প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন নওগাঁর সাপাহার থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদের দায়িত্ব হস্তান্তরের দীর্ঘসূত্রতার কারণে। নতুন ওসি থানায় উপস্থিত থাকলেও বিদায়ী ওসি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ার ফলে থানার প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রম সাময়িকভাবে থমকে গেছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ের এক আদেশে সাপাহার থানার ওসি মিজানুর রহমানকে জনস্বার্থে জয়পুরহাট জেলায় বদলি করা হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নতুন ওসি শাহীন রেজা সাপাহার থানায় যোগদান করেন। তবে নতুন ওসি থানায় উপস্থিত থাকলেও বিদায়ী ওসি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ার কারণে থানায় প্রশাসনিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
এ পরিস্থিতির কারণে সাধারণ ডায়েরি (জিডি), দাপ্তরিক কাজ এবং বিভিন্ন আইনি সেবা নিতে আসা সেবাপ্রার্থীরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা নিতে পারেননি। সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে গেলেও সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার গাঞ্জাকুড়ি গ্রামের ষাটোর্ধ্ব মোকসেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি সকাল ৯টায় থানায় গিয়ে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও ওসির অনুপস্থিতির কারণে কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। পুরাতন মুহুরি পট্টি এলাকার শিক্ষার্থী জারিফ জানান, একটি জিডি করার জন্য সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত থানায় বসে থাকতে হয়েছে। দুই ওসির দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ার কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদায়ী ওসি মিজানুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরবর্তীতে থানায় গিয়ে দেখা যায়, তিনি নিজ কক্ষে ব্যস্ত রয়েছেন জানিয়ে ডিউটিরত পুলিশ সদস্যরা কাউকে ভেতরে যেতে দেননি। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিদায়ী ওসি মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই গাড়িতে উঠে থানা ত্যাগ করেন।
নতুন ওসি শাহীন রেজা জানিয়েছেন, তিনি আগের দিন থেকেই থানায় অবস্থান করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ বুঝে পাননি। বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জরুরি নাগরিক সেবা নিরবচ্ছিন্ন করার স্বার্থে স্থানীয়রা এই প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত নিরসনের দাবি করেছেন। সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন