প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) খাতা-কলমে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও, শহীদ নূর হোসেন হলের কমনরুমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের লোগো স্থাপন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, শহীদ নূর হোসেন হলের কমনরুমের একটি দেয়ালে ছাত্রদলের দলীয় লোগো লাগানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যে স্থানটিকে শেখ রাসেল কর্নার হিসেবে পরিচিত করা হয়েছিল, সেটি বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের হাবিপ্রবি শাখার নেতাকর্মীদের দ্বারা ব্যবহৃত হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর ছাত্রলীগের এই কর্নারটি শিক্ষার্থীদের দ্বারা সরিয়ে ফেলা হয়। তবে, সম্প্রতি ছাত্রদলের লোগো লাগানোর ফলে পুরোনো রাজনীতির পুনরাবৃত্তি শুরু হয়েছে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে শহীদ নূর হোসেন হলের কিছু আবাসিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই নিন্দা ও বিরোধিতা করে আসছে। অনেক নেতা-কর্মী ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে এ বিষয়ে সমালোচনা করেছেন।
নূর হোসেন হলের সুপার অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান হাফিজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, লোগো লাগানোর বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং কেউ তাকে জানায়নি। তিনি বলেন, "যেহেতু ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সহাবস্থান রয়েছে, সেক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই।"
এদিকে, হাবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতি এহসানুল কবির অর্ণব হলের প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা নাকচ করে বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে দেখার পক্ষে মতামত দেন। তিনি বলেন, "দলীয় লোগোটি ছোট ভাইয়েরা লাগিয়েছে, যারা দলকে ভালোবাসে। আমরা সেখানে ছবি তুলি। শিবিরও চাইলে লাগাতে পারে। ক্যাম্পাস ওপেন রাজনীতি চর্চার জায়গা। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।"
হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রেজওয়ানুল হক বলেন, হলের টিভি রুমে হাবিপ্রবি ছাত্রদলের লোগো লাগানোর বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি উল্লেখ করেন, "হলের টিভি রুম সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কমন স্পেস, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় নয়।" অতীতে আবাসিক হল ও কমন স্পেসকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার সংস্কৃতি শিক্ষার্থীরা আর দেখতে চায় না।
তিনি আরও বলেন, "আমরা কোনো সংগঠনের রাজনৈতিক অধিকারকে অস্বীকার করছি না, কিন্তু নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতীক স্থাপন করে হলের কমন স্পেসের নিরপেক্ষ পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সমীচীন নয়।" প্রশাসনের কাছে তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত টিভি রুম থেকে ছাত্রদলের লোগো সরিয়ে নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন