ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০৯ পি.এম
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের পাশাপাশি মেঝেতেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ায় বাজারে ডাব সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে। বর্তমানে একটি ডাব ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং মালটা বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৩৯০ টাকা কেজি দরে। তবে স্থানীয় জাতের মালটা পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু ওয়ার্ডের বাইরে মেঝেতেও রোগীদের ভিড়। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অনেককেই শয্যার বাইরে অবস্থান করতে দেখা যায়।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. কামাল হোসেন জানান, গত কয়েক দিনে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। কোনো কোনো দিন এ সংখ্যা ৭০ জনে পৌঁছাচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে গুরুতর রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের দৈনন্দিন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৪৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৩১ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৩৭ জন।
এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এডিস মশার লার্ভার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা ও পৌরসভাসহ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
জনসচেতনতা বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে প্রতিদিন সভা ও সেমিনার করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারীদের জরিমানার আওতায় আনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইব্রাহীম মোল্লা জানান, বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। রোগীর চাপে হাসপাতালের মেঝেতেও জায়গা হচ্ছে না। ডেঙ্গুর চারটি ধরন রয়েছে। বর্তমানে ডেঙ্গু-ই বেশি দেখা যাচ্ছে। ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনো সমস্যা নেই। তবে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ানসহ প্রয়োজনীয় জনবল সংকট রয়েছে।
তিনি বলেন, “জনবল সংকট থাকলেও কর্মরত সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কিছুটা কষ্ট হলেও স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগীদের সর্বাত্মক সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।”
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা ও পৌর প্রশাসক ইউএনও মো. হাসিবুল হাসান জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে প্রতিদিন পৃথকভাবে আলোচনা সভা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার জ্বালানি খাত ও তেল ক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের উদ্দেশ্যে একটি নতুন নিষেধাজ্ঞা বিলে স্বাক্ষর করেছেন। শুক্রবার, মার্কিন কংগ্রেসে বিলটি পাস হওয়ার পর তিনি এতে অনুমোদন দেন।
নতুন এই আইন কার্যকর হলে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে, রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন ট্যাংকার বহরকে মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হয়।
এই আইনের মাধ্যমে রাশিয়া থেকে খনিজ তেল ও গ্যাস আমদানিকারী প্রধান দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের ক্ষমতা লাভ করেছেন ট্রাম্প। এর ফলে চীন ও ভারতের মতো বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশগুলো সরাসরি মার্কিন শুল্কের ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। মূলত মস্কোর যুদ্ধ তহবিলের আয়ের উৎস বন্ধ করার জন্য এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ওয়াশিংটন।
এর আগে প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি পাস হয়। নতুন এই বিলের মাধ্যমে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করা বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপরও কঠোর নজরদারি চালানো হবে, যার আওতায় থাকবে ইরানও। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই আইন প্রণয়নকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তারা তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় বিভিন্ন উৎস থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রায় ২.৬৮ বিলিয়ন (২৬৮ কোটি) ডলারের একটি সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রি প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। কিয়েভের নিরাপত্তা জোরদার করতে রাশিয়ার অব্যাহত বিমান ও ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই প্যাকেজে যা থাকছে
এই নতুন প্যাকেজের মূল লক্ষ্য হলো ইউক্রেনের এয়ার-ডিফেন্স (আকাশ প্রতিরক্ষা) ব্যবস্থার উন্নয়ন, আনুষঙ্গিক সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান, বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর।
অনুমোদিত বাজেট: প্রায় ২.৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
মূল মনোযোগ: বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া আলোচনা কিছুটা থমকে যাওয়ার পর এই প্যাকেজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব ইউক্রেনের ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমঝোতা অধরা থেকে গেছে।
তীব্র রুশ হামলা ও ইউরোপীয় সহায়তা
মার্কিন অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদনের এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নতুন করে গতি পেয়েছে।
জিটোমির ও খারকিভে হামলা: জিটোমির অঞ্চলে সাম্প্রতিক হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন এবং গুদামজাত প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরে যায়। খারকিভ অঞ্চলে একটি ট্রেন স্টেশনে ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও ৬ জন আহত হন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়ন: একই সময়ে ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছ থেকে ৩.৩ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ডলার) আর্থিক সহায়তা পেয়েছে, যা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ে ব্যবহৃত হবে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
রাশিয়াও দাবি করেছে যে তারা ইউক্রেনের বন্দর ও সামরিক লজিস্টিক সেন্টারে পাল্টা আঘাত হেনেছে এবং মস্ক অভিমুখে আসা শতশত ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সংঘাত বন্ধে নানা কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও উভয় পক্ষই নিজেদের সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) এক জরুরি বৈঠকে এই উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। সতর্ক করা হয়েছে যে, এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত অসীম ইফতিখার আহমেদ বাহরাইন আয়োজিত নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বক্তব্য প্রদানকালে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। "নিরাপদ সাগর, ভাগাভাগি নিরাপত্তা: পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিবেশে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা" শীর্ষক এই বিশেষ আলোচনায় বহুজাতিক জলসীমার নিরাপত্তায় যৌথ পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও পাকিস্তান প্রতিনিধি বৈঠকের কয়েকটি মূল বার্তা তুলে ধরেন:
হুথি হামলার নিন্দা ও যুদ্ধবিরতির দাবি: বাব আল-মান্দেব প্রণালী এবং ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুথিদের সাম্প্রতিক সামরিক উপস্থিতি ও জাহাজ দখলের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাকিস্তান অবিলম্বে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
সউদী আরবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন: হুথিদের উসকানিমূলক আক্রমণের মুখে সউদী আরবের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার সুরক্ষায় পাকিস্তান তার পূর্ণ সংহতি ও অটল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিশ্ব অর্থনীতি ও সরবরাহে হুমকি: লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার তাগিদ: সামুদ্রিক বাণিজ্য পথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাকিস্তান এ অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছে।
বাহরাইন ও সউদী আরবের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে হুথিদের এহেন পদক্ষেপের ফলে ইয়েমেনের মানবিক সংকট তীব্র হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ