বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৩:০৭ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) প্রধান এবং প্রায় ১০০টি দেশের নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরা বুধবার আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আয়ার্সে মাদক পাচার মোকাবেলার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ল্যাটিন আমেরিকার একাধিক যুক্তরাষ্ট্রপন্থী সরকারের মধ্যে আর্জেন্টিনা অন্যতম, যারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ মাদকচক্রবিরোধী জোটে যুক্ত হয়েছে। পত্রিকা এএফপি এই বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে।
ডিইএ’র পরিচালক টেরেন্স কোলের সঙ্গে বৈঠকের সহ-আযোজক নিরাপত্তামন্ত্রী আলেহান্দ্রা মনতেওলিভা এক্সে বলেছেন, ‘মাদকচক্রের সঙ্গে আলোচনা করা যায় না। দৃঢ়তা, সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর এমন কঠোর নীতির মাধ্যমে তাদের মোকাবিলা করতে হবে।’
আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার লামেলাস সম্মেলনে উল্লেখ করেছেন, ওয়াশিংটন ‘মাদকচক্র, অপরাধী নেটওয়ার্ক এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা এবং গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করছে।’ এসময় তিনি স্প্যানিশ ভাষায় বলেন, ‘কোনো দেশই এর ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। আর কোনো দেশ একা এই লড়াই করতে পারে না।’
১৯৮৩ সালে ডিইএ’র উদ্যোগে শুরু হওয়া বার্ষিক আন্তর্জাতিক মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্মেলন এবারই প্রথম আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে মেক্সিকোর আলোচিত নিরাপত্তামন্ত্রী ওমর গার্সিয়া হারফুচও উপস্থিত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ক্লদিওয়া শেইনবাউমের সরকারের কার্যক্রমের ফলে শক্তিশালী মাদকচক্রগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক ডজন মাদকচক্রের শীর্ষ নেতাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টিও উত্থাপন করেন।
মাদক পাচার দমনে কঠোর অবস্থানের কারণে ‘ব্যাটম্যান’ নামে পরিচিত হারফুচ এক্সে উল্লেখ করেছেন, ‘সমন্বয়, দৃঢ়তা এবং প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধার সঙ্গে কাজ করলে কোনো অপরাধী সংগঠনই রাষ্ট্রগুলোর চেয়ে শক্তিশালী হতে পারে না।’ তিনি সার্বভৌমত্ব নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, এটি বামপন্থী শেইনবাউমের মাদকবিরোধী যুদ্ধে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্কবার্তার প্রতিধ্বনি।
মেক্সিকো গত মাসে জানিয়েছে, ২০২৪ সালে মাদকসম্রাট ইসমায়েল ‘এল মায়ো’ সাম্বাদাকে গ্রেফতারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। তাঁকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নেয়া হয়েছিল। বর্তমানে তিনি সেখানকার কারাগারে রয়েছেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করেছেন, মাদকচক্রগুলো মেক্সিকোকে নিয়ন্ত্রণ করছে। শেইনবাউম মাদকচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সীমান্তের দক্ষিণে মার্কিন সেনা মোতায়েনের হুমকি দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎহীন থাকার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, তারা ট্রান্সফরমার দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন, কিন্তু এখনো ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়নি। এ কারণে তাদের বারবার পুরোনো ট্রান্সফরমার দেওয়া হচ্ছে, ফলে তারা ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে বেলা ১১টা নাগাদ, পৌর শহরের শিমরাইল গ্রামের প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন বাসিন্দা পিডিবি অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এ সময় অফিসের কাচ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং ড্রয়ারের ভাঙচুর করা হয়। স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিমের ওপর হামলাও চালিয়েছে। খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজমের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় আধা ঘণ্টার প্রচেষ্টায় পুলিশ বিক্ষুব্ধ লোকজনকে সরিয়ে এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শিমরাইল গ্রামের বিক্ষোভকারী বাসিন্দা সজিব মিয়া (২৫), নূরুল হক (৬০), আতিকুল ইসলাম (৩৫) ও জহিরুল ইসলাম (২৮) বলেন, 'গত ১৩ আগস্ট রাতে গ্রামের ট্রান্সফরমার নষ্ট হলে বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।'
তারা আরও অভিযোগ করেন, নতুন ট্রান্সফরমার দেওয়ার কথা বলে পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলীকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এক সপ্তাহেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। এ কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গেছেন। প্রায় এক মাস আগে গ্রামের ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছিল। তখন নতুন ট্রান্সফরমারের পরিবর্তে পুরোনো ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়, যা কিছুদিন পর আবার নষ্ট হয়ে যায়।
এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকট, খাবার সংরক্ষণে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে হামলায় আহত পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, 'বিক্ষুব্ধ লোকজন হামলা শুরু করার আগে কিছু বুঝে ওঠার সময় পাইনি। ট্রান্সফরমারের জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ একদম ভিত্তিহীন। তবে লাইন সংযোগ ও মেরামতের কাজে লাইনম্যানদের কিছু খরচাপাতি বিভিন্ন স্থানে দেওয়া হয়। এলাকাবাসী মূলত নতুন ট্রান্সফরমার চেয়েছিল, কিন্তু আমাদের বিভাগে ট্রান্সফরমারের সংকট থাকায় পুরোনো একটি ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়। এ কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা করেছেন।'
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ঈশ্বরগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমাম বলেন, 'শিমরাইল গ্রামের ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার বিষয়টি একাধিকবার জানানো হয়েছিল। কিন্তু ট্রান্সফরমারের সংকট থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ট্রান্সফরমার পেতে দেরি হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'গতকাল রাতেই একটি ট্রান্সফরমার এসেছিল। কিন্তু সেটি পুরোনো হওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন। এতে আমাদের উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম আহত হয়েছেন।'
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম বলেন, 'খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। পরে দ্রুত ট্রান্সফরমার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস দেন আবাসিক প্রকৌশলী। এরপর বিক্ষুব্ধ লোকজন সরে যান এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর সদস্যরা আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) একটি কমান্ডারসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাত ৯টার দিকে উখিয়ার ৬ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির এলাকার একটি অভিযানের সময়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন হচ্ছেন মোহাম্মদ আলম ওরফে মুছা (৪০) এবং অন্যজন তার সহযোগী আব্দুল হাফেজ (২২)। এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমিন।
সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে, আরসার কমান্ডার মোহাম্মদ আলম ওরফে মুছা এবং তার সহযোগী আব্দুল হাফেজ ৬ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির এলাকায় অবস্থান করছেন। এরপর অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন যে, তারা আরসার সশস্ত্র সংগঠনের সক্রিয় সদস্য।
সূত্রটি আরও জানায়, মোহাম্মদ আলম ওরফে মুছা উখিয়া থানার একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২৯ নম্বর আসামি। তার বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় হত্যা, মাদক এবং অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিতর্কিত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংস্থার আওতায় গঠিত বিদ্যমান সব কমিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সেইসাথে, পুনর্গঠিত কমিটির তথ্য আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করার জন্য বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত মঙ্গলবার এসংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়। এই চিঠির স্বাক্ষরদাতা হলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-২ মো. আশরাফুল ইসলাম।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালন ও বাস্তবায়নের জন্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বেশ কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, এসব কমিটির অধিকাংশ কমিটি কয়েক বছর আগে গঠিত হয় এবং সেই কারণে সেগুলো এখন হালনাগাদ নেই।
এছাড়া, কিছু কমিটির প্রজ্ঞাপন ও কার্যক্রমের তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। এই কারণে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন করে হালনাগাদ করা অত্যাবশ্যক।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার আওতাধীন বিদ্যমান কমিটিগুলো পুনর্গঠনের সময় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ের অংশগ্রহণ এবং প্রতিনিধিত্ব আরও কার্যকর হওয়া সম্ভব হবে।
পুনর্গঠিত প্রতিটি কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই তিনজনের মধ্যে অন্তত একজন নারী প্রতিনিধি থাকাটা আবশ্যক। সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়ক ওই তিনজনকে মনোনয়ন দেবেন।
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংযুক্ত তালিকায় থাকা ৯৮টি কমিটিসহ মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার আওতাধীন বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য বিদ্যমান সব কমিটি হালনাগাদ করতে হবে।
পুনর্গঠন ও হালনাগাদ কার্যক্রম সম্পন্ন করে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করার জন্য বলা হয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিগুলো দীর্ঘদিন পরে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি কার্যক্রমে অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব, সমন্বয় এবং জবাবদিহি আরো জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন পারমাণবিক সুরক্ষাবলয় ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ার ফলে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্লেষক ও গবেষকদের বরাতে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
সংবাদমাধ্যমটি তাদের প্রতিবেদনটিতে যথাযথভাবে উল্লেখ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো এখন ওয়াশিংটনকে পারমাণবিক প্রতিবন্ধকতা তৈরির ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি দূরবর্তী ও অবিশ্বস্ত বলে মনে করছে। ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর আস্থা হারাতে থাকায়, মিত্র দেশগুলোর এই মনোভাব পরিবর্তন তাদের নতুন করে নিজেদের প্রতিরক্ষা কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করছে। পাশাপাশি, আত্মনির্ভরশীল সামরিক কৌশল বা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন গড়ে তোলার দিকে ঝুঁকে পড়ছে বহু দেশ।
প্রতিবেদনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বৈদেশিক নীতির বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ইউরোপীয় এবং এশীয় মিত্রদের জন্য স্পষ্ট কোনো পারমাণবিক নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি। উপরন্তু, মিত্র দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর বারবার জোর দিয়েছেন ট্রাম্প। এর ফলে, ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের সুরক্ষাবলয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে, ২০২৫ সালের মার্চে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউরোপীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য ফ্রান্সের পারমাণবিক সুরক্ষাবলয় ব্যবহারের বিষয়ে মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা শুরুর ঘোষণা দেন। ফ্রান্সের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে জার্মানি, পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া এবং ডেনমার্কের মতো দেশগুলো এই বিকল্প অনুসন্ধানে ইতিবাচক আগ্রহ দেখিয়েছে। এছাড়া, ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাইডেন প্রশাসনের সময় রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্নির্ধারণের চেষ্টার পরে ইউরোপের মার্কিন মিত্ররা নিজেদের পৃথক পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (নিউক্লিয়ার শিল্ড) গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) ২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্যানুসারে, বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় নয় হাজার পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় চার হাজার ওয়ারহেড ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমানে মোতায়েন অবস্থায় রয়েছে। দুই হাজার দুই শর মতো ওয়ারহেড সার্বক্ষণিক উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, পারমাণবিক অস্ত্রহীন দেশগুলো এখন নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে অস্ত্র তৈরির দিকে পা বাড়াতে পারে। গত মে মাসে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) ধারাবাহিক অবনতি ও বৈশ্বিক পারমাণবিক স্থিতিশীলতার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সূত্র: তাস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ