প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এক শিশু শিক্ষার্থী (১১) মারধরের অভিযোগে পুলিশ মাদরাসাশিক্ষককে হেফাজতে নিয়েছে। এলাকাবাসী শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখলে পুলিশ গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে।
আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার কৃষ্ণনগর আশরাফুল উলুম ইসলামিয়া মাদরাসায় এই ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মাওলানা মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব। তবে আহত শিক্ষার্থীর পরিবার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তারা থানায় অভিযোগও করেনি বলে জানা গেছে।
দুপুর ২টার দিকে নবীনগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রাজীব নাথ কালের কণ্ঠকে জানান, এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখলে পুলিশ খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তিনি বলেন, ‘পরিবারের কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই শিশু চারদিন ধরে মাদরাসায় অনুপস্থিত ছিল। আজ সকালে শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব তাকে বাড়ি থেকে মাদরাসায় নিয়ে আসেন।
পরে তাকে মাদরাসায় না আসার জন্য মারধর করা হয়। বিষয়টি জানার পর স্থানীয়রা শিশুটিকে উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করে এবং ওই শিক্ষককে মাদরাসায় অবরুদ্ধ করে রাখে। দুপুরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে শিক্ষক ইব্রাহিম বিন মুজিবকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহিম বিন মুজিব। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসলেই ছাত্রের ওপর মাইরটা মারাত্মক বেশি হয়ে গেছে।
মারার সময় আমার রাগটা ধইরা রাখতে পারিনি। এজন্য আমি অনুতপ্ত, ক্ষমাপ্রার্থী।’
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক এবং মারধরের শিকার শিক্ষার্থী আত্মীয়। এ কারণে ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না। একই সঙ্গে তারা বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করছেন।
মাদরাসার অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন আশরাফী মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক। এমন ঘটনা এর আগে কখনো এই মাদরাসায় ঘটেনি। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন