ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাবরাং ইউনিয়নে শোডাউন দিয়ে প্রচারণায় বিএনপির প্রার্থীরা


সাবরাং ইউনিয়নে শোডাউন দিয়ে প্রচারণায় বিএনপির প্রার্থীরা

নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন।

দেশের পূর্ব প্রান্ত কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নে এই প্রার্থীদের প্রচারণার দৃশ্য দেখা গেছে। মাদক পাচারের কারণে আলোচনায় থাকা এই ইউনিয়নটি নাফনদ ও বঙ্গোপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত। ইতোমধ্যে, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে শোডাউনের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে, জেলার অন্যান্য ইউনিয়নে প্রচারণার তেমন খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরাই প্রচারণায় নেমেছেন। টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নে বিএনপির পাঁচজন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ঘোষণার কথা স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, কিন্তু দলীয় কোনো নেতা এখনো প্রচারণায় অংশ নেননি।

আরও পড়ুন: বর্ষপূর্তিতে ম্যাগাজিন বর্ষবার্তা বের হচ্ছে

এদিকে, টেকনাফ পৌরসভায় আসন্ন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় নেমেছেন স্থানীয় জামায়াত নেতা মোহাম্মদ ইসমাঈল।

মিয়ানমার থেকে ইয়াবা, অস্ত্র, সোনা এবং মাদকের চালান পাচারের কারণে এই ইউনিয়নটি আলোচনায় রয়েছে। একইভাবে, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে নিত্যপণ্য পাচারের সীমান্ত পথের কারণে সাবরাং ইউনিয়নের দিকে সবার নজরও রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে যে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যেও পাচারকারীর নাম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তালিকায় রয়েছে।

সপ্তাহখানেক ধরে, টেকনাফ সীমান্তের সাবরাং ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা পাড়ায় পাড়ায় ভোটারদের সঙ্গে কোলাকুলি এবং সালাম জানিয়ে দোয়া চাচ্ছেন। ইতোমধ্যে, বিএনপির স্থানীয় নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য এম এ হাশেম সিআইপি, সাবেক ইউপি সদস্য সুলতান আহমদ, ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান ও নুরুল আলম এবং সাবেক চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন।

আরও পড়ুন: মদনে শিশু ধর্ষণ ও গর্ভধারণ মামলা, রায় ১১ নভেম্বর

সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী এম এ হাশেম সম্প্রতি শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেছেন। অপরদিকে, সাবেক ইউপি সদস্য সুলতান আহমদও সমর্থকদের নিয়ে সড়ক প্রদক্ষিণের মাধ্যমে শোডাউন করেছেন। অন্য প্রার্থীরাও ইউনিয়নের হাট-বাজার, চা দোকান এবং বিভিন্ন পাড়ায় গিয়ে সমর্থন প্রার্থনা করছেন।

গত ১২ অক্টোবর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করে কমিশন। ওই সময়সূচি অনুযায়ী আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপ শুরু হবে ২১ জানুয়ারি এবং শেষ ধাপ ২৭ মে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিচারকের ছেলের গাড়িচাপায় স্কুটিচালকের মৃত্যু, পুলিশপ্রধান বরখাস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


বিচারকের ছেলের গাড়িচাপায় স্কুটিচালকের মৃত্যু, পুলিশপ্রধান বরখাস্ত

ভারতের কেরালা রাজ্যের কোচিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনায় তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে শহরের পুলিশপ্রধানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশপ্রধান কালিরাজ মহেশের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আর নিশান্থিনি। এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত অতিরিক্ত জেলা বিচারকের ১৭ বছর বয়সী ছেলেকে ঘিরে বিতর্কের কারণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিচারকের ছেলে মার্সিডিজ-বেঞ্জ চালানোর সময় একটি স্কুটিতে ধাক্কা দেয়, যার ফলে স্কুটিচালক জয়বালকৃষ্ণনের (৫৫) মৃত্যু ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর ভিডিও তৈরির উদ্দেশ্যে ওই কিশোর গভীর রাতে গাড়িটি নিয়ে বের হয়েছিল।

বিচারক তার ছেলের ফোন থেকে ওই ভিডিও মুছে ফেলেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তদন্তকারীরা দুর্ঘটনার পূর্বে গাড়িটি দ্রুতগতিতে চলার একটি ভিডিও উদ্ধার করেছেন। মার্সিডিজ ও সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত স্কুটির অবস্থা দেখে গাড়ির গতি অনেক বেশি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে যে মামলাটি দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রভাবশালী বিচারক বাবার কারণে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় পরিবারটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে এবং তদন্তের দায়িত্ব অপরাধ তদন্ত বিভাগকে দেওয়া হয়েছে।

প্রথমে ওই কিশোরের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল। পরে তাকে থানার জামিনে ছেড়ে দেওয়া হলে ব্যাপক সমালোচনা ও বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তীতে মামলাটি জোরদার করা হয় এবং গাড়ির মালিক কিশোরের বাবাকেও আসামি করা হয়।

রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা বিধানসভায় জানিয়েছেন, দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে ফলাফল মানবেন কি ট্রাম্প?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে ফলাফল মানবেন কি ট্রাম্প?

বেশির ভাগ জনমত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল যদি রিপাবলিকানদের বিপক্ষে যায়, তাহলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফলাফল গ্রহণ করবেন কি না, এই প্রশ্নটি করা হয়েছিল। এটি একটি মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। অন্য কোনো আধুনিক প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে হয়তো এটি প্রশ্নই হত না। কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন।

মঙ্গলবার এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি মেনে নেব, যদি সেগুলো সততার সঙ্গে হওয়া নির্বাচন হয়, হ্যাঁ।’ ট্রাম্পের অতীতের আচরণের কারণে তার এই শর্তযুক্ত উত্তর অনেকের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কারণ, ট্রাম্প নিজেকে নির্বাচনের সততা যাচাইয়ের একমাত্র রেফারি হিসেবে উপস্থাপন করেন।

যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে তিনি নির্বাচনের ফলাফল নাও মেনে নিতে পারেন, তখন তা গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। রিপাবলিকান পার্টির নেতা হিসেবে তার পঞ্চম জাতীয় নির্বাচনে এসে ট্রাম্পের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত কার্যপদ্ধতি তৈরি হয়েছে। তিনি যেকোনো নির্বাচনের কয়েক মাস আগে থেকেই ভোটিং ব্যবস্থা এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেন এবং ডেমোক্র্যাটরা কারচুপি করতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন। এরপর তিনি নিজের তৈরি করা অবিশ্বাসের আবর্তকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন এবং ভোট গণনার আগেই ইঙ্গিত দেন যে নির্বাচনটি সুষ্ঠু না-ও হতে পারে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে, এবারের পরিস্থিতি যেন বারবার ফিরে আসা একটি চেনা নাটকের মতো মনে হচ্ছে। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যখন তিনি হেরেছিলেন, তখন একাধিক রিপাবলিকান কর্মকর্তা, আদালত এবং এমনকি তার নিজস্ব বিচার বিভাগ কোনো অনিয়ম না পাওয়ার প্রমাণ দেওয়ার পরও তিনি মিথ্যাভাবে জালিয়াতির দাবি করেছিলেন।

নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি একটি হুমকিস্বরূপ প্রেক্ষাপটে এসেছে। তিনি টেক্সাস এবং অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলোতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সীমানা নির্ধারণ পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা চালিয়ে এবং ভোটারদের নিবন্ধন ও আইডি-সংক্রান্ত একটি আইন পাস করার জন্য কংগ্রেসের ওপর ব্যর্থ চাপ প্রয়োগ করে এই বছরের বেশিরভাগ সময় মধ্যবর্তী নির্বাচনকে রিপাবলিকানদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সমালোচকদের মতে, এই আইন পাস হলে লাখ লাখ নাগরিক ভোটাধিকার হারাতেন।

এছাড়া, সংবিধানে প্রেসিডেন্টকে অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচন পরিচালনার কোনো ক্ষমতা না দিলেও, তিনি সম্প্রতি বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আলাস্কার ইউএস সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান হেরে গেলে সেই ফলাফল প্রত্যয়ন আটকে দিতে মামলা করা হয়। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলছেন যে, ড্যানিয়েল জে. সুলিভান নামের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারেন এবং তার এই প্রার্থিতা একটি ডেমোক্রেটিক চক্রান্ত। যদিও আলাস্কার সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে যে দ্বিতীয় সুলিভান আইনগতভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।

আরেকটি আগাম পদক্ষেপে, বিচার বিভাগ গত শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়াকে ভোটার তালিকা থেকে সন্দেহভাজন অ-নাগরিকদের চিহ্নিত করার এবং তাদের ডাকযোগের ব্যালটগুলো আলাদা রাখার নির্দেশ দিয়েছে; পাশাপাশি সতর্ক করেছে যে যেসব কর্মকর্তা জেনেবুঝে অ-নাগরিকদের ভোট গণনা করবেন, তারা ফৌজদারি দায়বদ্ধতার মুখোমুখি হতে পারেন। একটি ফেডারেল আপিল আদালত বিচার বিভাগের সেই চালটি আটকে দিয়েছে।

আলাস্কায় ডেমোক্রেটিক প্রতিদ্বন্দ্বী মেরি পেলটোলা নির্বাচনের আগেই বিচার বিভাগের এই পদক্ষেপটি বাতিল করার জন্য একজন বিচারকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তবে প্রশাসনের এই চালচলন নির্বাচন-পরবর্তী একটি মুখোমুখি সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। ২০২০ সালের তুলনায় পরিস্থিতি ভিন্ন; সে সময় তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল বিল বার ট্রাম্পের ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কিন্তু এবার বিচার বিভাগ তার বিরোধিতা করবে এমন সম্ভাবনা কম বলেই মনে হচ্ছে।

আমেরিকান ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার দিন—৬ জানুয়ারি, ২০২১-এর ক্ষতগুলোর কারণে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নির্বাচনী চালচলন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্পের সমর্থকরা ক্যাপিটল হিলে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছিল এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের মারধর করেছিল। এর কয়েক মাস আগে থেকেই ট্রাম্প ঠিক মঙ্গলবারের মতোই একই ভাষা ব্যবহার করে সেই নির্বাচন নিয়ে তাদের আস্থা বিষাক্ত করে তুলছিলেন।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তার প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে ট্রাম্প বলেছিলেন, ’আমি আশা করি এটি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। যদি এটি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়; আমি ১০০ ভাগ সাথে আছি। কিন্তু আমি যদি দেখি হাজার হাজার ব্যালট নিয়ে কারচুপি করা হচ্ছে, তবে আমি তা মেনে নিতে পারি না।’ চার বছর পর, ২০২৪ সালের সিএনএন প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে যখন ডানা ব্যাশ ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তিনি কে জিতল তা বিবেচনা না করেই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন কি না, তখন তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘যদি এটি একটি সুষ্ঠু, আইনি এবং ভালো নির্বাচন হয়—অবশ্যই।’

২০২৪ সালের ফলাফলের বিরোধিতা ট্রাম্প করেননি। এর কারণ স্পষ্ট, তিনি জিতেছিলেন। চার বছর আগে তিনি হেরেছিলেন। কোনো ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতির প্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্পের এই ধারাবাহিক নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের মানসিকতা এই প্রশ্ন তোলে যে—কেন তিনি, অন্য সব প্রেসিডেন্টের মধ্যে ব্যতিক্রম হয়ে, এই গণতান্ত্রিক বাস্তবতা মেনে নিতে পারেন না যে নির্বাচনে কখনো কখনো হারতেও হয়?

এর একটি উত্তর হলো, ট্রাম্প প্রচুর প্রমাণ দিয়েছেন যে তিনি ভোটারদের নেতা বাছাইয়ের নীতির চেয়ে ক্ষমতাকে বেশি পরোয়া করেন। আরেকটি উত্তর হলো, ট্রাম্প নিজের একটি ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড তৈরি করেছেন জীবনের অন্যতম ‘সেরা বিজয়ী’ হিসেবে। এই ভঙ্গুর অহংবোধ নিজেকে ‘পরাজিত’ হিসেবে দেখার মানসিকতার সঙ্গে একেবারেই মেলে না—আর এটিই একটি কারণ যে তিনি এখনো বাইডেনের কাছে ২০২০ সালের পরাজয় স্বীকার করতে পারেন না।

২০২০ সালে আমেরিকার আইনি এবং সাংবিধানিক রক্ষাকবচগুলো দৃঢ় ছিল। কিন্তু ট্রাম্প এখন এমন উপদেষ্টাদের দ্বারা পরিবেষ্টিত নন, যারা তার সবচেয়ে অগণতান্ত্রিক প্রবণতাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে প্রস্তুত থাকবেন। তারপরও ডেমোক্র্যাট এবং উভয় দলের অঙ্গরাজ্য কর্মকর্তারা যারা নির্বাচন পরিচালনা করেন, তারা হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ট্রাম্প সমর্থকদের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার জন্য কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন।

ডেমোক্র্যাটরা যদি বড় ব্যবধানে জয়ী হয়, তবে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ কম হতে পারে। যদি ফলাফল খুব হাড্ডাহাড্ডি হয়, তবে দীর্ঘস্থায়ী আইনি লড়াইয়ের কারণে সিনেটের ভাগ্য সপ্তাহের পর সপ্তাহ ঝুলে থাকতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সম্ভাব্য হাউস স্পিকার হাকিম জেফ্রিজ গত সপ্তাহে সিএনএন-কে বলেছিলেন, তিনি ধরে নিচ্ছেন রিপাবলিকানরা ’নভেম্বরের নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া থেকে আটকাতে যেকোনো ধরনের শয়তানি পরিকল্পনা করার চেষ্টা করবে।’

প্রতিকূল নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য ট্রাম্পের কাছে শক্তিশালী প্রণোদনা থাকতে পারে, কারণ ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই হোয়াইট হাউস, মন্ত্রিসভা এবং ট্রাম্প পরিবারের আর্থিক লেনদেন নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন তদন্তের পরিকল্পনা করছে। কিন্তু ৩০-এর ঘরে থাকা জনপ্রিয়তার হার নিয়ে মেয়াদের শেষে থাকা একজন প্রেসিডেন্ট, যিনি মাত্রই একটি বড় জাতীয় নির্বাচনে হেরেছেন, তার কি তা সফল করার মতো রাজনৈতিক শক্তি থাকবে?

তা ছাড়া, ট্রাম্পের আত্মকেন্দ্রিক নির্বাচনী প্রচারণার ভঙ্গি ইঙ্গিত দেয় যে তিনি ঝুঁকিতে থাকা রিপাবলিকানদের নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন। ব্যালটে যখন তার নিজের নাম থাকে না, তখন তিনি হয়তো বিষয়টিকে কম গুরুত্ব দেন।

গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট অন্তত ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসের সঙ্গে একটি তিক্ত সহাবস্থানের সময়কালের কথা চিন্তা করছেন বলে মনে হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘দেখুন, আমার একটি শক্তিশালী ভেটো ক্ষমতা আছে। আমি আশা করি তেমনটা হবে না, তবে যদি হয়, তবে তা এর আগে অনেক প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রেই ঘটেছে।’

কিন্তু ট্রাম্প প্রায়শই তার হুমকিগুলো কার্যকর করেন। এবং নির্বাচন নিয়ে তার সাম্প্রতিক শর্তারোপ দেখায় যে তিনি এখনো মনে করেন যে নির্বাচনে তিনি হারবেন, তা অবশ্যই অন্যায্য হতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যার দায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যার দায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

গোপালগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু তালহা হত্যা মামলায় আদালত আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা নামে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। একই মামলায় অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাওন মোল্লা পলাতক রয়েছেন।

মামলার অপর আসামি লেয়াকত আলী মোল্লাকে খালাস দিয়েছে আদালত।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মানজুরুল ইসলামের ১২ বছর বয়সী ছেলে তালহা ওরফে মুহিন মাছ ধরা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে মানজুরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া আমিন উদ্দিনের ঘরে থাকা একটি ট্রাংক থেকে মুহিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মানজুরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চারজনকে আসামি করে মামলা করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করে। রায়ে নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবী উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন।

মামলার বাদী ও নিহত শিশুর বাবা মনজুরুল ইসলাম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এম জুলকদর রহমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, ওটিপি না দেওয়ার সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, ওটিপি না দেওয়ার সতর্কতা

ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের নাম ব্যবহার করে প্রবাসীদের ফোন করে টিকা বা ভ্যাকসিনের সিরিয়াল দেওয়ার কথা বলে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে, প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস পাসপোর্ট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য অপরিচিত কারো সঙ্গে শেয়ার না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। দূতাবাসের কনস্যুলার শাখার সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মো. বাবুর ইসলাম চৌধুরী নাম ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি বিভিন্ন ফোন নম্বর, ইমো এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তবে, ওই নামে কেউ প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত নেই বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।

দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দূতাবাসের নাম উল্লেখ করে টিকা বা ভ্যাকসিনের সিরিয়াল দেওয়ার কথা বলে ফোন করছেন এবং প্রবাসীদের কাছে ওটিপি নম্বর চাইছেন। তবে, টিকা বা ভ্যাকসিন প্রদান-সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিসের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

এছাড়াও, দূতাবাসের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব যোগাযোগের সঙ্গে দূতাবাসের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, জানিয়ে কর্তৃপক্ষ পরিচয় ও দাবির সত্যতা যাচাই না করে কারো কথায় বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছে।

ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান

দূতাবাস ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ফোনকল কিংবা মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে অপরিচিত কারো কাছে পাসপোর্টের তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর কিংবা ওটিপি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে পিন, পাসওয়ার্ড ও অন্যান্য গোপন নিরাপত্তা তথ্য সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ওটিপি সাধারণত কোনো অ্যাকাউন্টে প্রবেশ, পরিচয় যাচাই কিংবা নির্দিষ্ট লেনদেন অনুমোদনের কাজে ব্যবহৃত হয়। এই কোড অন্যের হাতে গেলে সংশ্লিষ্ট সেবার ধরন অনুযায়ী অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ কিংবা আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই অপরিচিত কেউ জরুরি প্রয়োজনের কথা বললেও ওটিপি বা অন্য কোনো গোপন নিরাপত্তা তথ্য জানানো থেকে বিরত থাকা জরুরি।

দূতাবাসের নাম ব্যবহার করে কেউ টিকা, ভিসা, পাসপোর্ট, অ্যাপয়েন্টমেন্ট কিংবা অন্য কোনো সরকারি সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার পরিচয় ও দাবির সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক ফোন নম্বর ব্লক করার পাশাপাশি প্রতারণার চেষ্টা-সংক্রান্ত ফোনকল, বার্তা ও অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করে দূতাবাসকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ধরনের সন্দেহজনক যোগাযোগ বা প্রতারণামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য জানাতে প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের ই-মেইল ঠিকানা [email protected]এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ ও কনস্যুলার সেবার জন্য দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেউ দূতাবাসের নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা করলে প্রবাসীরা বিভ্রান্ত হতে পারেন। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা মেসেজিং অ্যাপে পাওয়া কোনো তথ্য যাচাই না করে ব্যক্তিগত নথি পাঠানো বা আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দূতাবাসের সতর্কবার্তায় প্রবাসীদের সচেতনতা ও সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে তথ্য যাচাই করা, ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে দূতাবাসকে অবহিত করার মাধ্যমে এ ধরনের প্রতারণার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%