বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:২৭ এম
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার ফুসফুসে ইনফেকশন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।
মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী আবদুল্লা আল কায়েস গণমাধ্যমকে এই তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে মন্ত্রী ঠান্ডা, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন।
আজ শ্বাসকষ্টের সমস্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের অধীনে আছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের সিংড়ায় দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে বিনামূল্যে অটোরিকশা ও ভুট্টা ভাঙানোর মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনিক ভবন চত্বরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব অধ্যাপক শারফুল ইসলাম, সাবেক ভিপি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শামীম হোসেন প্রমুখ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কাতার চ্যারিটি নামের একটি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার উদ্যোগে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবিকা উন্নয়নের লক্ষ্যে বিনামূল্যে ৮ জনকে ভুট্টা ভাঙানোর মেশিন এবং ১৫ জনকে অটোরিকশা বিতরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানের ফলস্বরূপ ৯ জন মাদকসেবীকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ অভিযানে তাদের আটক করে।
পরে তাদেরকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াছিন আরাফাতের আদালতে হাজির করা হয়।
আদালত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে প্রত্যেককে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে অতিরিক্ত ২ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী রাত ১১টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সুমিলপাড়া বিহারী কলোনির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শনগর মেলার মাঠসংলগ্ন আমির হোসেনের রিকশার গ্যারেজের সামনে এবং একই এলাকার ৩ নম্বর গলির পাকা সড়কে অভিযান পরিচালনা করে। মাদক স্পটে অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং মাদকসেবীদের আটকের লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালিত হয়, যার ফলে ৯ জনকে আটক করা হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জের কোনাপাড়া উত্তর আজিবপুর এলাকার মো. চাঁন বাদশার ছেলে মো. শান্ত (২৮), সানারপাড় এলাকার মো. আরিফুল হোসেনের ছেলে রাতুল (২২), কলাবাগান মাদরাসা রোড এলাকার মৃত বজলুর রহমানের ছেলে হারুন অর রশিদ মুন্না (৩১), রূপগঞ্জের মুগরাকুল এলাকার মৃত খলিল বেপারীর ছেলে মো. আলমগীর (৩৪), একই এলাকার আনোয়ারের ছেলে বুলবুল (৩৩), সিদ্ধিরগঞ্জের চৌধুরীবাড়ী তাঁতখানা এলাকার জব্বার পাহলানের ছেলে মো. খলিল পাহলান নাঈম (২৩), বাগানবাড়ী এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে দ্বীন ইসলাম (২১), নারায়ণগঞ্জ সদরের ঈসা খাঁ রোডের ৩৮ নম্বর বাসা, কিন্ডারপুল এলাকার মহিউদ্দিন তালুকদারের ছেলে মনির হোসেন তালুকদার (৩২) এবং সিদ্ধিরগঞ্জের কোনাপাড়া উত্তর আজিবপুর এলাকার মৃত ওমর আলীর ছেলে মো. সোলাইমান (২৪)।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাদক স্পটগুলো চিহ্নিত করে অভিযানকে আরও জোরদার করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুরোনো যন্ত্রাংশ ঘোষণার আড়ালে জাপান থেকে আমদানি করা প্রায় ১২ কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল গাড়ির যন্ত্রাংশের চালান আটক করেছে কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। চট্টগ্রাম বন্দরের একটি টার্মিনালে থাকা চালানটিতে লেক্সাস ও বিএমডব্লিউর মতো বিলাসবহুল গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাওয়া গেছে।
সিআইআইডি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চালানটি সোমবার আটক করা হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে আমদানি করা চালানটিতে ‘ইউজড স্পেয়ার পার্টস’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এতে লেক্সাস এলএক্স ৬০০, লেক্সাস এসসি ৪৩০ ও বিএমডব্লিউ এম৫ মডেলের বিভিন্ন অংশ, হোন্ডা বি১৮সি টাইপ-আর ইঞ্জিন, ফ্রন্ট হাফ বা হাফ-কাট, টায়ারসহ বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়।
চালানটি বন্দরে পৌঁছানোর এক মাসের বেশি সময় পার হলেও আমদানিকারক কোনো বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেননি। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কনটেইনারটির ওপর নজরদারি শুরু করেন কাস্টমস গোয়েন্দারা। সিল কেটে কায়িক পরীক্ষা চালালে ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
কাস্টমস গোয়েন্দারা জানান, গাড়ি হিসেবে বিবেচনা করলে চালানটির মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা। শুল্ক ফাঁকির উদ্দেশ্যে গাড়ি কেটে যন্ত্রাংশ হিসেবে আমদানি করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় মানি লন্ডারিং হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের সরকারি পুকুরের মাছ বিতরণের উদ্দেশ্য ছিল এতিম, দুস্থ ও অসহায়দের মধ্যে, কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে তা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন স্বীকার করেছেন যে, মাছের ভাগ উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তাদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, প্রতিবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ থেকে ওই পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পোনা বড় হওয়ার পর, পুকুরের মাছ সরকারি সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাছ আহরণের পর তা এতিম, দুস্থ ও অসহায়দের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ ছিল।
সম্প্রতি, উপজেলা পরিষদের পুকুরে জাল টেনে মাছ আহরণ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছগুলো এতিম ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ না করে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে পোনা অবমুক্ত করে বড় করা মাছ যদি এতিম ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দ থাকে, তাহলে তা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কীভাবে বণ্টন করা হলো? মাছ আহরণ ও বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো অনুমোদন, তালিকা বা হিসাব রাখা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও রুহুল আমিন বলেন, পুকুরের পানি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জানার পর মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া হয়। পুকুরের পাশে একটি মসজিদ থাকায় মুসল্লিদের অজু করতেও সমস্যা হচ্ছিল। এই কারণে মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শে পুকুরে জাল টেনে মাছ আহরণ এবং পানিতে থাকা ক্ষতিকর উপাদান বা বিষক্রিয়া নিধনের ব্যবস্থা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, মাছ আহরণের জন্য যারা জাল নিয়ে এসেছিলেন, তাদের মজুরি বাবদ ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। ওই টাকা পরিশোধের জন্য আহরণ করা মাছ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে মাছ বণ্টন করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, জাল টানার শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের জন্য মাছ বিক্রি বা অন্য কোনো ব্যবস্থা না করে কেন সরকারি পুকুরের মাছ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হলো। একই সঙ্গে মাছের প্রকৃত পরিমাণ ও বণ্টনের হিসাব প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা হলেও বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরেছি। সরকারি পুকুরের মাছ এভাবে ভাগ করে দেওয়ার বিষয়টি অনভিপ্রেত। এটি ঠিক হয়নি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সরকারি পুকুরের মাছ এতিম ও গরিব-দুস্থদের বঞ্চিত রেখে কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন ঘটনায় প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি পুকুরে এডিপির অর্থে অবমুক্ত করা মাছ আহরণ ও বণ্টনের ক্ষেত্রে কী ধরনের নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে, মাছের মোট পরিমাণ কত ছিল এবং কার মধ্যে কত পরিমাণ মাছ বিতরণ করা হয়েছে—তা তদন্ত করে প্রকাশ করা হোক।
তারা আরও বলেন, মাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকলে দ্রুত তা এতিম, দুস্থ ও অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করা যেত। কিন্তু তা না করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
এই ঘটনায় সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং মাছ আহরণ ও বণ্টনের পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ