প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকির দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম দেশ। তবে, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে বাংলাদেশের অবদান ১ শতাংশেরও কম। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও বাস্তুচ্যুতি সংকটের কারণে দেশের প্রান্তিক জনগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আসন্ন ‘কপ৩১’ সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে তরুণদের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবনে ‘এলকয় বাংলাদেশ ২০২৬’-এর প্রথম দিনের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
ইয়াং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক-ইউক্যান, এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এবং ব্রাইটার্স-এর যৌথ ব্যবস্থাপনায় এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। দেশের ৯টি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তরুণ ও প্রান্তিক জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ ও ফোকাস গ্রুপ আলোচনার ভিত্তিতে সম্মেলনটি পরিচালিত হয়। সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জের হাওর, উপকূলীয় দ্বীপ ও চর এই এলাকাগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহরাত আদিব চৌধুরী। তিনি তরুণদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
তিনি মন্তব্য করেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আলোচনা যথেষ্ট নয়। তরুণদের সরাসরি নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও প্রয়োজন।" তিনি দেশের তরুণদের আহ্বান জানান, যাতে তারা বৈশ্বিক ফোরামে বাংলাদেশের শক্তিশালী প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য দেন এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভিপি শেখ রিফাদ মাহমুদ, শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মোহাম্মদ আলী এবং ব্রাইটার্স-এর চেয়ার ও ‘এলকয় বাংলাদেশ ২০২৬’-এর কন্টাক্ট পয়েন্ট ফারিহা সুলতানা অমি।
বক্তারা জলবায়ু ন্যায়বিচার, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এবং যুব অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তারা তরুণদের জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইউক্যান-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক যুধিষ্ঠির চন্দ্র বিশ্বাস। সম্মেলনে তরুণদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি ও প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ও প্রান্তিক জনগণের জন্য নতুন, অতিরিক্ত ও পূর্বানুমানযোগ্য অনুদান নিশ্চিত করা। স্থানীয় যুব ও কমিউনিটি সংগঠনগুলোর জন্য সরাসরি অর্থায়নের সুযোগ তৈরির দাবি জানানো হয়।
এছাড়া লস অ্যান্ড ড্যামেজ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ও সহজে পাওয়া যায় এমন তহবিল নিশ্চিত করার দাবি ওঠে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত উপকূলীয়, দ্বীপ, চর ও শহুরে মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন, ভূমির অধিকার ও জীবিকার নিশ্চয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তরুণরা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসতে বৈশ্বিক আইনি কাঠামো তৈরির দাবি জানান। তারা সবুজ দক্ষতা ও কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ এবং জলবায়ু শাসন ও অভিযোজন পরিকল্পনায় তরুণ ও প্রান্তিক জনগণের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
আয়োজকরা আশা করছেন, জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই সমাপনী অনুষ্ঠান দেশের জলবায়ু নীতি প্রণয়নে তরুণদের ভূমিকা আরো শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের তরুণদের জলবায়ু বিষয়ক অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, ব্রাইটার্স ফাউন্ডেশনের হোস্টিংয়ে এবারের ‘এলকয় বাংলাদেশ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন