বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:১১ পি.এম
বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকির দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম দেশ। তবে, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে বাংলাদেশের অবদান ১ শতাংশেরও কম। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও বাস্তুচ্যুতি সংকটের কারণে দেশের প্রান্তিক জনগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আসন্ন ‘কপ৩১’ সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে তরুণদের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবনে ‘এলকয় বাংলাদেশ ২০২৬’-এর প্রথম দিনের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
ইয়াং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক-ইউক্যান, এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এবং ব্রাইটার্স-এর যৌথ ব্যবস্থাপনায় এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। দেশের ৯টি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তরুণ ও প্রান্তিক জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ ও ফোকাস গ্রুপ আলোচনার ভিত্তিতে সম্মেলনটি পরিচালিত হয়। সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জের হাওর, উপকূলীয় দ্বীপ ও চর এই এলাকাগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহরাত আদিব চৌধুরী। তিনি তরুণদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
তিনি মন্তব্য করেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আলোচনা যথেষ্ট নয়। তরুণদের সরাসরি নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও প্রয়োজন।" তিনি দেশের তরুণদের আহ্বান জানান, যাতে তারা বৈশ্বিক ফোরামে বাংলাদেশের শক্তিশালী প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য দেন এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভিপি শেখ রিফাদ মাহমুদ, শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মোহাম্মদ আলী এবং ব্রাইটার্স-এর চেয়ার ও ‘এলকয় বাংলাদেশ ২০২৬’-এর কন্টাক্ট পয়েন্ট ফারিহা সুলতানা অমি।
বক্তারা জলবায়ু ন্যায়বিচার, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এবং যুব অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তারা তরুণদের জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইউক্যান-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক যুধিষ্ঠির চন্দ্র বিশ্বাস। সম্মেলনে তরুণদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি ও প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ও প্রান্তিক জনগণের জন্য নতুন, অতিরিক্ত ও পূর্বানুমানযোগ্য অনুদান নিশ্চিত করা। স্থানীয় যুব ও কমিউনিটি সংগঠনগুলোর জন্য সরাসরি অর্থায়নের সুযোগ তৈরির দাবি জানানো হয়।
এছাড়া লস অ্যান্ড ড্যামেজ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ও সহজে পাওয়া যায় এমন তহবিল নিশ্চিত করার দাবি ওঠে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত উপকূলীয়, দ্বীপ, চর ও শহুরে মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন, ভূমির অধিকার ও জীবিকার নিশ্চয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তরুণরা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসতে বৈশ্বিক আইনি কাঠামো তৈরির দাবি জানান। তারা সবুজ দক্ষতা ও কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ এবং জলবায়ু শাসন ও অভিযোজন পরিকল্পনায় তরুণ ও প্রান্তিক জনগণের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
আয়োজকরা আশা করছেন, জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই সমাপনী অনুষ্ঠান দেশের জলবায়ু নীতি প্রণয়নে তরুণদের ভূমিকা আরো শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের তরুণদের জলবায়ু বিষয়ক অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, ব্রাইটার্স ফাউন্ডেশনের হোস্টিংয়ে এবারের ‘এলকয় বাংলাদেশ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম অভিযোগ করেছেন যে, জামায়াতের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এলাকায় পরিকল্পিতভাবে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুড়িগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "একটি রাজনৈতিক দল বিএনপিকে জনগণের কাছে বিতর্কিত ও হেয় করার জন্য এসব এলাকায় সারের সংকট তৈরি করে আন্দোলন করেছে। বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এলাকায় সারের সংকট নিয়ে কোনো আন্দোলন হয়নি।"
মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের সামনে লাল চিহ্নিত একটি মানচিত্র তুলে ধরে বলেন, কুড়িগ্রাম, রংপুর, নড়াইল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় সারের সংকট দেখানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এসব এলাকায় জামায়াতের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, "এটি প্রমাণ করে যে, বিএনপিকে বিতর্কিত করার জন্য এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে যে এলাকায় তারা নির্বাচিত, সেই এলাকায় তাদের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে সারের সংকট তৈরি করে আমাদের হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।"
কুড়িগ্রামে সারের সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "যে সময়ে সারের সংকটের কথা বলা হয়েছে, সেই সময়ে দেশের কোথাও সারের সংকট ছিল না। কুড়িগ্রামেও কোনো সংকট ছিল না। একটি রাজনৈতিক দল ও ফ্যাসিস্ট সরকারের নিয়োগ করা কিছু ডিলার কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছিলেন।"
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আগের ডিলারদের পাশাপাশি প্রত্যেক ইউনিয়নে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে একজন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে জেলা ও উপজেলা কমিটি প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করেছে। যেসব এলাকায় সারের ডিলার পালিয়ে গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন, সেসব এলাকার শূন্য পদেও ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।
স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, আগামী জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হবে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, "নির্বাচন নিয়ে কোনো কলঙ্ক বিএনপি নেবে না। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনকে বিএনপি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।"
বিরোধী দলের লং মার্চ প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, বিদ্যুৎ, তেল ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দল লং মার্চ করেছে। গণতান্ত্রিক দেশে লং মার্চ করার অধিকার সবার আছে। তবে তিনি মন্তব্য করেন, "শত শত গাড়ির বহর নিয়ে লং মার্চ করা হয়েছে। পায়ে হেঁটে করলে সেটি লং মার্চ, গাড়ির বহর নিয়ে করলে সেটিকে রোড মার্চ বলা উচিত ছিল।" তিনি বলেন, "তারা একটি রাজনৈতিক দল, তাই তাদের ভুল ধরতে চান না।" পরে প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা ও কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন সভায় অংশ নেন।
এ সময় রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহমুদুল হক চৌধুরী ডন, লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক মমিনুল, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিবসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, চলতি বছরে ৪৩ লাখ কৃষক কৃষক কার্ড লাভ করবেন। উদ্বোধনী দিনে পাইলট পর্যায়ে ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক কৃষক কার্ডের উপকরণ প্রণোদনা পাচ্ছেন।
আজ বুধবার ফেনী জেলার ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যক্তিবর্গের সম্মানী’ প্রদান অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কৃষক কার্ডের প্রাক-পাইলট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পাইলট পর্যায়ে ৪৩ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষক কার্ডের আওতায় আসবেন। এর মধ্যে আগামীকাল (০১ অক্টোবর ২০২৬) ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক কৃষি উপকরণ বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। ফেনী জেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ডের (প্রিন্টেড) কপি পাবেন।
মন্ত্রী আরও জানান, আগামীকালের অনুষ্ঠানে দেশের ৫৬টি জেলার ৭৭টি উপজেলা যুক্ত থাকবে। এর মধ্যে ১৩টি উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকবে, বাকি ৬৪ উপজেলাও যুক্ত থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৪৩ লাখ কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড ও উপকরণ সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের সকল কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের কৃষি উপকরণ ক্রয়ে সহায়তা প্রদান এবং কৃষি খাতের উন্নয়নে সরকারি সহায়তা আরো সহজে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সার্বিক প্রস্তুতি সন্তোষজনক এবং অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করছেন।
এ সময় কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) খাতা-কলমে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও, শহীদ নূর হোসেন হলের কমনরুমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের লোগো স্থাপন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, শহীদ নূর হোসেন হলের কমনরুমের একটি দেয়ালে ছাত্রদলের দলীয় লোগো লাগানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যে স্থানটিকে শেখ রাসেল কর্নার হিসেবে পরিচিত করা হয়েছিল, সেটি বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের হাবিপ্রবি শাখার নেতাকর্মীদের দ্বারা ব্যবহৃত হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর ছাত্রলীগের এই কর্নারটি শিক্ষার্থীদের দ্বারা সরিয়ে ফেলা হয়। তবে, সম্প্রতি ছাত্রদলের লোগো লাগানোর ফলে পুরোনো রাজনীতির পুনরাবৃত্তি শুরু হয়েছে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে শহীদ নূর হোসেন হলের কিছু আবাসিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই নিন্দা ও বিরোধিতা করে আসছে। অনেক নেতা-কর্মী ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে এ বিষয়ে সমালোচনা করেছেন।
নূর হোসেন হলের সুপার অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান হাফিজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, লোগো লাগানোর বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং কেউ তাকে জানায়নি। তিনি বলেন, "যেহেতু ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সহাবস্থান রয়েছে, সেক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই।"
এদিকে, হাবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতি এহসানুল কবির অর্ণব হলের প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা নাকচ করে বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে দেখার পক্ষে মতামত দেন। তিনি বলেন, "দলীয় লোগোটি ছোট ভাইয়েরা লাগিয়েছে, যারা দলকে ভালোবাসে। আমরা সেখানে ছবি তুলি। শিবিরও চাইলে লাগাতে পারে। ক্যাম্পাস ওপেন রাজনীতি চর্চার জায়গা। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।"
হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রেজওয়ানুল হক বলেন, হলের টিভি রুমে হাবিপ্রবি ছাত্রদলের লোগো লাগানোর বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি উল্লেখ করেন, "হলের টিভি রুম সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কমন স্পেস, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় নয়।" অতীতে আবাসিক হল ও কমন স্পেসকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার সংস্কৃতি শিক্ষার্থীরা আর দেখতে চায় না।
তিনি আরও বলেন, "আমরা কোনো সংগঠনের রাজনৈতিক অধিকারকে অস্বীকার করছি না, কিন্তু নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতীক স্থাপন করে হলের কমন স্পেসের নিরপেক্ষ পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সমীচীন নয়।" প্রশাসনের কাছে তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত টিভি রুম থেকে ছাত্রদলের লোগো সরিয়ে নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, তরুণ প্রযুক্তিবিদদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর ও রোবটিকস গবেষণার প্রসারে সরকার নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীতে ‘নিপ্পন এআই ডো জো ২০২৬’-এর প্রকল্প উপস্থাপন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তরুণদের ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রযুক্তিভিত্তিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন উল্লেখ করেন, বিশ্বমানের প্রযুক্তির পাশাপাশি দেশের নিজস্ব বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে এআই প্ল্যাটফর্ম, ডেটাসেট ও প্রোগ্রামিং তৈরিতে তরুণ প্রযুক্তিবিদদের গবেষণার গভীরতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। তিনি বলেন, সরকার নীতিগত সমর্থন দেবে, তবে এআই প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগের জন্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পথনকশা ও কার্যকর সমাধান আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর শুধুমাত্র গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ম্যানুফ্যাকচারিং ও ফ্রিল্যান্সিং সার্ভিসের মতো অর্থনীতির প্রতিটি খাতে বড় পরিবর্তন আনছে। বিশেষ করে কৃষিখাত এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রগুলোতে প্রযুক্তিগত ঘাটতি পূরণে এআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
উচ্চবিলাসী পরিকল্পনার পাশাপাশি স্থানীয় অবকাঠামোগত বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিদেশের এআই টুলস ব্যবহারে দক্ষতা দেখিয়ে বড় সাফল্য অর্জন করাই যথেষ্ট নয়। দেশের জন্য উপযোগী এআই টুল, প্ল্যাটফর্ম ও ডেটাসেট তৈরি করতে হবে। এ জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন, জিপিইউ চালনার সক্ষমতা এবং সমৃদ্ধ বাংলা ডেটাসেটের অভাবের মতো মৌলিক চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রাখতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ