শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০৮ পি.এম
ভোরের ঘাসে শিশির জমে থাকা, বিকেল আসার সঙ্গে কুয়াশার মিহিন পর্দা, ধানক্ষেতের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঠাণ্ডা বাতাস এবং চা-বাগানের সবুজ পাতায় মুক্তোর মতো ঝলমলে জলকণা দেখা যাচ্ছে।
এমন পরিবর্তনশীল দৃশ্য প্রকৃতির ঋতুবদলের আবহ জানান দিচ্ছে, মৌলভীবাজারের চায়ের রাজ্যে হেমন্তের আগমন ঘটতে চলেছে।
কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের গ্রামীণ জনপদ, চা-বাগান, পাহাড়ি এলাকা এবং মেঠোপথে ঋতু পরিবর্তনের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। শেষরাত ও ভোরে ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে। অনেক পরিবারে হালকা কম্বল, চাদর ও শীতের পোশাক বের করা হচ্ছে।
ভোরের আলো ফুটতেই চা-বাগানের সারি সারি পাতায় জমে থাকা শিশির বিন্দু সূর্যের আলোয় ঝিকমিক করতে থাকে। দূর থেকে মনে হয়, মাঠজুড়ে মুক্তোদানা ছড়িয়ে রয়েছে। কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্যের উঁকি দেওয়া এবং ঠাণ্ডা বাতাসের সঙ্গে মিশে থাকা রোদ একটি মায়াবী পরিবেশ তৈরি করছে।
কমলগঞ্জের মাধবপুর, রহিমপুর, বালিগাঁও, মাগুরছড়া এবং বিভিন্ন খাসিয়া পুঞ্জি এলাকায় স্থানীয়রা জানান, এখানে কুয়াশা তুলনামূলকভাবে আগে নামছে। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ধানক্ষেত ও মেঠোপথে হালকা কুয়াশা নেমে আসছে। গঙ্গা ফড়িংয়ের উড়াউড়ি, ভোরের পাখির ডাক এবং শিশিরভেজা ঘাস মিলিয়ে গ্রামীণ প্রকৃতি নতুন সাজে সজ্জিত হয়েছে।
ঋতুর এই পরিবর্তনের লক্ষণ শুধু প্রকৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, কৃষকের মাঠেও এর প্রভাব পড়েছে। কমলগঞ্জের আদমপুর, ইসলামপুর, রানীবাজার, ঘোড়ামারা, মাধবপুর, মাঘমাড়া, বালিগাঁও, পতনঊষার এবং শমসেরনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জমি প্রস্তুতির পাশাপাশি কোথাও বীজ বপন করা হচ্ছে, কোথাও আবার চারা পরিচর্যায় কৃষক ব্যস্ত রয়েছেন।
শিম, লালশাক, টমেটো, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং মূলাসহ নানা সবজির আবাদ নিয়ে কৃষকের চোখ এখন ভালো ফলনের দিকে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী মো. জিল্লুর রহমান তামিম বলেন, ‘প্রকৃতিতে শীত শীত ভাব এসে গেছে। ভোরে ঘাস ভেজা থাকে, বাতাস ঠাণ্ডা লাগে। চাদর গায়ে দিতে হয়।’
শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের চা-বাগানগুলোতে ঋতুর সৌন্দর্য আরো বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পাহাড়ের ঢাল, সবুজ চা-গাছের সারি এবং কুয়াশা ঢাকা পথ মিলিয়ে মন ছুঁয়ে যাওয়া দৃশ্য তৈরি হয়েছে। দিনের আলো বাড়ার সঙ্গে কুয়াশা সরে গেলেও প্রকৃতিতে সতেজতার ছাপ রয়ে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে এখন হেমন্ত ও শীতের সন্ধিক্ষণ। একদিকে শিশিরভেজা ঘাস ও কুয়াশার কোমলতা, অন্যদিকে মাঠে কৃষকের ব্যস্ততা-সবকিছু মিলিয়ে প্রকৃতি যেন নীরবে বলে দিচ্ছে, সামনেই হেমন্ত; তার হাত ধরেই শীত নামবে চায়ের রাজ্যে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় হাই-সিকিউরিটি কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. বাহাদুর মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। বাহাদুর মিয়া চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার কাঞ্চননগর (বাদামতলা কাজীবাড়ি) এলাকার সিরাজ মিয়ার পুত্র।
র্যাবের নাম পরিবর্তন করা এসআরবির সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কাশিমপুর কেন্দ্রীয় হাই-সিকিউরিটি কারাগার থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. বাহাদুর মিয়া পালিয়ে যান। শুক্রবার দুপুরের দিকে চট্টগ্রাম নগরের ফয়’স লেক এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে জিএমপি কোনাবাড়ী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের পাশাপাশি মেঝেতেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ায় বাজারে ডাব সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে। বর্তমানে একটি ডাব ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং মালটা বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৩৯০ টাকা কেজি দরে। তবে স্থানীয় জাতের মালটা পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু ওয়ার্ডের বাইরে মেঝেতেও রোগীদের ভিড়। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অনেককেই শয্যার বাইরে অবস্থান করতে দেখা যায়।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. কামাল হোসেন জানান, গত কয়েক দিনে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। কোনো কোনো দিন এ সংখ্যা ৭০ জনে পৌঁছাচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে গুরুতর রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের দৈনন্দিন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৪৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৩১ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৩৭ জন।
এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এডিস মশার লার্ভার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা ও পৌরসভাসহ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
জনসচেতনতা বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে প্রতিদিন সভা ও সেমিনার করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারীদের জরিমানার আওতায় আনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইব্রাহীম মোল্লা জানান, বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। রোগীর চাপে হাসপাতালের মেঝেতেও জায়গা হচ্ছে না। ডেঙ্গুর চারটি ধরন রয়েছে। বর্তমানে ডেঙ্গু-ই বেশি দেখা যাচ্ছে। ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনো সমস্যা নেই। তবে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ানসহ প্রয়োজনীয় জনবল সংকট রয়েছে।
তিনি বলেন, “জনবল সংকট থাকলেও কর্মরত সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কিছুটা কষ্ট হলেও স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগীদের সর্বাত্মক সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।”
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা ও পৌর প্রশাসক ইউএনও মো. হাসিবুল হাসান জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে প্রতিদিন পৃথকভাবে আলোচনা সভা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার জ্বালানি খাত ও তেল ক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের উদ্দেশ্যে একটি নতুন নিষেধাজ্ঞা বিলে স্বাক্ষর করেছেন। শুক্রবার, মার্কিন কংগ্রেসে বিলটি পাস হওয়ার পর তিনি এতে অনুমোদন দেন।
নতুন এই আইন কার্যকর হলে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে, রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন ট্যাংকার বহরকে মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হয়।
এই আইনের মাধ্যমে রাশিয়া থেকে খনিজ তেল ও গ্যাস আমদানিকারী প্রধান দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের ক্ষমতা লাভ করেছেন ট্রাম্প। এর ফলে চীন ও ভারতের মতো বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশগুলো সরাসরি মার্কিন শুল্কের ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। মূলত মস্কোর যুদ্ধ তহবিলের আয়ের উৎস বন্ধ করার জন্য এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ওয়াশিংটন।
এর আগে প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি পাস হয়। নতুন এই বিলের মাধ্যমে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করা বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপরও কঠোর নজরদারি চালানো হবে, যার আওতায় থাকবে ইরানও। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই আইন প্রণয়নকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তারা তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় বিভিন্ন উৎস থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ