুরাতন মুহুরি পট্টি এলাকার শিক্ষার্থী জারিফ জানান, একটি জিডি করার জন্য সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত থানায় বসে থাকতে হয়েছে। দুই ওসির দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ার কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদায়ী ওসি মিজানুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরবর্তীতে থানায় গিয়ে দেখা যায়, তিনি নিজ কক্ষে ব্যস্ত রয়েছেন জানিয়ে ডিউটিরত পুলিশ সদস্যরা কাউকে ভেতরে যেতে দেননি। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিদায়ী ওসি মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই গাড়িতে উঠে থানা ত্যাগ করেন।
নতুন ওসি শাহীন রেজা জানিয়েছেন, তিনি আগের দিন থেকেই থানায় অবস্থান করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ বুঝে পাননি। বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জরুরি নাগরিক সেবা নিরবচ্ছিন্ন করার স্বার্থে স্থানীয়রা এই প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত নিরসনের দাবি করেছেন। সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার দক্ষিণ যোগীপাড়া (সরকারপাড়া) গ্রামে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী 'হাঁস খেলা' অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশীয় লোকজ সংস্কৃতি ও প্রাচীন ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
গ্রামের একটি জলাশয়ে আয়োজিত এই খেলায় এলাকার একঝাঁক প্রাণবন্ত তরুণ ও যুবক অংশ নেন। পানির ছপছপ শব্দ আর প্রতিযোগীদের হাঁস ধরার তুমুল লড়াই উপভোগ করতে পুকুরপাড়ে ভিড় জমান শিশু, নারী ও প্রবীণসহ সর্বস্তরের উৎসুক জনতা। করতালিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী মোঃ আকাশ ও মোঃ শাকিলের হাতে পুরস্কারের হাঁস তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথি ও স্থানীয় মুরুব্বি মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, মোঃ নুরুল ইসলাম, মোঃ মজনু, মোঃ শাওন ইসলাম এবং মোঃ কবির হোসেন।
অনুষ্ঠানে ৩ নং সাঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, "গ্রাম বাংলার এসব প্রাচীন খেলাধুলা আমাদের নিজস্ব বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। যুবসমাজকে সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে ও দেশীয় ঐতিহ্যকে ধারণ করতে নিয়মিত এমন আয়োজনের কোনো বিকল্প নেই।"
আয়োজক ও স্থানীয় বক্তারা জানান, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে মোবাইল আসক্তি দূর করতে এবং গ্রামের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে ভবিষ্যতে এ ধরনের গ্রামীণ বিনোদনমূলক আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে চাঁদার দাবিতে অটোরিকশা গ্যারেজে ঢুকে সাগর খান ওরফে ইমরান (৩৮) নামের এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামির তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ওরফে কালিয়া রিয়াজ (৩১), মো. কামরুল হাসান (২৫) ও মো. সাইফুল হোসেন (২০)। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক খন্দকার সালেহ আবু নাঈম আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে প্রধান আসামি রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ও কামরুল হাসানের সঙ্গে নিহত সাগর খানের বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে রিয়াজ ও কামরুলসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে করে হেলমেট পরিহিত অবস্থায় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইমরানের গ্যারেজে চড়াও হন।
এ সময় গ্যারেজের ভেতরে ঢুকে তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। একপর্যায়ে রিয়াজ পেছন থেকে ইমরানের মাথায় গুলি করলে তিনি লুটিয়ে পড়েন। বাধা দিতে গেলে ইমরানের বন্ধু সাদ্দামকে মারধর করা হয়। সাদ্দাম পালানোর চেষ্টা করলে রিয়াজ তার বাম পায়ে গুলি করেন এবং অন্য আসামিরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমরানকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলায় আহত সাদ্দামকে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা যাওয়ার সময় ইমরানের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল এবং সাদ্দামের কাছ থেকে নগদ ৬৫ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ৭ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সিরাজগঞ্জের বাসায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বজ্রপাতের কারণে ঘটেছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে সিরাজগঞ্জ শহরের হোসেনপুর মহল্লার আল মাহমুদ এভিনিউয়ের বাড়ির গেটে গ্যাসের রাইজারে আগুনের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুরের সময় বৃষ্টির সঙ্গে সাথে প্রচণ্ড বজ্রপাত হচ্ছিল। বজ্রপাতে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নিজ বাসভবনের সামনে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।
সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে মন্ত্রীর বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিনি আরও বলেন, বাড়ির গেটম্যানের মতে, গ্যাস রাইজারে বজ্রপাত হয়ে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ