প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম অভিযোগ করেছেন যে, জামায়াতের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এলাকায় পরিকল্পিতভাবে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুড়িগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "একটি রাজনৈতিক দল বিএনপিকে জনগণের কাছে বিতর্কিত ও হেয় করার জন্য এসব এলাকায় সারের সংকট তৈরি করে আন্দোলন করেছে। বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এলাকায় সারের সংকট নিয়ে কোনো আন্দোলন হয়নি।"
মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের সামনে লাল চিহ্নিত একটি মানচিত্র তুলে ধরে বলেন, কুড়িগ্রাম, রংপুর, নড়াইল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় সারের সংকট দেখানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এসব এলাকায় জামায়াতের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, "এটি প্রমাণ করে যে, বিএনপিকে বিতর্কিত করার জন্য এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে যে এলাকায় তারা নির্বাচিত, সেই এলাকায় তাদের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে সারের সংকট তৈরি করে আমাদের হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।"
কুড়িগ্রামে সারের সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "যে সময়ে সারের সংকটের কথা বলা হয়েছে, সেই সময়ে দেশের কোথাও সারের সংকট ছিল না। কুড়িগ্রামেও কোনো সংকট ছিল না। একটি রাজনৈতিক দল ও ফ্যাসিস্ট সরকারের নিয়োগ করা কিছু ডিলার কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছিলেন।"
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আগের ডিলারদের পাশাপাশি প্রত্যেক ইউনিয়নে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে একজন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে জেলা ও উপজেলা কমিটি প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করেছে। যেসব এলাকায় সারের ডিলার পালিয়ে গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন, সেসব এলাকার শূন্য পদেও ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।
স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, আগামী জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হবে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, "নির্বাচন নিয়ে কোনো কলঙ্ক বিএনপি নেবে না। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনকে বিএনপি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।"
বিরোধী দলের লং মার্চ প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, বিদ্যুৎ, তেল ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দল লং মার্চ করেছে। গণতান্ত্রিক দেশে লং মার্চ করার অধিকার সবার আছে। তবে তিনি মন্তব্য করেন, "শত শত গাড়ির বহর নিয়ে লং মার্চ করা হয়েছে। পায়ে হেঁটে করলে সেটি লং মার্চ, গাড়ির বহর নিয়ে করলে সেটিকে রোড মার্চ বলা উচিত ছিল।" তিনি বলেন, "তারা একটি রাজনৈতিক দল, তাই তাদের ভুল ধরতে চান না।" পরে প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা ও কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন সভায় অংশ নেন।
এ সময় রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহমুদুল হক চৌধুরী ডন, লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক মমিনুল, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিবসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন