বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:১২ পি.এম
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, চলতি বছরে ৪৩ লাখ কৃষক কৃষক কার্ড লাভ করবেন। উদ্বোধনী দিনে পাইলট পর্যায়ে ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক কৃষক কার্ডের উপকরণ প্রণোদনা পাচ্ছেন।
আজ বুধবার ফেনী জেলার ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যক্তিবর্গের সম্মানী’ প্রদান অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কৃষক কার্ডের প্রাক-পাইলট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পাইলট পর্যায়ে ৪৩ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষক কার্ডের আওতায় আসবেন। এর মধ্যে আগামীকাল (০১ অক্টোবর ২০২৬) ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক কৃষি উপকরণ বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। ফেনী জেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ডের (প্রিন্টেড) কপি পাবেন।
মন্ত্রী আরও জানান, আগামীকালের অনুষ্ঠানে দেশের ৫৬টি জেলার ৭৭টি উপজেলা যুক্ত থাকবে। এর মধ্যে ১৩টি উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকবে, বাকি ৬৪ উপজেলাও যুক্ত থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৪৩ লাখ কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড ও উপকরণ সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের সকল কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের কৃষি উপকরণ ক্রয়ে সহায়তা প্রদান এবং কৃষি খাতের উন্নয়নে সরকারি সহায়তা আরো সহজে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সার্বিক প্রস্তুতি সন্তোষজনক এবং অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করছেন।
এ সময় কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) খাতা-কলমে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও, শহীদ নূর হোসেন হলের কমনরুমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের লোগো স্থাপন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, শহীদ নূর হোসেন হলের কমনরুমের একটি দেয়ালে ছাত্রদলের দলীয় লোগো লাগানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যে স্থানটিকে শেখ রাসেল কর্নার হিসেবে পরিচিত করা হয়েছিল, সেটি বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের হাবিপ্রবি শাখার নেতাকর্মীদের দ্বারা ব্যবহৃত হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর ছাত্রলীগের এই কর্নারটি শিক্ষার্থীদের দ্বারা সরিয়ে ফেলা হয়। তবে, সম্প্রতি ছাত্রদলের লোগো লাগানোর ফলে পুরোনো রাজনীতির পুনরাবৃত্তি শুরু হয়েছে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে শহীদ নূর হোসেন হলের কিছু আবাসিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই নিন্দা ও বিরোধিতা করে আসছে। অনেক নেতা-কর্মী ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে এ বিষয়ে সমালোচনা করেছেন।
নূর হোসেন হলের সুপার অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান হাফিজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, লোগো লাগানোর বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং কেউ তাকে জানায়নি। তিনি বলেন, "যেহেতু ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সহাবস্থান রয়েছে, সেক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই।"
এদিকে, হাবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতি এহসানুল কবির অর্ণব হলের প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা নাকচ করে বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে দেখার পক্ষে মতামত দেন। তিনি বলেন, "দলীয় লোগোটি ছোট ভাইয়েরা লাগিয়েছে, যারা দলকে ভালোবাসে। আমরা সেখানে ছবি তুলি। শিবিরও চাইলে লাগাতে পারে। ক্যাম্পাস ওপেন রাজনীতি চর্চার জায়গা। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।"
হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রেজওয়ানুল হক বলেন, হলের টিভি রুমে হাবিপ্রবি ছাত্রদলের লোগো লাগানোর বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি উল্লেখ করেন, "হলের টিভি রুম সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কমন স্পেস, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় নয়।" অতীতে আবাসিক হল ও কমন স্পেসকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার সংস্কৃতি শিক্ষার্থীরা আর দেখতে চায় না।
তিনি আরও বলেন, "আমরা কোনো সংগঠনের রাজনৈতিক অধিকারকে অস্বীকার করছি না, কিন্তু নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতীক স্থাপন করে হলের কমন স্পেসের নিরপেক্ষ পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সমীচীন নয়।" প্রশাসনের কাছে তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত টিভি রুম থেকে ছাত্রদলের লোগো সরিয়ে নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, তরুণ প্রযুক্তিবিদদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর ও রোবটিকস গবেষণার প্রসারে সরকার নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীতে ‘নিপ্পন এআই ডো জো ২০২৬’-এর প্রকল্প উপস্থাপন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তরুণদের ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রযুক্তিভিত্তিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন উল্লেখ করেন, বিশ্বমানের প্রযুক্তির পাশাপাশি দেশের নিজস্ব বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে এআই প্ল্যাটফর্ম, ডেটাসেট ও প্রোগ্রামিং তৈরিতে তরুণ প্রযুক্তিবিদদের গবেষণার গভীরতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। তিনি বলেন, সরকার নীতিগত সমর্থন দেবে, তবে এআই প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগের জন্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পথনকশা ও কার্যকর সমাধান আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর শুধুমাত্র গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ম্যানুফ্যাকচারিং ও ফ্রিল্যান্সিং সার্ভিসের মতো অর্থনীতির প্রতিটি খাতে বড় পরিবর্তন আনছে। বিশেষ করে কৃষিখাত এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রগুলোতে প্রযুক্তিগত ঘাটতি পূরণে এআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
উচ্চবিলাসী পরিকল্পনার পাশাপাশি স্থানীয় অবকাঠামোগত বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিদেশের এআই টুলস ব্যবহারে দক্ষতা দেখিয়ে বড় সাফল্য অর্জন করাই যথেষ্ট নয়। দেশের জন্য উপযোগী এআই টুল, প্ল্যাটফর্ম ও ডেটাসেট তৈরি করতে হবে। এ জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন, জিপিইউ চালনার সক্ষমতা এবং সমৃদ্ধ বাংলা ডেটাসেটের অভাবের মতো মৌলিক চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রাখতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ৩৯ দিনের মাদকবিরোধী অভিযানের ফলস্বরূপ ৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলাগুলোর ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী ৮৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীরুল কাদের।
মোবাইল কোর্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৯ দিনের এই অভিযানে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের আওতায় ৮৩টি মামলা রুজু করা হয়। এসব মামলায় জড়িত ৮৩ জনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীরুল কাদের মন্তব্য করেন, "মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে। মাদক ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।" তিনি আরও বলেন, মাদক বিক্রি, পরিবহন ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রায়ের তারিখ আগামী ১৫ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন আদালত।
ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বি. এম. তারিকুল কবীর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী জানিয়েছেন, "আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি। আমরা প্রত্যাশা করছি, আদালত তাকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজা দেবেন।"
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, দুদক সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। তিনি বলেন, "আমরা আশা করছি, আদালত তাকে খালাস দেবেন।" সিয়ামের নামে অভিযোগে যে সম্পত্তির কথা বলা হয়েছে, তার কোনোটি প্রমাণ করতে পারেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। আদালত মামলায় দুদকের ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে। এর আগে গত ১৭ জুন সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।
২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি সিয়ামের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলায় ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। তদন্তে সিয়ামের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা জানায় দুদক।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আলোচিত সাবেক পিএসসি চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সিয়ামকে গত ২০ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করে দুদক। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ