০৬:০৪ পি.এম
ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : রাজধানীর মিরপুর-১০ এবং মিরপুর-১ এলাকার ফুটপাতে হকার বসানোর অনুমতি আর দেওয়া হবে না, এমনটি জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি আরও জানান, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের জন্য বিকল্প স্থান খুঁজে বের করা হচ্ছে এবং দ্রুত তাদের বসার ব্যবস্থা করা হবে।
আজ ডিএনসিসি’র সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এই সময়, হকারদের পুনর্বাসনের দাবিতে প্রতিনিধিদল প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়।
প্রশাসক বলেন, "হকাররা সমাজেরই অংশ।" তাদের জীবিকার বিষয়টি মাথায় রেখে মিরপুর-১০, মিরপুর-১ এবং উত্তরা এলাকায় বিকল্প স্থান খোঁজা হচ্ছে। তিনি জানান, হকারদের জন্য হলিডে মার্কেট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া হকারদের সেখানে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: বেরোবি নজরুল বর্ষ ২০২৬ উপলক্ষে সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত
তিনি বলেন, "বিকল্প স্থানে ৩০০ থেকে ৫০০ দোকান বসানোর ব্যবস্থা করা গেলে সেখানে ক্রেতারাও আসবেন এবং বেচাকেনা ভালো হবে।" তবে তিনি উল্লেখ করেন, বিকল্প স্থানে দোকানগুলো নিজস্ব কাঠামোর ওপর পরিচালিত হবে এবং কোনো চৌকি বসানো যাবে না।
ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের কারণ ব্যাখ্যা করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, "বাধ্য হয়েই অবৈধ স্থাপনা ও হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।" কিছু সিন্ডিকেট এবং হকারের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল। তারা ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়ক পর্যন্ত দখল করে রেখেছিলেন, যার ফলে সাধারণ মানুষের হাঁটার জায়গা ছিল না। উচ্ছেদ অভিযানের পর মানুষ ফুটপাত ব্যবহারের সুযোগ ফিরে পেয়েছে এবং জনগণ এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, মিরপুর-১০ এবং মিরপুর-১ এলাকার ফুটপাতে আর হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে পূর্বে যারা সেখানে হকারি করতেন, তাদের বিকল্প স্থানে বসানোর ব্যবস্থা করা হবে।
সাক্ষাৎকালে হকার প্রতিনিধি দল এবং ডিএনসিসি প্রশাসক একমত হন যে, ৫ আগস্টের পর হকারদের কারণে সৃষ্ট সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। উভয় পক্ষ এ পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং পুরোনো হকারদের পুনর্বাসনে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
আরও পড়ুন: জরায়ু ক্যান্সারসহ ৩ রোগে আক্রান্ত সাজেদা বাঁচতে সহযোগিতা চান
এ সময় উভয় পক্ষ পরস্পরের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস বজায় রেখে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং একে অপরকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে গুলশান জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রুহুল কবির, গুলশান ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন